রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নই হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নই হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; জাতীয় ইতিহাসের উপস্থাপন, রাষ্ট্রীয় স্মৃতিচর্চা এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বয়ান নিয়েও নতুন করে আলোচনা-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক পরিসর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠ্যপুস্তক ও জাতীয় স্মারকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও নাম ব্যবহারের পরিবর্তন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলি নতুনভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ জাতীয় ইতিহাসের ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।

একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি তার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা আকস্মিক রাজনৈতিক অর্জন নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ভাষা আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, স্বায়ত্তশাসনের দাবি, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ এই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। সেই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিহাসের স্বীকৃত অংশ।

তবে ইতিহাসের প্রতি সুবিচার করতে হলে কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি রাজনৈতিক দলের অবদানকে কেন্দ্র করে জাতীয় ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায় না। মুক্তিযুদ্ধ ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের পাশাপাশি তাজউদ্দীন আহমদের সংগঠক ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামসহ অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ইতিহাসের কোনো অধ্যায়কে অতিরঞ্জিত করা যেমন অনুচিত, তেমনি কোনো অধ্যায় বা ব্যক্তির অবদান ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করাও ইতিহাসের প্রতি অবিচার।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাসকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপনের প্রবণতা দেখা গেছে। অতীতের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পরিসরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক জাতীয় নেতার অবদান যথাযথ গুরুত্ব পায়নি—এমন অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। আবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এর বিপরীতমুখী প্রবণতা তৈরি হলে ইতিহাসের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে নতুন করে একপেশে বয়ান প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা দেখা দেয়। অথচ ইতিহাস কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি একটি জাতির সম্মিলিত উত্তরাধিকার।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ এই অভ্যুত্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগ, সাহস ও প্রত্যাশাকে রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন। তবে নতুন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়কে স্বীকৃতি দিতে গিয়ে পুরোনো কোনো অধ্যায়ের গুরুত্ব অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো কিংবা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ভিত্তিকে খাটো করা কোনোভাবেই জাতীয় স্বার্থের অনুকূল হতে পারে না।

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাকে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করতে হবে। একটির সঙ্গে অন্যটির সরল তুলনা না করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা জরুরি। ১৯৭১ আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। এই দুই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রচিন্তার পরিচয়।

এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ইতিহাসবিদ, গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবী সমাজের দায়িত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্যপুস্তক বা রাষ্ট্রীয় নথিতে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে তা রাজনৈতিক আবেগ কিংবা প্রতিশোধের ভিত্তিতে নয়, বরং গবেষণা, তথ্যপ্রমাণ ও ঐতিহাসিক সত্যের আলোকে করতে হবে। জাতীয় স্মারক ও রাষ্ট্রীয় প্রতীক নিয়েও এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা একটি পক্ষকে সম্মানিত করতে গিয়ে অন্য পক্ষের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ইতিহাসের কোনো পক্ষ নেওয়া নয়; বরং ইতিহাসের সত্যকে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ইতিহাসের ভিত্তি বারবার বদলে ফেলার প্রবণতা রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার জন্য শুভ নয়। ইতিহাসকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানানো হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে এবং জাতীয় ঐক্যের জায়গায় অবিশ্বাসের দেয়াল আরও দীর্ঘ হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাস কোনো একক ব্যক্তি, দল বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের রয়েছে নিজস্ব তাৎপর্য ও অবদান। তাই ১৯৭১ বনাম ২০২৪—এমন বিভাজন নয়; বরং ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ের সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নই হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।

(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। পত্রদূত অনলাইন এবং পত্রদূত- এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Ads small one

পাটকেলঘাটায় এলপিজির গাড়ি আটকে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলো বিএনপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় এলপিজির গাড়ি আটকে নির্ধারিত দামে বিক্রি করলো বিএনপি

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: পাটকেলঘাটায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪৪০ টাকা বেশি দরে ১২ কেজির বসুন্ধরা এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্যাসবাহী পিকআপ আটকে অতিরিক্ত দামে বিক্রি প্রতিহত করেন। পরে পিকআপে থাকা ১১০টি সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত ২ হাজার ৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

গত শনিবার দুপুরে পাটকেলঘাটা বাজারের দিনবন্ধু সাধুর দোকানে বসুন্ধরা এলপিজির পাঁচটি সিলিন্ডার বিক্রি করতে যান কলারোয়ার শিমুল স্টোরের বিক্রয় প্রতিনিধি রাজিব হোসেন। দোকানদারের কাছে প্রতি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

খবর পেয়ে সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল হক রাজু, সাধারণ সম্পাদক রকিব সরদার এবং পাটকেলঘাটা বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুল ইসলামসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। তাঁরা সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাসবাহী পিকআপটি আটকে দেন। পরে পিকআপে থাকা সিলিন্ডারগুলো নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়।

দোকানদার দিনবন্ধু সাধু বলেন, ডিলারের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস কিনলে খুচরা পর্যায়ে কত দামে বিক্রি করবেন, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। বেশি দামে কিনে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে চাননি বলেও জানান তিনি।

বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মকবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, শিমুল স্টোরের শহিদুল ইসলাম বলেন, চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। সম্প্রতি কিছু সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও সেগুলো বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এ কারণে তাঁদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল হক রাজু বলেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে গ্যাসের সংকট ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। গত শনিবার দুপুরে বসুন্ধরা গ্যাসের একটি গাড়ি বাজারে আসার পর সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০ টাকা বেশি নেওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে যান। পরে ১১০টি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও করেন তিনি।

আশাশুনিতে দুটি মাতিবিল খাল পুনঃখননের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে দুটি মাতিবিল খাল পুনঃখননের দাবি

বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খনন করা দুটি মাতিবিল খাল পুনঃখননের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজের সাতক্ষীরা জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নাজিরুল ইসলাম।

আবেদনে নাজিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, শোভনালী ইউনিয়নের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখালী ও বালিয়াপুর গ্রামের মাতিবিল নামের খাল দুটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এর মধ্যে ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক বাঁশখালী গ্রামের মাতিবিল খালটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খনন করা হয়েছিল। অপর খালটি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াপুর গ্রাম হয়ে ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মরিচ্চাপ নদীর সুইচগেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা খাল দুটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এগুলো দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়বে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে এলাকাবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

আবেদনকারীর দাবি, খাল দুটি পুনঃখনন করা হলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমি মাছ চাষ ও ধান আবাদের উপযোগী হবে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে শোভনালী ইউনিয়নসহ আশপাশের চারটির বেশি ইউনিয়নে সৃষ্ট বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হবে। এ অবস্থায় খাল দুটি পুনঃখননে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে সরকারি খাসজমি বণ্টন, বেদখল জমি উদ্ধার এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিতে সাতক্ষীরায় আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন জেলা শাখা।

গত শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম গাজী। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অ্যাডভোকেট খগেন্দ্রনাথ ঘোষ এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মো. আহম্মদ আলী।

সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা পৌর শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লাভলু, দপ্তর সম্পাদক মো. লাভলু, আব্দুল জব্বার, মনিরুজ্জামান মনি, মো. রাজু হোসেন, মো. রেজাউল ইসলাম ও মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহারসহ জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।

বক্তারা বলেন, সরকারি উদ্যোগে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য খাসজমি বরাদ্দ এবং ব্যারাক নির্মাণের কার্যক্রম চললেও অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার এখনো এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঁচ বিঘার বেশি খাসজমির নামে যেসব ডিসিআর দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বণ্টনের দাবি জানান তাঁরা।

সভায় বেদখলে থাকা সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ভূমিহীনদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এতে ভূমিহীনদের আবাসনের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বাড়বে।

এ ছাড়া খুলনা থেকে সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ সরকারি পরিকল্পনা ও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুত শেষ করার দাবি জানানো হয়। সড়কের দুই পাশে বসবাসকারী ভূমিহীন ও সাধারণ মানুষকে যথাযথ পুনর্বাসন, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর নিরাপদ আশ্রয় এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প বাজারের ব্যবস্থা করারও দাবি তোলেন বক্তারা।