সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস: জীবন্ত ঐতিহ্য প্রজন্মান্তরে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস: জীবন্ত ঐতিহ্য প্রজন্মান্তরে

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানুষের পরিচয় শুধু ভাষা, ভূখন্ড কিংবা ইতিহাসে সীমাবদ্ধ নয়; তার গান, গল্প, উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান, লোকজ জ্ঞান ও কারুশিল্পের মধ্যেও সেই পরিচয় বহমান। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এসব ঐতিহ্য একটি জাতির সংস্কৃতি, জীবনবোধ ও সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে। দৃশ্যমান স্থাপনা বা প্রতœবস্তুর মতো এগুলোকে ছুঁয়ে দেখা যায় না, কিন্তু মানুষের জীবন ও সমাজে এগুলোর অস্তিত্ব সুস্পষ্ট। জীবন্ত এই ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস।

২০০৩ সালের ১৭ অক্টোবর ইউনেসকোর সাধারণ সম্মেলনে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন গৃহীত হয়। কনভেনশনটির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইউনেসকোর ৪২তম সাধারণ সম্মেলনে ১৭ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দিবসটি প্রথম পালিত হয় ২০২৪ সালে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর দিবসটির তৃতীয় সংস্করণ পালিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা সংরক্ষণে উৎসাহিত করা।

অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলতে কোনো জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত চর্চা, প্রকাশভঙ্গি, জ্ঞান ও দক্ষতাকে বোঝায়, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। এর পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র হলো-মৌখিক ঐতিহ্য ও প্রকাশভঙ্গি; পরিবেশনশিল্প; সামাজিক রীতিনীতি, আচার ও উৎসব; প্রকৃতি ও মহাবিশ্বসংক্রান্ত জ্ঞান ও চর্চা; এবং ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের দক্ষতা। লোককথা, প্রবাদ-প্রবচন, বাউল গান, লোকনৃত্য, নবান্ন উৎসব, ঐতিহ্যবাহী কৃষিজ্ঞান ও জামদানি বোনার কৌশল এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। একটি প্রাচীন মন্দির দৃশ্যমান ঐতিহ্য হলেও সেটি নির্মাণের বিশেষ কারিগরি জ্ঞান অমূর্ত ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি লোকজ জ্ঞান, সংগীত, উৎসব ও কারুশিল্পে সমৃদ্ধ। ইউনেসকোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় বাংলাদেশের ছয়টি উপাদান স্থান পেয়েছে। এগুলো হলো-বাউল গান (২০০৮), ঐতিহ্যবাহী জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রা (২০১৬), সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুননশিল্প (২০১৭), ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র (২০২৩) এবং টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি বুননশিল্প (২০২৫)।

বাউল গান মানুষের জীবনবোধ ও মানবপ্রেমের প্রকাশ ঘটায়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে সম্মিলিত সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। জামদানি, শীতলপাটি ও টাঙ্গাইলের শাড়ি বুননশিল্পে প্রকাশ পায় প্রজন্মান্তরে অর্জিত কারিগরি দক্ষতা। ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র নগরজীবনের পরিচিত দৃশ্যকে লোকশিল্পের স্বতন্ত্র রূপ দিয়েছে। এসব ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের শ্রম, অভিজ্ঞতা, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক চর্চা এখনো টিকে আছে। ভারতের বেদপাঠের ঐতিহ্যে প্রাচীন মন্ত্রের নির্দিষ্ট উচ্চারণ ও সুর মৌখিকভাবে প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত হয়। ভারতের কুটিয়াট্টম সংস্কৃত নাট্যধারার একটি প্রাচীন রূপ। জাপানের গাগাকু রাজদরবারের ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্যকলা এবং চীনের কুনকু অপেরা দীর্ঘকাল ধরে চর্চিত হয়ে আসছে। ইউনেসকো এসব ঐতিহ্যের কয়েকটিকে মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের সংলাইনস বা গীতিপথও গান, কাহিনি ও ভূখন্ডসংক্রান্ত জ্ঞান প্রজন্মান্তরে সঞ্চারের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তবে কোনো একটিকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বের সর্বপ্রাচীন অমূর্ত ঐতিহ্য বলা যায় না।

অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জাপানে অবস্থিত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র, দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক তথ্য ও নেটওয়ার্কিং কেন্দ্র এবং চীনের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এ ক্ষেত্রে গবেষণা, তথ্য বিনিময় ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, লোকশিল্পের কর্মশালা, সাংস্কৃতিক উৎসব, গবেষণা, প্রামাণ্যচিত্র ও ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

লোকসংগীত, গল্প বলা, নবান্ন উৎসব ও গ্রামীণ মেলা মানুষের মধ্যে আনন্দ, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিক সম্প্রীতির সুযোগ সৃষ্টি করে। ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ও বাউল গানের সুর মানুষের মনে প্রশান্তি জাগাতে পারে। দাদি-নানির মুখে শোনা রূপকথা, লোককাহিনি ও প্রবাদ শিশুদের ভাষা, স্মৃতি ও জীবনবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে জামদানি, শীতলপাটি ও নকশিকাঁথার মতো কারুশিল্প বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। প্রকৃতি, কৃষি ও আবহাওয়াসংক্রান্ত লোকজ জ্ঞানও মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বহন করে।

বিশ্বায়ন, নগরায়ণ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ঐতিহ্যবাহী পেশায় আগ্রহ হ্রাসের কারণে অনেক লোকজ চর্চা ধারাবাহিকতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই ঐতিহ্যের ধারকদের স্বীকৃতি, ন্যায্য জীবিকার সুযোগ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠী ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগে এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। কারণ, ঐতিহ্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি বর্তমানের জীবন্ত সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অমূল্য উত্তরাধিকার।

 

Ads small one

ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ফিফা সভাপতিকে ঢাকায় স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। রবিবার দুপুরের পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

ভুটানে যাওয়ার পথে ঢাকাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছেন ইনফান্তিনো। তার যাত্রাপথে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় ঢাকায় এই যাত্রাবিরতি।

এ সময় ঘণ্টাখানেক তারা বাংলাদেশ ও সামগ্রিক ফুটবল নিয়ে আলোচনা করেন। বাফুফে সহ-সভাপতি ও গভর্নমেন্ট রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি বলেন, ‘সভাপতি ও আমরা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলের নানা বিষয় তুলে ধরেছি। কক্সবাজারে ফিফার অর্থায়নে টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ফিফার আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাসও মিলেছে। ’

 

বিমানবন্দরে ইনফান্তিনোর ট্রানজিট সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেছিল বাফুফে।

তবে ফিফা সভাপতির বাংলাদেশে এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানায়নি দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এমনকি জাতীয় দল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা নিয়েও কোনও তথ্য জানানো হয়নি। অথচ নারায়ণগঞ্জে সম্ভাব্য ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্য জায়গা পরিদর্শনের আগাম আমন্ত্রণপত্র প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছে বাফুফে।

বাফুফের মিডিয়া বিভাগে দুজন উচ্চ বেতনে কর্মরত থাকলেও সংস্থাটির গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ও তথ্য সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের একজন জাতীয় নারী দলের ম্যানেজার হিসেবে ভারতের গোয়ায় সাফে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন; তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আমিরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে মিডিয়া কমিটি থাকলেও কার্যকারিতা নিয়ে আছে প্রশ্ন।

 

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক নাহিদা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক নাহিদা

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নিগার সুলতানার জায়গায় নতুন অধিনায়ক করা হয়েছে নাহিদা আক্তারকে। তার সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সোবহানা মোস্তারি।

এশিয়ান গেমসের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নিগার সুলতানা। নিজের খেলায় আরও মনোযোগ দিতেই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান তিনি। এর আগে ক্রিকবাজ জানিয়েছিল, নিগারের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন নাহিদা-ই।

ক্রিকবাজকে বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচক প্যানেলের সদস্যদেরসহ অন্যদের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। এরপর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব নাহিদার হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সোবহানা মোস্তারি তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

নাহিদাকে দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনই বলে মনে করছে বিসিবি। ২০২২ সালে নিগার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার পর থেকেই দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাহিদা।

রফিকুল বলেন, ‘নাহিদা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। এখন আমরা মনে করছি, টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়ার সঠিক সময় এসেছে।’

টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়লেও ওয়ানডেতে অধিনায়ক থাকছেন নিগার। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তার নেতৃত্বেই খেলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ নারী দলের পরবর্তী সূচি আইসিসি উইমেন্স এমার্জিং নেশনস ট্রফি। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতায় আগামী ১২ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে দলটি।

 

ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে: তাসকিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে: তাসকিন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। অন্তত আবুধাবির ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে ২৭০ রান জয়ের মতো সংগ্রহই ছিল- এমনটা মনে করেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ব্যাটাররা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেননি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় হারের পর ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের এই পেসার।

শনিবার শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। অথচ বল হাতে ভালো শুরুর পর ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে। তাসকিন নিজে তিনটি উইকেটও নিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের বেহাল দশায় সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।

লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যর্থতাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে সর্বশেষ ১০ ইনিংসের আটটিতেই ২৪০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে পারেনি দলটি। পূর্ণকালীন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তাওহীদ হৃদয়ের প্রথম ম্যাচেও সেই চিত্রের পরিবর্তন হয়নি। টুর্নামেন্ট থেকে চোটের কারণে ছিটকে গেছেন লিটন দাস। তবে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের অনুপস্থিতিকে হারের অজুহাত হিসেবে দেখাতে রাজি নন তাসকিন।

ম্যাচের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৭২ রান অবশ্যই তাড়া করা সম্ভব ছিল, অন্তত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।’

তাসকিনের মতে, একটি জুটি গড়তে পারলেই ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে ভালো খেলিনি। এই রান তাড়া করা উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা একটিও জুটি গড়তে পারিনি। একটি জুটি হলে ম্যাচটা বের করে আনতে পারতাম। কিন্তু ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল হচ্ছে।’

বোলিংয়ে কিছুটা ধারাবাহিকতা ফিরলেও ব্যাটিংয়ে সেই উন্নতি দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করেন তাসকিন। তার ভাষায়, ‘বোলিংয়ে অন্তত কিছুটা ধারাবাহিকতা এসেছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয়, এই ম্যাচটা আমাদের ব্যাটারদেরই জেতানো উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা পারেনি। তারপরও একটি ম্যাচ বাকি আছে। আশা করি, আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারব এবং ফাইনালে খেলতে পারব।’