শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বেত্রবতীর কাঠের সাঁকো ও জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বেত্রবতীর কাঠের সাঁকো ও জনদুর্ভোগ

পানির তীব্র স্রোতে কলারোয়া পৌর শহরের কাঁচাবাজার-সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ এখন একটিমাত্র খেয়া নৌকার ওপর ভরসা করে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ সর্বস্তরের সাধারণ পথচারী যেভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবল স্রোতের অজুহাত দেওয়া হলেও বর্তমানে নদীর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। স্রোত বা পানির চাপ কমে গেলেও কেন সাঁকোটি সাময়িকভাবে সচল করার কোনো তাগিদ দেখা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। খেয়া নৌকায় পারাপারের সময় সকাল ও বিকেলে যে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে, তা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এর ওপর দুই পাড়ে কোনো সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারাচ্ছন্ন নদীতে পারাপার হতে গিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম ঝুঁকি পোহাতে হচ্ছে।
এই কাঠের সাঁকোটি কলারোয়া কাঁচাবাজার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সাঁকোটি অচল থাকায় বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর। ফলে জনভোগান্তির পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থবিরতা।
প্রতি বর্ষায় এই সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করার এই চক্রাকার অবহেলা বন্ধ হওয়া দরকার। জনবহুল এই স্থানে এখন আর সাময়িক সংস্কার নয়, বরং একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণই সময়ের দাবি। আমরা আশা করি, কলারোয়ার হাজারো মানুষের প্রতিদিনের এই দুঃসহ ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Ads small one

আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ফাটল, দুই ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধে ফাটল, দুই ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দল ও খাজরা ইউনিয়নের সীমানার খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ফাটল ধরা অংশে নেমে দেখতে পান যে বাঁধের নিচের মাটি ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে বড়দল, দক্ষিণ বড়দল, পাঁচপোতা, বাইনতলা, খাজরা, লাউতাড়াসহ দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে। গত বছরও লোনা পানি ঢুকে প্রায় ১০ হাজার বিঘা জমির আমন চাষ ব্যাহত হয়েছিল।
সাতক্ষীরা পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) রাশিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনের দৃশ্য দেখে দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কলারোয়ায় শিশুকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় শিশুকে কুপিয়ে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টা, যুবক গ্রেপ্তার

মো. সিরাজুল ইসলাম: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় ১২ বছরের এক শিশুকে মাছ ধরার কথা বলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম করার পর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ওই শিশুর নাম মো. অরিদ হাসান। সে সিংগা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র এবং সিংগা গ্রামের খায়রুল জামানের ছেলে। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আবু হুরায়রা ওরফে রাসেল বাবু (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাসেল বাবু একই গ্রামের রকিবুজ্জামান লাল্টুর ছেলে। পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকে রক্তমাখা লুঙ্গি ও গেঞ্জি আলামত হিসেবে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাসেল বাবু মাছ ধরার কথা বলে অরিদকে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। বিকেল গড়িয়ে রাত হলেও অরিদ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরিদের চাচা মুনছুর আলী জানান, দুপুর দেড়টার দিকে তিনি অরিদকে গ্রামের ইজাজুল ডাক্তারের নির্মাণাধীন ভবনের পাশে দেখেছিলেন।
এই তথ্যের সূত্র ধরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অরিদের বাবা ও চাচাসহ স্বজনেরা ওই নির্মাণাধীন ভবনের পেছনে যান। সেখানে থাকা একটি অব্যবহৃত সেপটিক ট্যাংকের সামনে গিয়ে অরিদের নাম ধরে ডাকতে থাকলে ভেতর থেকে ক্ষীণ স্বরে অরিদের সাড়া পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ট্যাংকের ঢাকনা সরিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় অরিদকে উদ্ধার করা হয়।
স্বজনেরা প্রথমে অরিদকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অরিদ কিছুটা সুস্থ হয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাসেল বাবু তাকে ওই নির্মাণাধীন ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং প্লেসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা, কান ও ঘাড়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে অরিদ মারা গেছে ভেবে অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে তাকে ভবনের পেছনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর ফেলে ঢাকনা বন্ধ করে পালিয়ে যায় রাসেল বাবু।
এই ঘটনায় অরিদের বাবা মো. খায়রুল জামান বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কলারোয়া থানা-পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পর শনিবার (১৮ জুলাই) আসামি রাসেল বাবুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আশাশুনিতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে পুলিশি অভিযানে মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর নাম মহব্বত ঢালী (৫৪)। তিনি বড়দল গ্রামের মৃত আমজেদ ঢালীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আশাশুনি থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া মহব্বত ঢালীর বিরুদ্ধে ১৫০/২৫ নম্বর মামলার পরোয়ানা ছিল। শনিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।