শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মামলা জট কমাতে মেডিয়েশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
মামলা জট কমাতে মেডিয়েশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার

বদিউজ্জামান: মামলা জট কমানো এবং সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম ও মেডিয়েশন (মধ্যস্থতা) আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাতক্ষীরার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে উভয় পক্ষই জয়ী হয়, দুই পরিবারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আদালতের মামলা জটও কমে। লিগ্যাল এইড সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার এল্লারচর সংলগ্ন চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের সম্মেলন কক্ষে ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’-এর বাস্তবায়নে এবং টিডিএইচ নেদারল্যান্ডস-এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্পিক আপ!’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার। কেউ যাতে আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও ন্যায্যতার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মামলা দায়ের হয় এবং নিষ্পত্তি হয় প্রায় তিন লাখ। ফলে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মামলা অনিষ্পন্ন থেকে যায়। এ মামলা জট থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ হিসেবে সরকার অউজ বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছে।

মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেডিয়েশনের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে আদালতে মামলা-মোকদ্দমায় জড়ানোর সুযোগ কমে যায়। একই সঙ্গে দুই পক্ষের পরিবারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে আদালতে মামলা দায়ের ৬০ শতাংশ কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের জন্য এটি একটি স্বস্তির বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে কোনো পক্ষকে পরাজিত হতে হয় না; বরং দুই পক্ষই জয়ী হয়। উভয় পরিবারের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের সমাজে সালিশ ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। সেই ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় মেডিয়েশন পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। এ ইতিবাচক উদ্যোগকে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রসারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যত বেশি মানুষ লিগ্যাল এইড সম্পর্কে সচেতন হবে, সাধারণ মানুষ তত বেশি উপকৃত হবে। লিগ্যাল এইডের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। আমরা সবাই লিগ্যাল এইডের একজন ‘সৈনিক’ হিসেবে কাজ করব-এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার কথা উল্লেখ করে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার বলেন, সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে চাই আমরা। এজন্য মেডিয়েশন কার্যক্রমকে আরও অনেক বেশি এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তার সেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক মো. হাসাইন শওকত। তিনি বলেন, মানুষকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে। কাউকে সম্মান দিতে না পারলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তিনি ডিভাইসের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সাতক্ষীরায় সাইবার সুরক্ষা ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান। শিশু-কিশোরদের অনলাইনে যৌন হয়রানি ও অনলাইন নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান তিনি। লিগ্যাল এইড অফিসে শিশুদের জন্য পৃথক ‘চাইল্ড সেল’ চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করার প্রস্তাব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের উপপরিচালক ড. তারেকুজ্জামান বলেন, শিশু ও যুবকদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ, স্বাধীন মতপ্রকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক আব্দুল বারী, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট শামিমুর রেজা শামীম, অ্যাডভোকেট এস,এম বিপ্লব হোসেন, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির পর্যবেক্ষক সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা, সাংবাদিক আখতারুজ্জামান বাচ্চু, টিআইবির রেবেকা সুলতানা, নাজমুল হুদা ও সাইবার ক্রাইম এলার্ট টিমের মাহাবুবুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মিনি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন্নাহার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি শেখ আলমগীর আশরাফ এবং সিনিয়র আইনজীবী মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু।

সভায় ‘স্পিক আপ!’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম, নির্যাতন ও শোষণের শিকার ব্যক্তিদের আইনগত সুরক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী হিসেবে এডভোকেট ইয়াসমিন সুলতানা সুমি ও সাকিবুর রহমান বাবলা পুরস্কার লাভ করেন এবং সান্তনা পুরস্কার দেয়া হয় অ্যাডভোকেট বিউটি আক্তার এর কন্যা জাফরিন আক্তারকে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এর ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ মোঃ শরিফুল ইসলাম।

Ads small one

পাইকগাছায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কিশোরের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কিশোরের মৃত্যু

