বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় তেল রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় তেল রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিতে রেকর্ড গড়েছে। তবে এই রফতানি বৃদ্ধির ধারা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির নিজস্ব লজিস্টিকস ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর ও টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা একটি সর্বোচ্চ সীমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘জ্বালানি আধিপত্য’ এজেন্ডার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা মার্কিন তেল ও গ্যাসের রফতানিকে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র রেকর্ড ১২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করেছে। ইস্ট ড্যালি অ্যানালিটিক্সের রব উইলসন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপথ বদলে যাচ্ছে, যা যুদ্ধের পরও স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

বাজার গবেষণা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মাসিকভিত্তিতে প্রথমবারের মতো প্রতিদিন গড়ে ৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। কেপলারের ম্যাট স্মিথ জানান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) বা বড় ট্যাঙ্কারের প্রাপ্যতা বেড়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

রফতানি বাড়লেও এর পেছনে কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ম্যাট স্মিথের মতে, লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে মাসিক রফতানির একটি সর্বোচ্চ সীমা ৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেলের আশপাশে থাকতে পারে। ইস্ট ড্যালি অ্যানালিটিক্সের রব উইলসন মনে করেন, অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল রফতানির ক্ষেত্রে ১ থেকে ২ মিলিয়ন ব্যারেলের একটি সীমা রয়েছে।

অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির রিফাইনারি বিশ্লেষক উইলিয়াম ও’নিল জানান, ডিজেলসহ অন্যান্য পণ্যের মজুত দ্রুত কমে আসছে। তিনি বলেন, ‘রিফাইনারিগুলো উচ্চমাত্রায় চালু থাকলেও বর্তমান রফতানির এই হার অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখা সম্ভব হবে না। কারণ অভ্যন্তরীণ মজুত কমে এলে রিফাইনারিগুলোকে রফতানি কমাতে বাধ্য হতে হবে।’

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানান, রিফাইনারিগুলো প্রেসিডেন্টের জ্বালানি এজেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সম্প্রতি টেক্সাসের ব্রাউনভিলে নতুন একটি রিফাইনারি খোলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর ও টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ক্লিয়ারভিউ এনার্জি পার্টনার্সের জ্যাক রূসো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে বন্দর সম্প্রসারণের বেশ কিছু প্রকল্প পরিকল্পনা পর্যায়ে থাকলেও, বর্তমানে কেবল টেক্সাস গালফলিংক প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলেছে। রব উইলসন বলেন, যদি জ্বালানির উচ্চমূল্য ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং বিশ্ব ক্রেতারা হরমুজ প্রণালির মতো ঝুঁকিপূর্ণ রুট এড়িয়ে চলতে অগ্রাধিকার দেয়, তবেই হয়তো বন্দর সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের গতি পাবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।