বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তালায় তৃণমূল সিএসওদের আইনগত সহায়তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
তালায় তৃণমূল সিএসওদের আইনগত সহায়তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

তালা  প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জেলা পর্যায়ে তৃণমূল সুশীল সমাজ সংগঠনের (সিএসও) সদস্যদের নিয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ভূমিজ ফাউন্ডেশনের হল রুমে এই সভা আয়োজন করা হয়।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান অচিন্ত কুমার সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা লিগাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ লিটন দাশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুশীল প্রকল্পের জেলা কো-অর্ডিনেটর অঞ্জন কুমার দে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাব (HAB)-এর সভাপতি আনিছ উজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। এছাড়া ১৩টি হাবের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে অচিন্ত কুমার সাহা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনি অধিকার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, লিগাল এইড এবং এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল সিএসওগুলো এই প্রক্রিয়ায় সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে।

 

বক্তারা বলেন, দেশের পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রায়শই সচেতনতার অভাব ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সঠিক আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। তৃণমূল পর্যায়ের সিএসও সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করায় ভুক্তভোগী মানুষকে সঠিক তথ্য ও আইনি পরামর্শ দিয়ে সরকারি-বেসরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ ঘটিয়ে দিতে পারেন।

 

বিশেষ বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর সিনিয়র লিগাল অফিসার শাহরিয়ার নাসিম তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ব্লাস্টের আইনি সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্লাস্টের স্পেশালিস্ট রবিউল ইসলাম তৃণমূল সিএসওদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে আইনি সংকট মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

মুক্ত আলোচনা পর্বে জেলা লিগাল এইড অফিসার লিটন দাশ সরকারের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

সোনার গহনা বানাতে খরচ কমবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
সোনার গহনা বানাতে খরচ কমবে

দেশে সোনা ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় বর্তমানে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিতে হয়। তবে নতুন বাজেট প্রস্তাবে এই পদ্ধতি পরিবর্তন করে প্রতি ভরি সোনার ওপর নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বর্ণালংকারের দাম কমাতে প্রতি ভরি সোনার ওপর নির্ধারিত ভ্যাট নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়নার দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। নতুন ব্যবস্থায় এর ওপর ভ্যাট হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ বিদ্যমান ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট হিসাব করলে করের পরিমাণ ১০ হাজার টাকারও বেশি হতো।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সোনার গয়না তৈরির ও বিক্রয়ের খরচ কমবে, যা ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আশাশুনির বাওচাষে শিশুর শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ ছাড়াই দপ্তরী বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বাওচাষে শিশুর শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগ ছাড়াই দপ্তরী বরখাস্ত

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী বিকাশ চন্দ্র বাছাড়কে ছুটির দিনে বহিরাগত এক প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে এনে আটক রেখে তিন দফায় নির্যাতন চালানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ ছাড়া ওই নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে রাজী না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জিম্মি করে সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য করানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘটনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ঠাদের লোকজনের নিকট থেকে ভিন্ন ভিন্নরূপ বক্তব্য পাওয়া গেছে। গত পহেলা ও ২ জুন এ হামলার ঘটনার পর বিকাশ সস্ত্রীক আত্মগোপনে রয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে তার পরিবার ও স্বজনরা।

সরেজমিনে বৃহষ্পতিবার আশাশুনি উপজেলার বাঁকড়া গ্রামে যেয়ে দেখা গেছে, বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী বিকাশ চন্দ্র বাছাড়ের বাড়িতে তার বাবা সন্তোষ বাছাড়া, মা উর্মিলা বাছাড় ও ছোট ভাই সুভাষ বাছাড়ের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। বিকাশের কথা জানতেই মা উর্মিলা বাছাড় কেঁদে ফেললেন। উপস্থিত প্রতিবেশিসহ মা ও বাবা পহেলা জুন সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাল উদ্দিনের বাড়িতে বিকাশকে বহিরাগত এক প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ মারপিট করার বর্ণনা দেন। পরদিন সকাল ১০টায় ও দুপুর ১২টায় দুই বার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারতে মারতে ইয়াছিনের দোকানে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন মা উর্মিলা। সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলীসহ কয়েকজন না থাকলে বিকাশকে মব সৃষ্টিকারিদের হাতে জীবন দিতে হতো বলে অভিযোগ করেন তারা।

বাওচাষ গ্রামের এক দিনমুজুরের বাড়িতে গেলে তার ছেলে আব্দুল কাদের বলেন, তার দুলা ভাই আশাশুনি উপজেলার বলাডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। এক বছর যাবৎ তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় বোন ও ভাগ্নি মাঝে মাঝে তাদের বাড়িতে আসেন। ভাগ্নি রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। পহেলা জুন তার দুই ভাগ্নি বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে দোলনা খেলতে গেলে প্রথম শেণীতে পড়–য়া (বলাডাঙা) ওই ভাগ্নির শ্লীলতাহানি করে বিকাশ। বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলালউদ্দিনকে জানান। কয়েকজন বিকাশকে মারপিট করেছেন স্বীকার করে কাদের বলেন, তারা কোথাও কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

আত্মগোপনে থাকা বিকাশ বাছাড় জানান, পহেলা জুন সোমবার বিদ্যালয় ছুটি থাকলেও প্রতিদিনের ন্যায় তিনি বিকেলে প্রতিষ্ঠানের গাছ গাছালিতে পানি দিতে যান। এ সময় বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এক ব্যক্তির দুই নাতনি (সাত থেকে আট বছর বয়সী) বিদ্যালয়ে বেড়াতে আসেন। বেড়াতে আসেন বিদ্যালয়ের পাশ^বর্তী আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহিন, তুহিন, আহছানের ছেলে তবিবুর, ইউনুসের ছেলে হানজানা, মহিদুলের ছেলে শামীম ও ইয়াকুবের ছেলে বাদশাসহ কয়েকজন। সোয়া ছয়টার দিকে ওই দুই মেয়ে চলে যায়। এরপরপরই মোহিন, তুহিনসহ তাদের দুই ভাইপোসহ মাঠে উপস্থিত সকলকে নিয়ে তিনিও বিদ্যালয় থেকে চলে আসেন। সন্ধ্যায় সাতটার দিকে বাওচাষ গ্রামের আব্দুল কাদের বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাউল তাকে যেতে বলেছে বলে ডাকতে আসে। তিনি আলাউলের বাড়িতে চলে আসার পর তাকে কিছুক্ষণ আগে বিদ্যালয়ে বেড়াতে যাওয়া এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করে গালে থাপ্পড় মারেন ওই মেয়েটির মা। এ সময় জমি দাতা আলাউল বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে অবহিত করলে তার কাছ থেকে বিদ্যালয়ের চাবি নিয়ে নিতে বলা হয়। তিনি চাবি দিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। রাত ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে একটি মহল জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করেন।

বিকাশ বাছাড় অভিযোগ করে বলেন, ২ জুন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে অবস্থান করাকালে গতদিনের ভিকটিমের মামা আব্দুল কাদের, বাওচাষ গ্রামের রহমতের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, একই গ্রামের আব্দুর রব এর ছেলে ঈদুল আযহা’র পরদিন ভারত থেকে পালিয়ে আসা হযরত আলীসহ কয়েকজন তার ঘরে ঢুকে একমাত্র শিশু সন্তানকে কোল থেকে মাটিতে আঁছড়ে ফেলে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সামনে মারতে মারতে বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফিরে আসলে কাদের, হাফিজুল ও হযরতসহ বাওচাষ, বাঁকড়া ও হাজিপুর গ্রামের ৭০ থেকে ৮০ জন তাকে আবারো বাড়ি থেকে মারতে মারতে ইয়াছিনের দোকানে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে তাকে নির্যাতনের ফলে ডান কানের শ্রবন শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাহেব আলী, ভুট্টো ও প্রতিবেশি হাফেজ সাহেব প্রতিবাদ করে রুখে দাঁড়িয়ে তাকে মব সৃষ্টিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। রাতে আবারো তাকে ডেকে নিয়ে শালিস করা হয়। শালিসে তাকে ওই শিশুর শ্লীলতাহানির বিষয়ে স্বীকার করতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে জীবন বাঁচাতে তিনি স্ত্রী ও একমাত্র শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে মর্মে তিনি অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজির হলে সহকারি শিক্ষক শাহজাহান শামীম, রামপ্রসাদ বাছাড় ও রুবনা ইয়াসমিন জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ২৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নয়জনের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য। একজন মাতৃত্বকালিন ছুটিতে। ছয়জন শিক্ষক বর্তমানে কর্মরত। ১৯২১ সালে ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মনোরম পরিবেশ ও উন্নতমানের পড়াশুনার জন্য ২০২৪ সালে বিদ্যালয়টি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী বিকাশের বিরুদ্ধে ছুটির দিনে এক বহিরাগত শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির বিষয়টি সিসি ক্যামরা, সেই সময়ে উপস্থিত ওই বহিরাগত শিক্ষার্থীর নিজের খালাত বোনসহ স্থানীয় আটজনের কাছে ঘটনার সত্যতা মেলেনি বলে জানান ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় কয়েকজন। বিষয়টি যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে শুধু তাদের নয়, বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। বিকাশের কারণে বিদ্যালয়ের বাগান পরিচর্যায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

