মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বাবার সেই না বলা কথাগুলো একত্রিত করে বলতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
বাবার সেই না বলা কথাগুলো একত্রিত করে বলতে চাই

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

বাবা—মাত্র দুটি অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু এই ছোট্ট শব্দের ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়, সবচেয়ে সাহসী অভিভাবক এবং সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি সন্তানই মায়ের ভালোবাসার প্রকাশ সহজে দেখতে পায়, কিন্তু বাবার ভালোবাসা অনেক সময় নীরব থাকে। তিনি কম কথা বলেন, নিজের কষ্ট আড়াল করে রাখেন, কিন্তু সন্তানের সুখের জন্য নিজের সবকিছু নিঃশব্দে বিলিয়ে দেন।

একজন বাবা হয়তো কখনো বলেন না, “আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।” কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে তিনি সেই ভালোবাসারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ রেখে যান। নিজের ইচ্ছা, স্বপ্ন এবং শখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য সংগ্রাম করেন। অনেক বাবা নিজের প্রয়োজনকে দূরে সরিয়ে রেখে সন্তানের শিক্ষার খরচ জোগান, নতুন পোশাক না কিনে সন্তানের জন্য বই কিনে দেন, নিজের ক্লান্তি লুকিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন।

জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে বাবাই হয়ে ওঠেন সাহসের প্রতীক। সন্তান যখন প্রথম হাঁটতে শেখে, তখন তাঁর হাতই ভরসা দেয়। সন্তান যখন হোঁচট খায়, তখন বাবাই তাকে আবার উঠে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেন। সন্তান যখন ব্যর্থ হয়, তখন তিনিই নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগান। অথচ এই মানুষটিই নিজের কষ্ট, দুঃখ আর চোখের জলকে সবার আড়ালে লুকিয়ে রাখেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সন্তান বড় হয়ে যায়, নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বাবা একইভাবে অপেক্ষা করেন একটি ফোনকলের জন্য, একটি খোঁজখবরের জন্য কিংবা সন্তানের সামান্য সময়ের জন্য। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চুলে পাক ধরে, শরীর দুর্বল হয়ে আসে, কিন্তু সন্তানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনো কমে না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভালোবাসা আরও গভীর হয়।

আজকের এই ব্যস্ত পৃথিবীতে আমরা অনেক সময় বাবার সেই নীরব ত্যাগগুলো ভুলে যাই। আমরা হয়তো তাঁকে ধন্যবাদ বলি না, তাঁর কষ্টের কথা জানতে চাই না কিংবা তাঁর সঙ্গে সময় কাটানোর প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করি না। অথচ আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নায়ক, সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা এবং সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার নামই হলো বাবা।

আমি গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ। আমার জীবনের প্রতিটি সফলতা, প্রতিটি অর্জন এবং বড় হয়ে ওঠার পেছনে আমার বাবার অবদান অপরিসীম। তাঁর দোয়া, ত্যাগ, পরিশ্রম এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা ছাড়া আমি আজকের আমি হতে পারতাম না। পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং বিলাসিতার চেয়েও আমার কাছে বাবার মূল্য অনেক বেশি। কারণ অর্থ-সম্পদ হারালে তা আবার ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু বাবার মতো একজন অভিভাবক, একজন পথপ্রদর্শক এবং একজন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মানুষকে কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।

তবে আজকের এই লেখা শুধু আমার বাবাকে নিয়ে নয়। এটি পৃথিবীর প্রতিটি বাবার প্রতি একজন সন্তানের হৃদয়ের গভীরতম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ। কারণ প্রতিটি বাবাই তাঁর পরিবারের জন্য একজন নীরব যোদ্ধা। কেউ রোদে পুড়ে, কেউ বৃষ্টিতে ভিজে, কেউ দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের ত্যাগের গল্প হয়তো সংবাদ শিরোনাম হয় না, কিন্তু প্রতিটি সন্তানের সফলতার পেছনে একজন বাবার অদৃশ্য অবদান জড়িয়ে থাকে।

বাবার সেই না বলা কথাগুলো একত্রিত করলে হয়তো একটি বাক্যই দাঁড়ায়—
“সন্তান, আমি তোমার জন্যই বেঁচে আছি। তোমার হাসিই আমার সুখ, তোমার সফলতাই আমার গর্ব, আর তোমার নিরাপত্তাই আমার সবচেয়ে বড় শান্তি।”

বাবা দিবস আমাদের শুধু একটি দিন উদযাপনের কথা মনে করিয়ে দেয় না; এটি আমাদের দায়িত্ব, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। আসুন, আমরা শুধু বাবা দিবসে নয়, বছরের প্রতিটি দিন বাবাকে সম্মান করি, তাঁর খোঁজ নিই, তাঁর কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করি এবং তাঁকে জানাই— তিনি আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষ।
হে আল্লাহ, পৃথিবীর সকল বাবাকে সুস্থতা, দীর্ঘ নেক হায়াত, মানসিক প্রশান্তি ও সম্মান দান করুন। যেসব বাবা জীবিত আছেন, তাঁদের আপনার হেফাজতে রাখুন। আর যারা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁদের কবরকে নূরে ভরে দিন এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমিন।

বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও অন্তহীন কৃতজ্ঞতা।

 

 

 

Ads small one

তালায় দলিত’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
তালায় দলিত’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা

‎তালা প্রতিনিধি: ‎তালায় বেসরকারি সংস্থা দলিত’র ইনক্লুসিভ ডিজিটাল পাথওয়েজ ফর ডিজঅ্যাডভান্টেজড ভালনারেবল কমিউনিটি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলিত’র আয়োজনে এবং দাতা সংস্থা ফান্ডাজিঅন সানজিনো- ইতালির সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন, দলিত’র হেড অব প্রোগ্রাম (ইনক্লুশন এন্ড লাইভলিহুড) নিতাই চন্দ্র দাস।

‎প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্না। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) মো. শরিফুল ইসলাম।

 

দলিত’র টেকনোলজি এডুকেটের পবিত্র দাস’র সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে ফাইনান্স ও এডমিন কৃষ্ণ পদ দাস, প্রজেক্ট অফিসার জয়ন্ত কুমার দাস ও কমিউনিটি নারী নেত্রী স্বরসতী দাসসহ ২৭ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

‎সভায় দলিত সংশ্লিষ্ট ইনক্লুসিভ ডিজিটাল পাথওয়েজ ফর ডিজঅ্যাডভান্টেজড ভালনারেবল কমিউনিটি প্রকল্পের মেয়াদ, বাজেট এবং কর্ম পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

 

 

 

 

তালায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
তালায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচি পরিদর্শন

‎তালা প্রতিনিধি: ‎‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৩ জুন) তালা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম গণ-গ্রন্থাগারে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কলেজ পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বইপড়া কর্মসূচির বার্ষিক পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মুজাহিদুল আলম সাগর।

‎দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের বইপড়া কর্মসূচির আওতায় অনুষ্ঠিত সভায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম গণ-গ্রন্থাগারের সম্পাদক গাজী জাহিদুর রহমান, গণ-গ্রন্থাগারের মো. আফজাল হোসেনসহ কর্মসূচির কলেজ পর্যায়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

 

 

কলারোয়ায় স্কুল শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় স্কুল শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় স্কুল শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) কলারোয়ার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হলরুমে ওই কর্মশালার আয়োজন করে ওসাপ বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি ও দায়িত্বশীল পানি ব্যবহারের বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

 

এতে সভাপতিত্ব করেন ওসাপ বাংলাদেশ-এর ম্যানেজার, ফিল্ড অপারেশন্স মোহাম্মদ খোরশেদ। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন। কর্মশালার সমাপনী পর্বে বক্তব্য রাখেন পৌর নির্বাহী অফিসার তুষার কান্তি দাস। প্রশিক্ষণটি সঞ্চালনা করেন কেয়া অধিকারী, সাঈদ আবদুল্লাহ এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, স্কুলে নিরাপদ পানি ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা, স্কুলে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার, মেয়েদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্যসচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।