শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
খোলা কলাম/শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের সৌন্দর্য নষ্ট করছে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগার

মোহাম্মদ মুজাহিদ
নাগরিক জীবনের কর্মব্যস্ততা, ক্লান্তি ও অবসাদ কাটাতে মানুষ খোঁজেন একটু নির্মল পরিবেশ ও স্বস্তির নিঃশ্বাস। আর সেই প্রত্যাশা নিয়েই প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা শহরের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কিন্তু পার্কের উত্তর পাশে স্থাপিত ডাস্টবিন এবং পশ্চিম পাশে অবস্থিত উন্মুক্ত শৌচাগারের তীব্র দুর্গন্ধে দর্শনার্থীদের সেই স্বস্তি এখন পরিণত হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের উত্তর পাশে সড়কের ধারে পৌরসভার ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন এলাকার আবর্জনা জমা করা হচ্ছে। ডাস্টবিনের ঠিক পাশেই অবস্থিত জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার (সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি)। ফলে লাইব্রেরিতে আসা পাঠক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ পথচারীদের দুর্গন্ধের মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কসংলগ্ন এলাকার বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য প্রতিদিন এখানে ফেলা হলেও সময়মতো তা অপসারণ করা হয় না। অনেক সময় সকাল ১০টা পর্যন্তও ময়লা বহনের কনটেইনার সরানো হয় না। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ডাস্টবিনে জমে থাকা আবর্জনা ঘেঁটে বিভিন্ন ভাঙাচোরা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী সংগ্রহ করেন। এতে ময়লার দুর্গন্ধ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আবর্জনার ময়লা পানি পাশের পয়নিষ্কাশন ড্রেনে গড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। পার্কে নিয়মিত ব্যায়াম করতে আসা সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল আজম খান মামুন বলেন, পার্কটির আয়তন মাত্র দেড় থেকে দুই একর। ফলে ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ সহজেই পুরো পার্কে ছড়িয়ে পড়ে। সকালে ব্যায়াম করতে আসা মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিছুদিন পর উত্তর দিকের বাতাস প্রবাহিত হলে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হবে। তখন পার্কে বসে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে। ডায়াবেটিস রোগী মিনাক্ষী জানান, চিকিৎসকের পরামর্শে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটতে পার্কে আসেন তিনি। কিন্তু পার্কের উত্তর-পশ্চিম অংশে গেলেই দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। তিনি বলেন, সুস্থ থাকার জন্য হাঁটতে আসি, অথচ দূষিত বাতাসে উল্টো অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে পার্কে নিয়মিত হাঁটতে আসা মানুষের বড় একটি অংশ ডায়াবেটিস ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত। এছাড়া অনেকেই শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম করতে আসেন। কিন্তু পার্কের পরিবেশগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকেই অসন্তুষ্ট। উন্মুক্ত শৌচাগারের পাশ দিয়ে নাক চেপে হেঁটে যাচ্ছিলেন মুনজিতপুরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, শৌচাগারটি উন্মুক্ত হওয়ায় এবং নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে পার্কের উত্তর পাশের ডাস্টবিনে সারাদিন ময়লা জমা হচ্ছে। কিন্তু নিয়মিত অপসারণ করা না হওয়ায় এটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ব্যাংকার ইজ্জত উল্লাহ বলেন, সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন শরীরচর্চা করতে পার্কে আসি। কিন্তু আশপাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এখন আর আগের মতো ভালো লাগে না। এলাকাবাসী পৌরসভায় অভিযোগ করলে কয়েকদিন পরিস্থিতির উন্নতি হয়, এরপর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থানীয়দের মতে, পার্কের ভেতরের পরিবেশ এখনও মোটামুটি পরিচ্ছন্ন থাকলেও বাইরের অংশের অব্যবস্থাপনা পুরো পার্কের সৌন্দর্য ও পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পার্কের চারপাশে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য এবং দুর্গন্ধে অনেক দর্শনার্থী বিব্রত হচ্ছেন। বর্তমানে সুলতানপুর, মুনজিতপুর, রসুলপুর, কামালনগর, পুরাতন সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের অন্যতম মিলনস্থল এই পার্ক। শিশুদের খেলাধুলা, কিশোর-কিশোরীদের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের অবসর সময় কাটানো এবং বয়স্কদের হাঁটাহাঁটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। বিকেল হলেই পার্কে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শিশু-কিশোররা মাঠে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে। শহীদ বেদির পাদদেশে বসে চলে আড্ডা, গল্পগুজব। অনেকে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসেন। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্যও এই পার্ককে বেছে নেন। বদ্ধ শহুরে পরিবেশে একটু মুক্ত বাতাসের সন্ধান মেলে এখানেই। তবে দিনের বেলায় পার্কের চারপাশে হকারদের দোকান বসানো, ড্রেন থেকে ময়লা উপচে পড়া এবং ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে পরিবেশ ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। অনেককে নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশান্তির এই পার্কের পাশে অশান্তির ডাস্টবিন থাকায় বিনোদনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং পার্কসংলগ্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় শহরের মানুষের একমাত্র উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রটি তার আকর্ষণ হারাবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পার্কে আসা দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সাতক্ষীরা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক শুধু একটি পার্ক নয়, এটি সাতক্ষীরা শহরের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি ও অবসর সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু পার্কের পাশে ডাস্টবিন ও উন্মুক্ত শৌচাগারের কারণে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। একটি বিনোদনকেন্দ্রের পাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে শহরের সৌন্দর্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ডাস্টবিন স্থানান্তর, উন্মুক্ত শৌচাগারের আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পার্ক ও এর আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় পৌরসভা, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। শহরের একমাত্র বৃহৎ উন্মুক্ত বিনোদনকেন্দ্রকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের দৈনন্দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক সংলগ্ন ডাস্টবিন ও শৌচাগার নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পার্কে আগত দর্শনার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ডাস্টবিন থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং শৌচাগারের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি পার্কের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং পৌরসভার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে আরও পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।

 

Ads small one

‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
‘আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে’

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির সংবাদ সম্মেলনের আগেই গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ফাইনাল নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন। নিউইয়র্কের জ্যাভিটস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ‘দিবু’ বলেন, “বিশ্বকাপের আগে থেকেই হাতের চোটের ব্যথা আমাকে ভোগাচ্ছে। যেসব বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করেছি, সবাই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। গ্রুপ পর্বে আমি ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি। তবে শেষ ষোলো থেকে এ নিয়ে আর ভাবিনি। এখন অনেকটাই ভালো অনুভব করছি। তবু আমার হাত এখনও প্রতিদিন ব্যথা করে।”

দলে অর্জন নিয়ে ভাবনা

কয়েক বছর আগে কিছু সতীর্থর সঙ্গে আড্ডায় তিনি বলেছিলেন, দুটি বিশ্বকাপ জিতলে তিনি অবসর নেবেন। তার সেই ভাইরাল মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘হ্যাঁ, এটি এএফএ অনুশীলন মাঠে নিকোর সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলাম… তবে প্রথমে আমাদের জিততে হবে, আমি কেবল সেটির দিকেই মনোনিবেশ করছি। এই দলের সঙ্গে আমরা বছরের পর বছর ধরে উন্নতি করছি। দল যা অর্জন করেছে তা ভেবেই মাঝে মাঝে আমার কান্না চলে আসে। এখনও আনন্দের অনেক মুহূর্ত আসা এবং তা উপভোগ করা বাকি রয়েছে।’’

এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমি গতবারের চেয়ে এই বিশ্বকাপ অনেক বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের ম্যাচের পর আমি অনেক ভুগেছিলাম। খুব বেশি শটের মুখোমুখি হইনি, অথচ তারা গোল করে দিয়েছিল। আমি কেবল পেনাল্টি শুটআউটে একটি নিষ্পত্তিমূলক ভূমিকা পালন করতে পেরেছিলাম। আমার মনে হয় এখন আমি পায়ে আরও ভালো খেলছি। আমি রবিবার মাঠে নামব এবং আপনারা আমাকে হাসিমুখে দেখতে পাবেন।’’

