বাজার তদারকির অভাব: দেবহাটার পারুলিয়া পশু হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি
দেবহাটা প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেবহাটা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পারুলিয়া পশুর হাট জমে ওঠার কথা থাকলেও অব্যবস্থাপনা আর তীব্র গরমে তা ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত ছায়া, স্থায়ী ছাউনি ও বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং তদারকির দুর্বলতার কারণে হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ফলে বাজারে পশুর আমদানী থাকলেও বেচাকেনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
প্রতি সপ্তাহের রবিবার বসা এই ঐতিহ্যবাহী হাটে সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে আসতে শুরু করেন। তবে দুপুরের দিকে তীব্র রোদের কারণে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ে। হাট এলাকায় পর্যাপ্ত গাছপালা কিংবা বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষ ও পশুদের।
আলীপুর গ্রাম থেকে আসা ক্রেতা আবু তালেব সরদার ও বাউখোলার ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছর হাট থেকে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব পেলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। হাটে বসার জায়গা, ছাউনি বা খাওয়ার পানির মতো মৌলিক কোনো সুবিধা নেই। তীব্র গরমের কারণে ক্রেতারা বাজারে বেশিক্ষণ টিকতে পারছেন না, ফলে কেনাবেচাও কম।
এ বিষয়ে জানতে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ জানান, সরেজমিনে পরিস্থিতি না দেখে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সাক্ষাৎকার দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও খামারিদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংকট দ্রুত নিরসন করা না হলে ঐতিহ্যবাহী এই পশুর হাটটি ধীরে ধীরে তার গুরুত্ব ও গৌরব হারাতে পারে।






