বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: পশুর হাটে নিরাপত্তা ও আমাদের সচেতনতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: পশুর হাটে নিরাপত্তা ও আমাদের সচেতনতা

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও আশাব্যঞ্জক। জাল টাকার বিস্তার রোধ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপার যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে পারবে। তবে পুলিশের এই উদ্যোগকে সফল করতে নাগরিক সচেতনতা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।
প্রতিবছর ঈদের আগে পশুর হাটগুলোকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়া এবং হাটের বাইরে কৃত্রিম যানজট তৈরি করে চাঁদাবাজির মতো ঘটনা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে। পুলিশ সুপার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হাটগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে এবং ব্যাংকগুলোর সহায়তায় জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হবে। এটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। তবে কেবল যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই টাকা লেনদেনের সময় সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের নোট লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি নোট ভালো করে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যানজট নিরসন। মহাসড়কের ওপর বা সংলগ্ন এলাকায় পশু লোড-আনলোড করার প্রবণতা সাতক্ষীরার সাধারণ যাতায়াতকারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশের পক্ষ থেকে এবার এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদারদের উচিত হবে হাটের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা। স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র প্রদানের নির্দেশনাটিও অত্যন্ত জরুরি, যাতে দুষ্কৃতকারীরা স্বেচ্ছাসেবক সেজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে।
ইজারাদারদের প্রতি পুলিশ সুপারের হুঁশিয়ারিÑঅতিরিক্ত টোল আদায় বা কোনো ধরনের অসাধুতা বরদাশত করা হবে নাÑএটি বাস্তবায়নে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, নির্ধারিত চার্টের বাইরেও অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়, যা সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের উচিত হবে তাৎক্ষণিকভাবে হাটে থাকা পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগ জানানো।
পরিশেষে বলা যায়, একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পশুর হাট নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। ইজারাদার, ব্যাংক কর্মকর্তা, পশুপালনকারী এবং সাধারণ ক্রেতা—সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকেন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলেন, তবেই একটি ভোগান্তিমুক্ত পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন সম্ভব হবে। আমরা আশা করি, জেলা পুলিশের এই কঠোর নজরদারি কেবল কাগজের নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়েও কঠোরভাবে প্রতিফলিত হবে।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।