বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শার্শাসহ বিভিন্ন সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা জারী করেছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
শার্শাসহ বিভিন্ন সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা জারী করেছে বিজিবি

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): কুরবানীর পশুর চামড়া ভারতে পাচার প্রতিরোধসহ অনুপ্রবেশ রোধে যশোরের শার্শা বেনাপোলসহ বিভিন্ন সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা জারী করেছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় মাইকিংসহ বিজিবি টহল জোরদার ও নজরদারী বাড়ানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পশুর চামড়া পাচার রোধসহ সব ধরনের অনুপ্রবেশ রোধে সর্বোচ্ছ সতর্কতায় রয়েছে বিজিবি। রাত দিন বাড়তি টহল ও নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে সন্দেহ ভাজনদের চেকিং জোরদার করা হয়েছে সীমান্ত এলাকায়। কোনভাবেই যেন চামড়া পাচার না হয় এজন্য বিজিবি রয়েছে সজাগ।

Ads small one

রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোরবানির চামড়া

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
রাস্তায় পড়ে নষ্ট হচ্ছে কোরবানির চামড়া

কোরবানির ঈদ এলেই দেশের এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দরিদ্র মানুষের জন্য বড় একটি আশার নাম পশুর চামড়া। একসময় কোরবানির চামড়া ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু গত কয়েক বছরের মতো এবারও সেই চিত্রে ফিরেনি স্বস্তি। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবারও কাঁচা চামড়া রাস্তায় পড়ে নষ্ট হতে দেখা গেছে। প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ।

সরকার চলতি বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা বাড়ালেও বাস্তবে সেই দামে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না বিক্রেতারা। বরং অনেক ক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় প্রতি পিসে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে ছাগলের চামড়া। কোথাও কোথাও মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে ছাগলের চামড়া, আবার অনেক জায়গায় বিনামূল্যেও কেউ নিতে চায়নি।

 

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, কলাবাগান, শ্যামলী, মালিবাগ, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ এলাকার বিভিন্ন অস্থায়ী সংগ্রহকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে শত শত কাঁচা চামড়া। পিকআপ, অটোরিকশা, ভ্যান ও রিকশায় করে চামড়া এনে বিক্রির অপেক্ষায় বসে আছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। মানিকনগর বিশ্বরোড সংলগ্ন এলাকায় মসজিদের সামনে চামড়া পড়ে রয়েছে। শুধু মানিক নগর এলাকায়, বিভিন্ন এলাকায় চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে। জানা গেছে, ট্যানারি মালিকরা চামড়ার দাম কম বলার কারণে বিনা পয়সায় সংগ্রহ করা চামড়া সাভার নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বলিয়ারপুর এলাকা থেকে ৩০ পিস চামড়া নিয়ে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ী পরেশ বলেন, “৭০০ টাকা দরে যে চামড়া কিনেছি, আড়তে এসে সেই চামড়ার দাম বলছে ৬০০ টাকা। লাভ তো দূরে থাক, গাড়ি ভাড়াই পকেট থেকে যাবে।”

সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে চামড়া কিনে সায়েন্সল্যাবে আসা রতন ব্যাপারি ও মোহাম্মদ রাসেল জানান, তারা প্রতিটি চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে এসে ৫০০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। রতন ব্যাপারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলছে। আমরা ৭০০ টাকা পর্যন্ত দরে কিনে এনেছি, এখন ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বলছে।”

একই অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। তার ভাষায়, “প্রায় ৪ লাখ টাকার চামড়া এনেছি। কিন্তু সবাই একই দাম বলছে। বাজারে প্রতিযোগিতা নেই।”

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাঁচা চামড়ার দাম আরও পড়ে যায়। কারণ কাঁচা চামড়া দ্রুত সংরক্ষণ না করলে তা নষ্ট হতে শুরু করে। ফলে বিক্রেতারা শেষ পর্যন্ত কম দামেই চামড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিকেল ৫টার পর কিছু চামড়া প্রতি পিস মাত্র সাড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাতিরপুল এলাকার একটি মাদ্রাসার দুই ছাত্র ১০টি গরুর চামড়া ওই দামে বিক্রি করেন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, “সকালে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া সন্ধ্যার পর থেকেই নষ্ট হতে শুরু করে। ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে গুণগত মান কমে যায় এবং দামও কমে যায়।”

