মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনিতে আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু। সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রুমা, শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মন, ডাঃ ইমরান হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, জামায়াতের উপজেলা আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, জেলা কর্ম পরিষদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আঃ সবুর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, জাকির হোসেন বাবু, চেয়ারম্যান মাওঃ আবু বক্কর ছিদ্দীক, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন ঘোষ, প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জি এম মুজিবুর রহমান, বড়দল ইউপি প্রশাসক আখতার ফারুক বিল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খাজরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

সভায় উপজেলার সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

Ads small one

আন্তর্জাতিক পরী দিবস: কল্পনা, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের গল্পবন্ধনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক পরী দিবস: কল্পনা, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের গল্পবন্ধনে

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ২৪ জুন পালিত আন্তর্জাতিক পরী দিবস কেবল রূপকথার জাদুকরী চরিত্রদের স্মরণ করার দিন নয়; এটি মানবজাতির কল্পনাশক্তি, লোকঐতিহ্য, পারিবারিক গল্পচর্চা এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদযাপন। পৃথিবীর নানা দেশ, জাতি ও সংস্কৃতিতে পরী, জাদুকরী আত্মা, বনরক্ষক কিংবা অতিপ্রাকৃত সত্তার গল্প শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মুখে মুখে প্রবাহিত হয়েছে। এসব গল্প শৈশব থেকেই মানুষের আনন্দ, শিক্ষা, নৈতিকতা ও স্বপ্নের জগৎকে সমৃদ্ধ করে আসছে।

একসময় সন্ধ্যা নামলেই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ দাদা-দাদী, নানা-নানী কিংবা বাবা-মায়েরা শিশুদের ঘিরে বসে পরী, রাজকন্যা, জাদুর বন-পাহাড়, কথা বলা পাখি, উড়ন্ত ঘোড়া কিংবা রহস্যময় রাজ্যের গল্প শোনাতেন। আকাশ থেকে নেমে আসা যাদুর কাঠিধারী, ফুলের মালা ও সোনা-রুপার মুকুট পরিহিত ডানাওয়ালা পরীদের সেই গল্প ছিল শিশুদের কল্পনার অন্যতম অনুষঙ্গ।

 

এসব গল্প শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না; বরং সাহস, সততা, দয়া, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দেওয়ার এক অনন্য পদ্ধতি ছিল। আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে আন্তর্জাতিক পরী দিবস আমাদের সেই হারিয়ে যেতে বসা পারিবারিক গল্প বলার ঐতিহ্যের কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। যদিও এসব কল্পনার গল্পের অনেকগুলো এখন কার্টুন, অ্যানিমেশন ও ভিডিওর মাধ্যমে নতুন রূপে উপস্থাপিত হচ্ছে, তবু গল্পের আবেদন অমলিন। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন এক আধুনিক ‘যাদুর কাঠি’ হয়ে কল্পনার জগৎকে আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পরীদের রূপ ভিন্ন হলেও তাদের মূল বার্তা প্রায় একই। ইউরোপের কেল্টিক লোককথায় পরীরা প্রকৃতির রক্ষক হিসেবে পরিচিত।

 

চীন ও জাপানের লোকবিশ্বাসে বন ও পাহাড়ের আত্মাদের ঘিরে রয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি। আফ্রিকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর লোককাহিনীতেও রহস্যময় জাদুকরী সত্তার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। দক্ষিণ এশিয়ার লোকসাহিত্যে যাদুর কাঠি হাতে, ডানাওয়ালা ঘোড়ায় চেপে স্বর্গ থেকে আসা পরী, অপ্সরা ও অলৌকিক চরিত্রগুলো মানুষের কল্পনার জগৎকে রঙিন করে তুলেছে। এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে গল্প বলার ঐতিহ্য মানবসভ্যতার এক সর্বজনীন সাংস্কৃতিক সম্পদ।

