শুরুতে ফিফার সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের কারণে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এবার সুখবরই মিলেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মিডিয়া স্বত্ব পাওয়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কম দামে সরাসরি ফিফার সঙ্গে নতুন করে দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছে। তাতে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যাচ্ছে।
সোমবার দ্য ডেইলি স্টারকে স্প্রিংবকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোপাল পাডিয়া বলেছেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি সত্য। বাংলাদেশে স্বত্ব বিক্রি করতে না পারায় আমি স্বত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’
মার্চে প্রায় ৭২ লাখ ১১ হাজার মার্কিন ডলারের (প্রায় ৮৮ কোটি টাকা) এই চুক্তি হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা অন্তত তিন দফা অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চুক্তিটি বাতিল হয়।
চুক্তি বাতিলের পর এখন বাংলাদেশের টি স্পোর্টস ও স্টার নিউজের যৌথ উদ্যোগে এবং দুবাইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ফিফার কাছ থেকে স্বত্ব কেনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্রেতা হিসেবে সামনে এসেছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ও বাজার বিশ্লেষণের পর ফিফা বাংলাদেশের জন্য তাদের চাওয়া মূল্য কমাতে সম্মত হয়েছে এবং বর্তমানে উভয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা চলছে।
এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকারও ফিফার কাছে বিনামূল্যে স্বত্ব চেয়েছিল। কিন্তু ফিফা সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি যুক্তি দিয়েছে, এই স্বত্ব থেকে পাওয়া আয়ের একটি বড় অংশ তারা প্রতি বছর স্থানীয় ফুটবল ফেডারেশনকে দিয়ে থাকে। তাই বিনামূল্যে স্বত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। তবে সম্প্রতি ফিফা চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে ২০২৬ ও ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ ও ২০৩১ নারী বিশ্বকাপের সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।
অন্যদিকে, ভারতে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে আলোচনাও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত এশিয়ার কয়েকটি বাজারে সম্প্রচারের লক্ষ্যে ফিফা আরও নমনীয় বাণিজ্যিক কৌশল গ্রহণ করাতেই অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যাচ্ছে।