সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আপুর রুম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আপুর রুম

দোলনা বড়ুয়া তৃষা
কাল কলেজের অনুষ্ঠানে নাচানাচি করে সকালে বাসায় এসে কোন রুমে গিয়ে শুয়ে পড়েছি জানি না। নিশ্চয় আপুর রুম এইটা। কাঁঠালচাপা ফুলের গন্ধ এই রুমে। ও মনে হয় বাসায় নেই। ভার্সিটি গিয়েছে। আমার রুমে তো নিজের মোজা আর শার্টের গন্ধে নিজেরেই বমি আসে।
হঠাৎ আপুর চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে।
-এই ছাগলটা আমার রুমে কেন? পুরো ঘরে পাঠা পাঠা গন্ধ বেড়োবে এখন। এই উঠ, যা বের হয় রুম থেকে।
গায়ে কয়েকটা কিল ঘুসি দিতেই ঘুম আর একটু ভাঙ্গল। কোন মতে উঠে ঢুলতে ঢুলতে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। এতক্ষন নাকে সুবাস ছিলো। নিজের রুমে আসতেই আর নেই।
বাসায় মেহমান এলে সব গাদাগাদি করে আমার রুমে। আপুর রুম টা কত বড়। সব কেমন যেন গুছানো। একটা জানলা আছে। এইটার জন্য রুমটা প্রতি আমার লোভ। আমার রুম টা সামনের দিকে জানলা খুললে রাস্তা। রাতের ১ টা অবধি মানুষ হাটে। সিগারেট খাওয়া যায় না। আপুর রুম টা পিছনের দিকে। ওদিকে সব গাছ। ওর রুমে শুধু কাজিনরা আসলে শুতে পারে। কাজিন-
ও শিট। মিতুকে ফোন করতে ভুলেই গেছি। আবার বাসায় না বিচার নিয়ে আসে। মামাতো বোনের সাথে প্রেম করলেও জ্বালা আছে। মায়ের বোনের কাছে বিচার পাঠিয়ে দেয়। উঠে ফ্রেশ হয়ে খেতে গেলাম।
আপু তখনো নাকি রুম পরিস্কার করছে। আমি নাকি গন্ধ করে ফেলেছি সারা রুম। দেখলাম আমার ফেলে আসা শার্ট গেঞ্জি সব ধুয়ে দিয়েছে। খেতে বসলাম। সবাই আসল।
আজ মাছ রান্না হয়েছে।
– মা মাছের মাথাটা কিন্তু আজ আমি খাবো,
-আহা, কত শখ! আমি খাবো মাছের মাথা। তুই আবার মাথা খেতে জানিস?
এই বলে মাথা টা নিয়ে নিলো আপু।
-মা, তুমি কিছু বলো না আপুকে।
মা বলল-
– ও খেতে চায়। খেতে দেয় না।
-মায়েরা নাকি ছেলের পক্ষ নেয়। আর তুমি?
-মেয়েকে তো বিয়ে দিয়ে দিলে চলে যাবে। যত ভালো ঘরে দিই না কেন আমি দেখব কি খাচ্ছে না খাচ্ছে? খাওয়াতে পারব? তোকে তো সারাজীবন খাওয়াতে পারব।
-কখন দিচ্ছো বিয়ে? তারাতারি দিয়ে দাও। তারপর ওর রুমটা আমি নিয়ে নিবো।
-কত শখ! মাথা ফাটিয়ে দিবো আর আমার রুমে গেলে।
বিকেলে আপুর রুমে গেলাম। আপুর রুমে ডুকলেই মনে হয় ভিন্ন এক রুম। চারিদিকে কেমন টানাটানা গুছানো সব। বিছানার চাদর, পড়ার টেবিল, ওর জিনিসপত্র। জানলা দিয়ে বাগানবিলাস দেখা যায়। আর কোথায় থেকে যেন কাঠালচাঁপা ফুলের সুভাস। ওর সাথে অনেকক্ষন গল্প করে আসার সময় পারফিউমের বোতলটা নিয়ে এলাম।