আন্তর্জাতিক পরী দিবস শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গল্প শোনা ও গল্প বলা তাদের কল্পনাশক্তি, ভাষাদক্ষতা, বাচনভঙ্গি এবং চিন্তার পরিধি প্রসারিত করে। একই সঙ্গে এটি পরিবারে আন্তঃপ্রজন্মীয় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে, যেখানে বয়োজ্যেষ্ঠদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়।

আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিম-লে এই দিবসের গুরুত্ব আরও গভীর। এটি বিভিন্ন দেশের লোককাহিনি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্মান জানায় এবং পারস্পরিক সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলে। গল্পের মাধ্যমে মানুষ ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমা অতিক্রম করে একে অপরের অনুভূতি, স্বপ্ন ও মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। পরী ও লোককাহিনি নিয়ে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য বই, গবেষণা এবং সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে, যা এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

 

 

 

 

 

 

 

চেনা বুনো ফল ‘বনপেটারি’র অচেনা গুণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
চেনা বুনো ফল ‘বনপেটারি’র অচেনা গুণ

‎তারিক ইসলাম

‎‎হাঁটতে চলতে পথের ধারে, ক্ষেতের আইলে বা পরিত্যক্ত ভিটায় ছোটখাটো একঝাঁক সবুজ পাতার ঝোপঝাঁকড়ি আমাদের প্রায়ই চোখে পড়ে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে ছোট ছোট কলসের মতো বা ফানুস আকৃতির কিছু ফল। গ্রামের দুরন্ত শৈশবে এই ফলটি কপালে ঠুকে ‘পট’ করে শব্দ ফুটিয়ে আনন্দ পায়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গ্রামীণ মানুষের কাছে এটি ‘ফুটকি’, ‘বনপেটারি’ বা ‘ফোস্কা বেগুন’ নামে পরিচিত। তবে কেবলই শৈশবের খেলার অনুষঙ্গ নয়, এই অবহেলিত বুনো গাছটি আসলে এক লুকিয়ে থাকা ওষুধি ভা-ার।

‎উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম Physalis minima। এটি Solanaceae(বেগুন) পরিবারের একটি বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। ইংরেজিতে একে Native gooseberry, Wild cape gooseberry বা চুমসু groundcherryবলা হয়। গাছটি সাধারণত এক থেকে দেড় ফুট লম্বা হয় এবং এর কা- বেশ নরম ও শাখাপ্রশাখাযুক্ত। ফলগুলো যখন কাঁচা থাকে, তখন সবুজ রঙের একটি পাতলা আবরণে ঢাকা থাকে। পেকে গেলে ভেতরের ফলটি টকটকে হলুদ বা হালকা কমলা রঙ ধারণ করে। পাকা ফলটি খেতে বেশ মিষ্টি এবং সামান্য টক-মিষ্টি স্বাদের।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের চারপাশে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই বনপেটারি গাছটি নানা গুণে গুণান্বিত:

‎ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: ফুটকি ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘এ’ রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর।

‎ব্যথানাশক ও প্রদাহরোধী: ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় এই গাছের পাতার রস কৃমিনাশক হিসেবে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের ফোলা বা ব্যথা কমাতে ব্যবহার করা হয়।

‎চোখের যতœ ও লিভারের সুরক্ষায়: এর পাকা ফল নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। এছাড়া লিভার বা যকৃতের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

‎ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এর পাতার নির্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

‎আজকের দিনে আমরা যখন সামান্য সর্দি-কাশিতেও কৃত্রিম অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্যাবলেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি, তখন প্রকৃতির এই অমূল্য উপহারগুলো আমাদের হাতের কাছেই রয়ে গেছে অনুদ্ঘাটিত। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আগাছানাশক ওষুধের দেদারসে ব্যবহার এবং অজ্ঞতার কারণে আমাদের চারপাশ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে ফুটকি বা বনপেটারির মতো বহু উপকারী বুনো উদ্ভিদ।

