বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথের আত্মমর্যাদা ও আত্মমুক্তির সন্ধানে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথের আত্মমর্যাদা ও আত্মমুক্তির সন্ধানে

২৫ বৈশাখ জন্মতিথির শ্রদ্ধার্ঘ্য

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙ্গালি জাতির পরিচয়ের অনন্য প্রতীক। সাহিত্য ছাড়াও সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল শাখা-প্রশাখায় ছিল তাঁর লেখনীর বলিষ্ট স্পর্শ। তাঁর লেখনী শক্তির মহিমা তাই শুধু দেশ বা কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি-দেশ থেকে দেশান্তরে, কাল থেকে কালান্তরে তা প্রবাহিত হয়ে চলেছে গৌরবের সাথে, মর্যাদার সাথে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর একটি কথা প্রায়শই মনে পড়ে। তিনি বলেছেন, “বিশ্ব সংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাসে রবীন্দ্র প্রতিভার বহুমুখিনতার সঙ্গে তুলনীয় আরেকটি প্রতিভার সন্ধান লাভ করা সহজ নয়। ছোটগল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিণী, পত্রসাহিত্য, গান, ছড়াসহ কোন অঙ্গন নেই যাকে রবীন্দ্রনাথ তাঁর অসামান্য সৃজনশীলতায় ঐশ্বর্যম-িত করে তোলেননি। এর এক একটি শাখার মধ্যেও একইসঙ্গে কী গভীরতা ও বৈচিত্র্য।” বললে অত্যুক্তি হয় না যে, রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে রস, ভাব, ছন্দ, শব্দশৈলী, বাক-চাতৃর্য কিংবা শিল্প বৈচিত্র্য প্রভৃতির আড়ালে যে মূল্যবান বিষয়টি পাঠককুলের নিকট সুক্ষভাবে ধরা পড়ে, তা হলো, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদাবোধ- মানুষের প্রতি মানুষের আচরণের গতি-প্রকৃতি। আমরা যে সমাজের মানুষ বলে সৃষ্টির সেরা পদটির দাবি নিয়ে বাহদুরি করে থাকি, তার সার্থকতা মানুষের সার্বিক আচরণের ফসল বই আর কিছু নয়। ভালো বা মন্দ, উন্নত বা অনুন্নত- সমাজের চেহারা যেমনই হোক, তা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, গোষ্ঠীর সাথে গোষ্ঠীর পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়া দ্বারাই মূলত নির্ণীত হয়ে থাকে।

সমাজবিজ্ঞানে একটি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় অধ্যয়ন করা হয়; ‘সামাজিক স্তরবিন্যাস’ নামক এই প্রত্যয়টি মূলগতভাবে সমাজে বসবাসকারী জনসমষ্টির আর্থ-সামাজিক অবস্থানের ক্রমোচ্চ চিত্র অঙ্কন করে থাকে। অর্থাৎ, এই প্রত্যয়টি সুষ্টুভাবে উপলব্ধি করতে পারলে একটি নির্দিষ্ট সমাজের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ছোট-বড়, ধনী-নির্ধন, ক্ষমতাবান-ক্ষমতাহীন, অগ্রসর-অনগ্রসর, শিক্ষিত-অশিক্ষিত প্রভৃতি স্তরের ধরন, কারণ, প্রভাব, ফলাফল প্রভৃতি সম্পর্কে সুষ্পষ্ট জ্ঞান লাভ করা যায়। সামাজিক স্তরবিন্যাসের বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা থেকে সমাজে অনুসৃত নীতি-নৈতিকতা, ধ্যান-ধারণা ও আদর্শিক মানদ-ের সম্যক চরিত্রও উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। যে সমাজব্যবস্থায় মানুষের মধ্যকার উচ্চ-নীচ ব্যবধান যত বেশি সে সমাজ ব্যবস্থা তত বেশি বৈষম্যমূলক, সামাজিক গবেষণা বা পরিসংখ্যানের আশ্রয় গ্রহণ না করেও এ কথা বলা যেতে পারে। ধরুন, কোন সমাজে যুগ যুগ ধরে একটি জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পারছে না আবার ঐ সমাজেরই অপর এক জনগোষ্ঠী সম্পদের পাহাড় রচনা করে উর্ধমুখি যাত্রা অব্যাহত রেখেছে, সে সমাজের নৈতিকতা বৈষম্যমূলক; এখানে সম্পদের বণ্টনব্যবস্থা, আয়ের উৎস তথা বৃত্তির অধিকার, সামাজিক পরিষেবা বিতরণের প্রক্রিয়া, মানবিক মূল্যায়নের ভিত্তি, পারস্পরিকতার ধরন প্রভৃতি সব কিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

