হাইকোর্টের আদেশ গোপন করে সাংবাদিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ, তদন্ত সম্পন্ন
আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির চাপড়ায় খেলার মাঠ নিয়ে উচ্চ আদালতে চলমান একটি মামলা গোপন রেখে নি¤œ আদালতে সাংবাদিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই জমি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলাটি করেন এক তৃতীয় পক্ষ। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বিবাদপূর্ণ জমির সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন করেছেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় নিবন্ধিত সার্ভেয়ার শেখ রুবেল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের পরিচালনাধীন ‘আমিন উদ্দীন ক্রীড়োদ্যানে’ (খেলার মাঠ) যান। এ সময় মামলার বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের লোকজন, চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের কর্মকর্তা, খেলোয়াড় ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে খেলার মাঠ ও ক্লাবের দখলে থাকা পুকুরটি পরিমাপ করেন এবং উপস্থিত সকলের বক্তব্য শোনেন। এ সময় মাঠ ও পুকুরটি ক্লাবের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে উভয় পক্ষ স্বীকার করে।
নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ১ দশমিক ৩৩ একরের এই জমির এসএ রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন শিক্ষক বদর উদ্দীন সরদার। তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশরা জমিটি এম এ গফ্ফার সরদারের নামে নাদাবি দলিল করে দেন। পরবর্তী সময়ে গফ্ফার সরদার ১৯৭৭ সালে চাপড়া হিন্দোল যুব সংঘের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেন। ১৯৭৮ সালে ক্লাবটি নিবন্ধন পাওয়ার পর সরকারি অনুদানে পুকুর খনন ও মাঠ ভরাট করে সেখানে খেলাধুলা শুরু হয়। বর্তমান বিআরএস জরিপেও জমিটি হিন্দোল যুব সংঘের নামেই রেকর্ডভুক্ত আছে।
তবে জমির সাবেক রেকর্ড নিয়ে একটি দেওয়ানি মামলায় একতরফা রায় হলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সাতক্ষীরার যুগ্ম জিলা জজ আদালতে আপিল করে। সেখানে নি¤œ আদালতের রায় বহাল থাকলে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন (মামলা নং-৫১৯/২৬) দায়ের করে। হাইকোর্ট এই জমিতে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস-কো) বজায় রাখার আদেশ দেন এবং নি¤œ আদালতের নথি তলব করেন।
উচ্চ আদালতের এই আদেশ গোপন করে সম্প্রতি শিউলি আক্তার নামের এক ব্যক্তি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আশাশুনি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এসএম আহসান হাবিবসহ চারজনকে বিবাদী করে ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। এ ঘটনায় তদন্ত ছাড়াই পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আদালতে মনগড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে বিবাদী পক্ষ অভিযোগ করেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল এই মিথ্যা মামলা ও ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।









