রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী-খাল পুনরুদ্ধারে নাগরিক পরামর্শ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও নদী-খাল পুনরুদ্ধারে নাগরিক পরামর্শ সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন, নদী-খাল দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধার এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শনিবার (১ আগস্ট) সাতক্ষীরা শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে এক নাগরিক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। এতে পরিবেশকর্মী, নদী ও পানি বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, শিক্ষক, কৃষক প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী-খালের নাব্যতা সংকট, অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এর ফলে কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তারা বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, প্রাকৃতিক পানি ধারণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠা, টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, নদী-খাল পুনঃখনন, টিআরএম-এর কার্যকারিতা, আইন বাস্তবায়ন, নাগরিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনার সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভা থেকে ১০ দফা নাগরিক সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-জেলার সকল নদী ও খালের সীমানা নির্ধারণ ও ডিজিটাল মানচিত্র প্রণয়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান, নদী-খাল পুনঃখননের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়া বড় অবকাঠামো নির্মাণ না করা, নদী ও খাল সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং প্রতি বছর নাগরিক পর্যবেক্ষণ সভার আয়োজন।

সভা শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে উপস্থাপনের জন্য একটি ‘সাতক্ষীরা নাগরিক সুপারিশপত্র’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভার আয়োজকদের ভাষ্য, নদী বাঁচলে সাতক্ষীরা বাঁচবে, জলপ্রবাহ ফিরলে জলাবদ্ধতা কমবে”-এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নাগরিক পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাড. আজাদ হোসেন বেলাল। বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, দৈনিক দক্ষিণের মশালের  সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, কবি ও লেখক কিশোরী মোহন সরকার, দুদকের আইনজীবী অ্যাড. আসাদুজ্জামান দুলু, মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, সংগীতশিল্পী আবু আফফান রোজবাবু, নারীনেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, বাংলাদেশ জাসদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ইদ্রিস আলী, সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মিলটন, সুশীলনের উপ-পরিচালক জি এম মনিরুজ্জামান, উত্তরণের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাড. মনির উদ্দীন, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আহসান রাজীব, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, গোলাম সরোয়ার, রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ, নদী-খাল ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম, উদীচী সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, হেডের পরিচালক রানা গাইন, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের পরিচালক আফজাল হোসেন, জলাবদ্ধতায় কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত ফিংড়ী এলাকার জিল্লুর রহমান, বাকাল এলাকার মো. কামরুজ্জামান কামু, ইটাগাছা এলাকার রেশমা খাতুন, কামালনগরের বায়জিদ হোসেন প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলীনুর খান বাবুল।

Ads small one

ডিজিটাল অগ্রযাত্রার অদৃশ্য শত্রু: সাইবার নিরাপত্তায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল অগ্রযাত্রার অদৃশ্য শত্রু: সাইবার নিরাপত্তায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রা মানুষের জীবনযাত্রাকে যেমন সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করেছে, তেমনি এর অপব্যবহার নতুন নতুন ঝুঁকিরও জন্ম দিয়েছে। আজ ঘরে বসেই শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই অগ্রগতির পাশাপাশি সাইবার অপরাধও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, আর্থিক প্রতারণা, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলিং এখন ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র সবার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ এগিয়ে চলছে, সেই যাত্রাপথকে নিরাপদ রাখতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। প্রযুক্তির সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন এর ব্যবহার হবে দায়িত্বশীল, নিরাপদ এবং সচেতনতার সঙ্গে।

‎প্রযুক্তির অপব্যবহারের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটি অসত্য তথ্য লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যা সামাজিক বিভ্রান্তি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কিংবা অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য শেয়ার করার প্রবণতা সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

‎সাইবার বুলিংও বর্তমানে উদ্বেগজনক সমস্যা। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থী ও নারীরা প্রায়ই অনলাইন হয়রানি, অপমানজনক মন্তব্য, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধের শিকার হচ্ছে।

 

এর ফলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন এবং সামাজিক জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিও নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম বা ভিডিওতে ডুবে থাকার কারণে অনেক তরুণের পড়াশোনা, কর্মক্ষমতা, পারিবারিক যোগাযোগ এবং মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষের সময় বাঁচানোর কথা থাকলেও অসচেতন ব্যবহারে সেটিই অনেক সময় অপচয় ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি হলো অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং।

 

প্রতারকচক্র বিভিন্ন ফিশিং লিংক, ভুয়া ওয়েবসাইট বা প্রতারণামূলক বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। আর্থিক প্রতারণাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ওটিপি, পিন নম্বর বা গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা অন্যান্য আর্থিক সেবা থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। কখনো চাকরির প্রলোভন, কখনো লটারিতে পুরস্কার পাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস, আবার কখনো পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো হচ্ছে।

 

সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ সহজেই এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ব্ল্যাকমেইলিং বর্তমানে আরেকটি বড় সামাজিক সমস্যা। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা তথ্য চুরি করে অর্থ দাবি কিংবা মানহানির হুমকি দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে চরম মানসিক সংকটে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জার ভয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও যেতে সাহস পান না, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। সাইবার অপরাধের ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়, এর গভীর মানসিক ও সামাজিক প্রভাবও রয়েছে। অনলাইন হয়রানি বা প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগছে।

 

পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, কর্মজীবন ও শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে নয়, সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা। শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২ঋঅ) চালু রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং তথ্য যাচাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা এসব অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

 

একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা, সাইবার অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের সহজে অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। পরিবারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানরা ইন্টারনেটে কী দেখছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কত সময় অনলাইনে কাটাচ্ছে এসব বিষয়ে মা-বাবার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সচেতনতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে তুললে শিশুরা নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম নাজিম উল্লাহ আর নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম নাজিম উল্লাহ আর নেই
এসএম বিপ্লব হোসেন: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক স্বনামধন্য অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এ কে এম নাজিম উল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার ভোর ৪টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলার শিক্ষা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ রোববার বাদ যোহর মেহেদীবাগ এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মসজিদে (সার্কিট হাউসের পশ্চিম পাশে) অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁকে নলতা শরীফের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এ কে এম নাজিম উল্লাহ ১৯৯৮ সালে খুলনার ডুমুরিয়া শাহপুর কলেজ থেকে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, দক্ষ প্রশাসন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে কলেজটিকে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।
তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ কলেজের স্বীকৃতি অর্জন করে। এ কৃতিত্বের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুরস্কার ও সনদ গ্রহণ করে, যা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কলেজের নিজস্ব আয়ের অর্থে, বড় ধরনের সরকারি অনুদান ছাড়াই, একটি টিনশেড ক্যাম্পাসকে উন্নীত করে চারতলা ও পাঁচতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেরই ফল। এ ধরনের আত্মনির্ভরশীল উন্নয়ন দেশের বেসরকারি কলেজগুলোর মধ্যে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত।
শিক্ষকতা যে কেবল একটি পেশা নয়, বরং একটি মহান ব্রত, এ কে এম নাজিম উল্লাহ তাঁর সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকবান্ধব মনোভাবের মাধ্যমে তা আজীবন ধারণ ও লালন করেছেন। তাঁর আদর্শ, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন আগামী প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষার্থী, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী ট্রাক ট্রাকক্টর কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক দলের কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী ট্রাক ট্রাকক্টর কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক দলের কমিটি গঠন

সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী ট্রাক ট্রাকক্টর কাভার্ডভ্যান ও ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক দল (ইটাগাছা ভিআইপি মোড়) এর কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সামাদ ও সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে নূর মোহাম্মাদকে সভাপতি, মোঃ আলতাফ হোসেন খান সিনিয়র সভাপতি ও কবীর উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য ১০১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি