শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

মৃত্যুর ৮ দিন পরও কেন মর্গে টুইশা শর্মার লাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
মৃত্যুর ৮ দিন পরও কেন মর্গে টুইশা শর্মার লাশ

টুইশা শর্মার মৃত্যুর আট দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু তার মরদেহ এখনও অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এইমস) ভোপালের শীতল মর্গে পড়ে রয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী সাবেক মিস পুনে ও বিপণন পেশাজীবী (মার্কেটিং প্রফেশনাল) টুইশার মৃত্যুর ঘটনার একটি ‘সুষ্ঠু ও স্বাধীন’ তদন্ত না পাওয়া পর্যন্ত তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা-বাবা।

মধ্যপ্রদেশ পুলিশ যে ঘটনাকে প্রাথমিকভাবে ‘আত্মহত্যা’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তা এখন যৌতুকের জন্য নির্যাতন, তথ্য-প্রমাণ লোপাট এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগে এক জটিল মোড় নিয়েছে।

টুইশার মা-বাবা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত তার ভাই দাবি করেছেন, নতুন করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে হবে এবং সেটি হতে হবে দিল্লির এইমসে। তাদের অভিযোগ, ভোপালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ও অসম্পূর্ণ ছিল, কারণ ভোপালে টুইশার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

টুইশার পরিবারের সন্দেহ, এটি কেবল সাধারণ আত্মহত্যা নয়। মাত্র পাঁচ মাস আগে ভোপালের আইনজীবী সমর্থ সিংহের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল টুইশার। বিয়ের পর থেকেই টুইশাকে যৌতুকের জন্য হেনস্তা, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিংহ পলাতক রয়েছেন এবং তার খোঁজ দিতে পারলে ১০ হাজার রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভোপাল পুলিশ।

এদিকে ভোপাল পুলিশ পরিবারকে চিঠি দিয়ে দ্রুত লাশ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন মরদেহ এভাবে রেখে দিলে তা পচে যেতে পারে। তাদের মতে, এইমস ভোপালের মর্গে মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে লাশ রাখা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে লাশ সংরক্ষণের জন্য মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন, যা এইমস ভোপালে নেই বলে। তবে পরিবারের কাছে টুইশার এই ব্যবচ্ছেদহীন দেহই এখন শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের শেষ প্রমাণ।

প্রথম ময়নাতদন্তে কী মিলেছে?

গত ১২ মে ভোপালে টুইশার শ্বশুরবাড়িতে জিমনাস্টিক রিংয়ের দড়ির সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এইমস ভোপালের প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুইশার মৃত্যু হয়েছে গলায় ফাঁস লাগার কারণে। চিকিৎসকেরা তার গলায় লালচে জোড়া দাগ এবং শ্বাসরোধের কারণে মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণেরকথা উল্লেখ করেছেন। সহজ কথায়, মৃত্যুর আগে গলায় চাপের কারণে অক্সিজেন না পেয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

তবে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুইশার দেহে একাধিক ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; যার মধ্যে হাত, আঙুল এবং মাথার ত্বকে কালশিটে দাগ মিলেছে। এই তথ্যগুলোই পরিবারের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তে জানা গেছে, মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে টুইশা গর্ভপাত করিয়েছিলেন। পরবর্তী পরীক্ষার জন্য তার ডিএনএ এবং টক্সিকোলজি নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এসব আঘাতের বিষয়ে পুলিশ কোনও তদন্তই করেনি।

ফাঁসের উপাদান নিয়ে বড় প্রশ্ন

এই মামলার অন্যতম বড় রহস্য তৈরি হয়েছে গলায় ফাঁস দেওয়ার উপাদানটি নিয়ে। প্রথম দিকে পুলিশ দাবি করেছিল, টুইশা নাইলনের বেল্ট ব্যবহার করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এইমসের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট লেখা আছে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়নাতদন্তের সময় ফাঁসের সেই উপাদানটি চিকিৎসকদের কাছে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা গলার দাগের সঙ্গে ফাঁসের উপাদানের বৈজ্ঞানিক মিল খুঁজে পাননি। পরবর্তীতে আবার টুইশার ঝুলন্ত লাশের ছাদ থেকে একটি ব্যায়ামের রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড উদ্ধারের কথা বলা হয়।

প্রমাণ লোপাটের এই চেষ্টাকে পুলিশের বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে দেখছে পরিবার। টুইশার বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ‘ফাঁসের উপাদান জমা না দিয়েই পোস্ট-মর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মতো সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার কীভাবে বিচারের আশা করতে পারে?’

