বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির জলাশয়ে বিলুপ্তপ্রায় শাপলা ফুল: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য

আশাশুনি সংবাদদাতা: একসময় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিল, খাল, পুকুর ও জলাশয়গুলোতে শাপলা ফুলের বাহার ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্ষা এলেই ফুটে উঠতো সাদা, লাল ও বেগুনি রঙের শাপলা, যা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, গ্রামীণ জীবনের এক আবেগময় অংশ হিসেবেই পরিগণিত ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আশাশুনির সেই অপরূপ দৃশ্য ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত আধুনিকায়ন, জলাশয় ভরাট, রাসায়নিক বর্জ্য এবং অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আজ বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক জলজ উদ্ভিদ শাপলা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় গ্রামের শিশুরা সকাল সকাল শাপলা তুলতে পুকুরে যেত। মায়েরা রান্নার উপকরণ হিসেবে শাপলার ডাটা সংগ্রহ করতেন। শাপলার শিকড় (ঢ্যাঁড়শের মতো অংশ) ছিল গ্রামীণ পুষ্টিকর খাদ্য, যা পেটের নানা রোগের ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

বিশেষ করে প্রতিটি গ্রামে পুকুরঘাট, বিল বা খালের ধারে বসে শাপলা ফোটা দেখার যে অপার আনন্দ ছিল তা আজ শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে চাপা পড়ে যাচ্ছে। আশাশুনির বড়দল, খাজরা, বুধহাটা, কাদাকাটি, আনুলিয়া, শ্রীউলা, প্রতাপনগরসহ অনেক এলাকায় এখন আর আগের মতো শাপলা দেখা যায় না।উপজেলা কৃষি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, শাপলা শুধু একটি ফুল নয় এটি একটি জীববৈচিত্র্যবান এলাকার পরিচায়ক।

 

এটি জলাশয়ের স্বাস্থ্যবিধান রক্ষা করে এবং ছোট মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে। ফলে শাপলা বিলুপ্ত হওয়া মানে শুধু ফুল হারানো নয়, একটি জীববৈচিত্র্যগত ভারসাম্যের বিপর্যয়ও। আশাশুনি সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজল কুমার আঢ্য মনে করছেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের প্রকৃতি চেনাতে হলে, গ্রামীণ সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিল ও খাল পুনরুদ্ধার, রাসায়নিক দূষণ রোধ এবং শাপলা সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।পরিবেশবান্ধব আশাশুনি গড়তে হলে প্রকৃতির এই নিঃশব্দ ধ্বংস ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

Ads small one

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রতিরোধের বিকল্প নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত প্রতিরোধের বিকল্প নেই

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য—“বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান চ্যালেঞ্জ, নতুন প্রতিবন্ধকতা, উদ্ভাবনী সমাধান”। এই প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মাদকের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই এখনো শেষ হয়নি; বরং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চোরাচালান কৌশল, সিন্থেটিক মাদকের বিস্তার এবং তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না; এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হুমকি। বিশ্বব্যাপী অবৈধ মাদক ব্যবসা প্রতিবছর শত শত বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়। অপরাধ, সহিংসতা, সন্ত্রাস, অর্থনীতি, কর্মক্ষমতা হ্রাস, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে মাদকের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এটি কেবল জনস্বাস্থ্যের সংকট নয়, জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশও এই সংকটের বাইরে নয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক প্রবাহের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সীমান্ত এবং চোরাচালানকারীদের নানা গোপন কৌশলের কারণে এ অঞ্চলে মাদক ব্যবসার বিস্তার উদ্বেগজনক। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের সহজলভ্যতা বহু পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করছে, শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনকে বিপর্যস্ত করছে এবং সামাজিক অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে।

তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকবিরোধী প্রচারণাকে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। ইসলামে মাদক ও সব ধরনের নেশাজাতীয় বস্তু কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, কারণ এগুলো মানুষের বিবেক, নৈতিকতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণবোধকে ধ্বংস করে মস্তিষ্ক বিকৃতি করে। তাই ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং মানসিক সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা জরুরি। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে নয়, বরং চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে এমন একজন মানুষ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, দ্রুত ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য।

সরকারের দায়িত্ব নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। অন্যদিকে জনগণের দায়িত্ব হলো মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে খেলাধুলা, ধর্মীয় ও সংস্কৃতি চর্চা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকা-, স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার প্রধান শক্তি।

মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি সচেতনতা, মানবিকতা, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতারও লড়াই। আন্তর্জাতিক দিবসটির মূল বার্তা— একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য রাষ্ট্র, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে অভিন্ন লক্ষ্য ও অঙ্গীকার নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৪ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৪ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিনভর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধীনস্থ গাজীপুর, মাদরা, বৈকারী, পদ্মশাখরা ও কাকডাঙ্গা বিওপি এবং ঝাউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্পের টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ওষুধ, চিংড়ি মাছের রেণু পোনা ও আগরবাতি আটক করা হয়।

অভিযানের বিবরণ দিয়ে বিজিবি জানায়Ñ সাতক্ষীরা সদর থানার বেলতলা এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। কলারোয়া থানার চাঁন্দা নামক স্থান থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ভারতীয় ওষুধ উদ্ধার করে। সাতক্ষীরা সদরের বৈকারী মোড় থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকার ভারতীয় আগরবাতি জব্দ করে।

 

সীমান্তের শূন্য লাইনের ভেতরের হাড়দ্দহা জোড়া তালগাছ এলাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ির রেণু পোনা আটক করে। কলারোয়া থানার ভাদিয়ালী এলাকা থেকে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। সাতক্ষীরা সদরের কামারবাইসা এলাকা থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে। জব্দকৃত চোরাচালানি মালের সর্বমোট মূল্য ১৪ লাখ ২ হাজার ২০০ টাকা।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, চোরাকারবারিরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করছিল। এ ধরনের চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

তালায় কাজ না করেই কাবিটা প্রকল্পের আড়াই লাখ টাকা তুললেন ইউপি সদস্য!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
তালায় কাজ না করেই কাবিটা প্রকল্পের আড়াই লাখ টাকা তুললেন ইউপি সদস্য!

তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলায় কাজ না করেই গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা) প্রকল্পের আড়াই লাখ টাকা তুলে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মশিয়ার রহমান উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেওয়ানীপাড়া বাজার সংলগ্ন পিচের রাস্তা হতে ওহাবের বাড়ি অভিমুখে রাস্তা সংস্কারের জন্য এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৫ ২৫ জুন) সকালে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত চার-পাঁচ বছরে এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোশায়ার মেম্বার তাঁদের বলেছিলেন, টাকা এখনো আসেনি। কিন্তু কোনো কাজ বা নেমপ্লেট ছাড়াই পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়কে ম্যানেজ করেই এই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান টাকা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, “আগামীকাল কাজ শুরু করব এবং একদিনের মধ্যে কাজ শেষ করব।” তবে আড়াই লাখ টাকার কাজ কীভাবে একদিনে শেষ হবে, তার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

তেঁতুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম এম আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি কাজ শেষ হয়েছে বলেই জানতেন। যদি কাজ না করে অনিয়ম করা হয়, তবে তিনি নিজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, “এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হয়েছে, পরে কাজ করে দেওয়া হবে।” তবে কাজ শেষের আগেই কেন বিল দেওয়া হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।