শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজার তদারকির অভাব: দেবহাটার পারুলিয়া পশু হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
বাজার তদারকির অভাব: দেবহাটার পারুলিয়া পশু হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি

দেবহাটা প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেবহাটা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পারুলিয়া পশুর হাট জমে ওঠার কথা থাকলেও অব্যবস্থাপনা আর তীব্র গরমে তা ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত ছায়া, স্থায়ী ছাউনি ও বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং তদারকির দুর্বলতার কারণে হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ফলে বাজারে পশুর আমদানী থাকলেও বেচাকেনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

প্রতি সপ্তাহের রবিবার বসা এই ঐতিহ্যবাহী হাটে সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে আসতে শুরু করেন। তবে দুপুরের দিকে তীব্র রোদের কারণে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে। হাট এলাকায় পর্যাপ্ত গাছপালা কিংবা বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষ ও পশুদের।

আলীপুর গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা আবু তালেব সরদার ও বাউখোলার ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর হাট থেকে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব পেলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। হাটে বসার জায়গা, ছাউনি বা খাওয়ার পানির মতো মৌলিক কোনো সুবিধা নেই। তীব্র গরমের কারণে ক্রেতারা বাজারে বেশিক্ষণ টিকতে পারছেন না, ফলে কেনাবেচাও কম।

এ বিষয়ে জানতে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ জানান, সরেজমিনে পরিস্থিতি না দেখে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সাক্ষাৎকার দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও খামারিদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংকট দ্রুত নিরসন করা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই পশুর হাটটি ধীরে ধীরে তার গুরুত্ব ও গৌরব হারাতে পারে।

 

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।