জানতে চাইলে বাওচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মোহিন ও তুহিন জানান, বিদ্যালয় থেকে বিকাশের সঙ্গে তারা একসাথে বেরিয়ে যাওয়া ও শ্লীলতাহানি সম্পর্কে ঘটনার কোন সত্যতা না থাকার বিষয়টি তারা সকলের উপস্থিতিতে উপস্থাপন করেন। ঘটনা ঠিক নয় বলে জানায় ওই ভিকটিমের নিজের খালাত বোন। এরপরও ওই ভিকটিমের পরিবার কোন লিখিত অভিযোগ না করায় কিভাবে বিকাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো তা তাদের বোধগম্য নয়।

বিদ্যালয়ের জমি দাতা আলাউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদালয় পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দাবিকৃত ঘটনার সময় ওই ভিকটিমের খালাত বোনসহ উপস্থিত আটজন ঘটনা সঠিক নয় বলে দাবি করেন। সিসি ক্যামেরায় ও ঘটনার সত্যতা মেলেনি। এরপরও স্থানীয় একটি মহলের আগ্রাসী মনোভাব তাকে ও প্রধান শিক্ষককে ভীতসন্ত্রস্ত করে তোলে। একপর্যায়ে তারা ভিকটিম পরিবারের লিখিত অভিযোগ ছাড়াই বিকাশকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।

বাউচাষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। লিখিত অভিযোগ, কোন যৌতিক কারণ ও প্রমান ছাড়া বিকাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না চাইলে তাকে বিভিন্ন ভাবে অপমান অপদস্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

বিশ্ব ফুটবলের রঙে মাতালেন বাংলাদেশের মডেলরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ফুটবলের রঙে মাতালেন বাংলাদেশের মডেলরা

বিশ্বকাপ ফুটবলের আবহে রঙিন এক সন্ধ্যার সাক্ষী হলো রাজধানী। দেশের শীর্ষস্থানীয় মডেলদের অংশগ্রহণে বর্ণিল জার্সির সমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ঢাকা ফুটবল ফিয়েস্তা’র বিশেষ ফ্যাশন শো। ফুটবলপ্রেম আর ফ্যাশনের মেলবন্ধনে আয়োজিত এই পর্ব যেন বিশ্বকাপ উন্মাদনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি পরে র‌্যাম্পে হাঁটেন জনপ্রিয় মডেলরা। সাইয়েদ রুমার কোরিওগ্রাফিতে প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বিশ্ব ফুটবলের রঙিন সংস্কৃতি। আলোকসজ্জা, সংগীত আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো আয়োজন পরিণত হয় এক ফুটবল উৎসবে।

মডেলিংয়ে ছিলেন, সাদিয়া শাবনাজ ইমি, রাখি, আলিশা, দিলরুবা দোয়েল, অ্যাঞ্জেল ডি কস্টা, আসিফ আহমেদ প্রমুখ।

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে আয়োজিত ‘ঢাকা ফুটবল ফিয়েস্তা’য় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া, গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো, ফুটবলার মোরসালিনসহ দেশের ফুটবলের বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে তারা বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব দেখার স্বপ্নের কথা জানান।

 

হাউজ ও অ্যাথলিট স্পোর্টস গিয়ারের যৌথ উদ্যোগে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী ১৩টি ‘ফ্যান জোন’ তৈরির ঘোষণাও দেওয়া হয়। বিশ্বকাপ চলাকালে এসব ফ্যান জোনে বড় পর্দায় খেলা দেখার পাশাপাশি থাকবে ফুড স্টল, গেমিং জোন, জার্সি ফেস্ট ও নানা আয়োজন।

 

সব মিলিয়ে ‘ঢাকা ফুটবল ফিয়েস্তা’ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়, যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফুটবলের রঙে রাঙানো এই বর্ণিল ফ্যাশন শো।