বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের নির্দেশে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র।
সোমবার রাতে তিনি সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতে বাঁধের ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশের অবস্থা দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি। বাঁধের যে অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে দিনভর প্রায় চার শতাধিক মানুষ কাজ করেন এবং অতিরিক্ত মাটি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংস্কার করা অংশের একটি বড় অংশ ফের নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় মসজিদগুলোতে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় রাতে হ্যালোজেন বাতি স্থাপন করে ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ চালানো হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ সংস্কার করা না হলে জোয়ারের পানিতে মাছের ঘের, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ, সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক বিএম আলাউদ্দীনসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।