filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0;
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলের প্রতিটি কোণ এখন যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে পড়ার টেবিলে, বিম থেকে বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা রড, আর দেয়ালে দেখা দিয়েছে বিশাল সব ফাটল। এমন ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করছে প্রায় চারশ শিক্ষার্থী। চরম উৎকণ্ঠার বিষয় হলো, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উল্টো ‘দায়মুক্তি’ স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে।
চারতলা বিশিষ্ট এই কলেজ ও হোস্টেল ভবনের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের পলিথিন মুড়িয়ে থাকতে হয়।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শিউলি বলেন, “৪০০ জন ছাত্র-ছাত্রী মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে পড়ালেখাও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিউলিসহ একাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কখন মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে তার ঠিক নেই। কখনো খাওয়ার সময়, কখনো পড়ার সময় পলেস্তারা খসে পড়ছে। আমরা রীতিমতো আতঙ্ক নিয়ে এখানে দিন কাটাচ্ছি।”
সাতক্ষীরা গণপূর্ত অধিদপ্তর গত ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক প্রতিবেদনে ভবনটিকে ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘সংস্কারের অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আব্দুল ওয়াহিদ জানান, ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিন পরিদর্শন করে নতুন ভবন নির্মাণের সুপারিশ করেছেন।
তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখনো ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে ক্লাস ও আবাসন। কলেজের ইনস্ট্রাক্টর মোছা. সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, ১৯৮৩ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো টেকসই সংস্কার হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও গণপূর্তকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছি। দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত দায়মুক্তি নিতে বাধ্য হয়েছি।”
সাতক্ষীরা সরকারী নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল ভবন মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ। জীবনের ঝুকি নিয়ে ক্লাস করছে প্রায় ৪০০ ছাত্র-ছাত্রী। ভবনটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা এখন কলেজের আশেপাশে বিভিন্ন মেসে বা ভাড়া বাসায় থাকছেন। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের সৃষ্টি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। যারা এখনো হোস্টেলে আছেন, তারা প্রতিমুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।
জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছেÑ নতুন বহুতল একাডেমিক ভবন ও আধুনিক হোস্টেল কমপ্লেক্সের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন এলাকায় নতুন ভবনের জন্য জায়গা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা না থাকা এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে বা অস্থায়ী শেডে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবহারিক শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, , কোনো বড় ধরনের প্রাণহানির অপেক্ষা না করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ বিকল্প আবাসন ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায়, জেলা তথা দেশের নার্সিং শিক্ষা ব্যবস্থা এক বড় সংকটের মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, ভবনটি যে ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ বা ‘বসবাসের অযোগ্য’, এই কারিগরি মূল্যায়নটি এসেছে সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকে। তারা নিয়মিত পরিদর্শনের পর ভবনটিকে সংস্কারের অযোগ্য বলে মতামত দিয়েছেন, যা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচিত হয়েছে। অথচ ভবনটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ আজও গ্রহণ করা হয়নি। তবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি এই দপ্তরের প্রশাসনিক নথিপত্র এবং বাজেটের খসড়া তালিকা থেকে প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়।