মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে জমি দখলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার এক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
ভুয়া ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে জমি দখলের চেষ্টা, গ্রেপ্তার এক

সংবাদদাতা: জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় অজয় কুমার সরকার নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় সিআর ৬৫৭/২০২৬ নম্বর মামলা রয়েছে।

আদালত পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মামলাটি সাতক্ষীরার আমলি ১ নম্বর আদালতে বিচারাধীন। ওই আদালত থেকে অজয় কুমারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানাটি সাতক্ষীরা সদর থানায় পৌঁছালে মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে সাতক্ষীরা আদালত চত্বর এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি চেক জালিয়াতির মামলা হয়েছিল।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত সুভাষ চন্দ্র সরকারের স্ত্রী লতিকা রানী সরকার বাদী হয়ে আদালতে এই মামলা করেন। মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, অজয় কুমার সরকার ২০২৫ সালের ২ মার্চ শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত ভীম সরকারের ছেলে অরবিন্দ কুমার সরকারের বৈধ ওয়ারিশদের তথ্য গোপন করে একটি জাল ওয়ারিশ সনদ নেন। পরবর্তী সময়ে সেই সনদ ও নামজারির কাগজপত্র ব্যবহার করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৪ দশমিক ৫৬ শতক জমি বিক্রির দলিল সম্পাদন করেন এবং জমি দখলের অপচেষ্টা চালান।

পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তদন্তে ওয়ারিশ সনদে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে সনদটি বাতিল করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বাদী ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদনে জমি দখল প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ৪(১)(ক) এবং ৭(১), (২) ও (৩) ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অজয় কুমারকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

Ads small one

গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় হাজারো পরিবার

গাজায় যুদ্ধ শুরুর তিন বছর পরও নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে অপেক্ষা করছেন হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার। কেউ ইসরায়েলি স্থল অভিযানের সময় নিজ এলাকা বা আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজ হয়েছেন, কেউ ত্রাণের সন্ধানে বেরিয়ে, বাড়িঘরের খোঁজ নিতে গিয়ে কিংবা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি যাওয়ার পর আর ফেরেননি।
নিখোঁজ স্বজনদের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় এসব পরিবার এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাঁরা জানেন না, স্বজনেরা বেঁচে আছেন কি না, আটক হয়েছেন কি না, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন কি না, নাকি অজ্ঞাত মরদেহের মধ্যে রয়েছেন।

স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ১১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি।

নিখোঁজ এসব মানুষের পরিণতি এখনো অজানা। গাজা থেকে আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। একই সঙ্গে গাজায় ফেরত দেওয়া প্রায় ৬২০টি মরদেহের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি।

স্বজন হারানো এসব পরিবারের জন্য অপেক্ষার প্রতিটি দিনই হয়ে উঠেছে নতুন এক যন্ত্রণা। প্রিয়জন জীবিত না মৃত, আটক না নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের নিচে নাকি অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায়—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে জানতে পারছেন না তাঁরা। ফলে শোক করবেন, নাকি ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করবেন, সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এমন তিনটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে, যাদের স্বজন যুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়েছেন।

তিন বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায়
মধ্য গাজা শহরের আল-নাফাক সড়কের একটি ছোট তাঁবুতে বসে মোবাইল ফোনে ছেলের ছবি দেখেন নিদাল আল-ওয়াহিদির মা-বাবা। বাড়িতে বোমা হামলায় তাঁদের ঘরবাড়ি ও ছেলের জিনিসপত্র ধ্বংস হওয়ার পর এসব ছবিই এখন তাঁদের কাছে নিদালের স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম।

নিদালের বাবা ৬২ বছর বয়সী সুহাইল আল-ওয়াহিদি বলেন, ‘আমাদের করার মতো কিছু নেই। শুধু ছেলের ছবি দেখি আর অপেক্ষা করি। তিন বছর ধরে আমরা শুধু অপেক্ষা করেছি এবং ছেলের কোনো খবর পাওয়ার আশা করেছি।’

নিদাল ছিলেন একজন সাংবাদিক। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে সহকর্মীদের সঙ্গে উত্তর গাজার এরেজ ক্রসিং এলাকায় গিয়েছিলেন তিনি। ওই এলাকায় হামাসের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল সব সময় আমাদের চিন্তায় থাকে। আমরা আশাবাদী থাকার চেষ্টা করি এবং তার কাছ থেকে কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি।’

ছেলের সন্ধানে রেড ক্রসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি বলে জানান তিনি।

‘আমরা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে বহুবার আবেদন করেছি। কোনো আবেদনই আমাদের সাহায্য করেনি। এই যুদ্ধে দুঃখজনকভাবে মানবাধিকারের কোনো সম্মান নেই,’ বলেন তিনি।

তবে ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিই শুধু তাঁকে কষ্ট দেয় না। প্রতিদিনের কঠিন সময়ে যে মানুষটির ওপর তিনি নির্ভর করতেন, সেই মানুষটিকে পাশে না পাওয়ার শূন্যতাও তাঁকে কষ্ট দেয়।