যৌতুকের জন্য অত্যাচার ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশ

টুইশার পরিবার জানিয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে তার ওপর অবিরাম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হতো। টুইশার পাঠানো বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেও সেই কষ্টের কথা লেখা ছিল। এর প্রতিবেদন অনুসারে, টুইশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং বর্তমানে তিনি কনজ্যুমার কোর্টে কর্মরত আছেন।

টুইশার বাবা আরও অভিযোগ করেন, ‘ভোপাল লোকায়ুক্ত পুলিশের প্রধান সত্যেন্দ্র সিংহ হলেন শাশুড়ি গিরিবালা সিংহের আত্মীয়। ফলে অভিযুক্তদের আড়াল করতে পুলিশের ওপর ওপরমহল থেকে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে।’

বিচারের দাবিতে আন্দোলন

ন্যায়বিচারের দাবিতে টুইশার পরিবার আদালতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত এবং সিবিআই অথবা সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের আবেদন জানিয়েছে। তবে বুধবার ভোপালের একটি আদালত লাশ সংরক্ষণের পরিকাঠামোগত অভাবের কথা উল্লেখ করে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। যদিও একই দিনে ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার জানিয়েছিলেন যে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে পুলিশের কোনও আপত্তি নেই।

এদিকে কয়েক দিন ধরে ভোপালে অবস্থান নেওয়া টুইশার মা-বাবা বুধবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাদের সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপরই তারা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এই মৃত্যুর তদন্তে হস্তক্ষেপের দাবি জানান।

পুলিশ ইতোমধ্যে যৌতুক নির্যাতনের মামলা দায়ের করে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে এবং টুইশার স্বামী সমর্থ সিংহের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছে। অন্যদিকে টুইশার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, টুইশার মানসিক সমস্যা ছিল, তিনি গাঁজা সেবন করতেন এবং আবেগবশত হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

Ads small one

প্রসঙ্গ: বেতনা নদীর ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটা বাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বেতনা নদীর ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটা বাজার

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র বুধহাটা বাজারটি বেতনা নদীর তীব্র ভাঙনে এখন বিলীনের পথে। দুই শতাব্দীর পুরোনো এই গ্রামীণ মোকামটিতে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে আছেন অঞ্চলের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে শুক্রবারের হাটে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসে। অথচ বেতনা নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে বাজার সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, যা পুরো বাজারটিকে অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন করার কারণেই এই ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। নদীর মাঝখানের পলি অপসারণ না করে ভাঙনকবলিত পাড়ের খুব কাছ দিয়ে খনন করার ফলে স্রোতের গতিপথ এখন বাজারের দিকে ঘুরে গেছে। গত কয়েক দিনে বাজার সংলগ্ন এলাকার ২৫ থেকে ৩০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যার ফলে বাজারের অন্তত পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমনকি সম্প্রতি খেয়া পারাপারের সময় পাড় ধসে শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিলেও জানিয়েছেন যে, বুধহাটা এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার করতে হলে নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন। আমরা মনে করি, দুইশত বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র রক্ষায় শুধু সাময়িক বা জোড়াতালির মেরামত কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দেবে না। জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেখানে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা অপরিহার্য।

একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল এভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ধস নামবে এবং বহু ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। তাই কালক্ষেপণ না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের কাছে আমাদের দাবিÑবুধহাটা বাজার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন দ্রুত একটি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।

শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বেসরকারী সংগঠন রুপান্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গ্রাম পুলিশ ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

রুপান্তরের গোফরইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর অফিসার্স ক্লাব হল রুমে সুইজারল্যান্ড, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকনট্যাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণে উপজেলার আটুলিয়া, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউপির গ্রাম পুলিশ এবং নওয়াবেঁকী বাজার, গড়কুমারপুর বাজার, চাঁদনীমুখা বাজার ও কলবাড়ী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অংশ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে সম্মানিত অতিথি ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের কোয়ার্ডিনেটর সাব ডিস্ট্রিক লিয়াজো মো. আলম চৌধুরীসহ রুপান্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে নিরাপদ ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ছয় দিনেও মেরামত হয়নি বেত্রবতীর সাঁকো, নৌকাই ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
ছয় দিনেও মেরামত হয়নি বেত্রবতীর সাঁকো, নৌকাই ভরসা

কলারোয়া প্রতিনিধি: পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কলারোয়া পৌর শহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি সচল করা হয়নি। ফলে নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষকে এখন খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে পড়া সাঁকোর অবশিষ্টাংশ নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছে। নদীতে এখন আর আগের মতো তীব্র স্রোত বা পানির চাপ নেই, পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবুও সাঁকোটি অস্থায়ীভাবে সচল করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। সকাল ও বিকেলে পারাপারের সময় নৌকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। দুই পাড়ে কোনো সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারে চরম ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পারাপারকারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কাঠের সাঁকোটি কলারোয়া কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে, যার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবল স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও বর্তমানে নদী শান্ত রয়েছে। এরপরও মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। এখন সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণই সময়ের দাবি। ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।