রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

আমচাষী সুরক্ষায় প্রয়োজন সাতক্ষীরার পাইকারি বাজার সম্প্রসারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
আমচাষী সুরক্ষায় প্রয়োজন সাতক্ষীরার পাইকারি বাজার সম্প্রসারণ

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা আজ দেশের আম অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু ও মাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এ জেলার আম শুধু আগেভাগে পাকে না, স্বাদ ও গুণগত মানেও আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। গ্রাম থেকে শহর—পুকুরপাড় থেকে বাড়ির আঙিনা—সবখানেই আমগাছের উপস্থিতি যেন এই অঞ্চলের কৃষি ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক।

চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আম বিক্রি ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। হিমসাগর, আ¤্রপালি, ন্যাংড়া, গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগসহ ৩০-৪০টি জাতের আম শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে বিদেশে রপ্তানির জন্য চেষ্টা শুরু করে কৃষি বিভাগ। তবে ২০১৬ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম প্রথম ইটালীতে রপ্তানির মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে আম রপ্তানি শুরু হওয়া এবং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর চাহিদা তৈরি হওয়াÑএটি বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের জন্য ইতিবাচক বার্তা।

প্রশাসনের কেমিক্যালমুক্ত আম উৎপাদন এবং ক্যালেন্ডারভিত্তিক ৫ মে সংগ্রহ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এতে ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি অপরিপক্ক আম বাজারজাত হওয়া নিয়ন্ত্রণে আসছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় চাষিরাও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। ঐদিন সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের আমচাষি আবু সাইদের বাগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) বিষ্ণুপদ পাল। তিনি জানান, আম এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। প্রাকৃতিক অনুকূলতা, চাষিদের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ—সবই রয়েছে। এখন প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন। বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও রপ্তানি কাঠামো শক্তিশালী করা গেলে সাতক্ষীরার আম শুধু দেশের গর্বই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। আজ থেকে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ শুরু হওয়া এই ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করেছে।

তবে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম দেশ—বিদেশে বেশ কদর অর্জন করেছে। ফলে বাজারে আগে ওঠায় তুলনামূলক ভালো দাম আশা করেন এখানকার চাষিরা। এই আশাব্যঞ্জকের আড়ালে একটি বড় সমস্যা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছেÑবাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫—২৬ মৌসুমে সাতক্ষীরায় মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হিমসাগর ১ হাজার ৫৫৫ হেক্টর, আম্রপালি ৮৯৯ হেক্টর, ন্যাংড়া ৫৬৪ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৩৮২ হেক্টর, গোপালভোগ ২১৯ হেক্টর, লতা ১৪৩ হেক্টর, মল্লিকা ৮০ হেক্টর, বোম্বাই ৫০ হেক্টর, হাঁড়িভাঙ্গা ২ হেক্টর ও অন্য স্থানীয় জাত ২৪৩ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক আবাদে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১,২৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬৫৮, তালায় ৭১৫, দেবহাটায় ৩৭০, কালিগঞ্জে ৮৩৯, আশাশুনিতে ১৪৫ ও শ্যামনগরে ১৬০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ রয়েছে।

গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৭০ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন, বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০০ মেট্রিক টন আম। এছাড়াও জেলায় আমবাগানের সংখ্যা ৫ হাজার ২৯৯টি এবং মোট আমচাষির সংখ্যা ৫০ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে নিবন্ধিত চাষি রয়েছেন ৩৫১ জন। তবে ৫০ হাজারের বেশি চাষির সম্পৃক্ততাÑএত বড় একটি খাতের জন্য একটি মাত্র পাইকারি বাজার কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। সুলতানপুর বড়বাজারকেন্দ্রিক বেচাকেনা চাষিদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জায়গার অভাব, যানজট ও বিশৃঙ্খলার কারণে তারা প্রায়ই ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আম চাষিরা। তাদের অভিযোগ, সাতক্ষীরায় একটি মাত্র বাজার (সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজার) থাকায় সবাইকে সেখানেই আম বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজার ও সংলগ্ন রাস্তায় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বিক্রির সময় চাষিদের পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে। এতে করে ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