সুহাইল বলেন, ‘নিদাল শুধু আমাদের ছেলে ছিল না। সে ছিল আমাদের বন্ধু, পরিবারের অবলম্বন এবং আমার ডান হাত। এখন তাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। আমি প্রায়ই ভাবি, সে যদি এখানে থাকত, এই কঠিন দিনগুলো কতটা সহজ হতো।’

বাবা ও ভাইয়ের অপেক্ষায় পরিবার
৫৯ বছর বয়সী সাঈদ হাজ্জাজ এবং তাঁর ছেলে কাসেম হাজ্জাজ (নিখোঁজ হওয়ার সময় বয়স ১৭) ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাঁদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।

মধ্য গাজা শহরের ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামে বাস্তুচ্যুত হয়ে একটি তাঁবুতে থাকেন সাঈদের স্ত্রী ৫২ বছর বয়সী মোনা হাজ্জাজ। রাতে ঘুমানোর আগে হৃদ্‌রোগের ওষুধ খাওয়ার পর দুই মেয়ের সঙ্গে স্বামী ও ছেলের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তাঁদের মেয়ে ৩৫ বছর বয়সী নিসরিন হাজ্জাজ বলেন, ‘আমার বাবা ও ছোট ভাইকে হারানোর কষ্টে আমরা সব সময় শোকের মধ্যে আছি। আমরা বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই না। দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমরা মিষ্টিও খাইনি।’

তিনি জানান, স্বামী ও ছেলের নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মায়ের হৃদ্‌রোগের সমস্যা দেখা দিয়েছে। দিন-রাত কান্নার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় উত্তর গাজা শহরের শেখ রাদওয়ানে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল পরিবারটি। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আশপাশের বাড়িঘর ধ্বংস করার পর হাজ্জাজ পরিবারের বাড়িতেও প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী।

নারীদের দক্ষিণ গাজায় চলে যেতে বাধ্য করা হয় এবং পুরুষদের আটক করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

নিসরিন বলেন, ‘আমরা শেষবার বাবা ও ভাইকে দেখেছিলাম নগ্ন, হাতকড়া পরানো, নির্যাতিত ও অপমানিত অবস্থায়। এরপর থেকে তাঁদের বিষয়ে আমরা আর কিছুই জানি না। তাঁরা কোথায় আছেন বা কী অবস্থায় আছেন, কিছুই জানি না।’

তথ্য জানতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এই অনিশ্চয়তা পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তকে প্রভাবিত করেছে।

নিসরিন বলেন, ‘তাঁরা এখনো আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু আমরা জানি না, তাঁদের জন্য শোক করব, নাকি তাঁদের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের ওপর আমরা নির্ভর করতাম, তাঁদের ছাড়াই আমাদের চলতে হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে সহায়তা সংস্থাগুলোও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না, কারণ তাঁদের শহীদ বা বন্দি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।’

স্বজনেরা মারা গেছেন এমন কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুর কথা মেনে নিতে রাজি নয় হাজ্জাজ পরিবার। এখনো তাঁরা ফিরে আসার আশায় আছেন।

নিসরিন বলেন, ‘আমার বোনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার খরচ বহনের জন্য একটি বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর জন্য মৃত্যুসনদ প্রয়োজন ছিল। আমরা তা দিতে অস্বীকার করি এবং বৃত্তিটিও ছেড়ে দিই। কারণ, এখনো যদি সামান্যও আশা থাকে যে সে জীবিত অবস্থায় ফিরে আসতে পারে, তাহলে আমরা সেই সম্ভাবনাকে শেষ করে দিতে চাই না।’

এই নিখোঁজের ঘটনা পরিবারটির আর্থিক ও দৈনন্দিন জীবনেই শুধু প্রভাব ফেলেনি; কেড়ে নিয়েছে বহু প্রতীক্ষিত পারিবারিক আনন্দও।

নিসরিন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী যখন নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন বাবা তাঁর প্রথম নাতিকে দেখার জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিলেন। দাদা হওয়া ছিল তাঁর স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হলেও তিনি তা দেখার জন্য সেখানে ছিলেন না।’

ভাইয়ের সন্ধানে তিন বছর
গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে গঠিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৪৮ বছর বয়সী আলা আবু শাবানের নিয়মিত একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদের। কেউ তাঁকে দেখেছেন বা তাঁর কোনো খবর জানেন কি না, সেই প্রশ্ন করেন আলা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরু হলে আলা পূর্ব দেইর আল-বালাহ থেকে তাঁর ভাই মোহাম্মদের পরিবারকে সরিয়ে পারিবারিক বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা আলার সঙ্গে চলে গেলেও মোহাম্মদ বাড়িতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আলা বলেন, ‘সে আমাকে বলেছিল, সবকিছু দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। বাড়ি খালি রেখে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন বিকেলেও আমরা কথা বলেছিলাম এবং তাকে চলে আসতে বলেছিলাম। সে বলেছিল, সে চলে আসবে। এরপর সেটিই ছিল তার সঙ্গে আমাদের শেষ কথা।’