মাটিতে পুঁতে ফেলার শঙ্কা

২০১৯ সাল থেকে কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি না হওয়া চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও বহু মানুষ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে চাপা দিয়েছেন। এবারও সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “গত বছর অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে পারেননি। পরে মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়েছিল। এবারও দাম খুব কম। বিক্রি না হলে আবারও পুঁতে রাখতে হবে।”

খুলনায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। শের-ই-বাংলা রোড এলাকায় বড় গরুর কাঁচা চামড়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং ছোট গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাস্তার ওপর ধুলা-ময়লার মধ্যেই চামড়া স্তূপ করে রাখতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের।

সরকার দাম বাড়ালেও বাস্তবতা ভিন্ন

চলতি বছর সরকার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ঢাকার বাইরে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। এছাড়া খাসির চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই হিসাবে একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম হওয়ার কথা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে সেই দাম কার্যকর করার কোনও ব্যবস্থা নেই। ট্যানারি মালিকরা কম দাম দিলে বাধ্য হয়ে তারাও কম দামে চামড়া কিনছেন।

মালিবাগ এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল কাইয়ুম বলেন, “ট্যানারি মালিকরা আগেই বলে দিয়েছেন বেশি দামে চামড়া নেবেন না। তাই আমরা বেশি দামে কিনতে পারছি না।”

ছাগলের চামড়ায় ভয়াবহ সংকট

সবচেয়ে করুণ অবস্থা ছাগলের চামড়ার। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছাগলের চামড়া ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিনামূল্যেও নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

ধানমন্ডি এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, “ছাগলের চামড়া তো প্রায় কেউ নিতে চাচ্ছে না। অনেকে বিনা টাকায় দিয়ে দিচ্ছেন।” ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংরক্ষণ খরচ ও প্রক্রিয়াজাত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ছাগলের চামড়ায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা।

ট্যানারি মালিকদের যুক্তি

চামড়ার বাজারে মন্দার পেছনে ব্যবসায়িক সংকট, রফতানি আদেশ কমে যাওয়া এবং পুরোনো স্টকের চাপকে দায়ী করছেন ট্যানারি মালিকরা। আজমীর লেদারের মালিক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, “আমাদের কারখানায় এখনো ৫০ হাজার পিসের বেশি পুরোনো স্টক পড়ে আছে। ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় অনেকের মূলধন অর্ধেক হয়ে গেছে।”

হেমায়েতপুরের আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, “মূল সমস্যা অর্থসংকট। ট্যানারিগুলোর কাছে আমাদের বিপুল টাকা বাকি পড়ে আছে। ব্যাংক ঋণও সহজে পাওয়া যায় না।”

তবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দাবি করছেন, গত বছরের তুলনায় দাম কমেনি। বিটিএর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, “এ বছর আমি নিজেই ৬৫০ থেকে ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দামে চামড়া কিনেছি। বাজার পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।”

কেন বারবার সংকটে চামড়া খাত?

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের চামড়া খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ট্যানারিগুলোর অর্থসংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি মূল্য কমে যাওয়া, পরিবেশগত মানদণ্ড ও এলডাব্লিউজি সনদের অভাব,চীনের বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজারে সিন্ডিকেট ও সমন্বয়হীনতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর করতে না পারলে এবং মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার না হলে প্রতিবছর একই সংকট তৈরি হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এতিমখানা, মাদ্রাসা, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ কোরবানিদাতারা।

আশার বদলে হতাশা

একসময় কোরবানির চামড়া ছিল দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বড় সহায়। কিন্তু এখন সেই চামড়াই পরিণত হয়েছে দুর্ভোগে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা চামড়া, ক্রেতাহীন ছাগলের চামড়া এবং লোকসানে পড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘশ্বাস যেন দেশের চামড়া শিল্পের গভীর সংকটকেই সামনে এনে দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষায়, “সরকার দাম বাড়িয়েছে কাগজে-কলমে, কিন্তু বাস্তবে সেই দামের কোনো অস্তিত্ব নেই।”