কিছুদিন পর বাসায় বেশ নাস্তা রেডি হচ্ছে। জানলাম আপুকে দেখতে আসছে। বিয়ের পাকা কথা ওরা আপুকে আগেই দেখেছে।
বেশ খুশী সবাই। আপুকে বেশি খুশি লাগছে।আমারো বেশ খুশি লাগছে। সব হয়ে যাওয়ার পর মিতুকে ফোন দিলাম,
-জানো আপুর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সামনের মাসে বিয়ে।
– বাহ, বেশ ভালো তো। এখন তাইলে তিশা আপুর রুমটা তোমার হবে।
-মানে? আপু কোথায় থাকবে তো?
-ওমা, আপু শুশুড় বাড়ি চলে যাবে না? তখন তো রুমটা খালিই পড়ে থাকবে।
আমার মনটা কেমন যেন খালি খালি লাগছে এরপর থেকে। আপু থাকবে না?
একটা মাস কোনদিকে চোখের পলকে চলে গেল। আপুর বিয়ে হয়ে গেলো। আপুকে বিদায় দিতে আমার মনে হচ্ছিল কি যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
আপুর বিয়ের পর থেকেই বুঝা যায় কি হারিয়ে গেছে ঘর থেকে। সব যেন নিশ্চুপ। ঘরে টানাটানা গুছানো ভাবটা নেই। ঘরে সে হাসি খুশি ভাবটা নেই। খেতে বসলে আমি মা বাবা কেমন যেন চুপচাপ খেয়ে উঠি। আপু থাকতে এমন খাবার টেবিল চিন্তায় করা যেত না।
আমি আপুর রুমে যাই এখন। কেমন যেন ঢিলেঢালা এখন রুম। সব আছে তারপর ও কেমন যেন। ফুল গাছ ও আছে তবে এখন আর কাঁঠালচাপা ফুলের গন্ধটা নেই।
আমি প্রায় আপুর রুমে গিয়ে বসে থাকি। ওর অনুভব পাই। ওর বিছানায় ঘুমাই না এখন। ঘুমালে মনে হয় এই বুঝি এসে মারবে।
-এই ছাগল, এই সৌরভ, উঠ।
আপু আসে না। এই ভাবে ডেকে তুলে দেয় না। এইভাবে ঘুম ভাঙার আশায় আমার ঘুমেই আসে না।
আপু এখন বাসায় আসে দুই দিনের জন্য। আসলে এই রুম নিয়ে ওর কোন বাড়াবাড়ি নেই। মায়ের সাথেই থাকে। নানান কথা সংসারের। যে আপু গল্প আর কবিতা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করত। এখন নুন পেয়াজ আর শাশুড়ীর গল্পে তার ঘন্টা চলে যায়। দুলাভাই সহ ঘুমাই সে রুমে। তারপর চলে যায়। সে রুমে তার কিছু ফেলে যায় না। শুধু ফেলে যায় আমার জন্য ওর গায়ের গন্ধ এই রুমে।
আমি ওকে জিজ্ঞেস করি –
-তোর এই রুমের জন্য মন কেমন করে না?
ও বলে-
-খুব করে রে। এই রুমটাই আমার বলতে শুধু আমার ছিলো। খাট, টেবিল, আয়নাটাও শুধু আমার ছিলো। এখন যতই আমি সব গুছিয়ে রাখি না কেন যেন ঠিক তা আমার নয়।
দুপুরে খেতে বসলে মা আমায় মাছের মাথা তুলে দিলে। আমি বলি-
-আমাকে দিচ্ছো কেন?
-তো কাকে দিবো?
-আপুকে –
বলতে গিয়ে থেমে যাই আমি। মাকে বলি,
-তুমি মাছের মাথাটা হটবক্সে দাও আমি আপুকে দিয়ে আসি।
-যা, একটা মাছের মাথা নিয়ে বোনের বাড়ি যায় নাকি?
-আরে তুমি দাও না। কিছু হবে না।