এর প্রায় দুই মাস পর মোহাম্মদের ফোন থেকে এক আত্মীয়ের কাছে একটি বার্তা আসে। সেখানে মোহাম্মদ জানান, তিনি দেইর আল-বালাহ সংলগ্ন ইসরায়েলের অভ্যন্তরের কিসুফিম এলাকায় আছেন এবং পরিবারের সদস্যদের তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ওই এলাকা তখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে পরিবারটি সেখানে যেতে পারেনি।

আলা বলেন, ‘তিন বছর ধরে আমরা জানি না আমার ভাইয়ের কী হয়েছে, সে কীভাবে নিখোঁজ হলো, কোথায় আছে কিংবা সে জীবিত কি না।’

মুক্তি পাওয়া কয়েকজন বন্দি তাঁদের জানিয়েছেন, তাঁরা ওফার কারাগারে মোহাম্মদের নাম শুনেছেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ তাঁর অবস্থান নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

আলা বলেন, ‘এত দিন ধরে আমরা এই যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার মধ্যে আছি। এখন আমরা তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করি। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছে।’

ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার অনিশ্চয়তা তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানান আলা।

‘আমার বাবা ও পরিবারের সবাই বিশ্বাস করেন, মোহাম্মদ একদিন ফিরে আসবে। এই আশাটাই তারা ধরে রেখেছেন, যদিও এর সঙ্গে অনেক কষ্টও আছে। কিন্তু তার কোনো খবর না পাওয়ায় তারা উদ্বেগ ও শোকে ভেঙে পড়ছেন,’ বলেন তিনি।

এখনো মুক্তি পাওয়া বন্দিদের কাছে ভাইয়ের ছবি দেখিয়ে তাঁর বিষয়ে জানতে চান আলা।

তিনি বলেন, ‘অনেক রাতে ভাইকে মনে করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ি। সে আমাকে যে সহযোগিতা করত, সেটিও খুব মনে পড়ে। সবচেয়ে কষ্ট হয়, তার বাবা নিখোঁজ থাকার সময় আমরা তার বড় ছেলেকে রক্ষা করতে পারিনি। ছেলেটিও নিহত হয়েছে।’

গাজায় নিখোঁজ মানুষের পরিবারগুলোর জন্য তাই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অপেক্ষার অবসান হয়নি। প্রিয়জনের কোনো নিশ্চিত খবর না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের জীবন যেন আশা, উৎকণ্ঠা ও শোকের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত অবস্থায় আটকে আছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, একদিনে ১০ প্রাণহানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, একদিনে ১০ প্রাণহানি

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ২৮১ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত একদিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) তিনজন, বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, ঢাকা বিভাগে বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন ও রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের প্রাণহানি হয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সবচেয়ে বেশি ৪৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২২২, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭, খুলনা বিভাগে ৩০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯, রংপুর বিভাগে ৭৫ ও সিলেট বিভাগে ১৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরায়েল: সিআইএ’র গোপন প্রতিবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরায়েল: সিআইএ’র গোপন প্রতিবেদন

তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও সামাজিক মেরুকরণের কারণে চরম অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি দেশটি গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি প্রতিবেদন। ড্রপ সাইট নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে সোমবার সিআইএ’র গত আগস্টের এই গোপনীয় মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়।

‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ (ভেতর থেকে ভাঙন) শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাজনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কট্টর অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের সামরিক পরিষেবা থেকে ছাড় পাওয়ার বিষয়টি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে যুদ্ধের জন্য লাখ লাখ রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হলেও ইয়েশিভায় ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে আল্ট্রা-অর্থোডক্স পুরুষরা ঐতিহ্যগতভাবেই এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ ছাড় বাতিলের চাপ বেড়েছে। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার তাদের সামরিক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পাসে ব্যর্থ হয়েছে, যা সামরিক পরিষেবা এড়ানোর অভিযোগে একাধিক তরুণকে আটক ও বিশাল বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ও শাস পার্টি ক্ষুব্ধ হয়েছে।

সিআইএ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শেষে হাজার হাজার সশস্ত্র সেনা ও রিজার্ভ সদস্যের বেসামরিক জীবনে ফিরে আসা অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। কারণ ইসরায়েলে রিজার্ভে থাকা সেনারা বাড়িতেও অস্ত্র রাখতে পারেন এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন সেখানে স্বাভাবিক ঘটনা। এ ছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ও সামরিক ব্যয়ের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।

সিআইএ’র ‘রেড সেল’ নামে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে, যার কাজ মূলধারার ধারণার বাইরে গিয়ে বিকল্প ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে নেতানিয়াহু বা তার বিরোধী জোট কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নাও পেতে পারে। বিদেশি প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমানো কিংবা আঞ্চলিক দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকের ভেতরের অসন্তোষের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদিকে গত শুক্রবার ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট প্রার্থিতা বাতিলের আভাস দেওয়ায় এক ফিলিস্তিনি রাজনীতিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যদিও অন্য চারটি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে আদালত।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই