রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ইউনিয়ন পরিষদ: গ্রামীণ উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র ও আমাদের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
ইউনিয়ন পরিষদ: গ্রামীণ উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র ও আমাদের প্রত্যাশা

দীপঙ্কর বিশ্বাস

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, আর এ দেশের প্রাণের স্পন্দন লুকিয়ে আছে তার গ্রামগুলোতে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় নেতৃত্ব বিকাশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাচীনতম মাধ্যমটি হলো ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূলের এই স্তরটি কেবল একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়, বরং গ্রামীণ মানুষের সুখ-দুঃখ, শান্তি-কৃঙ্খলা এবং উন্নয়নের এক ভরসাস্থল। তবে আজ সময় এসেছে ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাবনা, সংকট এবং এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে একটু খোলাখুলি কথা বলার।

১. সেবার পরিধি ও সম্ভাবনা
একটি ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জীবনের প্রায় সব বিষয়ের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর কাজের পরিধি বিশাল। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, চারিত্রিক সনদ, ওয়ারিশন সনদসহ প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের মৌলিক কাগজপত্রের জন্য ছুটে আসেন ইউনিয়ন পরিষদে।

ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায়।

ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত এক অনন্য ভূমিকা পালন করে, যা গ্রামীণ গরিব মানুষকে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও বিপুল খরচ থেকে রক্ষা করে এই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার এবং লুপ-লাইন ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ইউপি সরাসরি ভূমিকা রাখে।

২. সংকটের অন্ধকার দিক
ইউনিয়ন পরিষদের খাতা-কলমে যত ক্ষমতা ও দায়িত্বের কথা বলা আছে, বাস্তবে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু দৃশ্যমান সংকট রয়েছে। অনেক সময়ই দেখা যায়, যোগ্য ও প্রকৃত দুস্থ ব্যক্তিরা সরকারি অনুদান বা কার্ড থেকে বঞ্চিত হন, কারণ সেখানে দলীয় আনুগত্য বা স্বজনপ্রীতি ভর করে।

অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয়ের উৎস (যেমন-হাটবাজার, ট্যাক্স) খুবই সীমিত। ফলে তাদের পুরোপুরি সরকারি বরাদ্দের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।

বছরে অন্তত দুবার ‘ওয়ার্ড সভা’ এবং ‘উন্মুক্ত বাজেট’ ঘোষণার নিয়ম থাকলেও, বহু ইউনিয়নে তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ সেখানে নিশ্চিত করা হয় না।

৩. নারীদের অংশগ্রহণ: আলো নাকি ছায়া?
সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক নারী সদস্যই পুরুষ চেয়ারম্যান বা সাধারণ পুরুষ সদস্যদের আধিপত্যের কারণে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। তাদের কেবল ‘নামেমাত্র’ জনপ্রতিনিধি করে না রেখে, সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও বাজেট দিয়ে ক্ষমতায়ন করা জরুরি।

৪. কেমন ইউনিয়ন পরিষদ আমরা চাই? (ভবিষ্যতের পথরেখা)
একটি আদর্শ এবং জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে আমাদের কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে।
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে আরও সচল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে একটি সনদের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে না হয়।

বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রকল্পের তদারকিতে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে।

টিআর, কাবিখা বা ভিজিএফ-এর চাল-গম চুরির মতো ঘটনা গ্রামীণ উন্নয়নকে পঙ্গু করে দেয়। এর জন্য কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদ হলো রাষ্ট্রের একদম গোড়ার ভিত্তি। ভিত্তি দুর্বল হলে যেমন পুরো দালান ধসে পড়ে, তেমনি ইউনিয়ন পরিষদকে অকার্যকর বা দুর্নীতিগ্রস্ত রেখে সামগ্রিক দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়ন পরিষদকে যদি সত্যিকার অর্থেই একটি স্বশাসিত, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া যায়, তবেই আমাদের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন তৃণমূল থেকে বাস্তবায়িত হবে।

আসুন, সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরাও ইউনিয়ন পরিষদের কাজে নজর রাখি এবং একে একটি আদর্শ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করি।

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় সাত লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় সাত লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: রবিবার (২৬ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ মাদরা ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার চান্দা হতে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার তলুইগাছা হতে ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাতক্ষীরায় নবনির্মিত কবরস্থানের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নবনির্মিত কবরস্থানের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদরের মাছখোলায় ফাতেমা দারুস সালাম কবরস্থানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) বিকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কবরস্থানটির উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-২ (সদর -দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শহরের মেয়র প্রার্থী প্রভাষক ওমর ফারুক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী শহিদ হাসান, ৯নং ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল ওয়ারেছ এবং সদর উপজেলা মিডিয়া বিভাগের সভাপতি আনিছুর রহমান।

আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান, জাকির হোসেন লস্কর শেলী, শোকর আলী, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য ডাঃ মিজানুর রহমান, নবজান, ঝুটিতলা বাজার কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এবং এলাকাবাসী।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মৃত মুসলমানদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ফাতেমা দারুস সালাম কবরস্থান ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে কবরস্থানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা কবরস্থানের সার্বিক উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানান।

একসময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন লস্কর শেলী সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি করে বলেন অত্রালাকার জনচলাচলল অনুপযোগী রাস্তা যাহাতে সংস্কার করা হয় তাহার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।
সংসদ সদস্য রাস্তা সংস্কারের আস্বাস দেন।

 

 

 

মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬

সংবাদদাতা: ঝাউডাঙ্গার মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও গ্রাহক মেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে, মোহনপুর আনছার ও ভিডিপি ক্লাব প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

“সঞ্চয় মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনকে সুরক্ষিত এবং ঋণমুক্ত রাখে” এই প্রতিপদ্দকে সামনে রেখে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খলিলুর রহমান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও সদর উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম। এছাড়াও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আখতারুজ্জামান বাপ্পি, ইউপি সদস্য সিদ্দিকুল ইসলাম প্রমুখ।

উক্ত অনুষ্ঠানে মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের নতুন কমিটির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় ও ক্লাবের সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহনপুর আনসার ভিডিপি ক্লাবের মোঃ কবিরুল ইসলাম।