মায়ের কথা না শুনে আমি আপুর শশুড় বাড়ি গিয়ে ভুলেই করে ফেলি। বাসা ভর্তি মেহমান। কোরমা, পোলাও, খাসির রেজালা রান্না হয়েছে। আমি গিয়ে হাজির একটা মাছের মাথা নিয়ে। আপুরও সবার সামনে বক্স খুলে লজ্জায় পড়ে গেল।
সবার খাওয়ার পর আমাকে খেতে বলে। আমি আপুকে ডাকতে গিয়ে দেখি আপু আবার ভাত রান্না করছে।
-কিরে আবার ভাত রাধছিস? আমি খেয়ে এসেছি।
-আরে না। পোলাও অনেক আছে। তুই খেয়ে ফেল। আমি মাছের মাথাটা খাওয়ার জন্য সাদা ভাত রাধছি। আসলে এইখানে মাথা খাওয়া হয় না। ছেলেরা খায় তো।
আপু অপ্রস্তুত হাসি দিয়ে ভাত নাড়তে থাকে।
খেয়ে আপুর রুমে গেলাম। এই রুমটা আমাদের বাড়ির রুম থেকে বিশাল। এইখানে সব কেবিনেট। বড় বড় আলমারি কেমন যেন সব সাজানো। আপুর কোন ছোঁয়া নেই। জানলাও নেই কারণ সব দিকে এসি।
এই রুম টা দুলাভাইয়ের। কেমন যেন আপুর মনে হয় না আমার। এই রুম টা নাকি আগে দুলাভাইয়ের বড় বোনের ছিলো।
আমি আর কখনো মাছের মাথা নিয়ে আপুর শশুড় বাড়ি যাই নি।
অনেক বছর পর এক সকালে আপুর রুমটা চেঞ্জ হচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলে,
বাবা বলে,
-তোর জন্য নতুন খাট আর আলমারী বসানো হচ্ছে।
-কেন?
– কেন মানে? বিয়ের পর তুই কি তোর ঐ গুদাম ঘরে থাকবি নাকি? এখন থেকে তোর রুম এইটা।
আমার রুম? না আমি মানতে পারি না। আমার মনের মাঝে অজান্তে এইটা আপুর রুমেই জানি।
মা আমাকে মাঝে মধ্যে বলে,
– তোর রুম থেকে জিনিসটা নিয়ে আয়।
আমি সারাঘর খুঁজে আসি। শেষে মা বলে
– আরে গাধা তোর আপুর রুমে।
-হুম। আপুর রুম এখন যা আমার রুম।
আস্তে আস্তে মুছে যাচ্ছে আপুর সব কিছু। মা এখন আপুর ফেলে যাওয়া ওরনা গুলো দিয়ে কাথা কম্বল ঢেকে রাখে। ওর সেলোয়ার কামিজ এখন ফ্লোরে পানি পড়লে উইজ করা হয়। হারিয়ে যাচ্ছে ওর ছোঁয়া এই ঘরের থেকে।
রুমটাতে এখন আবার প্রাণ ফিরে এসেছে। মিতু ও সব গুছিয়ে রাখে। তবে সে যেন টানটান ভাবটা নেই। তবে এখন কামীনি ফুলের সুবাস ছড়ায় এই রুমে।
এক দুপুরে খেতে বসলাম। তখন বেল বেজে উঠে। অয়ন এসেছে। অয়ন আর মিতু পিটেপিটি ভাই বোন। খুব মারামারি করত।
একবার মিতুর হাত ভেঙ্গে দিয়েছিল মারামারি করে।
– অয়ন, আয় আয়।
– মা একটা মাছের মাথা পাঠিয়েছিল মিতুর জন্য।
আমি হেসে বলি,
-মামী পাঠিয়েছে নাকি তুই এনেছিস?
মিতু তুমি মাছের মাথা খেতে ভালোবাসো বলো নি কেন?
– না মানে তুমি খাও তো।
-আরে আমি তো কেউ খায় না তাই খাই। এখন থেকে তুমি খাবে।

আমি রুমে গিয়ে সিগারেট ধরালাম। টেবিল থেকে অয়ন আর মিতুর হাসির শব্দ হচ্ছে। আসলে কি অদ্ভুত পবিত্র হয় ভাই-বোনের সর্ম্পক গুলো তাই না?
বিশ বছর পর। বাসায় চিৎকারের শব্দ। এখন বাবা মায়ের রুম টা আমাদের রুম। আমি রুম থেকে বের হই, আমার ছেলে অর্ক চোখ মুছতে বের হচ্ছে।
-কি রে কি হয়েছে?
-আপুর রুমে শুয়েছিলাম। আপু মেরে বের করে দিয়েছে।
আমি বিড়বিড় করে বলে উঠলাম,
-আপুর রুম?
যেন অনেক বছর পর কারো সাথে দেখা এমন লাগল শব্দটা৷
আমি সে রুমে গেলাম। এইটা এখন আমার মেয়ে পারুলের রুম। সব দিক যেন সে টানাটানা গুছানো ভাব টা আছে এখন। আর আমার নাকে হঠাৎ সেই কাঁঠালচাপা ফুলের গন্ধটা লাগলো।

Ads small one

কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
কালশীর বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানী মিরপুরের কালশী এলাকার বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিটের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর সোমবার (২৫ মে) রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যমতে, আজ সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে কালশীর একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। ৭টা ৩২ মিনিটে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। পরবর্তীতে ১৫টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের প্রচেষ্টার পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের এই সময়টাতে সাধারণত পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মাজেন আল-জেরজাউই। কোরবানির পশুর খোঁজে গাজাবাসী যখন এদিক-ওদিক ছুটতেন, তখন তিনি নিজের খামারে লালন-পালন করা শত শত ভেড়া ও ছাগল বিক্রি করতেন।

তবে সেই দিন এখন শুধুই অতীত। গাজার অন্যতম শীর্ষ পশু খামারি হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এখন কেবল একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান। যেখানে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় আসা হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে।

গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, ‘বছরের এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। আজ আমার কাছে একটিও পশু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় কোনও জীবন্ত পশু একেবারেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল গাজার মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তারা এখানে সাময়িকভাবে বসবাস করছে এবং যা কিছু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তা কেবল ন্যূনতম স্তরে কোনও রকমে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

ঈদুল আজহা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজের পর ভেড়া, ছাগল, গরু বা উট কোরবানি দেন এবং সেই মাংস পরিবার, প্রতিবেশী ও অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে, কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে গাজা প্রতি বছর ঈদের আগে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি করত। কিন্তু ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও অবরোধের কারণে গাজার ফিলিস্তিনিরা টানা তৃতীয় বছরের মতো এই উৎসবের প্রধান ঐতিহ্য পালন করতে পারছে না।

বিলুপ্তির পথে গাজার গবাদিপশু

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলা এবং পণ্য ও কৃষি সরঞ্জাম চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে গাজার গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় পশু উৎপাদন ধ্বংসের পাশাপাশি গাজায় জীবন্ত পশুর প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল, যা এই ভঙ্গুর সাপ্লাই চেইনকে আরও সংকটে ফেলেছে।

এর ফলে পশুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। এখন হাতেগোনা যে কয়েকটি পশু অবশিষ্ট রয়েছে, তার একেকটির দাম ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠছে।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি ভেড়া বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি কারণ গাজায় গবাদিপশু অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে।’ তিনি জানান, প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিরা এখনও গাজায় তাদের আত্মীয়দের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য পশু কিনতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু তিনি তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি তাদের বলি যে, একটি ভেড়ার পেছনে এত টাকা খরচ না করে ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কেনা অনেক ভালো। একটি ভেড়ার জন্য ২০ হাজার শেকেল (৭ হাজার ডলার) খরচ করার চেয়ে এই টাকা দিয়ে একটি দম্পতির বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসের মধ্যেই গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল যুদ্ধের কারণে মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। একসময় যা ছিল গাজার তাজা মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের শেষ নির্ভরযোগ্য উৎস, সেই গবাদিপশু খাত এখন কার্যত নিশ্চিহ্ন। এর ফলে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। খামার, গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম ও পশু চিকিৎসা ক্লিনিকগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এই খাতকে সম্পূর্ণ ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জেরজাউই বলেন, ‘পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা এবং যা পেয়েছি তা-ই খাইয়েছি। কিন্তু পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেকগুলো ভেড়া মারা যায়। গাজার বেশির ভাগ পশু মালিকের ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে; বিমান হামলার কারণে আমরা আমাদের পশু হারিয়েছি।’

তিনি জানান, বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাটি এই খাতের ওপর শেষ আঘাত হেনেছে। বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারগুলো তাদের পশুর যত্ন নিতে পারেনি এবং অনেক সময় বাধ্য হয়ে যে দামে পাওয়া যায় সেই দামেই পশু জবাই বা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আমি যখন বাস্তুচ্যুত হই, তখন বোমার আঘাতে যেন মারা না যায় সেজন্য তড়িঘড়ি করে পশুগুলো জবাই করতে বা বিক্রি করতে বাধ্য হই। একসময় আমার মালিকানাধীন সব পশু এভাবেই বিক্রি হয়ে যায়। অত্যন্ত চড়া দামে আটা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য আমি যে দামে পেরেছি এগুলো বিক্রি করেছি। শেষ পর্যন্ত, একজন মানুষ নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করার চেষ্টা করার পাশাপাশি কীভাবে গবাদিপশুর যত্ন নেবে?’

‘নেই কোনও ঈদ’

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ৬০ হাজার থেকে কমে আজ মাত্র ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আর বাছুর ও গরু তো প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, ‘এখনও যে অল্পসংখ্যক ভেড়া ও ছাগল বেঁচে আছে, তা যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো ঈদের মৌসুমে বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আরও জানান, পানির কূপগুলো সচল করতে না পারায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যার ফলে এই খাতের পুনরুদ্ধারের আর কোনও বাস্তব উপায় বা সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই।

আসালিয়া বলেন, ‘এটি এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে ঈদের কোরবানি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করছে।’

গাজার অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এই উৎসবটি এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। গাজা সিটির একজন স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা আগে প্রতি বছর কোরবানি দিতেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদ উদযাপন করি না। কোরবানির সেই আচার এবং অন্যের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ বিলীন হয়ে গেছে। কোরবানি ও ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে সেখানে কোনও ঈদ নেই।’

আবু রিয়ালা জানান, জীবন্ত পশুর অনুপস্থিতি সংকটের একটি অংশ মাত্র, অনেক পরিবার এখন মৌলিক খাদ্য জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোনও জীবন্ত পশু নেই, আর বেশির ভাগ পরিবারের কোনও কিছু ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্যও নেই। অনেকে কোনও রকমে দৈনিক খাবার জোগাড় করছে এবং কেউ কেউ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খায়নি। গাজায় যা প্রবেশ করে তা সীমিত এবং তা সম্পূর্ণভাবে সীমান্ত ক্রসিং বা পারাপারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, যার অর্থ দাম অত্যন্ত চড়া থাকে।’

জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি ছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা এবং বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর ও প্রায়শই অননুমেয় বিধিনিষেধ এবং বারবার সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সংকট আরও খারাপের দিকে গেছে। এর ফলে মৌলিক খাদ্যসামগ্রী প্রায়শই বাজার থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায় এবং গাজায় কী পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে দামের তীব্র ওঠানামা ঘটে।

আবু রিয়ালা বলেন, গবাদিপশুর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা গাজার হাজার হাজার পরিবারকে টিকিয়ে রাখা একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যদি গাজায় গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো, তবে এটি অনেক পেশাকে বাঁচিয়ে রাখত, যেমন- পশু চিকিৎসক, পশু খামারি, গোবর বা জৈব সারের ওপর নির্ভরশীল কৃষক, কসাই এবং রেস্তোরাঁ মালিকরা এর সুবিধা পেতেন। কিন্তু ইসরায়েল তা চায় না। তারা সমাজকে পঙ্গু করে দিতে চায় এবং একে স্বাবলম্বী হওয়া থেকে বিরত রাখতে চায়।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আমার বিশ্বাস ছিল, আমি মাসুদ রানা হবো: রাসেল রানা

বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে রোমাঞ্চের ঝড় তোলা সেবা প্রকাশনীর কালজয়ী স্পাই চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ এবার আসছে রূপালী পর্দায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত এই সিনেমাটি।

গতকাল (২৪ মে) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ঘোষণা দেওয়া হয়। জমকালো এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজের দীর্ঘ জার্নি ও অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সিনেমার মূল চরিত্র ‘মাসুদ রানা’ অর্থাৎ অভিনেতা রাসেল রানা।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা সবাই জানেন যে মাসুদ রানা সবাই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়তো এবং মুরুব্বিদের সাথে এখানে কিছু ঝামেলা ছিল। তো, আমার বাবাও আমাকে পড়তে দিত না। আমার বাবা মাসুদ রানার অনেক বড় ফ্যান ছিল। উনি মাসুদ রানার বই পড়তেন এবং আমাদের বাসায়ও মাসুদ রানার বই ছিল। আমি দেখতাম ওই বইগুলো, বাট আমি ওইভাবে পড়তাম না কারণ আমি ফ্যান ছিলাম হচ্ছে ঐ কিশোর উপন্যাস বা টিন উপন্যাসের।”

 

জেমস বন্ডের প্রতি নিজের ভালোলাগার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “জেমস বন্ডের আমি অনেক বড় ফ্যান ছিলাম এবং জেমস বন্ডের মুভিগুলো দেখেই আমি বড় হয়েছি—পিয়ার্স ব্রসনান থেকে শুরু করে ড্যানিয়েল ক্রেইগ পর্যন্ত। ওনাদের মুভিগুলো দেখার পর আমি যখন জানতে পারলাম যে আমাদের বাংলাদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স, বিসিআই-এর একজন এজেন্ট হচ্ছে এই মাসুদ রানা ক্যারেক্টার এবং সে হচ্ছে বাংলাদেশের বলতে গেলে জেমস বন্ড, তো তখন আমার আগ্রহটা তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যায় যে না, আমার মাসুদ রানার সবগুলো বই পড়তে হবে।”

‘কে হবে মাসুদ রানা’ রিয়েলিটি শো-র মাধ্যমে এই পথচলার শুরুটা মনে করিয়ে দিয়ে রাসেল রানা বলেন, “আমি বেশ কিছু বই পড়ি। পড়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। হঠাৎ একদিন দেখলাম ‘কে হবে মাসুদ রানা?’। এটা দেখার পর আমি টোটালি অ্যামেজড—ও মাই গড! মানে, আমি মাসুদ রানার এত বড় ফ্যান, আর এই রিয়েলিটি শোটা হচ্ছে মাসুদ রানাকে খোঁজার জন্য! সো, আই থিংক দিস ইজ দ্য টাইম।”

 

সব প্রতিকূলতা জয় করার গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু শেষ করে, প্রতিকূলতা পার করে, ফাইনালি আমি সিলেক্ট হই। তো, আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি মাসুদ রানা হব। এরপর বেশ কয়েক বছর কেটে যায়, আমরা মুভিটা শুরু করি এবং ফাইনালি আমরা মাসুদ রানা কমপ্লিট করতে পারি।”

নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্নের মঞ্চে দাঁড়ানোর অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় আয়নার সামনে দাঁড়াই এবং নিজেকে বলি যে তোমাকে করতে হবে, তুমি পারবে। এই জিনিসটা আমি সবসময় নিজেকে বলি। তো, আজকেও আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই কথাটাই বলেছি যে এই মঞ্চে, এই পোডিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারাটা অনেক দিনের একটা স্বপ্ন ছিল। আজকে আমি এখানে দাঁড়াতে পারছি, এজন্য আসলে আমি অনেক ইমোশনালি ওভারহোয়েল্মড এবং ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না যে কী বলবো। যা মুখে আসছে, যতটুকু কথা বলতে পারছি, আমি বলছি। আর যেহেতু এটা আমার ফার্স্ট মুভি, সো আমার মনে হয় যে কথাগুলো গুছিয়ে বলতে পারছি না।”

 

পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের উদ্দেশ্যে রাসেল রানা বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে আমার যেটা স্বপ্ন ছিল, এই পোস্টারের মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আগামী ঈদে এই মুভিটা রিলিজ হতে যাচ্ছে। আশা করি মুভিটা আপনাদের সবার ভালো লাগবে।”

প্রসঙ্গত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সৈকত নাসির। সিনেমাটিতে নামভূমিকায় রাসেল রানা ছাড়াও ‘সোহানা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি এবং ‘অবনিতা’ চরিত্রে দেখা যাবে সৈয়দা তিথি অমনিকে।

উল্লেখ্য, সিনেমাটির প্রথম অফিশিয়াল পোস্টারটি তৈরি করা হয়েছে সেবা প্রকাশনীর সেই চেনা ক্লাসিক বইয়ের প্রচ্ছদের আদলে, যা পাঠকদের মাঝে নতুন করে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ছবিটি আগামী ঈদুল আজহায় দেশের বড় বড় প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে একযোগে মুক্তি পাবে।