শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

হোমিও সম্্রাট হ্যানিম্যান: এক ক্ষণজন্মা আরোগ্য বিপ্লবী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
হোমিও সম্্রাট হ্যানিম্যান: এক ক্ষণজন্মা আরোগ্য বিপ্লবী

আখলাকুর রহমান

১৮৪৩ সালের ২ জুলাই প্যারিসের এক নিস্তব্ধ সকালে চিরবিদায় নিয়েছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসের এক অনন্য দ্রোহী পুরুষ, ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডরিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। তাঁর সেই প্রয়াণ তিথিতে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছে এই মহান রতœকে, যাঁর আবিষ্কৃত চিকিৎসাপদ্ধতি আজও বিশ্বজুড়ে লাখো-কোটি মুমূর্ষু প্রাণকে দিচ্ছে আরোগ্যের কোমল পরশ। হ্যানিম্যান কেবল একটি নতুন চিকিৎসা ব্যবস্থার জনক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন প্রচলিত জরাজীর্ণ প্রথার বিরুদ্ধে এক আপসহীন আলোকমশাল। সংবাদপত্রের পাতায় এই মহামানবের জীবনগাথা তুলে ধরা মানে এক চরম ত্যাগ, ট্রাজেডি এবং সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইকে পুনরুজ্জীবিত করা।

১৭৫৫ সালে জার্মানির মাইসেন শহরের এক দরিদ্র চীনামাটির কারিগরের ঘরে যখন এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্ম হয়, তখন কেউ ভাবেনি অভাবের কৃষ্ণপক্ষে এমন এক চাঁদের উদয় হয়েছে। শৈশব থেকেই তীব্র মেধাবী হ্যানিম্যান দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কষাঘাতে জর্জরিত ছিলেন, এমনকি তেলের অভাবে রাতে আলো জ্বালিয়ে পড়ার সামর্থ্য পর্যন্ত তাঁর ছিল না। তবুও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে কাদা দিয়ে তৈরি প্রদীপ জ্বালিয়ে গভীর রাত অবধি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এই জ্ঞানতপস্বী। বহু ভাষা ও বিজ্ঞানে অগাধ পান্ডিত্য অর্জন করে অবশেষ তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন এবং একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

কিন্তু তৎকালীন প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা ও অবৈজ্ঞানিক রূপ তাঁর সংবেদনশীল মনকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। রোগীকে ভালো করার নামে রক্তমোক্ষণ বা ‘ব্লাড-লেটিং’ এবং পারদের মতো তীব্র বিষাক্ত উপাদানের যথেচ্ছ ব্যবহার দেখে তিনি শিউরে উঠেছিলেন, যেখানে আরোগ্যের চেয়ে রোগীর কষ্ট ও মৃত্যুই ছিল অবধারিত। বিবেকের দংশনে জর্জরিত হয়ে হ্যানিম্যান একদিন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে নিজের লাভজনক চিকিৎসা পেশা পরিত্যাগ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, মানুষের ক্ষতি করার চেয়ে চিকিৎসা না করাই শ্রেয়। এরপর চরম দারিদ্র্যের মাঝে পরিবার নিয়ে কেবল অনুবাদ ও গবেষণার কাজে নিজেকে সঁপে দেন।
“প্রকৃতির বুকে লুকিয়ে আছে আরোগ্যের এক মহাসত্য, যা বলপ্রয়োগে নয়, বরং মৃদু ও অহিংস উপায়ে মানুষকে সুস্থ করে তোলে।”- ড. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান
এই ত্যাগের অন্ধকার সুড়ঙ্গ পথেই একদিন জ্বলে উঠল এক নতুন আলোর জ্যোতি, যা জন্ম দিল হোমিওপ্যাথির। ১৭৯০ সালে স্কটিশ চিকিৎসক উইলিয়াম কালেনের ‘মেটেরিয়া গবফরপধ’ অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি খেয়াল করলেন, সুস্থ শরীরে সিঙ্কোনা গাছের ছাল সেবন করলে তা ম্যালেরিয়ার মতো উপসর্গ তৈরি করে। এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ থেকেই তিনি উপলব্ধি করলেন প্রকৃতির সেই চিরন্তন সত্য— ‘সিমিলিয়া সিমিলিবাস কিউরেন্টার’ অর্থাৎ যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে, অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাত্রায় তা-ই সেই রোগ নিরাময় করতে সক্ষম। নিজের এবং পরিবারের ওপর শত শত পরীক্ষা চালিয়ে তিনি গড়ে তুললেন এক সম্পূর্ণ নতুন চিকিৎসা বিজ্ঞান।

তবে এই নতুন সত্যের প্রতিষ্ঠা মোটেও সহজ ছিল না, বরং হ্যানিম্যানের জীবন ছিল এক মহাকাব্যিক ট্রাজেডি ও সংগ্রামের উপাখ্যান। প্রচলিত ধারার চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতাদের তীব্র রোষাণলে পড়ে তাঁকে বারবার এক শহর থেকে অন্য শহরে যাযাবরের মতো পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। চরম অর্থকষ্টে নিজের সন্তানদের ক্ষুধার্ত মুখ দেখতে হয়েছে, এমনকি উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে তাঁর নিজের সন্তানদের অকালপ্রয়াণ সইতে হয়েছে। জীবনের এই নির্মম ট্রাজেডিগুলো তাঁর বুক ভেঙে দিলেও তাঁর আদর্শকে এক চুলও টলাতে পারেনি।

২জুলাই, সেই মহান সাধকের প্রয়াণ দিবসে দাঁড়িয়ে কৃতজ্ঞ বিশ্ব গভীর শ্রদ্ধায় তাঁর দিকে তাকায়। সমস্ত ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে হ্যানিম্যান যে সত্যের বীজ বুনেছিলেন, তা আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। আধুনিক যুগে এসেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন, মৃদু ও সামগ্রিক আরোগ্যের আশায় বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী পরম আস্থায় আঁকড়ে ধরে আছে হ্যানিম্যানের সেই অক্ষয় অবদানকে। মৃত্যুর প্রায় দুই শতাব্দী পরেও তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি আরোগ্য লাভ করা রোগীর হাসিতে, প্রতিটি চিকিৎসকের পরম শ্রদ্ধায়। লেখক: উদ্যোক্তা

 

Ads small one

শেষ শ্রদ্ধায় শায়িত সম্পাদক-পত্নী রেহানা খাতুন হেনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
শেষ শ্রদ্ধায় শায়িত সম্পাদক-পত্নী রেহানা খাতুন হেনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: দৈনিক ‘দক্ষিণের মশাল’ পত্রিকার সম্পাদক আশেক-ই-এলাহীর সহধর্মিণী রেহানা খাতুন হেনাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাদ জুমা সাতক্ষীরা শহরের কুকরালী এলাকায় তাঁর পৈতৃক নিবাসে জানাজা শেষে পিতা মরহুম রাহাত উল্লাহর কবরের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও জানাজায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আইনি ও অন্যান্য পেশাজীবীসহ হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন কুকরালী বায়তুল মুকাদ্দাস জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি মো. আলী হায়দার।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সোয়া তিনটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি স্বামী, সন্তান ও বহু স্বজন রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মে নিজ বাড়িতে পা পিছলে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পান তিনি। প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর কলার বোন (ক্ল্যাভিকল) ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালের আইসিইউ এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা জটিলতা বাড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। জানাজায় অংশ নেওয়া সব স্তরের মানুষ শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

আশাশুনিতে প্রীতি ফুটবলে বিবাহিত একাদশের জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে প্রীতি ফুটবলে বিবাহিত একাদশের জয়

সংবাদদাতা: আশাশুনি সদর ইউনিয়নের নাটানা বারোনী মাঠে রহিমা খাতুন স্মৃতি স্পোর্টিং ক্লাব ও পাঠাগারের উদ্যোগে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে হাড়িভাঙ্গা বিবাহিত একাদশ ৫-৪ গোলের ব্যবধানে অ-বিবাহিত একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলার উদ্বোধন করেন আশাশুনি সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ ঢালী। তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।
ম্যাচটি উপভোগ করতে মাঠে স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। খেলা পরিচালনা করেন মোঃ তুহিন গাজী। ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও বিজয়িতাদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশ ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশন কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২৩-২৪ জুলাই) এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সুইজারল্যান্ড, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকনট্যাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং রূপান্তরের ‘গোফরইমপ্যাক্ট’ প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর, কাশিমাড়ী ও ভূরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ, দফাদার এবং সংশ্লিষ্ট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর ভয়েস অব সিটিজেন্স কমিটির সভাপতি শিক্ষক রনজিৎ কুমার বর্মন। আরও উপস্থিত ছিলেন রূপান্তরের কর্মকর্তা মো. শুকর আলী, তুষার বড়ুয়া ও কল্যাণী রায়। দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন প্রকল্পের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মকর্তা শহীদ হাসান নয়ন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ ও সুরক্ষাসামগ্রী হিসেবে হেলমেট, গামবুট ও চশমা বিতরণ করা হয়।