রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

যশোরের আদর্শ গ্রাম ভায়না-ফতেপুর: আত্মউন্নয়নে ব্রতী একটি গণগবেষণা পরিবারের কথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
যশোরের আদর্শ গ্রাম ভায়না-ফতেপুর: আত্মউন্নয়নে ব্রতী একটি গণগবেষণা পরিবারের কথা

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর

রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবনে যা কিছু উপকারী, উপাদেয় বা ভাল বলে স্বীকৃত, স্বভাবতই মানুষ তা গ্রহণ করে এবং ধরে রাখে। কেউ কেউ আদর্শিক এহেন উপাদান/উপাদানসমূহকে পরিচিত মহলে ছড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে থাকেন; ঘনিষ্টজনকে উৎসাহিত করেন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি অনুশীলনের মাধ্যমে সজীব রাখার জন্য, শাণিত করার জন্য। আমাদের সভ্যতা এভাবেই এগিয়ে চলছে। মানুষের বিশেষত গুণীজনের আচরণ, বই-পুস্তক, সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, প্রথাচার, আইন পভৃতির উৎপত্তি ও বিকাশ এভাবেই সম্ভব হয়েছিল। আবার, সর্বসাধারণের আচরণ ও প্রবণতা তথা করণীয়-বর্জনীয় নির্ধারণে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চিন্তাচেতনার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাইতো বলা হয়ে থাকে যে, মানুষই সামাজিক সংগঠন ও পরিবর্তনের আসল কারিগর।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা যশোরের সদর উপজেলার ১২নং ফতেপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ভায়না-ফতেপুর। এই গ্রামে তিন শতাধিক কায়পুত্র বা কাওড়া পরিবারের বসবাস, যাদেরকে শূকরচাষী বলেই এলাকাবাসী চিনে থাাকেন। ভূমিহীনতা, দারিদ্র্যসহ সামাজিক অনগ্রসরতার অনেক উপাদানেরই সরব উপ¯ি’তি ছিল এই গ্রামে। গ্রামের ভেতরে ও বাইরে সর্বত্রই ছিল অনুন্নয়নের ছবি।

২০১৩ সালে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) নামক একটি সং¯’া এই গ্রামে তাদের কর্মকা- শুরু করে। অবশ্য রিইব এই গ্রামে স্বল্পমেয়াদে প্রাথমিক কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল ২০০২ সালে। রিইব-এর কর্মকা-ের মূল পদ্ধতি হলো গণগবেষণা, যেখানে জনগোষ্ঠীর সদস্যরাই গবেষকের ভূমিকা পালন করেন। তারা নিজেরাই প্রাথমিকভাবে তাদের আপন সমাজে বা গ্রামে বিরাজমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানের উপায় অনুসন্ধান করেন। এ প্রসঙ্গে গণগবেষণার প্রকৃতি নিয়ে একটু ধারণা প্রদান করতে চাই।

মানুষের সমাজ সর্বদাই সমস্যাসঙ্কুল। সমাজের প্রকৃতি যেমনই হোক, কোন না কোন সমস্যা সমাজে আছেই বা থাকবেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও নানা ধরনের সমস্যার মোকাবেলা করেই টিকে থাকতে হয়। সমস্যা নেই, এমন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া যাবে না- এমন সিদ্ধান্তে হয়ত কারো দ্বিমত থাকবে না। অবশ্য সমস্যা সম্পর্কিত উপলব্ধি সকলের সমান নয়। একই এলাকা বা জনগোষ্ঠীর সদস্য হয়েও কোন নির্দিষ্ট সমস্যা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাখ্যা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

 

ধরুন, কোন একটি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, নারীরা দূরবর্তী কোন স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করেন। নিত্যদিনকার কাজ মনে করে হয়ত সকলেই এতে অভ্যস্ত’ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু কোন একজন নারীর মনে এ প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমাদের পাড়ায় নলকূপ নেই কেন? কি করলে একটি নলকূপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে? তার মানে, এই নারী পানির অব্যবস্থাকে সমস্যা হিসেবে ধরতে পেরেছেন। তিনি যখন এই বিষয়টি অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করবেন তখন দেখা যাবে সকলেই হ্যা, হ্যা করছেন। হয়ত নলকূপের ব্যবস্থা করার/হওয়ার বিষয়টি সহসাই সমাধানের পথে আসবে না। কিন্তু এই যে কি, কেন, কখন, কিভাবে ইত্যাকার প্রশ্ন তাদের মানসলোকে উৎপন্ন হলো, তা তাদেরকে এক সময় কাক্সিক্ষত বস্তু পাইয়ে দিতে পারে, যদি সকলেই সমস্যা ও এর সমাধানের উপায় নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তা করে চেষ্টা চালিয়ে যান।

কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনে বা সমস্যার সমাধানে সুশৃঙ্খল ধারা বা পদ্ধতির আশ্রয়ে বহু মানুষের সমন্বয়ে আযোজিত ও পরিচালিত উদ্যোগই গণগবেষণা। ড. শামসুল বারি গণগবেষণার প্রকৃতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বলেন, “গণগবেষণা হচ্ছে অনেক মানুষের একত্র হয়ে কোন বিষয় বা পরিস্থিতি সম্বন্ধে আলাপ-আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে সত্যের অনুসন্ধান করা এবং এগিয়ে যাবার পথ নির্ণয় করে উদ্যোগ নেওয়া। গণগবেষণার মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে জনগণ সমষ্টি বা গোষ্ঠী হিসেবে তাদের জীবনযাত্রা, তাদের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ, তাদের দারিদ্র্যের কারণ ও তা থেকে পরিত্রাণের পথ ইত্যাদি বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে, দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য তাদের নিজেদেরই কি কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ, সে ব্যাপারে গোষ্ঠীবদ্ধ ও একক সিদ্ধান্ত নেয়।”

গণগবেষণা সাধারণত ব্যক্তিমানসের চিন্তা থেকে উৎসারিত হলেও এর লক্ষ্য সামষ্টিক- দশজনকে ঘিরে। কোন সমাজে বিরাজমান সমস্যাসহ সকল বাস্তবতা ঐ সমাজের সকল সদস্যকে স্পর্শ করে; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির চিন্তায় প্রথমে এটি সমস্যা কিংবা করণীয় হিসেবে ধরা পড়ে এবং ঐ ব্যক্তির মাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়ে ক্রমশ সমাজে বসবাসরত লোকজনের চিন্তায় বিস্তার লাভ করে। সকলের আলোচনা, সমালোচনা ও মতামত হতে সৃষ্ট ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমস্যার সুষ্টু সমাধানের প্রচেষ্টা করা হয়। ব্যক্তি যখন কষ্ট করে নিজের পায়ে দাঁড়ান, অথবা যৌথ কোন কাজ যখন ভালভাবে চলে, তখন পুরো জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটা ইতিবাচক সহায়ক মনোভাব তৈরী হয়। আমরা এক্ষেত্রে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাওড়ের ওপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটির কথা দৃষ্টান্ত হিসেবে উপ¯’াপন করতে পারি। একজন ব্যক্তির চিন্তা থেকে উৎসারিত হয়ে যেভাবে পুরো এলাকার মানুষের সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হলো এবং বাইরের কোন সাহায্য বা সহযোগিতা ছাড়্ইা যেভাবে এই অসাধ্য সাধিত হলো, তা নিশ্চয়ই আত্মানির্ভরতা অর্জনে আগ্রহী সকল মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাবে যুগ যুগ ধরে।

ভায়না-ফতেপুর গ্রামের কায়পুত্র জনগোষ্ঠীর লোকজনের সাথে কথা বললে গণগবেষণার প্রতি তাদের আন্তরিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। এক দশকের অধিক সময়ের প্রচেষ্টায় কোনো কোনো পরিবারের তিন প্রজন্ম গণগবেষণঅ দলের সদস্য হয়েছেন, যারা সম্মিলিতভাবে গ্রামের সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা বৈঠক পরিচালনা করে চলেছেন। এখন এমনই একটি পরিবার নিয়ে কথা বলতে চাই।

শ্বাশুড়ী আঙ্গুরবালা ম-ল, পুত্রবধু সঞ্জিতা ম-ল ও নাতনী সেঁজুতি ম-ল তিনজনাই গ্রামের গণগবেষণা দলের সক্রিয় সদস্য। আঙ্গুরবালা (৬৫, তার স্বামীর নাম মনোরঞ্জন ম-ল) কেন গণগবেষণায় এতটা আন্তরিক হয়ে উঠলেন, এমন প্রশ্ন্রে জবাবে বলেন, প্রথমে গণগবেষণা বিষয়টিকে ততটা দরকারি বলে মনে হয়নি। আমরা এসব সং¯’া বলতে সমিতিকে বুঝি, লেনদেনকে বুঝি। রিইব যখন বললো যে তারা কোন কিছু দেবেও না আবার নেবেও না; শুধু তথ্য আদান-প্রদান করবে, তখন আমরা আগ্রহী হতে পারিনি। পরে গ্রামের মাসিক বৈঠক এবং শহরে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সভায় অংশগ্রহণ করে ধীরে ধীরে বুঝতে পারি যে, রিইব আমাদেরকে আসল বিষয়গুলোই দিতে এসেছে। আমরা যা জানতাম না, কোনোজায়গায় গিয়ে কথা বলার সাহস হত না, রিইব সেগুলোই আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছে। আঙ্গুরবালা তুলে ধরেন তাদের সমাজে বিয়ের বয়সের পরিস্থিতি। তার বর্ণনায়, এক সময় ছিল যখন বাল্যবিয়ে আর সঠিক বয়সের বিয়ে বলে কোন ধারণাই সমাজে প্রচলিত ছিল না। বাল্যবিয়ে এখনও হয়, তবে বয়সের দিকটা বিবেচনায় এসেছে; ফলে বাল্যবিয়ের পরিমাণ অনেক কমে এসেছে।

