মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে তোহা বাজার রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে তোহা বাজার রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরে তোহা বাজারের জায়গা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ জায়গা ব্যক্তিস্বার্থে বন্দোবস্ত না দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তোহা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপজেলার কৃষ্ণনগর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২০৬৮ দাগের পেরিফেরিভুক্ত জায়গাটি কয়েক যুগ ধরে তোহা বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একসময় সেখানে মাছের বাজার ছিল। পরে মাছের বাজারটি স্থানান্তরিত হলে প্রায় দুই থেকে তিন যুগ ধরে ক্ষুদ্র চাল ও মাংস ব্যবসায়ীরা জায়গাটি ব্যবহার করে আসছেন। বর্তমানে সেখানে কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চালসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা করছেন।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জায়গাটির ব্যবহার ও স্থাপনা সম্পর্কে বন্দোবস্তের বিবরণে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার অসঙ্গতি রয়েছে। সম্প্রতি জায়গাটি ব্যক্তি নামে বন্দোবস্তের আবেদন ও ভূমি অফিসের সুপারিশের বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পেরিফেরিভুক্তির তথ্য ও সরেজমিন পরিস্থিতি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, বাজারের জায়গাটিতে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত লোহার ফ্রেমযুক্ত টিনশেডের ছাউনি ছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১০ মে রাতে একটি গোষ্ঠী ছাউনিটি অপসারণ করে জায়গাটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে সে চেষ্টা সফল হয়নি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখানে কয়েকটি পিলার স্থাপন করা হয়। তবে অপসারিত লোহার ফ্রেম ও টিনশেডের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানেন না বলে জানান। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে তৌফিকুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী সাইমা পারভীনও বক্তব্য দেন। তাঁদের দাবি, কৃষ্ণনগর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২০৬৬ দাগে তাঁদের নামে বরাদ্দ করা একটি কসমেটিকসের দোকান ও একটি কাঁচামালের আড়তকে সেমিপাকা কাপড়ের দোকান হিসেবে দেখিয়ে উপজেলার শংকরপুর গ্রামের মৃত জিয়াদ আলী কাগুজির ছেলে ইদ্রিস আলী কাগুজী ও বেনাদনা গ্রামের আব্বাস ঢালীর ছেলে খোকন ঢালী বন্দোবস্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
ভূমি অফিসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২০৬৮ দাগের তোহা বাজার হিসেবে পরিচিত জায়গাটিতে সেমিপাকা কাপড়ের দোকান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ থেকে জায়গাটি ব্যবহার করার তথ্যের সঙ্গে শংকরপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী কাগুজীর দুই ছেলে আনোয়ারুল ও এমদাদুল, মেয়ে মোছা. আয়েশা খাতুন এবং কৃষ্ণনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের ছেলে মোহাম্মদ শাহিনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
‘কৃষ্ণনগরের তোহা বাজার রক্ষা ও উন্নয়ন চাই’ স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার ইব্রাহিম বাহারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল আজিজ গাইন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, তৌফিকুজ্জামান, সাইমা পারভীন, ব্যবসায়ী আসফারুকুজ্জামান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজিজ ও খাদেমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

মানববন্ধন থেকে তোহা বাজারের জায়গা সংরক্ষণ, বিতর্কিত বন্দোবস্ত কার্যক্রম স্থগিত, সংশ্লিষ্ট নথি ও ভূমি অফিসের প্রতিবেদন তদন্ত এবং বাজারটি পুনরায় উন্নয়ন করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জি, এম ফয়েজ আহমেদ বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Ads small one

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ ৬ দিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ ৬ দিন

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন কার্যক্রম ছয় দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। নিবন্ধন সংক্রান্ত সফটওয়্যার বিডিআরআইএস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে এ কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, দুঃখ প্রকাশ করলেন মাহমুদউল্লাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, দুঃখ প্রকাশ করলেন মাহমুদউল্লাহ

একটি ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জমজম ব্রাদার্সের একটি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের প্রচারে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন, প্রকল্পটি সম্পর্কে আগে থেকে তার কোনো ধারণা ছিল না। এর সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্কও নেই।

বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহর অনুরোধে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিয়েছে জমজম ব্রাদার্স। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা বিভ্রান্ত হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের জাতীয় দলের এক সাবেক ক্রিকেটার ভানুয়াতু নামের দ্বীপ রাষ্ট্রের নাগরিকত্বে বিনিয়োগ করা প্রমোট করছেন। এ ধরনের বিনিয়োগের অর্থ বিদেশে পাঠানোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেছেন, এ ধরনের নাগরিকত্বে বিনিয়োগের জন্যে যে অর্থ প্রয়োজন তা বাংলাদেশ হতে বিদেশে প্রেরণের কোন আইনি উপায় নেই। পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহর মতো পরিচিত একজন ক্রিকেটারের এমন প্রচারে যুক্ত থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সায়েরের পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বাড়ে। এর মধ্যেই জমজম ব্রাদার্সকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান মাহমুদউল্লাহ। তার অনুরোধের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

তার পর মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই অধিনায়ক। মাহমুদউল্লাহ জানান, শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমজম ব্রাদার্সের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির আমন্ত্রণে অফিসে গেলে তাদের নতুন একটি ব্যবসায়িক প্রকল্পের প্রচারের জন্য ভিডিও করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

মাহমুদউল্লাহ লিখেছেন, ‘সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। কিছুদিন আগে শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জমজম ব্রাদার্সের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। তাদের আমন্ত্রণে একদিন তাদের অফিসে গেলে, তারা তাদের একটি নতুন ব্যবসায়িক প্রকল্পের বিষয়ে ভিডিও করার অনুরোধ জানান। তবে প্রকল্পটি সম্পর্কে আমার আগে থেকে কোনো ধারণা ছিল না এবং এর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাও নেই।’

ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন মাহমুদউল্লাহ। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা বিভ্রান্ত হয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার পুরো ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সব সময় বিতর্ক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। অনিচ্ছাকৃত এই ঘটনায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে কিংবা কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়ে থাকলে, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে মাহমুদউল্লাহ লিখেছেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব, ইনশাআল্লাহ। সবার ভালোবাসা, সমর্থন ও বোঝাপড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।’

ইতিহাস গড়া নারী কাবাডি দল পেলো অর্থপুরস্কার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
ইতিহাস গড়া নারী কাবাডি দল পেলো অর্থপুরস্কার

এশিয়ান বিচ গেমসে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ও অর্থপুরস্কার দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে।

ষষ্ঠ এশিয়ান বিচ গেমসে নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ পদক জেতে বাংলাদেশ। দলের এই অর্জন উদযাপন ও খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিওএ। সেখানে খেলোয়াড়দের হাতে সম্মাননা ও অর্থপুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. জোবায়েদুর রহমান রানা, বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসরাইল হাওলাদার এবং যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন।

এশিয়ান বিচ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। নারী কাবাডি দলের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে পদক জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যয়ও রয়েছে নারী কাবাডি দলের।