আবার, উর্ধে অবস্থানকারী গোষ্ঠী, যারা আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয়ভাবে সুপ্রতিষ্ঠা লাভে সমর্থ হয়েছে, তারা বিভিন্ন সময়ে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে তাদের অধস্তন অবস্থানের জন্য দায়ী করে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে থাকেন। নানা নেতিবাচক বিশেষণ প্রদান করে তাদেরকে ছোটো করার, তাদের দীনতাকে আরো প্রকট করে তোলার প্রচেষ্টাও দেখা যায়। কিন্তু সমাজে কোন ধরনের নৈতিক আদর্শ লালনের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং এতে অগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোন দায় রয়েছে কি না, এ বিষয়ে বিশেষ কোন বক্তব্য শোনা যায় না। এখানেই আমরা মানবপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ পাই; ‘রাশিয়ার চিঠি’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, “যে-মানুষকে মানুষ সম্মান করতে পারে না, সে-মানুষকে মানুষ উপকার করতে অক্ষম। .. .. এখানে (রাশিয়ায়) এসে যেটা সবচেয়ে আমার চোখে ভাল লেগেছে, সে হচ্ছে এই ধনগরিমার ইতরতার সম্পূর্ণ তিরোভাব। কেবলমাত্র এই ক্রাণেই এদেশে জনসাধারণের আত্মমর্যাদা এক মুহূর্তে অবারিত হয়েছে। চাষাভূষা সকলেই আজ অসম্মানের বোঝা ঝেড়ে ফেলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে। এইটে দেখে আমি যেমন বিস্মিত তেমনি আনন্দিত হয়েছি। মানুষে মানুষে ব্যবহার কী আশ্চর্য সহজ হয়ে গেছে।”

মানুষে মানুষে এই যে সহজ সম্মিলন, পারস্পরিকতা, বুঝাপড়া, আদান-প্রদান ও ভাবের বিনিময়- এসবকে অবজ্ঞা করে বা পাশ কাটিয়ে টেকসই বা আদর্শ সমাজব্যবস্থার যাত্রা নিশ্চিত হতে পারে না, এটিই সমাজের প্রাণস্বরূপ। সম্মানজনক পারস্পরিক মূল্যায়নের উপলব্ধি থেকে মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় দায়বদ্ধতা তথা কর্তব্যের বোধ। কর্তব্যবোধের প্রেরণা মানুষের মনে বপন করে মালিকানার দুর্মূল্য বীজ। মালিকানার অনুভূতি থেকেই মানুষ বলিষ্ট কণ্ঠে বলতে পারে, ‘আমার দেশ’, ‘আমার সমাজ’, ‘আমার পথ’, ‘আমার প্রতিষ্ঠান’ প্রভৃতি। যত চেষ্ঠাই করুন, সকল মানুষের অন্তরে সমভারে ‘আমার’ কিংবা ‘আমাদের’ অনুভূতির অনুরণন না ঘটাতে পারলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। ‘লোকহিত’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ এ বিষয়টিকে অত্যন্ত সুষ্পষ্ট করেছেন, “যেখানেই অনুগ্রহ আসিয়া সকলের চেয়ে বড়ো আসনটা লয় সেইখান হইতেই কল্যাণ বিদায় গ্রহণ করে। সকলের গোড়ায় দরকার লোক সাধারণকে লোক বলিয়া নিশ্চিতরূপে গণ্য করা।”

মানুষ আত্মমর্যাদার উপলব্ধি করে তখনই, যখন সমাজ থেকে সে যথাযোগ্য মূল্যায়ন পেয়ে থাকে। এমন সমাজব্যবস্থাও তো রয়েছে. যেখানে সামাজিক পরিচয়ের কারণে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্তেও কাঙ্খিত বস্তু (চাকরি, ব্যবসায়, পরিষেবা, সম্মান, পদবী, বৃত্তি প্রভৃতি) লাভে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে! এতে একদিকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে ও অপরদিকে সমাজকে বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রকৃত মেধার সেবা থেকে। শধু তাই নয়, অলক্ষ্যে সমাজ কলঙ্কিতও হচ্ছে। রাজনৈতিক ও মতাদর্শভিত্তিক বিদ্বেষ ও নিষ্ঠুরতার কথা নাই বা বললাম। এভাবে কি সুন্দর ও অর্থবহ সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব?

সমাজের সকল মানুষের মনে আত্মমর্যাদার এই অমূল্য উপলব্ধি ঘটানো তাই খুব জরুরী। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীই নিজেকে/ নিজেদেরকে আত্মনির্ভরতায় বলীয়ান করে তুলে বা অন্তত তুলতে সচেষ্ট হয়। আর তখনই মানুষের মানসলোক থেকে আপনা-আপনি এ গান ধ্বনিত হয়ে ওঠে-

“আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা-
তরিকে পারি শকতি যেন রয়,
আমার ভার লাঘব করি নাই বা দিলে সান্ত¦না,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।”
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : আত্মশক্তি কবিতা)

রবীন্দ্রনাথ বিত্তের স্বাধীনতার চেয়েও চিত্তের স্বাধীনতাকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। পরাধীন চিত্ত কখনো আত্মমর্যাদার কথা ভাবতে পারে না, মুক্তি তো দূরের কথা। চিত্ত বা মন থেকে যখন একজন ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন বলে ভাবতে পারবে, তখনই সে তার নিজকে নিয়ে তৃপ্তি বোধ করতে পারবে। তার বৈভবের পরিমাণ সামান্য হোক, তার পদবী ছোটো হোক, সে তখন এসব বিবেচনায়ই আনতে চাইবে না; যেমনটা ‘জোনাকি’ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,

“তুমি নও তো সূর্য নও তো চন্দ্র
তোমার তাই বলে কি কম আনন্দ
তুমি আপন জীবন পূর্ণ করে
আপন আলো জ্বেলেছো। ….
তুমি আঁধার-বাঁধন ছাড়িয়ে ওঠো
তুমি ছোটো হয়ে নও গো ছোটো
জগতে যেথায় যত আলো
সবায় আপন করে ফেলেছো।”
(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ও জোনাকি, গীতবিতান)

শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীই নয়, জাতির ক্ষেত্রেও একই ধারণা প্রযোজ্য। আত্মমর্যাদা ব্যতীত কোন জাতি গঠিত হতে পারে না, আর পারলেও তা টেকসই হয়ে উঠতে পারে না। এজন্যই স্বাধীন জাতির অভিধা থাকা সত্তেও পৃথিবীর সকল জাতির মূল্যায়নগত অবস্থান সমান নয়। পৃথিবীতে অস্তিত্বশীল সকল জাতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমরা বলতে পারি যে, মার্কিন, বৃটিশ, রুশ বা ফরাসী জাতির সাথে নিশ্চয়ই আফ্রিকা, ল্যাটিন অ্যামেরিকা এমনকি এশিয়ার অনেক জাতির মূল্যায়নের নিক্তি বিস্তর ভারসাম্যহীন, কারণ যাই হোক। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, অধিকার, আইন, বিচার, নিরাপত্তা প্রভৃতির নিরীখে উন্নত বলে সমাদৃত জাতিসমূহ রাষ্ট্র, সম্প্রদায়, গোষ্ঠী ও ব্যক্তি পর্যন্ত এমন এক শৃঙ্খল প্রতিষ্ঠায় সমর্থ হয়েছে, যেখানেনাগরিক হিসেবে একজন ব্যক্তির মনেও কোন হতাশা বা হীনমন্যতা নেই। ব্যক্তির এহেন আত্মমর্যাদার বোধই জাতীয় চেতনায় পরিণত হয়, যা মুক্তির পথকে সুপ্রশস্ত করে দেয়।

রবীন্দ্রনাথের প্রচুর লেখায় এই বিষয়টির অবতারণা পরিলক্ষিত হয়। বিনয়ের সাথে স্বীকার করছি যে, এই লেখাটি রবীন্দ্রনাথের অনুরূপ চিন্তার খুবই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি প্রয়াস মাত্র। আমরা এখানে তাঁর কেবল দু’তিনটি লেখার আলোকে এটি সাজানোর চেষ্টা করেছি। ২৫ বৈশাখ এই মহাপ্রাণের শুভ জন্মতিথিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

লেখক: বাবুল চন্দ্র সূত্রধর, মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক

 

Ads small one

জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জেলা প্রশাসকের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জেলা প্রশাসকের

 

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ঠজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরায় নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। বুধবার উক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনসেবা, শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। নবাগত জেলা প্রশাসক উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা জেলার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে সরকারের ৫ মহাপরিকল্পনা বিষয়ে অপর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বলা হয়, “সবার আগে বাংলাদেশ, করবো কাজ, গড়বো দেশ”Ñএই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার। ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ দর্শনের আলোকে এসব অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর চৌধুরি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম।
এতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বলা হয়Ñ প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে ডিজিটাল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের বিশেষত্ব হলো, এটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে প্রদান করা হচ্ছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। লক্ষ্য রয়েছে ৫ বছরে ৫০ লাখ গ্রামীণ পরিবারকে এই ডিজিটাল সুরক্ষার আওতায় আনার।
নদী ও খাল খনন বিষয়ে বলা হয়Ñপরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরুজ্জীবিত করেছে সরকার। আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া ৫২০টি নদী ও হাজারো খালের পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। সাতক্ষীরা জেলায় ইতোমধ্যে ৩৩টি খালের মধ্যে ৪টির খনন কাজ শেষ হয়েছে এবং ২৫টির কাজ চলমান রয়েছে।
সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় মোট ৩৩টি খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে আছেÑ কামু খাল, কাটা খাল, কোলকাতলা খাল, খেজুরডাঙ্গা খাল, পুটিমারী খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল, লেবুখালি খাল, নারায়নবাড়ি খাল, হেতালবুনিয়া খাল, কুড়িকাহুনিয়া, গেটের খাল, আই খাল, আইতলা খাল, চিত্রা খাল, হিমখালির খাল, ফারি খাল, খোসালখালি খাল, ধানখালি খাল, খলশিমুখো খাল, সোয়লিয়া খাল, হেতেলখালি খাল, গাবলাখালি খাল, খাশখামার খাল, দশ ফুটের খাল, কুমড়া খাল, কাটাখালি খাল, শ্যাম খাল, পাতাকাটা খাল, টুংগিরপুর খাল-০১, টুংগিরপুর খাল-০২, বসুখালি খাল ও বোয়ালমারি খাল।
এসব খালগুলো মধ্যে কামু খাল, কাটা খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খালগুলোর মধ্যে কুড়িকাহুনিয়া, আইতলা খাল, গাবলাখালি খাল ও হিমখালির খাল খননের জন্য প্রস্তাবিত আকারে রয়েছে। বাকি খালগুলো খননের কাজ চলমান রয়েছে।
কর্মসূচিভুক্ত খালগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান জেলা তথ্য অফিসার। সভায় আরও জানানো হয়, ’সবুজ হোক দেশ, নির্মল হোক পরিবেশ’Ñস্লোগানে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩ দশমিক ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’-এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার আধুনিক ব্যবস্থা চালু করছে সরকার।
জেলা তথ্য অফিসার বলেন, যাতায়াতে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং বিশেষায়িত নিরাপদ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গণপরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাসের চালক ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বেও থাকবেন নারীরা।
তিনি আরও বলেন, ”কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”Ñএই চেতনায় দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনার কাজ চলছে। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ সার, বীজ, সহজ শর্তে ঋণ ও শস্য বীমার মতো ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিস জানায়, সরকারের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকা- ও নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তৃণমূলের মানুষকে সচেতন করতে জেলাজুড়ে উঠান বৈঠক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মাইকিং ও ডিজিটাল প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য অফিস আয়োজিত উক্ত প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়েও বসার জায়গা না পেয়ে প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নের আওতায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে বুধবার সাড়ে এগারটার দিকে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যান। এসময় তাঁরা প্রায় সব হলুদ ও ভূইফোড় সাংবাদিকদের চেয়ার দখল করে বসে থাকতে দেখেন। এমতাবস্থায় নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন। মুলধারার সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে রেখে তিনি ব্রিফিং শুরু করলে ‘বসার জায়গা না পেয়ে অগত্য সাংবাদিকরা সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।’
এবিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত জানতে খুবই আগ্রহ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু বসার জায়গা না পাওয়া ও জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমুলক আচরণে আমাদের চলে আসা ছাড়া পথ ছিলনা। ’
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মূলধারার সাংবাদিকরা সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকা-ের সকল খবর প্রচার করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, গত ১লা এপ্রিল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের শ্যামনগর সফরের নিউজ মুলধারার সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ কাভারেজ করেন। অথচ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখা যায়নি।