মানসিক শক্তি এবং ‘দিবু’র সেই চেতনা

প্রতিটি ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নিজের শক্তির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তারা আমার বিরুদ্ধে এক বা দুটি গোল করতে পারে, কিন্তু পরবর্তী প্লে-তেই আমি সেই একই ‘দিবু’ । চাপ আমাকে কাবু করতে পারে না। আমি আমার গ্লাভস পরে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখার চেষ্টা করি। খেলা যাই হোক না কেন, আমার মধ্যে সেই পাড়ার চেতনা রয়েছে, যা আমাকে মার দেল প্লাতার ‘ব্যারিও জার্দিন’-এ খেলা সেই একই দিবু বানিয়ে রাখে।’’

৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার ফাইনালে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘‘দারুণ দল, প্রিমিয়ার লিগে খেলা খেলোয়াড়দের কারণে আমি তাদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানি। তাদের একজন দুর্দান্ত কোচ রয়েছেন, এটি কেবল লামিনকে নিয়ে নয়, তাদের একটি দুর্দান্ত দল রয়েছে এবং তারা একটা সুনির্দিষ্ট কারণেই এখানে এসেছে। তাদের নিজস্ব শক্তি রয়েছে, তবে আমাদেরও শক্তি রয়েছে। আশা করি এটি এমন একটি ম্যাচ হবে যা দর্শকরা দীর্ঘদীন মনে রাখবেন।’’

ম্যাচের প্রস্তুতি এবং কোচের ওপর আস্থা নিয়ে তিনি বললেন, ‘‘আমি মনে করি যখন আমরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, সেটি ছিল জাতীয় দলের সঙ্গে আমার দ্বিতীয় সবচেয়ে উপভোগ্য ম্যাচ। দুবার জেতা, চতুর্থ তারকা অর্জন করা—মানুষের উদযাপনের সঙ্গে এটি কেমন হতে পারে তা আমি কেবল কল্পনাই করতে পারি।’’

কঠিন পরিস্থিতি ও খাপ খাইয়ে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, ‘‘মাঝে মাঝে মানুষ আপনার মুখোমুখি হওয়া প্রতিপক্ষ নিয়ে তাদের মতামত দেয়, কিন্তু আমরা তো প্রতিপক্ষ বেছে নিই না। সব ম্যাচই কঠিন, রবিবার ফাইনালটি হবে দুপুর ৩টায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে, এবং আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’’

শান্ত থাকা ও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো নিয়ে মার্টিনিজের কথা, ‘‘আমি খুব শান্ত বোধ করছি। একজন গোলরক্ষকের ভূমিকা কেবল ম্যাচের মধ্যে ভালো সেভ করার চেয়েও বেশি কিছু। তাকে নিজের হাফ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়, আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হয়। এগুলো হলো ফুটবলের এমন কিছু দিক যা আমার সতীর্থদের এই নিশ্চয়তা দেয় যে আমি শান্ত আছি, আমাকে তাদের আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে। যখন তারা তা দেখে, তখন তারা, যারা ফুটবলে এত দুর্দান্ত, কেবল সামনে এগিয়ে যাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। এই বিশ্বকাপে আমরা অনেক গোল করতে পেরেছি এবং এ পর্যন্ত আমরা গত বিশ্বকাপের চেয়ে একটি গোল কম হজম করেছি।’’

কোচের বার্তা নিয়ে সরাসরি বললেন তিনি, ‘‘কোচ আমাকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছ তা বড় বিষয় নয়, আমি তোমাকে আমার দলে চাই।’ আমার জন্য এটি ১০টি পেনাল্টি সেভ করা এবং সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় থাকার চেয়েও বেশি আনন্দের। আর যদি আমার সেই মুহূর্তটি না আসে এবং আমরা ফাইনাল জিতি, তবে সেটিও সমান তাৎপর্যপূর্ণ হবে।’’

ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ফাইনালের আগে স্পেন কোচের স্পষ্ট বার্তা, ‘মেসিকে ম্যান-মার্কিং নয়’

