বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
বিশ্ববাজারে আবারো নিম্নমুখী স্বর্ণের বাজার। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ফের হামলার কথা জানানোর প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের মূল্যবান এই ধাতুটির ওপর আস্থা কমেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার (৪ মে) দুপুর নাগাদ (বাংলাদেশ সময়) স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৭২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ফিউচার মার্কেটেও প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে স্বর্ণের দর। এই বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৪ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
খবর রয়টার্সের।
টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল হেড অব কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বার্ট মেলেক বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বাজারকে আশ্বস্ত করতে পারেনি। বরং এতে আবারও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে এবং সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
চার সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেল বন্দরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
এ অবস্থায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং ব্রেন্ট তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম বেশি হয়ে যায়, ফলে এর চাহিদা কমে।
অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে ধারণা জোরালো হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় সুদের হার উঁচু রাখবে।
চলতি বছর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ কোনো নীতি শিথিল করবে না; এমন ধারণা দিচ্ছে এমন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে বার্কলেস। গত সপ্তাহে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের প্রভাবে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে, যা ১৯৯২ সালের পর সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ, এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে, যা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তবে উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এটি আকর্ষণ হারায়, কারণ এতে সরাসরি কোনো মুনাফা পাওয়া যায় না।
বার্ট মেলেক মনে করেন, স্বর্ণের জন্য চার হাজার ২০০ ডলারের আশপাশে একটি শক্তিশালী সাপোর্ট রয়েছে। তবে অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনার কারণে স্বল্পমেয়াদে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের অবস্থান থেকে সরে যেতে পারেন।
অন্যান্য ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৯৫ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৫৫ দশমিক ৯৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮১ দশমিক ০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণ ও রুপার দাম।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।
সবশেষ সমন্বয় করা দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।
এছাড়া বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম পড়বে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম পড়বে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।












