শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

অনলাইন ডেস্ক: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পোস্টারিং করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট ও বিবিএ ভবন এলাকায় সংগঠনটির বিভিন্ন পোস্টার দেখা যায়।

পোস্টারে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে’ এবং ‘রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ‘রাজনীতি করার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।

মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয় নয়, জ্ঞান ও যুক্তির চর্চা হোক।

প্রতিটি শিক্ষার্থী নিরাপদে পড়াশোনা করার সুযোগ পাক। একজন শিক্ষার্থী আগে শিক্ষার্থী, পরে রাজনৈতিক কর্মী। তাই শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’
সাজবুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ আমার ছাত্রলীগের ভাইয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনকে নিজ দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অবৈধ রায় এ দেশের ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। সব রাজবন্দির মুক্তি এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এই অবস্থান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানার চেষ্টা করছি। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেও কেউ প্রবেশ করতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে কারা ক্যাম্পাসে এসে এ কার্যক্রম চালিয়েছে।’

 

Ads small one

​ঈদে ভিন্ন আমেজ: ধুলিহরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল, জয়ী আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
​ঈদে ভিন্ন আমেজ: ধুলিহরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল, জয়ী আর্জেন্টিনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ​পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দকে আরও একটু রঙিন ও প্রাণবন্ত করে তুলতে সাতক্ষীরায় আয়োজন করা হলো এক ব্যতিক্রমী ফুটবল ম্যাচ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।

​ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর ফুটবল মাঠে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংগঠন ‘কোমরপুর যুব সংঘ’-এর আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে ম্যাচটি উপভোগ করেন শত শত দর্শক।

​আয়োজকেরা জানান, কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবং তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। খেলায় অংশ নেওয়া দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেই তাঁরা এই খেলায় মেতে ওঠেন।

​টানটান উত্তেজনাকর এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নেতৃত্ব দেন কোমরপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও নিউরো সার্জন ডা. হাসানুজ্জামান। দলটির ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজ আল আসাদ চঞ্চল। অন্যদিকে, ব্রাজিল সমর্থক দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন কোমরপুর যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং ম্যানেজার ছিলেন ইসলামী ব্যাংক নাভারন শাখার সিনিয়র অফিসার জিল্লুর রহমান।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর মাঠের চিরবৈরী দুই দলের লড়াই জমে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচের শেষভাগে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের একপর্যায়ে ১-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা সমর্থক দল। মাঠে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন আনিস ও ফরহাদ।

​খেলা শেষে কোমরপুর যুব সংঘের সভাপতি সাইফুল্লাহ সরদারের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদ-দুহা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম ফাহিম, শিক্ষক আব্দুস সালাম, জাহাঙ্গীর কবির, ধুলিহর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম এবং এসআই জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​খেলার মাঠে প্রিয় দলের জার্সি গায়ে প্রিয় মানুষদের এমন লড়াই ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। স্থানীয় দর্শকেরা জানান, হার-জিত বড় কথা নয়, ঈদের পর এমন আয়োজন তাঁদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
কোরবানির বর্জ্য অপসারণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পর পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শুক্রবার (২৯ মে) প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি দেখেন।

 

তিনি বলেন, রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ভালোভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখতে বেরিয়েছেন তিনি। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল দিয়ে তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবোর দিকে গেছে বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

এরপর কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাই খাল হয়ে শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় দিয়ে আদালত পাড়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে নয়াবাজার, বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে তিনি নিউমার্কেট যান। এরপর সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী দেখবেন।

উপপ্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সিগন্যাল মেনে গাড়ি থামিয়েছেন।

 

দুই সিটির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

পবিত্র ঈদুল আজহার পশুর বর্জ্য অপসারণ ও পূর্বের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে (উপসচিব) তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবিসির প্রতিবেদন: বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারত সীমান্তে অপেক্ষা, জেরা এবং তারপর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
বিবিসির প্রতিবেদন: বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারত সীমান্তে অপেক্ষা, জেরা এবং তারপর

অনলাইন ডেস্ক: যারা ভারতে অবৈধপথে গিয়েছিলেন, তারা যদি ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যেতে চান তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে, ওই ঘোষণার আগেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অনেক মানুষ প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন সাতক্ষীরা আর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চলে।

 

তাদেরই একজন বাচ্চু মুন্সি বলেন, ‘যখন আমার বছর দশেক বয়স, বাবা মায়ের হাত ধরে ভারতে চলে আসি। প্রায় ৩৮ বছর হয়ে গেল, এখানেই বিয়ে করেছি, ছেলেমেয়ে হয়েছে। তাদের বিয়েও দিয়েছি এখানে।’

কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকায় থাকতেন বাচ্চু মুন্সি। তিনি সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার একটি সীমান্ত চৌকি- হাকিমপুরে। বাচ্চু জানান, তিনি খুলনা জেলার বাসিন্দা।

 

বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য হাকিমপুর সীমান্তে প্রতিদিনই হাজির হচ্ছেন বাচ্চুর মতো আরও বহু নারী-পুরুষ ও শিশু। তাদের দাবি, তারা কেউ যশোর, কেউ খুলনা, কেউ সাতক্ষীরা থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। কেউ যান বছর দুয়েক আগে, কেউবা পাঁচ-ছয় বছর আগে।

 

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের আর থাকতে দেওয়া হবে না। তাদের ফেরত পাঠানো হবে। এরপর গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই সাত সকালে সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন নিজের দেশে ফিরে যেতে চাওয়া মানুষরা।

 

হাকিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুর গাজি বলেন, শুরুর দিকে দৈনিক ১০-১২ জন করে আসছিল। এরপর প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা। দিন তিনেক আগে থেকে সংখ্যাটা কয়েকশোতে গিয়ে ঠেকেছে।

 

সীমান্তে যারা জড়ো হচ্ছেন তাদের অনেকেই বলছেন, তারা ‘চোরাই পথে’ ভারতে গিয়েছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধভাবেই’ বসবাস ও কাজকর্ম করছিলেন।

 

সীমান্ত চৌকিতে একদিন
হাকিমপুর এলাকাটা উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার অধীনে। বিএসএফের চেকপোস্ট পেরিয়ে কিছুটা গেলেই তারালি গ্রাম, তারপরই সোনাই নদী। নদীর ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা।

 

সীমান্ত চৌকিতে দাঁড়িয়ে গত বুধবার বিবিসির সাংবাদিক অমিতাভ ভট্টশালী দেখেন, বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য সীমান্তে জড়ো হওয়া মানুষদের প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অপেক্ষা করতে বলা হচ্ছে। সেখান থেকে পুলিশ কর্মীরা একেকটি পরিবারকে ডেকে এনে নথি যাচাই করছেন। বাংলাদেশের পরিচয়পত্র দেখার পাশাপাশি লিখে নেওয়া হচ্ছে নাম ও স্থায়ী ঠিকানা। এরপর ছবি তোলা হচ্ছে।

 

সীমান্তে যাওয়া ব্যক্তিদের কীভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেনি। তবে স্থানীয় গ্রাম হাকিমপুরের বাসিন্দারা সব কার্যক্রমই দেখেছেন। তাদের একজন ব্যবসায়ী হাসানুর গাজি জানান, চেকপোস্টে নথি যাচাই হচ্ছে, বায়োমেট্রিক হচ্ছে। এরপর সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ। এখান থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে আমোদিয়া বলে একটা হাঁটা বর্ডার আছে, সেখান দিয়ে পার করে দিচ্ছে। দিনের বেলাতেও করছে, আবার অনেক সময়ে রাত হয়ে যাচ্ছে।

 

গত বুধবার হাকিমপুরের সীমান্ত চৌকিতে কয়েকজনের নথি যাচাইয়ের পর অপেক্ষা করতে বলা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সেখানেই অপেক্ষা করেন। এরপর তাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় স্বরূপনগর থানা এলাকাতে গড়ে তোলা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক শিবিরে।

 

‘ভারতের ভোটার কার্ডও করিয়েছিলাম’
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফা শাওজি জানান, সীমান্ত পেরিয়ে যারা বাংলাদেশে চলে যাওয়ার জন্য জড়ো হয়েছিলেন, তাদের অনেকের কাছেই ভারতের নানাবিধ পরিচয়পত্র আছে। কারো কাছে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রও আছে। সবাই হয়তো এ বিষয়ে কথা বলছে না, কিন্তু পরিচয়পত্র দেখিয়েছে।

 

ভারতের ভোটার কার্ড থাকার কথা স্বীকার করেছেন সীমান্তে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন। এরকমই একজন বাচ্চু মুন্সি। তিনি বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করে ভোটার কার্ড করিয়েছিলাম। আধার কার্ড, প্যান কার্ডও করিয়েছিল। প্রথমবার আমি এখানে ভোট দিয়েছিলাম ২০২৪ সালে।’

 

তবে বাধ সেধেছে ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বাচ্চুর পরিবারের নাম।

 

নাজমা নামের একজন বলেন, ‘বিজেপি এখানে সরকারে আসার পর থেকেই তো বলে দিয়েছে আমাদের আর থাকতে দেবে না। তাই বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছি নিজের দেশে। বাংলাদেশের লোক ধরলেই জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এখন সুযোগ দিয়েছে ফেরত চলে যাওয়ার, তাই চলে যাচ্ছি।’ নাজমার দাবি তিনি যশোরের আদি বাসিন্দা।

 

‘ভারতে আর ফিরব না’
নিজেকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা বলে দাবি করা রাইসা পারভিন বলেন, ‘বিজেপি যখন থেকে জিতে এসেছে, তারপর থেকেই বলছে বাংলাদেশিদের আর থাকতে দেবে না। তাই আমি, আমার স্বামী, সন্তানদের নিয়ে চলে যেতে চাই। এসআইআরের সময়ে যখন অনেকে বাংলাদেশে চলে গেছে, সেই সময়েই আমার বাবা-মা ফিরে গেছেন।’

 

শেখ মাসুদ রানা নামে আরেকজন বলেন, ‘সরকারি ঘোষণা তো আছেই, একই সঙ্গে তারা যে অঞ্চলে থাকতেন, সেখানকার পুলিশ কড়াকড়ি করছে। বাড়িওয়ালারাও আর থাকতে দিতে চাইছে না।’

 

সীমান্তে জড়ো হওয়া আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি বাংলা। তাদের মধ্যে আছেন আখতারুল মোড়ল। তিনি বলেন, ‘পুলিশ এসে ঝামেলা করছে, বলছে বাংলাদেশিরা ভাগো। আগেরবার যখন এসআইআর হলো, সেই সময়ে চলে গেলেই ভালো হতো।’ শাহিন আলম মোল্লা নামে আরেকজন বলেন, তিনি আর ‘অবৈধ পথে’ ভারতে ফিরবেন না। ফিরলেও বৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়ে বেড়াতে যাবেন।