রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সূর্যোদয়ের দেশে আশার সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
সূর্যোদয়ের দেশে আশার সাতক্ষীরা

আখলাকুর রহমান

আশার আলো ঠিক তখনই জ্বলে ওঠে, যখন অন্ধকার সবচেয়ে গাঢ় হয়ে আসে, আর সাতক্ষীরা যেন সেই আলোরই আরেক নাম। ১২ জুলাই, বিশ্ব আশা দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে বেছে নিয়েছে কিরিবাতির জাতীয় দিবসের সঙ্গে মিলিয়ে, কারণ পৃথিবীতে সূর্যোদয়ের প্রথম আলো সেখানেই পড়ে। নতুন সূর্যের প্রথম কিরণ যেমন গোটা পৃথিবীর জন্য নতুন দিনের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি এই দিনটিও মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, ভবিষ্যৎ আজকের চেয়ে ভালো হতে পারে, যদি আমরা বিশ্বাস রাখি এবং কাজ করি।

এই আশার দিনে সাতক্ষীরার কথা না বললে বোধহয় অন্যায় হবে। কারণ সাতক্ষীরা নিজেই একটি জেলা, যে বারবার প্রকৃতির রুদ্র রূপের মুখোমুখি হয়ে, বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, সাতক্ষীরার নামকরণ নিয়ে নানা জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। কেউ বলেন সাত ঘরের সমষ্টি থেকে সাতঘরিয়া, পরে সাতক্ষীরা নাম হয়েছে। কেউবা বলেন সাতটি ক্ষীরা বা ক্ষুদ্র জনপদের মিলনে গড়ে উঠেছিল এই জনপদ। যে কথাই সত্যি হোক, এটুকু নিশ্চিত যে সাতক্ষীরা কোনো নতুন জনপদ নয়। ষোড়শ শতাব্দীতে বারো ভূঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজত্বকালে এই অঞ্চল ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। যশোরেশ্বরী কালীমন্দির আজও সেই সময়ের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে, যেখানে বহু মানুষ আজও আসেন শ্রদ্ধা জানাতে।

কালের গ্রোতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছুর সাক্ষী এই মাটি। মুক্তিযুদ্ধে সাতক্ষীরার মানুষ যে সাহস আর আত্মত্যাগ দেখিয়েছিল, তা আজও এই জেলার মানুষের রক্তে মিশে আছে। কালিগঞ্জ, শ্যামনগর, দেবহাটা, আশাশুনি, তালা, কলারোয়ার প্রতিটি পথে ছড়িয়ে আছে সেই সংগ্রামের ইতিহাস।

কিন্তু সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় পরিচয় বোধহয় সুন্দরবন। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনের একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে এই জেলা। শ্যামনগরের কোল ঘেঁষে যে সবুজ অরণ্য দাঁড়িয়ে আছে, তা শুধু একটি বন নয়, এটি এক অভিভাবক। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, আম্পান, প্রতিটি দুর্যোগে সুন্দরবন নিজের বুক পেতে দিয়েছে, যাতে ভেতরের মানুষগুলো বেঁচে থাকতে পারে। এই বন আমাদের জন্য আশার এক জীবন্ত প্রতীক, প্রকৃতি যেভাবে বারবার আঘাত সয়েও মানুষকে রক্ষা করে চলেছে।

ইছামতি, কালিন্দী, কপোতাক্ষ নদী এই জেলার শিরা উপশিরার মতো বয়ে চলেছে। কপোতাক্ষ নদের কথা উঠলে মনে পড়ে যায় মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সেই আবেগময় পঙক্তির কথা, যিনি এই নদীকেই তাঁর কবিতায় অমর করে রেখে গেছেন। নদী শুকিয়ে যায়, পলি জমে, তবু মানুষ নদীর পাড় ছেড়ে যায় না, কারণ এই নদীই তাদের জীবিকা, এই নদীই তাদের শেকড়।

কৃষির কথা বললে সাতক্ষীরার নাম আসবেই আম, ধান আর চিংড়ির জন্য। সাতক্ষীরার আম সুস্বাদু বলে সারা দেশে পরিচিত। এখানকার চিংড়ি ঘের, বাগদা আর গলদা চিংড়ি চাষ, দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপকূলীয় লবণাক্ততার সঙ্গে যুদ্ধ করেও এখানকার কৃষক নতুন নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন, লবণ সহনশীল ধানের জাত নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, মিষ্টি জলের সংকট মোকাবিলায় মানুষ নিজেরাই বের করছেন নতুন পথ। এই সংগ্রামই তো আশার আরেক নাম।

সুন্দরবনের মধু সংগ্রহকারী মৌয়ালরা প্রতি বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে প্রবেশ করেন। বাঘের ভয়, নদীর গ্রোত, সবকিছু উপেক্ষা করে তাঁরা ফিরে আসেন মধু নিয়ে, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। এই মানুষগুলোর সাহসই আমাদের শেখায়, জীবনযুদ্ধে হার মানতে নেই।

