বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ চায় ইরান, ট্রাম্পের সংশয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ চায় ইরান, ট্রাম্পের সংশয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরোধগুলো আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ করাই এই প্রস্তাবের লক্ষ্য বলে ইরানের সরকার সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন যে, তিনি যুদ্ধ বন্ধে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন। একই সঙ্গে এই প্রস্তাব কোনও চুক্তির দিকে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা নূর নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে কেবল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা পরিকল্পনার জবাবে দেওয়া ইরানের এই প্রস্তাবে দেশটির ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই জবাব পাঠিয়েছে। এর আগেও পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে।

পাকিস্তানের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি কথা বলার জন্য উৎসাহিত করছেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তারা নাম প্রকাশ করেননি।

ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি বজায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির সঙ্গে কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক লড়াই শুরু হওয়ার আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পূর্ববর্তী দফার আলোচনাগুলো তদারকি করেছিলেন।

অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টও একটি নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরানের সংসদের ডেপুটি স্পিকার রবিবার বলেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ে তাদের অবস্থান থেকে পিছপা হবে না এবং এটি যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের কাছাকাছি অবস্থিত কৌশলগত লারেক দ্বীপের বন্দর পরিদর্শনকালে আলী নিকজাদ এ মন্তব্য করেন। তবে সংসদে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনও ক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের। যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ব্যবসা ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কাজ চলছে এবং ট্রাম্পের অবরোধ পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে।

নিকজাদ ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন যেকোনও জাহাজ টোল প্রদানের মাধ্যমে এই প্রণালি পার হতে পারবে। তবে নিরাপদ পারাপারের জন্য ইরানকে ডিজিটাল সম্পদসহ যেকোনও মাধ্যমে অর্থ প্রদান করলে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর জাহাজে হামলা ও হুমকি দিয়ে ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে তেহরান কিছু জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছাকাছি রুট দিয়ে নিরাপদ পারাপারের প্রস্তাব দেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফি আদায় করে।

এর জবাবে গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে তেহরান তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় তেলের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সূত্র: এপি

Ads small one

উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
উপকূলের লবনাক্ত মাটিতে শখের আঙুর চাষে সফল উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের উদ্যোক্তা ও কৃষক হিসাবে তৈয়েবুর রহমান সফলতা অর্জন করেছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মিষ্টি আঙ্গুর চাষে বিপ্লব ঘটেছে। যা লবনাক্ত উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একেবারেই নতুন ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আঙ্গুর চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি স্কোয়াশ চাষ করে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কৃষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন।

উপজেলায় কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামের উদ্যমী উদ্যোক্তা ও নার্সারী ব্যবসায়ী তৈয়েবুর রহমান আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরেজমিনে তার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন শতক জমিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে তিনি আঙ্গুর চাষ করছেন। মাচার উপর গাছ ছড়িয়ে আছে। নিচে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে বিদেশি ফল আঙুর। এমন দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হবে বিদেশে আঙুর চাষের দৃশ্য। তার সংগ্রহে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের বাইকোনুর, পার্পেল, গ্রিন লং, একলো এবং সুপার নোভাসহ ১০ টি জাতের আঙুর গাছ আছে। তার বাগানে প্রায় এক হাজার ছোট চারা রয়েছে। যা এক শত থেকে তিন শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উদ্যমী উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান জানান, শখের বশে আঙুর চাষ শুরু করেন। অনলাইনে ইউটিউব ও বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক ওয়েবসাইট দেখে আঙ্গুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। গত বছর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির উঠানে মাত্র দুটি আঙ্গুর গাছ রোপণ করেন। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলন হওয়ায় তিনি নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সাত আট মাস আগে আরও ২০টি জিও ব্যাগে আঙ্গুর গাছ লাগান।

 

বর্তমানে প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় আঙ্গুর ধরেছে। ছোট বড় থোকা ঝুলছে, যার ওজন প্রায় পাঁচ শত গ্রাম থেকে এক কেজিও বেশি হয়েছে। গাছগুলোতে ফলের পরিমাণ ও মান দেখে স্থানীয় মানুষজন বিস্মিত এবং আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তার বাগানে প্রতিনিয়ত স্থানীয় কৃষকরা পরিদর্শনে যাচ্ছেন এবং নতুনভাবে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আঙ্গুর চাষ করতে চাহিলে, আমি তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি। আমাদের এলাকায় এই চাষ ছড়িয়ে পড়লে কৃষকরা নতুনভাবে লাভবান হতে পারবেন। এখন আঙ্গুর চাষে সফলতা পেয়ে আরও বড় পরিসরে চাষের পরিকল্পনা করছি। ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ করতে চাই।

