রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

কৌতূহলই হতে পারে উদ্ভাবনের চাবিকাঠি: এমব্রেস ইয়োর গীকনেস ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
কৌতূহলই হতে পারে উদ্ভাবনের চাবিকাঠি: এমব্রেস ইয়োর গীকনেস ডে

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ১৩ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘এমব্রেস ইয়োর গীকনেস ডে’। এটি কোনো রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; বরং মার্কিন দম্পতি, টমাস রয় ও রুথ রয়ের প্রতিষ্ঠিত একটি সাংস্কৃতিক উদ্যোগ। মানুষের তথাকথিত “অদ্ভুত” বা অত্যন্ত বিশেষায়িত শখ, গভীর আগ্রহ এবং জ্ঞানচর্চাকে কোনো রকম লোকলজ্জা ছাড়াই গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করার সুযোগ করে দিতেই দিবসটির সূচনা করা হয়।

‘গীক’ শব্দটির ইতিহাসও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় ইংরেজি ভাষায় এটি অদ্ভুত, বিচিত্র বা সামাজিকভাবে অপ্রচলিত ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হতো। এমনকি উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কিছু ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী ও সার্কাসের সঙ্গে শব্দটির সম্পর্ক ছিল। তবে তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শব্দটি তার নেতিবাচক অর্থ হারিয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও গভীর আগ্রহের ইতিবাচক পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।

মানবসভ্যতার ইতিহাস গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, পৃথিবীর প্রতিটি বড় পরিবর্তনের সূচনায় ছিল একটি প্রশ্ন, একটি কৌতূহল কিংবা কোনো বিষয়কে গভীরভাবে জানার অদম্য আকাক্সক্ষা। মানুষ আকাশের নক্ষত্রের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে, প্রকৃতির নিয়ম বুঝতে চেয়েছে এবং সমুদ্রের অজানা জগৎ অনুসন্ধান করেছে। চাকা থেকে কম্পিউটার, মুদ্রণযন্ত্র থেকে মহাকাশযান, বিদ্যুৎ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাÑপ্রতিটি আবিষ্কারের পেছনেই ছিল কিছু মানুষের অসাধারণ আগ্রহ ও নিরলস অনুসন্ধান। এমব্রেস ইয়োর গীকনেস ডে সেই মানবিক বৈশিষ্ট্যেরই প্রতীক, যা মানুষকে জ্ঞানস্রষ্টা ও উদ্ভাবকে পরিণত করে।

ইসলামের দৃষ্টিতেও জ্ঞানচর্চা ও চিন্তাশীলতা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কুরআনের প্রথম ওহি ছিল ‘পড়’। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?” (সূরা আয-যুমার: ৯)। হাদিসে এসেছে, “জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।” (সুনান ইবনে মাজাহ)। তাই কোনো উপকারী বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন, গবেষণা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি ইসলামের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয়। কুরআন মানুষকে সৃষ্টিজগত, প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান জানায়। তবে ইসলাম একই সঙ্গে ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়; জ্ঞানচর্চা এমন হওয়া উচিত, যা মানুষকে নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবকল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে বরং আরও সমৃদ্ধ করে।

ইসলামের এই জ্ঞানতাত্ত্বিক দর্শনের সঙ্গে মিল রেখেই বর্তমানের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বও আজ কৌতূহলী মেধাবীদের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান বিশ্বের বহু বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, সফটওয়্যার নির্মাতা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে কোনো না কোনো বিষয়ে গভীর আগ্রহ ও অনুসন্ধিৎসা, যা একসময় ‘গীক’ বৈশিষ্ট্য হিসেবেই বিবেচিত হতো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জৈবপ্রযুক্তি এবং রোবোটিক্সের এই যুগে কৌতূহলী ও সৃজনশীল মানুষই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও বিজ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তিশিক্ষা এবং উদ্ভাবনী কর্মকা-ে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। যে সমাজ প্রশ্ন করতে শেখে এবং গবেষণাকে সম্মান করে, সেই সমাজই দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যায়।

এমব্রেস ইয়োর গীকনেস ডে নিছক কোনো মজার দিবস নয়; এটি মানুষের জ্ঞানান্বেষী মনন, সৃজনশীল প্রতিভা এবং স্বকীয় পরিচয়ের প্রতি এক আন্তরিক সম্মানজ্ঞাপন। আসুন, আমরা আমাদের কৌতূহল ও আগ্রহকে কেবল ব্যক্তিগত শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও মানবকল্যাণের শক্তিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করি।

Ads small one

পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছা লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শনে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত লোনাপানি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র। গত ১০ ও ১১ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই টানা দুদিন তিনি কেন্দ্রের চলমান বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক কেন্দ্রের সামগ্রিক গবেষণার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি গবেষণার মানোন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
লোনাপানি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কেন্দ্রপ্রধান ড. আজহার আলীর তত্ত্বাবধানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম সাজেদ রিয়ার, শফিকুল আলম রুবেল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা ও সায়মা সুলতানা সোননিয়াসহ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

 

কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে অজ্ঞান পার্টির কবলে একই পরিবারের তিনজন

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে অজ্ঞান করা হয়েছে। তবে পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি বুঝতে পারায় ক্ষয়ক্ষতির কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উপজেলার কুশলিয়া গ্রামের মৃত এছাক সরদারের স্ত্রী মাছাঃ রিজিয়া খাতুন (৪৫) জানান, ৯ জুলাই দিবাগত রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের রান্নাঘরে গোপনে প্রবেশ করে রাতের খাবারের সাথে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে দেয়। তিনি এবং পরিবারের অপর ৪ সদস্য রাত ১১টার দিকে ওই খাবার খান। এতে ৩জন তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান হারান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার মেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগে তিনি আরও জানান, ১১জুলাই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও তারা এখনও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারেননি। এ ছাড়া ঘটনার পর থেকে পরিবারের সবাই আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
তালায় ৯ বছরেন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

‎তালা প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউেিয়নের মহন্দী পূর্বপাড়া গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
‎জানাগেছে, রোববার দুপুরে ওই শিশুটি রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় মহন্দী পূর্বপাড়ার মৃত হোসেন মোল্লার ছেলে জাকির মোল্লা বাবু (৩৫) শিশুটিকে কৌশলে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টা করলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে জাকির মোল্লা বাবু পালিয়ে যায়।
‎এব্যপারে তালা থানার ওসি (তদন্ত) শাখাওয়াত হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিশুটির হাত ধরে টানছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
‎এদিকে ঘটনার পর থেকে জাকির মোল্লা তার ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎এদিকে, এ ঘটনায় থানায় মামলা বন্ধ রেখে বিষয়টি আপোষ মিমাংসার জন্য এলাকার একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।