গ্রামের অধিকাংশ সভা বা আলোচনা বৈঠক তাদের উঠানেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরিবারের ছোট-বড় সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এসব আয়োজনে শ্রম ও মেধা নিয়োগ করেন। সম্প্রতি এক সভায় সঞ্জিতা রাণীর কর্মব্যস্ততা দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছিলাম। গ্রামবাসীর অনুষ্ঠান কিš‘ তার ব্যস্ততা দেখে মনে হয়েছিল যেন এটি তার পারিবারিক কর্মসূচি। কলেজে অধ্যয়নরত মেয়ে সেঁজুতি বললো, গণগবেষণা আমি সব সময় ধরে রাখবো, জীবনে যখন যে কাজে থাকি, চেষ্টা করবো গণগবেষণার মাধ্যমে সকলকে নিয়ে সকলের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার। সেঁজুতির বাবা শ্রীকান্ত ম-লও এ ব্যাপারে অত্যন্ত মনোয্গোী।

বলা আবশ্যক যে, এই গ্রামে গণগবেষণার কাজ শুরু হয় লিলি রাণী বিশ্বাসের হাত ধরে। বর্তমানে তার সুযোগ্যা মেয়ে মিনা রাণী বিশ্বাস অতি যতœ সহকারে গ্রামে আত্ম উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করছে। মিনা এই এলাকার একমাত্র শিক্ষার্থী যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে কৃতিত্বের সাথে।

বছর তিনেক আগে যশোরের সদাশয় জেলা প্রশাসক এই গ্রামটিকে ‘আদর্শ গ্রাম’ বলে ঘোষণা প্রদান করেছেন। গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ, কাজের প্রতি আগ্রহ ও আন্তরিকতা সর্বোপরি গোটা সমাজকে নিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা তিনি গ্রামবাসীর আচরণে প্রত্যক্ষ করেন, তাতেই হয়ত এমন সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। তিনি সেবা প্রদানকারি সংস্থাসমূহকে নির্দেশ দিয়েছেন, উন্নয়নের লক্ষ্যে আসা যেকোন অনুদান বা সহযোগিতা প্রথমেই যেন এই গ্রামে বিতরণ করা হয়। সে সেবাটুকু আজ গ্রামবাসী অত্যন্ত গর্বের সাথে উপভোগ করছেন। বর্তমানে গ্রামের সেই চিরাচরিত চেহারা আর নেই। আত্ম উন্নয়নে তাদের এহেন যাত্রা আােও বেগবান হোক, এটিই প্রত্যাশা।

লেখক: মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক

 

Ads small one

কলারোয়ায় যুবদলের উদ্যোগে কিশোরদের মাঝে ফুটবল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় যুবদলের উদ্যোগে কিশোরদের মাঝে ফুটবল বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’Ñএই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ৭ নম্বর চন্দনপুর ইউনিয়নে কিশোর ও যুবকদের মাঝে ফুটবল বিতরণ করা হয়েছে। যুবসমাজকে মাদক ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদনে উদ্বুদ্ধ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রোববার সকালে চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া বাজার সংলগ্ন চৌধুরীপাড়া এলাকায় স্থানীয় কিশোর ও যুবকদের হাতে ফুটবল তুলে দেন চন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গাজী শফিউল আলম শফি।
ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় তরুণ ও কিশোররা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এলাকার সচেতন মহলের মতে, মাঠে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ থাকলে তরুণদের পথভ্রষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই উদ্যোগের ফলে এলাকায় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং খেলাধুলার প্রতি যুবসমাজের আগ্রহ বাড়বে।

কালিগঞ্জ থানার পরিত্যক্ত ভবন ভাঙতে গিয়ে ককটেল বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জ থানার পরিত্যক্ত ভবন ভাঙতে গিয়ে ককটেল বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক আহত

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার কাজ চলাকালে মাটির নিচে থাকা একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। রবিবার (১২ জুলাই) বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকরা জানান, কয়েকদিন যাবত থানার পুরাতন ভবন ভাঙার করছেন শ্রমিকরা। রবিবার থানা চত্ত্বরে কোদালের সাহায্যে মাটি সরানোর সময় উপজেলার বাজারগ্রাম এলাকার গফফার মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪২) এর কোদালের আঘাতে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় বাজারগ্রাম এলাকার কামরুল হাসান (৩০) নামে আরও এক শ্রমিক আহত হন।
ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে পুলিশ ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে যেয়ে আহত দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ককটেলটি দীর্ঘদিন ধরে ভবনের ফ্লোরের পাশে মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাতক্ষীরা সিলভার জুবিলি মডেল স্কুলের বড় সাফল্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাতক্ষীরা সিলভার জুবিলি মডেল স্কুলের বড় সাফল্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে সাতক্ষীরা সিলভার জুবিলি মডেল স্কুল। এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৪ জনই বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) এবং ৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। পাসের হার ও মেধার ভিত্তিতে এই ফলাফলকে বিদ্যালয়টির অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের এই অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সভাপতি। তিনি বলেন, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের গভীর অধ্যাবসায় এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতার কারণেই এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন সম্ভব হয়েছে। সাফল্যের এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা আগামীতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।