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মুন্না (১৭) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের হেল্পার এবং ভিলেজ পাইকগাছা গ্রামের মাসুম বিল্লার ছেলে। শনিবার সকাল ৮:১৫ মিনিটে খুলনার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা যায়, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর মুন্না স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে এবং তাকে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা একটি ক্লিনিকে রেফার করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার জীবন প্রদীপ নিভে যায়। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তরতাজা এক যুবকের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পাইকগাছায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর পাইকগাছার ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার মন্ডল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে পাইকগাছা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অল্প বয়সে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

গোদাড়া চিত্রানদীর তীরে হাজারো মানুষের ভিড় নামে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
গোদাড়া চিত্রানদীর তীরে হাজারো মানুষের ভিড় নামে

সৈয়দ অনুজ, ফকিরহাট (বাগেরহাট): আশ্বিনের প্রখর রোদ, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর এর সঙ্গে বইঠার ছন্দ, নৌকার গতি আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে উৎসবে পরিণত হয় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের গোদাড়া চিত্রানদী।

কলকলিয়া ত্রিপল্লী মাঝি মিলন সংঘের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে চিত্রানদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গস্খামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বাঙালি সংস্কৃতির প্রাচীনতম এ উৎসব উপভোগ করতে শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষেরা আনন্দে মেঠে উঠে।  উৎসবকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলা। এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা। এতে ৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, তারা পরিবার নিয়ে নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। প্রতিবছর এই দিনে এখানে নৌকা বাইচ দেখতে আসেন। নৌকা বাইচ দেখে তারা অনেক মুগ্ধ।

আয়োজন কমিটি বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে এই নৌকা বাইচ এর আয়োজন করা হয়। নৌকা বাইচ দেখতে আশপাশের অঞ্চল থেকে হাজারো মানুষের উপস্থিতি ঘটে। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফকিরহাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: শরীফ নেওয়াজ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আয়োজক কমিটির সভাপতি নরেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক পিযুষ কান্তি সরকার, ইউপি সদস্য মহাদেব বিশ্বাস মদন, মনোজ মজুমদার, জীবন সরকার, উপজেলা বিএনপি নেতা শেখ ইফতেখার আহমেদ পলাশ, মোড়ল কামরুজ্জামান, সাবেক উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব লায়ন দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কাজী মঈন উদ্দিন মেরু, মূলঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত গোলদার শুভ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো: শরীফ রসরদার, ছাত্রদল নেতা সাবিতুল ইসলামসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের অভিযানে আশাশুনিতে ৭ ও দেবহাটায় ১ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে ১ জনের জেলা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
পুলিশের অভিযানে আশাশুনিতে ৭ ও দেবহাটায় ১ জন গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে ১ জনের জেলা জরিমানা

বিএম আলাউদ্দীন/কে এম রেজাউল করিম: আশাশুনিতে পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে একজনকে ২ মাসের কারাদন্ড ও ১০১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া দেবহাটায় আটক করা হয়েছে সিআর পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে।

আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আরিফ জানান, থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মোঃ আব্দুর খালেক শেখের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ ইসাহাক সরদারের ছেলে মোঃ রুহুল কুদ্দুস, মোঃ ফজোর আলী মোড়লের ছেলে মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ মুনছুর গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুর রহমান, মোঃ রহমাত কারিকরের ছেলে মোঃ আসাদুল কারিকর এবং সুরমান সরদারের ছেলে মোঃ লিয়াকত আলী সরদার।
অপরদিকে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তারকৃত একজনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১০১ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তের নাম রুহুল আমিন (৩০)। সে আশাশুনি সদরের পূর্বপাড়া গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশাশুনিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দন্ডাদেশ দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শ্যামানন্দ কুন্ডু। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফের নেতৃত্বে এসআই লক্ষণ, এএসআই অমিত হাসান সহ সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে দেবহাটায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সিআর পরোয়ানাভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দেবহাটা থানাধীন কোড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. হাবিবুর রহমান উপজেলার কোড়া গ্রামের মো. হান্নান আলীর ছেলে।

দেবহাটা থানা সূত্রে জানা যায়, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচএম শাহিন হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই মো. ইব্রাহিম খলিল ও এএসআই রহমত আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।