বিশ্বকাপের মহারণে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। তবে তাকে থামাতে কোনো ফুটবলারকে আলাদা করে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। বরং পুরো দল মিলে মেসির ওপর কড়া নজর রাখার পরিকল্পনাই করেছে স্পেন। অতীতের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকে আটকাতে স্পেন কি বিশেষ কোনো ম্যান-মার্কিং কৌশল ব্যবহার করবে? জবাবে স্পেন কোচ জানিয়ে দেন, এমন পরিকল্পনা নেই।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করেন সেভিয়ার বয়সভিত্তিক দলের কোচ থাকাকালীন সময়ের একটি ম্যাচের কথা। স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ম্যাচে কিশোর মেসিকে শুরু থেকেই ম্যান-মার্কিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন ডিফেন্ডারকে, ‘বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। তখন ‘মেসি’ নামে এক অসাধারণ প্রতিভাবান ছেলের কথা অনেক শুনেছিলাম। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই তাকে ম্যান-মার্কিংয়ে রেখেছিলাম। ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ০-০। এরপর যিনি তাকে মার্ক করছিলেন, তিনি হলুদ কার্ড দেখায় আমি তাকে তুলে নিই। আর পরের ১৫ মিনিটেই মেসি চারটি গোল করে বসে।’

সেই অভিজ্ঞতা এখনও তাকে শিক্ষা দেয় বলে জানান স্পেন কোচ, ‘এর মানে কি আমরা এবারও তাকে ম্যান-মার্কিং করবো? না। তবে তার ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখবো।’

নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা মেসিই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।

ফাইনালের আগে মেসির সঙ্গে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামালের তুলনাও উঠে আসে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেন দে লা ফুয়েন্তে, মেসি অনন্য। তিনি অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তরুণ ফুটবলারদের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ। কিন্তু লামিনেকে লামিনেই থাকতে হবে। তাকে নিজের মতো বেড়ে উঠতে সাহায্য করাই আমাদের দায়িত্ব।’

এদিকে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে চোট পাওয়ার পর ইয়ামালের ফিটনেস নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই উদ্বেগ দূর করেছেন স্পেন কোচ, ‘তার উরুতে জোরে আঘাত লেগেছিল। পেনাল্টি বক্সে তাকে ফাউল করা হয়েছিল, আর জায়গাটা বেশ সংবেদনশীল ছিল। তবে আজ সে দলের সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।’

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ কি খেলবে এমবাপ্পে?

ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ড- কোনও দলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে চান না। এটাকে কেউ কেউ নির্যাতনও বলছেন। শনিবার রাতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই ম্যাচই দুই দলই একাদশে বেশ পরিবর্তন আনছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপও তার দলের পরিবর্তন আনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে দলের তারকা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে আজ রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামবেন কি না। যদি তিনি না খেলেন তাহলে গোল্ডেন বুট আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির নিশ্চিতই বলা যায়।

তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমপ নিশ্চিত করেছেন যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে খেলার জন্য ‘প্রস্তুত’ আছেন। তবে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে তিনি নিয়মিত শুরুর একাদশে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন।

এমবাপ্পে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় তারকা ছিলেন এবং তার দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও, তার সংগ্রহে একটি গোল্ডেন বুট যোগ করার পাশাপাশি ইতিপূর্বে জেতা বিজয়ী ও রানার্স-আপ মেডেলের সঙ্গে একটি ব্রোঞ্জ মেডেল যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

২৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার লিওনেল মেসির সমান ৮টি গোল করেছেন। তবে আর্জেন্টিনার তারকা একটি অ্যাসিস্ট বেশি করার কারণে ফাইনালের সপ্তাহের আগে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের জন্য গণনা করা হয়।

দেশমপ বলেন, তারা খেলুক বা না খেলুক, একজন প্রধান কোচ হিসেবে আগামীকালের লক্ষ্য অর্জনের জন্য যা যা করা সম্ভব তা করার দায়িত্ব আমার। আমি আশা করি আমরা তা করবো এবং এটি করার জন্য আমাদের সবটুকু চেষ্টা প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি ম্যাচ। আমার কাছে কিছু সমাধান রয়েছে। কিছু খেলোয়াড় হয়তো খেলবে, আবার ব্যক্তিগত কারণে অন্য কেউ হয়তো খেলতে চাইবে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার হওয়া কোনও আলোচনা আমি প্রকাশ করতে চাই না। আমার কাছে সব তথ্য নেই, তবে হ্যাঁ, আমি কিছু খেলোয়াড় পরিবর্তন করবো।