রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কয়রায় ওষুধ ব্যবসায়ী ভবতোষ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এক, পাঠানো হলো কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় ওষুধ ব্যবসায়ী ভবতোষ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এক, পাঠানো হলো কারাগারে

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় ওষুধ ব্যবসায়ী ভবতোষ মৃধা (৪২) হত্যা মামলায় জলিল মোল্লা নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) তাকে কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সঞ্জয় পাল তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তার জলিল মোল্লা উপজেলার সাতহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গত ১৭ মে গভীর রাতে উপজেলার মধ্য মহেশ্বরীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ভবতোষ মৃধা। হামলায় তাঁর স্ত্রী বিভা মৃধাও গুরুতর আহত হন। দুর্বৃত্তরা মাটির ঘরের ভিটা কেটে ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভবতোষকে কুপিয়ে হত্যা করে। গত ১৯ মে রাতে নিহতের বোন বুলু রানী ম-ল বাদী হয়ে কয়রা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মৃত সবুর মোড়ল ও তাঁর ছেলে শামীম মোড়লের সঙ্গে ভবতোষ মৃধাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেনÑ “হত্যাকা-ের মাত্র দুই দিন আগে ভবতোষের ওষুধের দোকানে গিয়ে শামীম মোড়ল, ফেরদাউস গাজী, জলিল মোড়ল, ওসমান ও ওমর ফারুক তাঁকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। প্রতিবেশী জাহাঙ্গীরও ভবতোষকে এই আশঙ্কার বিষয়ে আগে সতর্ক করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে।”

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, “হত্যাকা-ের পেছনে পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

 

Ads small one

কলারোয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে গৃহহীনদের ঘর দিচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় নিজস্ব অর্থায়নে গৃহহীনদের ঘর দিচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবার

কলারোয়া প্রতিনিধি: মাথা গোঁজার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয়হীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবার। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অসহায় ও গৃহহীন মানুষের জন্য একের পর এক পাকা ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন তাঁরা।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ঝাঁপাঘাট গ্রামের শেখপাড়ায় নির্মিত এমনই একটি নতুন ঘর পরিদর্শনে যান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই নতুন ঘরটি পেয়েছেন নিঃসন্তান দম্পতি শেখ রবিউল ইসলাম (৫৫) ও ফরিদা বেগম (৪৫)। দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন রবিউল। নিজের সামান্য জমি থাকলেও ঘর তোলার সামর্থ্য ছিল না। ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারের পারিবারিক সহায়তায় তাঁদের সেই কষ্টের অবসান হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে তাঁরা পেয়েছেন বারান্দা, টয়লেট ও টিনের ছাউনিসহ একটি মজবুত পাকা ঘর।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রবিউল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন আমার জন্য পুরো ঘরটি তৈরি করে দিয়েছেন। আমার একটা টাকাও খরচ হয়নি। এখন অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমানোর একটা জায়গা হলো।”

জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের পরিবারের সদস্য ও শিল্পপতি ইমাম হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় ২০২৪ সাল থেকে হেলাতলা ইউনিয়নে এই পারিবারিক গৃহনির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়। এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৪ সালে ২টি এবং ২০২৫ সালে ৭টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে আরও ১০টি ঘর নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, কোনো সরকারি অনুদান বা প্রকল্পের ওপর নির্ভর না করে, সম্পূর্ণ পারিবারিক তহবিল থেকে এই ঘরগুলো তৈরি করা হচ্ছে। আর্থিক সংকটে যারা ঘর করতে পারছেন না, তাঁদের পুনর্বাসনই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের বিত্তবানরা এভাবে এগিয়ে এলে গৃহহীন মানুষের সংকট দ্রুত দূর করা সম্ভব।

 

 

পাটকেলঘাটায় পুলিশ কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় পুলিশ কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা পুলিশ পরিদর্শক মো. আজিজুল ইসলামের লাশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম ঘুরে অবশেষে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। রোববার দুপুর দুইটায় সরুলিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

মো. আজিজুল ইসলাম পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া গ্রামের আনোয়ার সরদারের ছেলে। তিনি সর্বশেষ চট্টগ্রামের লোহাগড়া থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ জুলাই তাঁর সরকারি বাসভবনে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে লোহাগড়া থানা পুলিশ তাঁর কোয়ার্টারে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আজিজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী তাহেরা বেগম ১২ বছর আগে মারা যান, যাঁর ঘরে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পরে তিনি রোজিনা নামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং তাঁদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। আজিজুলের মৃত্যুর পর পেনশন ও চাকুরিকালীন আর্থিক সুবিধা পাওয়া নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে এক ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী লাশ প্রথমে চট্টগ্রামে নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় লাশ পাটকেলঘাটার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী দুই স্ত্রীর সন্তানেরাই আইনি প্রক্রিয়ায় আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের বাউলডাঙ্গা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি নির্মাণাধীন দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একই এলাকার মো. মসলেম ঢালী, মো. রাজু, মোসলেম, আনারুল ও মোকারম ঢালীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, বল্লী মৌজার বিএআরএস খতিয়ান নম্বর ২১৪৭ ও বিএআরএস দাগ নম্বর ২১৬৭-এর অন্তর্ভুক্ত ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি পিটিশন মামলা (নং পি-৮২৫/২৬) বিচারাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা জোরপূর্বক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তাঁর নির্মাণাধীন দোকানঘরটি ভেঙে ফেলে। এতে তাঁর প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামীম হোসেন জানান, হামলাকারীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরটি ভেঙে দিয়েছে। বাউলডাঙ্গা জামে মসজিদের ইমামও জানান, এই জমি নিয়ে আগে একাধিকবার সালিশ হলেও বিবাদী পক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত মানেনি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।