বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ আমের দামে ধস ও আম চাষীদের ভাগ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ আমের দামে ধস ও আম চাষীদের ভাগ্য

oppo_0

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি ফল চাষ, যার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে আম। তবে চলতি মৌসুমে শার্শার ঐতিহ্যবাহী বেলতলা আম বাজারের যে চিত্র সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাজারে আমের ফলন ভালো হলেও দামের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। হিমসাগর, ল্যাংড়া বা গোবিন্দভোগের মতো প্রিমিয়াম জাতের আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ দরে।

 

যেখানে সার, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে উৎপাদন খরচই এর চেয়ে অনেক বেশি, সেখানে এই পানির দরে আম বিক্রি করতে হওয়া চাষীদের পিঠে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার শামিল। প্রশ্ন উঠেছে, অনুকূল আবহাওয়ায় বাম্পার ফলন কি তবে এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়াল?
কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু শার্শা উপজেলাতেই ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হচ্ছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার চাষী এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অথচ মৌসুমের এই ভরা সময়ে বাজারে বাইরের পাইকারদের দেখা নেই।

 

কৃষকদের অভিযোগ, বাজার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও দূরদর্শিতার অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা যেখানে ঈদের আগে প্রতি মণ আম ১৬০০ থেকে ৩৬০০ টাকায় বিক্রির দাবি করছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কর্মকর্তাদের এই চশমা-পরা আশাবাদ ও মাঠের বাস্তবতার মধ্যকার দূরত্ব প্রমাণ করে যে, বিপাকগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যকর কোনো উদ্যোগ প্রশাসনের নেই।

বাজার বিশ্লেষক ও কৃষি-সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, মৌসুমের শুরুতে কিছু অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীর অপরিপক্ক ও কেমিক্যালযুক্ত আম বাজারজাতকরণের ফলে সাধারণ ভোক্তারা আম কেনায় আগ্রহ হারিয়েছেন, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ সৎ চাষীদের। তবে এর চেয়েও বড় সত্য হলো হিমাগারের অভাব এবং সঠিক বিপণন ও পরিবহন চেইনের দুর্বলতা। আম একটি পচনশীল ফল। একে বেশিদিন ধরে রাখা যায় না বিধায় চাষীরা আড়তদারদের সিন্ডিকেট ও কম দামের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। লোকসানের মুখোমুখি হয়ে চাষীরা আম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, এমনকি অনেকে আমগাছ কেটে ফেলার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আমরা মনে করি, অবিলম্বে বেলতলাসহ স্থানীয় আম বাজারগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। বহিরাগত পাইকারদের আগমন নির্বিঘœ করতে নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি, সরকারি উদ্যোগে প্রান্তিক চাষীদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে আম ক্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলে ফল সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপন করা দরকার। কৃষকের ঘাম ও শ্রমের মূল্য এভাবে বাজারে ধূলিসাৎ হতে দেওয়া যায় না; কারণ কৃষক বাঁচলেই বাঁচবে দেশের অর্থনীতি।

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।