মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: আইলা দিবস ও উপকূলের টিকে থাকার সংগ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: আইলা দিবস ও উপকূলের টিকে থাকার সংগ্রাম

২০০৯ সালের ২৫ মে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। আজ সেই ভয়াল ২৫ মে। দেখতে দেখতে ১৭টি বছর পার হয়ে গেলেও সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের জীর্ণ বেড়িবাঁধ আর লোনা পানির গ্রাসে থাকা লাখো মানুষের ভাগ্যের কোনো টেকসই পরিবর্তন ঘটেনি। আইলার পর বুলবুল, আম্পান, ইয়াস এবং রেমালের মতো উপর্যুপরি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন উপকূলীয় জনপদের বাসিন্দারা। জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম বাস্তবতায় যখন উপকূলের মানুষের অস্তিত্বই সংকটে, তখন জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতের হিস্যা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পরিবেশবাদীরা উপকূলের সুরক্ষায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট ও বিশেষ বরাদ্দের যে যৌক্তিক দাবি তুলেছেন, তা নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবা উচিত। বৈশ্বিক বিভিন্ন সূচক বলছে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খাদের কিনারে অবস্থান করছে। পরিবেশবিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমি হারিয়ে যাবে এবং শতকের শেষে দেশের একটি বড় অংশ সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে ১ কোটিরও বেশি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে পারে।
এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান কেবল সংখ্যার হিসাবে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে রয়েছে মানুষের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, কর্মসংস্থান হারানো, সুপেয় পানির তীব্র সংকট এবং নারী ও শিশুদের পুষ্টিহীনতার মতো গভীর মানবিক বিপর্যয়। উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষার প্রধান ঢাল হলো টেকসই বেড়িবাঁধ। অথচ সরকারি তথ্যমতেই বর্তমানে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য জোয়ারের পানিতেই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, লোনা পানি ঢুকে ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি ও সুপেয় পানির উৎস।
দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, উপকূলের এই ত্রাহি অবস্থার বিপরীতে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দের চিত্রটি প্রতি বছরই হতাশাজনক হচ্ছে। গত এক দশকের বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের মোট বাজেটের আকার প্রতি বছর বাড়লেও শতকরা হারের দিক থেকে জলবায়ু খাতের বরাদ্দ ক্রমাগত কমছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যেখানে মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ জলবায়ু খাতে বরাদ্দ ছিল, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪.৮৬ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৫.১৭ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তা মাত্র ৫.২১ শতাংশ।
এই বরাদ্দ যে কেবল অপর্যাপ্ত তা-ই নয়, এর একটি বড় অংশই খরচ হয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে। ফলে উপকূলের অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী সুরক্ষাকবচ তৈরির জন্য আলাদা কোনো বিশেষ তহবিল এখনো দৃশ্যমান নয়। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের রক্ষাকবচ হলো বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, যা যুগে যুগে সব বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিজের বুকে পেতে নিয়ে দেশকে রক্ষা করে আসছে। সুন্দরবনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় ৫০ লাখ মানুষের জীবিকা। সুন্দরবনের পরিবেশ ও উপকূলীয় সুরক্ষাবলয় ভেঙে পড়লে তা পুরো জাতীয় অর্থনীতির ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে।
ত্রাণ বা সাময়িক অনুদান উপকূলের মানুষের স্থায়ী মুক্তি দিতে পারে না। লোনা পানির আগ্রাসন রোধে এবং এই জনপদকে টিকিয়ে রাখতে আসন্ন জাতীয় বাজেটে একটি ‘বিশেষ উপকূলীয় তহবিল’ গঠন এখন সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে, উপকূল রক্ষা না পেলে দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। আইলা দিবসের এই দিনে উপকূলবাসীর একটাই প্রত্যাশাÑআসন্ন বাজেটে যেন তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতিফলন ঘটে।

Ads small one

গভীর রাতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গভীর রাতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম

সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে তাঁর মরদেহ শ্যামনগরের গাবুরার সরদারপাড়ায় পৌঁছায়।

মরদেহের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনেরা। লাশ পৌঁছানোর পর রাত ১২ টা ৩৫ মিনিটে গাবুরা পশ্চিম পাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা। এ সময় স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে স্বজনদের পুরোনো কবরগুলোর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মরিয়মকে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই মরিয়মকে দাফনের সব প্রস্তুতি শেষ করে রাখা হয়েছিল। পারিবারিক কবরস্থানে প্রস্তুত রাখা হয় নতুন কবর। কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের কিনারা ঘেঁষে ইটের সড়ক ধরে সরদারপাড়ায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। বাড়ির সামনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিবেশীরা।

মরিয়মের চাচা মিলন সরদার প্রবাসে থাকায় বাড়িতে থেকে দাফনের সব প্রস্তুতি সামলান তাঁর স্ত্রী মুন্নী খাতুন। তিনি জানান, মরদেহবাহী গাড়িটি পদ্মা সেতু পার হয়ে খুলনার কয়রা হয়ে সড়কপথে আসে। এরপর কয়রার কাশিরহাটখোলা খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে করে গাবুরার বাড়িতে পৌঁছায়। দাফন শেষে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চান।

মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন সরদার জানান, ২০০৯ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলার পর—যখন মরিয়মের বয়স মাত্র দুই-তিন বছর—তখন থেকেই সে পরিবারসহ ঢাকায় থাকত। একই এলাকার ৮২ বছর বয়সী সাবেক গ্রাম পুলিশ গোলাম রহমান বলেন, ‘মেয়েটি ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকত। মাঝে মাঝে শুনতাম সে লেখাপড়া করছে, এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছিল। কিন্তু এত অল্প বয়সে এমন একটি ঘটনা কেন ঘটল, তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।’ নাতনির মৃত্যুর খবরে শোকে পাথর হয়ে দাদা ইউনুস সরদার বাড়ির এক কোণে চুপচাপ বসে ছিলেন।

উল্লেখ্য, রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে এবং অন্য আসামি ওবায়দুর পলাতক রয়েছেন।

মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মুক্তির আগেই ইতিহাস গড়লো ‘রাকা’, নাম উঠলো গিনেস বুকে

আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার কথা আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমার। ছবিটিতে দেখা যাবে দীপিকা পাড়ুকোনকেও। তবে মুক্তির এক বছর আগেই রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি।

‘রাকা’র নাম উঠেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। সর্বভারতীয় এই সিনেমার শুটিংয়ে একসঙ্গে ৩৭ জন শিল্পীর মোশন-ক্যাপচার করা হয়েছে। আর এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিনেমাটি জায়গা করে নিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

ছবির প্রযোজক সংস্থা সান পিকচার্স সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক্সে এই আপডেটটি শেয়ার করেছে।

ছবিতে পরিচালকের পাশে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদ হাতে দেখা যায় আল্লু অর্জুনকে। ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইতিহাস তৈরি হলো। এক বিশ্বব্যাপী বিজয় যা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গেল!’

অন্যদিকে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অফিসিয়াল সাইটে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বাস্তব সময়ে সর্বাধিক ৩৭ জন মানুষের গতিবিধি ধারণ করার রেকর্ডটি অর্জন করেছে সান টিভি নেটওয়ার্ক লিমিটেড এবং ভি. অরুণকুমার (ওরফে) অ্যাটলি (উভয়েই ভারত), আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘রাকা’ সিনেমা।’

বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

বাংলাদেশে সোনার গহনা পরে চলাফেরা নিরাপদ মনে করেন না জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিশা।

তার কথায়, ‘সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। আমাদের দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে।’

তিশা বলেন, ‘আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনও পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।’

টিভি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে সিনেমাতেও নাম লেখালেন তিনি। শাকিব খানের বিপরীতে দেখা যাবে তাকে। ‘সোলজার’ সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন তারা।