এখানেই মূল প্রশ্নÑসাতক্ষীরার আম কি শুধুই উৎপাদনের সাফল্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি অর্থনীতিতে রূপ নেবে? যদি দ্বিতীয়টি লক্ষ্য হয়, তবে বাজার সম্প্রসারণ, ভ্রাম্যমাণ পাইকারি হাট, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং জেলা পর্যায়ে আম মেলার আয়োজন এখন সময়ের দাবি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে চাষিরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমবে।

অন্যদিকে, রপ্তানি খাতেও স্থিতিশীলতা দরকার। এক বছরে ১২০ মেট্রিক টন, পরের বছরে ৮০, আবার ১০০Ñএই ওঠানামা প্রমাণ করে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্যাকেজিং ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

সাতক্ষীরার আম এখন এক সম্ভাবনার মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রাকৃতিক সুবিধা, চাষির পরিশ্রম ও প্রশাসনিক উদ্যোগÑসবই আছে। যা প্রয়োজন, তা হলো সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তবে সাতক্ষীরার আম শুধু দেশের নয়, বৈশ্বিক বাজারেও বাংলাদেশের এক গর্বিত ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে পারে। তাই চাষিদের দাবিÑআরও বাজার স্থাপন, আমচাষী সুরক্ষায় পাইকারি বাজার সম্প্রসারণ এবং আম মেলার আয়োজনÑএসবই বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী প্রস্তাব। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে এবং চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

Ads small one

পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণ: উচ্ছেদ ও জরিমানা

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১০ মে) বিকেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য করায় অভিযুক্তকে জরিমানাও করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ‘ক’ তপশিলভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধ নির্মাণের প্রমাণ পান।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন তালা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাত্র এক শতক সরকারি জমি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দ-বিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা প্রদান করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খান সাংবাদিকদের জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, জনস্বার্থে কোনো অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে জাল সনদ বিক্রির আস্তানা ‘পিটিএফ’ সিলগালা

এমএ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল ডাক্তারি সনদ বিক্রি করে আসছিল ‘প্যারামেডিকেল অ্যান্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন’ (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গতকাল রোববার (১০ মে) দুপুরে যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা অভিযান চালিয়ে ভুয়া এই প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছেন।
এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন এই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছিলেন। সে সময় জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এ কে আজাদ ওরফে ইকতিয়ারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে লোকচক্ষুর অন্তরালে চক্রটি তাদের জাল সনদ বিক্রির বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
২০১৬ সালে খুলনার যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) থেকে নিবন্ধন নিয়ে কেশবপুর শহরের মাইকেল মোড়ে একটি ভাড়া বাসায় পিটিএফের ‘কেন্দ্রীয় হেড অফিস’ খোলেন আবুল কালাম আজাদ। এরপর ডিএমএফ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিসহ ৫৬টি ট্রেডে সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে ট্রেনিং সেন্টার শুরু করেন। আকর্ষণীয় লিফলেটের প্রলোভনে পড়ে বেকার যুবকরা এখানে আসতেন এবং কোর্সভেদে ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভুয়া ডাক্তারি সনদ হাতিয়ে নিতেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোনো ট্রেনিং বা সনদ প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কে আজাদ জয়েন্ট স্টকের একটি সাধারণ নিবন্ধনকে পুঁজি করে গত ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সরকারি তদারকি না থাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভুয়া সনদ বিক্রি করছেÑএমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তারা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে মাদ্রাসার টাকা ও গয়না নিয়ে উধাও স্ত্রী, দিশেহারা স্বামী

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খরিয়াটি গ্রামে স্বামীর গচ্ছিত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এক গৃহবধূর পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খরিয়াটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা আব্দুস সবুর সরদার এই ঘটনায় খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন ও নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, খুলনা সোনাডাঙ্গার আতিকুর রহমান খোকন পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে আব্দুস সবুরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আব্দুস সবুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে রেশমা খাতুন দুই সন্তানকে ফেলে খোকনের সঙ্গে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি মাদ্রাসার সঞ্চয় তহবিলের নগদ ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা এবং ৩ ভরি ২ আনা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী আব্দুস সবুর জানান, রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংগৃহীত মাদ্রাসার টাকা ব্যাংক ছুটি থাকায় তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন। স্ত্রী ও অর্থসম্পদ হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আদালতে সিআর ১৫৯/২৬ (আশাশুনি) নং মামলা দায়ের করার পর আসামিরা বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী ০৮ নং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।