‎প্রকৃতির এই রূপালী সম্পদগুলোকে শুধু ‘আগাছা’ ভেবে উপড়ে ফেলার মানসিকতা আমাদের বদলাতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থেই ঘরের কোণের এই ওষুধি উদ্ভিদগুলোকে চেনা এবং সংরক্ষণ করা আজ সময়ের দাবি। লেখক: ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

 

 

 

 

 

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
মাদকের ভয়াবহতা রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকের সহজলভ্যতা বন্ধ করা এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলা সবচেয়ে জরুরি। মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সুদৃঢ় বন্ধন, সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা এবং সহজলভ্যতা রোধের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ও এর কুফল থেকে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব।

২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। মাদকের অপব্যবহার রোধ, অবৈধ পাচার দমন এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করা। ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৬ জুনকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে দিবসটি গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়ে আসছে।

সারা পৃথিবীতে তরুন প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলোর মধ্যে মাদকাসক্তি অন্যতম। অসংখ্য কারণে একজন মানুষ মাদকের প্রতি আসক্ত হতে পারে। মাদক সেবনের ফলে মানুষের মাঝে এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়। ডিপ্রেশন, মানসিক চাপ, বিষণœতা কমাতে মাদক গ্রহণ করে। মাদকাসক্তের বড় অংশ মানসিক চাপে পড়ে মাদক গ্রহণ শুরু করে। আমাদের দেশে সিগারেট, গাঁজা, হেরোইন, মদ, ফেন্সিডিলের মতো মাদকগুলো খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের চারপাশে অনেকটা হাতের নাগালে মাদক পাওয়া যায়। যার কারণে শিক্ষার্থীরাও এগুলোর প্রতি সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক সময় নিছক আনন্দ ও কৌতুহলবসত মাদক গ্রহণ করে। আবার অনেকে নিজের স্মার্টনেশ দেখাতে মাদক ব্যবহার করে। আর এভাবে কিশোর কিশোরীসহ নানা বয়সের মানুষ মাদকের দূর্ভেদ্য জালে আটকে পড়ে। পরে আর মাদক থেকে বের হওয়া সম্ভব হয় না।

পরিবার হলো যেকোনো নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা। সন্তানদের মাদকমুক্ত রাখতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সন্তান কোথায় যায়, কার সাথে মিশে এবং তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। সন্তানের দেরিতে বাড়ি ফেরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বা হঠাৎ অতিরিক্ত টাকার চাহিদা বাড়ার মতো লক্ষণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এড়িয়ে চলুন, কারণ পারিবারিক অশান্তি অনেক সময় তরুণদের মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, যাতে তারা কোনো মানসিক চাপে থাকলে বা হতাশায় ভুগলে তা পরিবারের সাথে শেয়ার করতে পারে। ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া।

তরুণদের একটি বড় অংশ দিনের বেশী সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাটায়, তাই শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে অপরিসীম। স্কুল, কলেজ ও কর্মক্ষেত্রে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সেমিনার ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া। তরুণ ও কিশোরদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত রাখা।

কোনো ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তাকে অপরাধী না ভেবে একজন রোগী হিসেবে বিবেচনা করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং এবং ভালো কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া।

মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে এর অপব্যবহার রোধ করা অসম্ভব। মাদক চোরাচালান ও উৎপাদন কঠোরভাবে দমন করা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়ানো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট এলাকার আশেপাশে মাদকের দোকান ও সহজলভ্যতা কঠোর হাতে বন্ধ করা। পাড়া-মহল্লায় মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করে মাদকের কেনাবেচা রুখে দেওয়া। মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার সাথে জড়িতদের দ্রুত কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

মাদকাসক্তি নিরাময় করতে সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত এবং মানসম্মত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে, যেন আসক্ত ব্যক্তিরা সহজে চিকিৎসা পেতে পারে। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত তথ্যচিত্র ও শিক্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে।

মাদকের ভয়াবহতা রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এর মূল চাবিকাঠি হলো সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সুদৃঢ় বন্ধন, মাদকের সহজলভ্যতা কমানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।প্রতিটি স্তরে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট