শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই খুলনার পাইকগাছার হাট-বাজারে ঐতিহ্যবাহী মসলা চুই ঝালের চাহিদা বেড়েছে। মাংসের স্বাদ ও সুবাস বৃদ্ধি করার জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই এলাকার মানুষের কাছে চুইঝালের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মাংসের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে চুই ঝাল যেন এক অপরিহার্য উপাদান। চুইঝাল ছাড় মাংস বা বিরিয়ানী রান্না যেন পূর্ণতা পায় না। তাই চুইঝাল লাগবেই লাগবে।

ঈদে ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু মসলা চুইঝালের চাহিদা ও দাম দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে। গরুর মাংস ও খাসির মাংসের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে চুইঝাল দারুণ কার্যকরী। ঈদের সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই মাংসের নানা পদ বিরিয়ানি, ভুনা মাংস রান্নায় চুইঝালের কদর থাকে তুঙ্গে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। আকারের চিকন বা মোটা ওপর নির্ভর করে চুইঝাল কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর এলাকায় বিখ্যাত মসলা এই চুইঝাল। চুইঝালের শিকড়, পাতা ও ফুল, ফলে ঔষধি গুণ আছে। চুইঝাল মাছ ও মাংসের সাথে রান্না করে খাওয়া হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এ সব এলাকায় চুইঝাল মসলা খুব জনপ্রিয়। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের কান্ড, শিকড় বা লতাকে ছোট ছোট টুকরো করে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেকোনো ধরনের মাংস, গরুর বা খাসির মাংস রান্না করা হয়। চুইঝালের রান্না মাংস এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এবং খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। তবে চুই এর শিকড়ের মধ্যে কান্ডের তুলনায় কড়া সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝালো স্বাদ বেশি থাকার কারণে এটি কান্ডের তুলনায় বেশি ব্যবহৃত হয়। চুইঝাল দিয়ে রান্না করলে মাংসে একধরনের কড়া সুঘ্রাণ এবং ঝাল প্রকৃতির, ঝাঁঝালো ও টক স্বাদ যুক্ত হয় যা মাংসের মধ্যে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের স্বাদ এনে দেয়।

সারাবছরই চাহিদা ও দামের দিক থেকে উপরে থাকে মশলাটি। তবে ঈদ আসলেই চুইঝালের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা পকেট কাটেন ভোক্তাদের। কুরবানির সময় যত ঘনিয়ে আসছে পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চুইঝালের দোকান নিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলোতে ভীড়ও বাড়ছে ক্রেতাদের। সাধারণ সময়ে চুইঝাল কেজি প্রতি ৪০০ থেকে হাজার টাকা থাকালেও বর্তমানে আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮শত থেকে এক হাজার ও খুর ভালো মানের চুইঝাল কেজি ১৫শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

নতুন বাজারের চুইঝাল বিক্রেতা মীর কাজল বলেন, মাংস বা বিরিয়ানী রান্নার সব রকম মশলা পাওয়া যায়। আর আদা-চুইঝাল তো আছেই। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে চুইঝালের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। আর এক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে চুইঝাল চিকন (আকারে ছোট) ৪ শত থেকে ৬শ টাকায় ও কিছুটা বড় চুইঝাল ৮শত টাকা কেজিতে বিক্রি করতাম।

 

কোরবানি উপলক্ষে বাজারে চাহিদা বাড়ায় পাইকারী দরে কিনতেই বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে। তাই চুইঝালের সাইজ অনুযায়ী কেজি প্রতি ৮শত থেকে ১৫শত টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। চুইঝাল কিনতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর মাঝে মধ্যে চুইঝাল খাওয়া মাংসের সাথে। কিন্তু কুরবানির সময় গরুর মাংসের সাথে চুইঝাল না হলে চলে না।

গদাইপুর বাজারে চুইঝালের ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, চুইঝালের দাম ঈদের আগে আরো বাড়তে পারে। তাই ভিড় এড়াতে আগে ভাগেই চুইঝাল কিনতে এসেছি। তবে কুরবানি উপলক্ষে দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের সময় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস অতিথিদের খুবই পছন্দের। দাম একটু বৃদ্ধি পেলেও, মাংস খেতে চুইঝাল লাগবেই। চুইঝালের মাংস রান্নার স্বাদই অন্যরকম উপলব্ধি হয়।

 

Ads small one

আশাশুনিতে পৈতৃক ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে পৈতৃক ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার গোদাড়া গ্রামে বংশপরম্পরায় বসবাসকারী একটি পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গোদাড়া গ্রামের মৃত মনতেজ পাড়ের ছেলে গোলাম রসুল এ বিষয়ে একই এলাকার রুহুল আমিন সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
গোলাম রসুল জানান, এসএ ১০১ নম্বর খতিয়ানে তালিকাভুক্ত জমিতে তাঁরা দাদা ও বাবার আমল থেকে স্বত্বদখলীয় অবস্থায় বসবাস করে আসছেন। জমির মালিকানা নিয়ে নি¤œ আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল থেকে তাঁরা নিজেদের পক্ষে রায় ও ডিক্রি পান। পরবর্তীকালে প্রতিপক্ষ দ্বিতীয় জেলা জজ আদালতে আপিল করলেও তা নামঞ্জুর হয় এবং নি¤œ আদালতের রায় বহাল থাকে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আইনিভাবে পরাজিত হয়ে প্রতিপক্ষ এখন জমি জবরদখল করার পাঁয়তারা করছে। গত ২০ মে তাঁরা জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করতে উদ্যত হন এবং জমি দখলের হুমকি দেন। এ ছাড়া তাঁরা তথ্য গোপন করে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নতুন করে মামলা করেছেন, যেখানে নালিশি জমির বর্ণনায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বেত্রবতীর কাঠের সাঁকো ও জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: বেত্রবতীর কাঠের সাঁকো ও জনদুর্ভোগ

পানির তীব্র স্রোতে কলারোয়া পৌর শহরের কাঁচাবাজার-সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষ এখন একটিমাত্র খেয়া নৌকার ওপর ভরসা করে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ সর্বস্তরের সাধারণ পথচারী যেভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবল স্রোতের অজুহাত দেওয়া হলেও বর্তমানে নদীর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। স্রোত বা পানির চাপ কমে গেলেও কেন সাঁকোটি সাময়িকভাবে সচল করার কোনো তাগিদ দেখা যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। খেয়া নৌকায় পারাপারের সময় সকাল ও বিকেলে যে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে, তা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এর ওপর দুই পাড়ে কোনো সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারাচ্ছন্ন নদীতে পারাপার হতে গিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চরম ঝুঁকি পোহাতে হচ্ছে।
এই কাঠের সাঁকোটি কলারোয়া কাঁচাবাজার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সাঁকোটি অচল থাকায় বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ওপর। ফলে জনভোগান্তির পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থবিরতা।
প্রতি বর্ষায় এই সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করার এই চক্রাকার অবহেলা বন্ধ হওয়া দরকার। জনবহুল এই স্থানে এখন আর সাময়িক সংস্কার নয়, বরং একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণই সময়ের দাবি। আমরা আশা করি, কলারোয়ার হাজারো মানুষের প্রতিদিনের এই দুঃসহ ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তালায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
তালায় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে খেশরা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইউনিয়ন শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ছাত্রশিবির খেশরা ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হাফেজ ইসরাফিল হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ডা. শেখ মাহমুদুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।