তালায় ব্যবসায়ীর জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থানায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
তালায় ব্যবসায়ীর জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ থানায়

সংবাদদাতা: তালা উপজেলার হাজরাকাটি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দোকানঘর দখল এবং মালিক ও ভাড়াটিয়াদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জমির মালিক আব্দুর রব সরদার বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হাজরাকাটি বাজারে নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে প্রায় ৪০টি দোকানঘর নির্মাণ করে গত ২৬ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন আব্দুর রব সরদার। এর মধ্যে কয়েকটি দোকানে তিনি নিজে ব্যবসা করেন এবং বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাজারে ত্রাস সৃষ্টি করে আব্দুর রবের মার্কেটে প্রবেশ করে। তারা ভাড়াটিয়াদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে এবং নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এর কয়েক দিন পর ৫ নভেম্বর অভিযুক্তরা পুনরায় বাজারে এসে কয়েকজন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঝাউডাঙ্গায় দেড় শ কৃষকের মধ্যে আউশ ধানের প্রণোদনা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
ঝাউডাঙ্গায় দেড় শ কৃষকের মধ্যে আউশ ধানের প্রণোদনা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নে আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পৃথকভাবে এই প্রণোদনা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে তুজুলপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়। উপকরণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন মল্লিক, মেহেদী হাসান ও এস এম মাহমুদুল হাসান। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আউশ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনতে সরকারের এই বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুবিধাভোগী কৃষকেরা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এসব উপকরণ গ্রহণ করেন। তাঁরা জানান, সঠিক সময়ে উন্নত মানের বীজ ও সার পাওয়ায় আউশ চাষে তাঁদের আগ্রহ ও সক্ষমতা বাড়বে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আউশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।