বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খোলা কলাম: অসহায় মানুষের নির্ভরতার ঠিকানা লিগ্যাল এইড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
খোলা কলাম: অসহায় মানুষের নির্ভরতার ঠিকানা লিগ্যাল এইড

গাজী হাবিব
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সবার জন্য আইনের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো – অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সামাজিক প্রভাব এবং নানা প্রতিকূলতার কারণে দেশের অসংখ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পরিচালিত লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আজ অসহায় মানুষের জন্য এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ২০০০ সালে “আইনগত সহায়তা প্রদান আইন” পাসের মাধ্যমে এবং ২০০১ সালে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তবে কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে ২০০৯ সালে পুনর্গঠনের পর। জেলা পর্যায়ে অফিস স্থাপন, স্থানীয় কমিটি গঠন এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রম চালুর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সেবা সম্পর্কে জানার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই অগ্রগতির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। ২০০৯ সালে যেখানে মাত্র ৯ হাজার ১৬০ জন মানুষ এই সেবা গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজারেরও বেশি। সময়ের ধারাবাহিকতায় এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জনে পৌঁছেছে। শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, এই তথ্য প্রমাণ করে – আইনগত সহায়তা এখন মানুষের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমাজে নারীর অধিকার সচেতনতার ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের আওতায় শুধু মামলা পরিচালনাই নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ, মামলা দায়ের ও পরিচালনা, আইনজীবী নিয়োগ, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি (অউজ), আদালতের খরচ বহন, ডিএনএ পরীক্ষার ব্যয় প্রদান, রায়ের অনুলিপি সরবরাহসহ আরও নানা সেবা। ফলে একজন দরিদ্র মানুষ শুধু মামলা করার সুযোগই পাচ্ছেন না, বরং পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘেœ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তাও পাচ্ছেন।
এই কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সহজপ্রাপ্যতা ও প্রযুক্তিনির্ভরতা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ১৬৬৯৯ নম্বরে ফোন করে আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা যায়। এছাড়া ‘বিডি লিগ্যাল এইড’ অ্যাপ চালুর মাধ্যমে অনলাইনেও সেবা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে এই সুবিধা নিতে পারছেন। ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।
লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের প্রভাব বিচার ব্যবস্থায়ও দৃশ্যমান। মামলার নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৯ সালে যেখানে মাত্র ৩ হাজার ৫২৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫৫-এ। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি মামলা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতেও সহায়তা করছে।
কারা এই সেবা পাওয়ার যোগ্য- এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ। লিগ্যাল এইড মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন, নির্যাতিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত হলেও, আইনগত তথ্য ও পরামর্শ সেবা যে কেউ গ্রহণ করতে পারেন। বিশেষভাবে সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- দরিদ্র নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত নাগরিক, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, এসিডদগ্ধ নারী-শিশু, স্বামী পরিত্যক্তা বা বিধবা নারী, বিনা বিচারে আটক অসচ্ছল ব্যক্তি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ। অর্থাৎ, সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে আইনের সুরক্ষার আওতায় আনার জন্যই এই উদ্যোগ।
সাতক্ষীরা জেলায় লিগ্যাল এইড তার কার্যক্রম চলমান রেখেছে প্রায় শুরু থেকেই। তবে দেশের সামগ্রীক অবস্থানে এ জেলার অনেক মানুষ এখনো জানে না লিগ্যাল এইড কি? শুরুর দিকে এ সংখ্যা একেবারে শূণ্যের কাছাকাছি থাকলেও উপকূলীয় জেলা হিসেবে এখানে অনেক এনজিও সরকারের এই সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় কিছুটা হলেও পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। তবে তার পরিমান এ জেলার মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের কাছাকাছি হবে।
এ জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সব থেকে নাজুক অবস্থানে আছে- উপকূলীয় তিন উপজেলা। যে এলাকার মানুষ প্রতি পদে পদে প্রভাবশালীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়। আর এ নির্যাতন তালিকায় দীর্ঘ সারিতে অসহায় নারীরা সবথেকে বড় স্থান দখল করে আছে। লিগ্যাল এইড সম্পর্কিত যে কোন ধরনের বিষয়ে প্রচার-প্রসারে এ অবস্থান থেকে আরো বেশি মানুষকে সরকারী সহায়তার আওতায় আনা সম্ভব।
এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার একা নয়; আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং ইউকেএআইডি শুরু থেকেই সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে, যা এই উদ্যোগকে আরও কার্যকর করেছে।