ভোমরা স্থলবন্দর সাতক্ষীরাকে যুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের এই পথ ধরে প্রতিদিন শত শত ট্রাক পণ্য আনা নেওয়া করে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করছে। তরুণ প্রজন্ম এখন তথ্যপ্রযুক্তির হাত ধরে ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে, ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরছে। ডিজিটাল অর্থনীতির এই নতুন জোয়ার সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।

তবে আশার পথ কখনো মসৃণ নয়। বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি আজও এই অঞ্চলে পুরোপুরি দূর হয়নি। উপকূলীয় দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরবর্তী অনিশ্চয়তা, অনেক পরিবারকেই ঠেলে দেয় ভুল সিদ্ধান্তের দিকে। কিন্তু আশার কথা এই যে, স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল, সচেতন সমাজকর্মীরা একযোগে কাজ করে চলেছেন, মেয়েদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে, তাদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাতে। প্রতিটি কিশোরীর হাতে বই তুলে দেওয়া মানেই একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া, একটি জনপদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়া।

জনসংখ্যার এই বিপুল তরুণ শক্তি, এই জনমিতিক লভ্যাংশ, সঠিক পথে পরিচালিত হলে সাতক্ষীরাকে নিয়ে যেতে পারে অনেক দূর। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ আর সুযোগের সমন্বয় ঘটলে এই তরুণরাই হয়ে উঠতে পারে জেলার প্রকৃত সম্পদ।

সাতক্ষীরা তাই কেবল একটি ভৌগোলিক নাম নয়। এটি এক জীবন্ত গল্প, যেখানে নদী শুকিয়ে যায় কিন্তু মানুষ থেমে থাকে না, ঝড় আসে কিন্তু সুন্দরবন বুক পেতে রক্ষা করে, লবণাক্ততা বাড়ে কিন্তু কৃষক নতুন পথ খুঁজে নেয়। এই টিকে থাকার লড়াই, এই বারবার উঠে দাঁড়ানোর গল্পই সাতক্ষীরাকে করে তুলেছে আশার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

আন্তর্জাতিক আশা দিবসে তাই আমরা বলতে পারি, কিরিবাতিতে যেমন প্রথম সূর্যের আলো পড়ে, সাতক্ষীরার মানুষের চোখেও তেমনি প্রতিদিন নতুন সূর্য ওঠে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে, নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। সুন্দরবনের সবুজ, নদীর জল, আমের মিষ্টতা আর মানুষের অদম্য জীবনীশক্তি, এই সব মিলিয়েই সাতক্ষীরা আমাদের কাছে থেকে যাবে চিরকালের আশার প্রতীক হয়ে।

Ads small one

পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র। গত ১০ ও ১১ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই টানা দুদিন তিনি কেন্দ্রের চলমান বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক কেন্দ্রের সামগ্রিক গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি গবেষণার মানোন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
লোনাপানি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কেন্দ্রপ্রধান ড. আজহার আলীর তত্ত্বাবধানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম সাজেদ রিয়ার, শফিকুল আলম রুবেল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও সায়মা সুলতানা সোননিয়াসহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

 

কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে অজ্ঞান করা হয়েছে। তবে পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি বুঝতে পারায় ক্ষয়ক্ষতির কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উপজেলার কুশলিয়া গ্রামের মৃত এছাক সরদারের স্ত্রী মাছাঃ রিজিয়া খাতুন (৪৫) জানান, ৯ জুলাই দিবাগত রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের রান্নাঘরে গোপনে প্রবেশ করে রাতের খাবারের সাথে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। তিনি এবং পরিবারের অপর ৪ সদস্য রাত ১১টার দিকে ওই খাবার খান। এতে ৩জন তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান হারান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার মেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগে তিনি আরও জানান, ১১জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও তারা এখনও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেননি। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে পরিবারের সবাই আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

‎তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউেিয়নের মহন্দী পূর্বপাড়া গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
‎জানাগেছে, রোববার দুপুরে ওই শিশুটি রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় মহন্দী পূর্বপাড়ার মৃত হোসেন মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা বাবু (৩৫) শিশুটিকে কৌশলে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টা করলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে জাকির মোল্লা বাবু পালিয়ে যায়।
‎এব্যপারে তালা থানার ওসি (তদন্ত) শাখাওয়াত হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিশুটির হাত ধরে টানছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
‎এদিকে ঘটনার পর থেকে জাকির মোল্লা তার ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎এদিকে, এ ঘটনায় থানায় মামলা বন্ধ রেখে বিষয়টি আপোষ মিমাংসার জন্য এলাকার একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।