বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

জনবল সংকটে আশাশুনির প্রাণিসম্পদ দপ্তর: সেবা থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক খামারিরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
জনবল সংকটে আশাশুনির প্রাণিসম্পদ দপ্তর: সেবা থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক খামারিরা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে করে উপজেলার প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা সদরের আশপাশের কিছু মানুষ ভেটেরিনারি হাসপাতালের সুবিধা পেলেও দূরবর্তী গ্রামের খামারিরা কার্যত এই সেবা থেকে বাইরে রয়ে যাচ্ছেন। ফলে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির রোগব্যাধি মোকাবিলায় তারা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই পদ সামলাচ্ছেন। ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্টের তিনটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। একইভাবে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণি স্বাস্থ্য) এস এম নুরুজ্জামান অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমও দেখভাল করছেন।
এ ছাড়া অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ দুটি শূন্য থাকলেও একজন কম্পিউটার অপারেটর ও একজন ড্রেসার দিয়ে কোনোভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়জন কৃত্রিম প্রজনন (এআই) টেকনেশিয়ান থাকলেও শ্রীউলা ও বুধহাটা ইউনিয়নে কোনো টেকনেশিয়ান নেই। ফলে এসব এলাকার খামারিরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে রোগ ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরা তাই শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নিবন্ধিত গরুর খামার রয়েছে ৯টি এবং মুরগির খামার ৫টি। তবে নিবন্ধন ছাড়াই গ্রামে অসংখ্য পরিবার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন করছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সরকারি ফি দিয়ে নিবন্ধনে আগ্রহ দেখান না।
ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম বলেন, “জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা চিকিৎসা, পরামর্শ ও টিকাদানসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে উঠান বৈঠক ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিদের সচেতন করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, সরকার নির্ধারিত স্বল্প মূল্যে গরুর বিভিন্ন রোগ যেমন তড়কা, বাদলা, ক্ষুরা ও এলএসডি রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ছাগল-ভেড়ার পিপিআর ও গোট পক্স এবং হাঁস-মুরগির বিভিন্ন রোগের টিকাও সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের বীজও দেওয়া হচ্ছে নির্ধারিত মূল্যে।
তবে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলা প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় খামারিরা আগের মতো আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কীটনাশকের দোকানে লাইসেন্স ছাড়া পশুখাদ্য বিক্রি হচ্ছে, যা প্রাণিসম্পদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর।
খামারি ও পশুপালকদের দাবি, ইউনিয়নভিত্তিক কৃত্রিম প্রজনন কর্মী বাড়ানো, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি বড় ধরনের সংকটে পড়বে। জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন

Ads small one

কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোমিও চিকিৎসকের মৃত্যু

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলায় ১৩ শতক সরকারি জমি দখল ও কলা কাটাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানী (৫২) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই নারীকে আটক করেছে। এর আগে সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঠবাড়ী মৌজার গ্রামীণ সড়কের পাশে ১৩ শতক সরকারি জমি ও কলাগাছের কলা কাটাকে কেন্দ্র করে হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দা, শাবল, রড ও লাঠির আঘাতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্য তিনজন হলেন গোলাম রব্বানীর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)।

আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকেও চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য গোলাম রব্বানীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো মামলা হয়নি, তবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
হেমন্তের শান্ত বলুয়া নদীতে বিজয়া দশমীর নৌকাবাইচ: তালের ছন্দে মুখর দুই তীর

আসাদুজ্জামান সরদার: কার্তিকের সোনাঝরা রোদ আর স্নিগ্ধ বাতাসের স্পর্শে প্রকৃতিতে তখন হেমন্তের রূপময় উপস্থিতি। শারদীয় দুর্গাপূজার মহাবিজয়াদশমীর বিষাদ ও আনন্দের মিশ্র সুরের মাঝেই গ্রামীণ জনপদে বেজে উঠেছিল উৎসবের অন্যরকম এক বাদ্য। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বলুয়া নদীর শান্ত বুকে স্বর্গীয় বাশিরাম স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক বর্ণিল ও রোমাঞ্চকর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

 

বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা আর প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বলগ্নে নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন রূপ দেখতে বলুয়া নদীর দুই তীরে উপচে পড়ে হাজারো মানুষের ভিড়। স্বচ্ছ জলের আলপনায় নদীর বুকে তখন সাজ সাজ রব। বৈঠার জাদুকরী ছন্দে চঞ্চল হয়ে ওঠা জলের ঢেউ আর দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। ঐতিহ্য ও উদ্দীপনার এই প্রতিযোগিতায় মোট ৮টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলোÑসোনা বাঁধাল, দাদপুর, বনবিবি, চর মাগুরা, কুলপোতা, মহিষাডাংগা কালিমাতা ও মহিষাডাংগা জয়মা।

নৌকাগুলোর গতি আর মাঝিদের সমস্বরে গাওয়া ভাটিয়ালি ও জারি গানের সুরে নদীর দুই তীরের দর্শকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয় বিজায়ীদের নাম। এতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে কুলপোতা। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে চর মাগুরা এবং তৃতীয় হয় মহিষাডাংগা কালীমাতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরী মোহন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। সহকারী অধ্যাপক হিরুলাল বিশ্বাস ও দেবব্রত বিশ্বাস দেবুর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর রহমান, কুল্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওমর ছাকী পলাশ, চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ও মেহেদী হাসান সগর।

 

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন। হেমন্তের এই আনন্দময় সন্ধ্যায় বিজয়াদশমীর অনন্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বলুয়া নদীর তীরে উপস্থিত মানুষের মনে দীর্ঘদিনের জন্য এক অমলিন উৎসবের রেশ রেখে গেছে।

 

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

খলিষখালি (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে দেবী দুর্গাকে আপন মনে পূজা-অর্চনা করার পর ২১ অক্টোবর সাতক্ষীরা ও তালার খলিলপুর, দলুয়া, মাগুরা, ইসলামকাটি, কুমিরা ও পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন পূজাম-পে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাজির হন প্রতিমা বিসর্জনের জন্য। শুধু তাই নয়, নদের দুই তীরে বসেছিল নানা রকম মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, কসমেটিকস ও হরেক রকমের মিষ্টির দোকান।

বিকেল থেকে দলুয়া শালিকা নদীর তীরে, মাগুরা কপোতাক্ষ নদের তীরে ও ইসলামকাটি কপোতাক্ষ নদের দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষের সমাগমে উৎসব ও আনন্দে একাকার হয়ে যায় চারপাশ। অবশেষে সন্ধ্যা নামতেই প্রতিমা বিসর্জনের কাজ শুরু হয়। বিসর্জন শেষে নারী-পুরুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে বাড়ি ফিরে যান।