তবে সব সাফল্যের মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এখনও অনেক মানুষ এই সেবার বিষয়ে অবগত নন। গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়ন, দ্রুততা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা বাড়ানোও জরুরি। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে তাদের মাধ্যমে যদি ইউনিয়নের প্রতিটা ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে আলোচনা সভার আয়োজন করে অসহায় মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব।
লিগ্যাল এইড অসহায় মানুষের ন্যায়বিচারের পথে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন। রাষ্ট্র চাইলে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের পাশেও দাঁড়াতে পারে। একসময় যে মানুষগুলো বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, আজ তারা জানে- আইন তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। আর এই বিশ্বাসই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি। লেখক: সাংবাদিক ও অধিকার কর্মী। লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. আরিফ হাসানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আরিফ হাসান চাকলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সানার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হাসান প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে একা একটি নৌকা নিয়ে কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁর নৌকার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি নৌকা থেকে ছিটকে নদে পড়ে নিখোঁজ হন এবং নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে, স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে পারলেও আরিফের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা নদে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাটের পাশে নদে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আরিফ হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে চিলতে ওই গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও সহজ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে দেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকেরা ঘরে বসেই অনায়াসে রিচার্জ করতে পারবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারবেন। কিন্তু সাতক্ষীরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রিপেইড মিটারের বর্তমান চিত্রটি ঠিক এর উল্টো। গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পেরে শত শত গ্রাহককে তীব্র গরমের মধ্যে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সেবা সহজ করার আধুনিক এই মাধ্যমটি এখন গ্রাহকদের জন্য নতুন ভোগান্তি, এমনকি কারও কারও ভাষায় ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকার ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী, পুরুষ, প্রবীণ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমছে। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। একদিকে ডিজিটাল রিচার্জ ব্যবস্থা অচল, অন্যদিকে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য কাউন্টার সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে মাত্র একটি বা দুটি কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দিনমজুর থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষকেও। যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেখানে সেবার নামে এমন এনালগ ও কষ্টদায়ক ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা সচল রাখতে কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা কর্তৃপক্ষের প্রথম দায়িত্ব ছিল। অথচ এক মাস ধরে এই সংকট চললেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা সাময়িক উপশম মাত্র, স্থায়ী সমাধান নয়।
আমরা মনে করি, আধুনিক সেবার মূল শর্তই হলো তা হয়রানিমুক্ত ও সহজলভ্য হতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসে সামান্য রিচার্জের জন্য মানুষকে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর কারিগরি জটিলতা দূর করে ঘরে বসে রিচার্জের ব্যবস্থা সচল করতে হবে। একই সঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে কাউন্টার ও লোকবল বাড়িয়ে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের কষ্ট লাঘব করা জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে।

প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবি নৌকা থেক পড়ে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার হলেও আরিফের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ জানান, চাকলা গ্রামের মৃত্যু আব্দুল হাই সানার ছেলে আরিফ হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরার কাজে করছিল। হঠাৎ মেঘের গর্জন ও হাল্কা বৃষ্টিপাতের একপর্যায়ে নৌকায় বজ্রপাতে ঘটলে নৌকায় থাকা একমাত্র আরিফ হোসেন ছিটকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যায় এবং নৌকটিও নদীতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকাটি উদ্ধার করা গেলেও আরিফ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আরিফ হোসেনের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম সদস্য ও ডুবুরীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের সদস্য জাকির হোসেন জানান, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজে গিয়েছে।