বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে

 

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে বোরোর বাম্পার ফলন দেখে প্রথম নজরে মনে হতে পারে কৃষকের সুদিন ফিরেছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি উল্টো। তীব্র তাপপ্রবাহ, শ্রমিক সংকট আর হঠাৎ বৃষ্টির আশঙ্কায় সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকার ধান চাষিদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের কষ্টের ফসল এখন তাঁদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। ফলন আশাতীত ভালো হলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম ভোগান্তি।
বৈশাখী খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে কাহিল জনজীবন। এর প্রভাব পড়েছে ধান কাটার মাঠেও। সদর ও তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদের কারণে শ্রমিকেরা দীর্ঘক্ষণ মাঠে কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয় শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে শ্রমিক আনতে হচ্ছে।
তালা উপজেলার বাইগুলি গ্রামের কৃষক সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, “১০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি, ফলনও ভালো। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে বেশি দামে মানুষ আনতে হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের দামের পর এখন মজুরি দিতে গিয়ে পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়।” ফটিক দাশ নামে আরেক কৃষক জানান, মজুরি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তিনি নিজেই কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন।
কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে গিয়েও বিপাকে পড়ছেন চাষিরা। অনেক জায়গায় নিচু জমির ধান বাতাসে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেক চাষির কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষক কুতুব উদ্দিন মোড়ল বলেন, “আকাশের অবস্থা ভালো না। বৃষ্টি নামলেই গতবারের মতো ধান নষ্ট হবে। তাই খরচের দিকে না তাকিয়ে দ্রুত ধান বাড়ি নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
কৃষকদের বড় অভিযোগ ধানের বাজারদর নিয়ে। তাঁরা জানান, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি উঠছে না। তার ওপর জ্বালানি সংকটে পরিবহনের জন্য ট্রলি বা ভ্যান পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
বাইরে থেকে আসা শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর আমরা এ সময় বাড়তি আয়ের আশায় এখানে আসি। কিন্তু এবার যে রোদ আর গরম, তাতে আগের মতো কাজ করা যাচ্ছে না। মালিকের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “জেলায় ধানের খুব ভালো ফলন হয়েছে। শ্রমিকের কারণে কিছুটা দেরি হলেও ইতিমধ্যে ৪৪ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় পরিবহন সমস্যা কিছুটা আছে। আশা করছি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে মাঠের বাকি ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে।”

 

 

Ads small one

আশাশুনি ও কলারোয়ায় ইয়াবাসহ ইউপি সদস্যসহ ৫ জন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
আশাশুনি ও কলারোয়ায় ইয়াবাসহ ইউপি সদস্যসহ ৫ জন আটক

আশাশুনি/কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছে এক ইউপি সদস্য ও তার দুই সহযোগী। বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সীমান্তবর্তী চন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।

 

আটকৃতদের হলো: চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া গ্রামের মো. আজিজার গাইনের ছেলে ইউপি সদস্য মো. শাহানুর ইসলাম (৪৮), একই গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. সাইফুর রহমান (৩০) এবং পার্শ্ববর্তী শার্শা থানার কায়বা গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে মো. রাজু আহম্মেদ (২৯)।

কলারোয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া গ্রামের ইউপি সদস্য শাহানুর রহমানের বাড়িতে মাদক সেবন ও বেচাকেনা হচ্ছে। এ সময় কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচএম শাহীনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ জব্দ করা হয়।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচএম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং আসামিদের সাতক্ষীরা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে আশাশুনি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত সাজাপ্রাপ্তসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আশাশুনি থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-বুধহাটা বাজার এলাকার মো.নাছের আলী সরদারের ছেলে আজাহারুল (জিআর নং-৩৪/২৩) মামলায় বিজ্ঞ আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং আশাশুনির আরার গ্রামের লুৎফর রহমান সরদারের ছেলে মো.আজাহারুল ইসলাম (৩৪) (জিআর নং-১০৯/২০২৩) মামলায় আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার পুলিশি প্রহরায় আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আশাশুনি থানা পুলিশ।

বহেরা এ.টি.মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতিকে সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
বহেরা এ.টি.মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতিকে সংবর্ধনা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বহেরা এ.টি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির নবগঠিত সভাপতি এড. জাহাঙ্গীর কবির বাবুকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০ টায় বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলিমুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিমুজ্জামান এর সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্যে রাখেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্যে রাখেন দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউট হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, সূবর্ণবাদ সেন্ট্রাল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান, পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হাসান, বহেরা এ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইমাদুল ইসলাম, টাউন শ্রীপুর এস সি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান ও প্রেসক্লাবে সদস্য রুহুল আমিন, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন হোসেন, কুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম মনি, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকন, রুহুল আমিন, মুশফিকুর রহমান, যুবদল নেতা হোসেন আলী, ক্রীড়া শিক্ষক রফিক-উল-ইসলাম খান, সহকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির ও শিক্ষক রুবেল হোসেন প্রমুখ।

দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবীর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সরদারের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি দুই স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সরদার আশাশুনি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে রাতেই তার মরদেহ দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের পৈতৃক বাসভবনে নিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় বহেরা বাজারে মরহুমের জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলিম, দেবহাটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী মোল্লা, কুলিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর মোহাম্মদ, ডেপুটি কমান্ডার জামাত আলীসহ মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনের এসআই (সশস্ত্র) মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল চৌকস পুলিশ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সরদারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী সরদার বহেরা গ্রামের মৃত শামসুল হক সর্দারের ছেলে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানীর মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকাবাসী গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।