সীমান্তে জড়ো হওয়া শতাধিক নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সীমান্তে জড়ো হওয়া শতাধিক নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর

অনলাইন ডেস্ক: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জড়ো হওয়া শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তর করেছে প্রশাসন। পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)-এর সমন্বয়ে তাদের বিভিন্ন অস্থায়ী কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, প্রাথমিক সমন্বয় ও আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় গত দুই দিন ধরে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক জড়ো হতে থাকেন। প্রশাসন তাদের বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টারে রাখে।

 

মঙ্গলবার রাতের দিকে বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন স্থানে তাদের স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে— প্রায় ১১০ জনকে স্বরূপনগরের তেঁতুলিয়া এলাকার সরকারি গেস্ট হাউস “পথের সাথী”-তে রাখা হয়েছে। হাকিমপুর সীমান্ত সংলগ্ন একটি প্রাইমারি স্কুলে শতাধিক নাগরিককে রাখা হয়েছে। সীমান্তের কাছাকাছি দুটি নতুন বাড়িতে আরও প্রায় ১৭০ জনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। গেস্ট হাউস ও অন্যান্য কেন্দ্রের বাইরে কঠোর পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

 

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হোল্ডিং সেন্টারে থাকা ব্যক্তিদের নথি সংগ্রহ ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

যদি কেউ বৈধ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হন, তবে নিয়ম অনুযায়ী পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সমন্বয় করবে।

 

হেফাজতে থাকা কিছু ব্যক্তি জানিয়েছেন, তারা দালালের সহায়তায় বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে কলকাতা, হাওড়া, রাজারহাট, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এমনকি দক্ষিণ ভারতের কেরল পর্যন্ত বসবাস করেছেন।

 

তাদের দাবি অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় দালালদের সহায়তায় ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ এখন প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

 

এছাড়াও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল কিছু দাবি উঠলেও তা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

 

বুধবার বিকেল পর্যন্ত আরও কিছু বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন যানবাহনে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। তাদেরও নথি যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।

 

সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আপনার হাতে থাকা টাকার মূল্য কতটা কমে গেছে জানেন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
আপনার হাতে থাকা টাকার মূল্য কতটা কমে গেছে জানেন?

আপনি আপনার ছোটবেলার কথা চিন্তা করুন তো। সে সময় আপনার ঈদের সালামি কত ছিল? ২ টাকা, ৫ টাকা কিংবা ১০ টাকা? এখন আপনাকে কত দিতে হচ্ছে? আরেকটু ভাবুন, সেসময় আপনার বাবার আয় কত ছিল, এখন আপনার কত। তবুও কি হিমশিম খেতে হচ্ছে, মাস শেষ হওয়ার আগেই ফুরিয়ে যাচ্ছে টাকা? আপনি একা নন, প্রায়শই আশপাশের মানুষের মুখেই শুনবেন—‘টাকা আছে, কিন্তু সেই টাকার আর আগের মতো মূল্য নেই।’

অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো এই ‘মূল্য কমে যাওয়া’। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস’ বা ‘পার্চেজিং পাওয়ার’ কমে যাওয়া। অর্থাৎ হাতে থাকা টাকার পরিমাণ একই থাকলেও সেই টাকা দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা যাচ্ছে। আর পেছনে কলকাঠি নাড়ে ‘মূল্যস্ফীতি’।

গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের মানুষের বাস্তব আয় কমেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও স্থির আয়ের মানুষ। আয় বাড়লেও ব্যয় আরও দ্রুত বাড়ছে। ফলে সঞ্চয় কমছে, ঋণনির্ভরতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

সর্বশেষ এপ্রিল মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে পড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়েছে। এতে সীমিত আয়ের ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। টানা চার মাস ঊর্ধ্বগতির পর মার্চে সামান্য কমলেও এপ্রিলে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি। ফলে গত ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।

১ লাখ টাকার প্রকৃত মূল্য কতটা কমেছে

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকলে টাকার প্রকৃত মূল্য দ্রুত কমে যায়। কয়েক বছর আগে ১ লাখ টাকা দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য কেনা যেত, এখন সেই একই পণ্য কিনতে অনেক বেশি টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।