মূলত জিও ব্যাগে চাষ করার ফলে গাছের শিকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি, সার ও পানি ব্যবস্থাপনা করা যায়। এছাড়া মাচা পদ্ধতিতে গাছগুলো উপরের দিকে ছড়িয়ে দেওয়ায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পায়, ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন দুটোই বৃদ্ধি পায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় লবনাক্ত এলাকায় আঙ্গুর চাষ একটি ব্যতিক্রমী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুরের জন্য অনুকূল নয় বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন তৈয়েবুর রহমান। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা উন্মুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

পাইকগাছার উদ্যোক্তা তৈয়েবুর রহমান উপকূলের মাটিতে আঙ্গুরের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। লবণাক্ততা আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখে থাকে। প্রতিকূলতাকে জয় করে আঙ্গুর চাষে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

 

 

সাতক্ষীরায় নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সংবাদদাতা: “দক্ষ নারী শক্তি, খামারের উন্নতি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে আধুনিক ডেইরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্টের আয়োজনে বুধবার (৬ মে) সকালে সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই প্রশিক্ষণে প্রায় ১০০ জন নারী দুগ্ধ খামারি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন, ব্র্যাক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নারী দুগ্ধ খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে এবং দেশের দুগ্ধ শিল্পকে আরও টেকসই করবে। তিনি আরো বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু সামাজিক উন্নয়ন নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও অন্যতম চালিকাশক্তি।

 

তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে নারী খামারিরা শুধু স্বাবলম্বীই নয়, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও বড় অবদান রাখতে পারবে। এ ধরনের উদ্যোগকে তিনি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্ট এর যশোর অঞ্চলের সাতক্ষীরা এরিয়ার এরিয়া ম্যানেজার মোঃ সোহেল রানা’র সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: মো: মশিউর রহমান, সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম,ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ইন্সপেক্টর শরিফুল ইসলাম, ব্র্যাকে’র জেলা সমন্বয়ক আশরাফুল মাশরুদসহ আরো অনেকে। নারী খামারিদের দক্ষতা উন্নয়নে আধুনিক ডেইরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সাতক্ষীরা এরিয়ার ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ তাজ মোহাম্মদ।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে দুগ্ধ খামারে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুগ্ধ শিল্প নারীর ক্ষমতায়নের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। টেকসই দুগ্ধ শিল্প গড়ে তুলতে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরী। এ ধরনের প্রশিক্ষণ নারী খামারিদের দক্ষতা বাড়াবে এবং খামারের আয় বৃদ্ধি করে নারীর ক্ষমতায়নে সহায়তা করবে।
প্রশিক্ষণে নারীর ক্ষমতায়ন, দুগ্ধ খামারে নারীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, কৃত্রিম প্রজনন, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খামার পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নারী খামারিকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে দুধ সংগ্রহের জন্য বিনামূল্যে একটি করে মিল্ক নেট (দুধ ছাঁকনি) ও গাভি পালনের বই বিতরণ করা হয়।

সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

শনিবার (৯ মে) প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির প্রাথমিক গণিত এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ ছাড়া রোববার (১০ মে) তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক গণিত, সোমবার (১১ মে) একই শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান ও ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা এবং মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, জেলার ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি সব বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থীর বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, ক্লাস্টারভিত্তিক উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাও প্রস্তুত করেছেন।

উল্লেখ্য, এবারের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পরিচালিত বিষয়ে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন রাখা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকার ভিত্তিতে পাঠদান হয়, সেসব ক্ষেত্রে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে শুধুমাত্র শিক্ষক সহায়িকাভিত্তিক বিষয়ে থাকবে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষা, পরীক্ষাকক্ষে শৃঙ্খলাপূর্ণ আসন বিন্যাস এবং উত্তরপত্র অন্তত এক বছর সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী মূল্যায়ন কার্যক্রম চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।