যদি বার্ষিক মূল্যস্ফীতি গড়ে ৯ থেকে ১০ শতাংশ থাকে, তাহলে পাঁচ বছরে টাকার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খায়। অর্থাৎ ব্যাংকে রাখা ১ লাখ টাকা সংখ্যায় একই থাকলেও বাস্তবে সেই টাকার শক্তি অনেকটাই কমে যায়।

সহজভাবে বললে, আগে ১ লাখ টাকায় যে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া যেত, এখন সেই একই জীবনযাত্রা ধরে রাখতে হয়তো প্রয়োজন হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি হচ্ছে “টাকার নীরব ক্ষয়”। মানুষ বুঝে ওঠার আগেই তার সঞ্চয়ের প্রকৃত মূল্য কমতে থাকে।

বাজারে গেলেই বোঝা যায় টাকার মান কমেছে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দফায় বেড়েছে। ২০২১ সালে যে ভালো মানের চাল ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেই চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮৫ থেকে ১০০ টাকা। ভোজ্যতেল, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, সবজি—সব ক্ষেত্রেই একই চিত্র।

অনেক পরিবারের খাদ্যাভ্যাসও বদলে গেছে। আগে সপ্তাহে দুই-তিন দিন গরুর মাংস খাওয়া পরিবার এখন মাসে একবারও কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। মাছ, ফল, দুধ কিংবা পুষ্টিকর খাবার ধীরে ধীরে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মানিক নগর এলাকার বাসিন্দা তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘গত বছর যে খরচে সংসার চলত, এখন সেই টাকায় কিছুই হয় না। চালের দাম বেড়েছে, বাড়িভাড়া বেড়েছে, যাতায়াত খরচ বেড়েছে। মাস শেষ হওয়ার আগেই টাকা ফুরিয়ে যায়।’

আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী আহাদ আলী বলেন, ‘আগে ৩০ হাজার টাকায় যেভাবে সংসার চলত, এখন ৫০ হাজার টাকাতেও সেই স্বস্তি নেই। মাস শেষে হাতে কিছুই থাকে না।’

মূল্যস্ফীতি আসলে কী, কেন হয়

মূল্যস্ফীতি হচ্ছে এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যখন সময়ের সঙ্গে পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে থাকে এবং টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। সহজভাবে বললে, আজ যে টাকা দিয়ে আপনি পাঁচটি পণ্য কিনতে পারছেন, কয়েক বছর পর সেই একই টাকা দিয়ে হয়তো তিনটি পণ্যও কিনতে পারবেন না। একসময় মানুষ পকেটভর্তি টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে ব্যাগভর্তি বাজার আনতেন। এখন ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে পকেটভর্তি বাজার আনতে হয়—এটাই মূল্যস্ফীতির বাস্তব চিত্র।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি বিভিন্ন কারণে সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় কয়েকটি বড় কারণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।

১. ডলার সংকট ও টাকার অবমূল্যায়ন: টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি, ভোজ্যতেল, কাঁচামাল ও শিল্পপণ্যের বড় অংশ আমদানি করে, তাই ডলারের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে।

২. উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি: বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিল্প ও কৃষি উভয় খাতেই উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করছেন।

৩. সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা: সংরক্ষণ সংকট, পরিবহন ব্যয় ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এতে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায়।

৪. অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহ: অর্থনীতিতে বেশি টাকা প্রবাহিত হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়ে। কিন্তু পণ্যের সরবরাহ সেই হারে না বাড়লে বাজারে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়।

৫. বৈশ্বিক অস্থিরতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট—এসব কারণেও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।

খাদ্য মূল্যস্ফীতিই এখন সবচেয়ে বড় চাপ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি একাধিকবার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাদ্য মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে শুধু অর্থনীতি নয়, সামাজিক বাস্তবতাও বদলে যায়। মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হয়, পুষ্টিহীনতা বাড়ে এবং জীবনমানের অবনতি ঘটে। নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য ব্যয়ে চলে যায়। ফলে চাল, ডাল কিংবা তেলের দাম বাড়লেই তাদের পুরো জীবনযাত্রা নড়ে যায়।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কোনো পরিবার যদি মাসে ৩০ কেজি চাল ব্যবহার করে এবং চালের দাম ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় ওঠে, তাহলে তাদের ব্যয় বড় আকারে বেড়ে যায়। গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে বাস্তবে তাদের চাপ আরও বেশি হয়।’

বেতন বাড়ছে, কিন্তু স্বস্তি নেই

সরকারি ও বেসরকারি খাতের অনেক কর্মীর বেতন কিছুটা বাড়লেও বাজারদরের সঙ্গে সেই বৃদ্ধি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে বাস্তব আয় কমে যাচ্ছে। ব্যাংকার, শিক্ষক, পোশাকশ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী—সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি মূল্যস্ফীতির হার বেতন বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রকৃত অর্থে মানুষের আয় কমে যায়। কাগজে-কলমে বেতন বাড়লেও জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় না।

সঞ্চয়েও মিলছে না স্বস্তি

উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ব্যাংকে টাকা জমা রেখেও প্রকৃত মুনাফা পাওয়া যায় না। কারণ অনেক সময় ব্যাংকের সুদের হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম থাকে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় নেগেটিভ রিয়েল রিটার্ন। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা বাড়ছে মনে হলেও বাস্তবে সেই টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমছে। এ কারণে অনেকে সোনা, জমি, ডলার কিংবা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। তবে সাধারণ মানুষের বড় অংশের সেই সুযোগ নেই।

মধ্যবিত্ত সবচেয়ে বেশি চাপে

অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চবিত্তের সম্পদ বাড়ানোর সুযোগ থাকে, নিম্ন আয়ের মানুষ কিছু সরকারি সহায়তা পায়; কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ে। এই শ্রেণির মানুষ সামাজিক মর্যাদা ধরে রাখতে গিয়ে ব্যয় কমাতে পারে না, আবার আয়ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। ফলে সঞ্চয় কমে যাচ্ছে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং মানসিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক পরিবার এখন সন্তানদের কোচিং বন্ধ করছে, চিকিৎসা ব্যয় কমাচ্ছে কিংবা বিনোদন খরচ পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি কি সবসময় খারাপ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খুব অল্প মাত্রার মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। সাধারণত ২ থেকে ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করে। কারণ মানুষ যদি বুঝতে পারে ভবিষ্যতে দাম বাড়বে, তাহলে তারা এখনই পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়। এতে ব্যবসা বাড়ে, বিনিয়োগ বাড়ে এবং কর্মসংস্থান তৈরি হয়।

তবে মূল্যস্ফীতি যখন দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তখন তা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি শূন্যের নিচে নেমে গেলে বা ডিফ্লেশন তৈরি হলেও অর্থনীতি সংকটে পড়ে। কারণ তখন মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়, ব্যবসা কমে যায় এবং কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হয়।

ভয়াবহ রূপ ‘হাইপার-ইনফ্লেশন’

বিশ্বে জিম্বাবুয়ে, ভেনেজুয়েলা, জার্মানি ও হাঙ্গেরির মতো দেশ ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির অভিজ্ঞতা পেয়েছে। জিম্বাবুয়েতে একসময় একটি রুটি কিনতে লাগত বিলিয়ন ডলার। জার্মানিতে মানুষ টাকা দিয়ে চুলা জ্বালাত, কারণ তা কয়লার চেয়েও সস্তা হয়ে গিয়েছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন সেই পর্যায়ে না গেলেও দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকলে অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কী করা দরকার

বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে, বাজার তদারকি জোরদার করা; সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা; কৃষি ও উৎপাদন খরচ কমানো; ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা; ডলার বাজার স্থিতিশীল করা; কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদহার ও অর্থ সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

অর্থনীতির কঠিন এই বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—হাতে টাকা আছে, কিন্তু সেই টাকার প্রকৃত মূল্য কতটুকু বাকি আছে? বাজারে গেলে, মাসের হিসাব মেলাতে বসলে কিংবা ব্যাংকের সঞ্চয়ের দিকে তাকালেই মানুষ সেই উত্তর খুঁজে পাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এখন শুধু অর্থনীতির পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের আরেক নাম।