রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

বই পড়লে সৃজনশীলতা বাড়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
বই পড়লে সৃজনশীলতা বাড়ে

শ্যামল শীল

জ্ঞানর্জনের বহু পন্থা রয়েছে। আমরা নিয়মিত কোনো না কোনোভাবে শিখন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। বন্ধুবান্ধব থেকে, পরিবার থেকে, সমাজ থেকে, কোনো ঘটনা থেকে আবার হয়তো কখনো ভুল করে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। এগুলো সবই অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় আমাদের অবচেতন মনে হচ্ছে, যা সাধারণত মায়ের কোল থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত চলমান থাকে।

তবে, এ শিখন প্রক্রিয়ার আমাদের মনোজগৎকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করে না। আমাদের মধ্য থেকে কোনো নতুনত্বের জন্ম হয় না। আমাদের মধ্যে থাকা বহুমুখী বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রকাশ পায় না। বরং নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি হয় পুরোনো জ্ঞানের চর্চার মাধ্যমে। আর সেই পুরোনো জ্ঞান মেলে বইতে। আমাদের চিন্তার প্রসারণ ঘটে যখন মস্তিষ্কের ওপর জোর প্রয়োগ করে কিছু শেখা হয়।

 

আমরা যখন বই পড়ি তখন তা আমরা করি এক রকম আমাদের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে গিয়ে। কারণ যখন বই পড়া হয় তখন আমাদের ব্রেনে অন্যান্য উত্তেজনামূলক কাজের তুলনায় ডোপামিন কম নিঃসরণ হয়। আর আমাদের প্রবৃত্তি আমাদের সেসব কাজের দিকে বেশি ধাবিত করে যাতে ডোপামিন নিঃসরণ বেশি হয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষ বর্তমানে গড়ে ১৬ মিনিট পড়াশোনা করে। আর যারা খুব বেশি বই পড়ে তারা গড়ে ৪৮ মিনিট পড়াশোনা করে। গবেষণার এই রিপোর্ট আপনাকে হয়তো হতাশ করবে। সমাজে বইপড়ুয়া লোকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আর এটাও বলা ভুল হবে না যে, প্রকৃতপক্ষে এটাও একটা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ। এ বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে বই পড়ার উপকারিতা কি তা জানলে।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কেউ চাইলে এ প্রশ্ন তুলতেই পারে, আমরা এখন প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত। বর্তমান সরকারের বদৌলতে সবার হাতে স্মার্টফোন। টাকা খরচা করে বই কিনতে হয় না। চাইলেই যেকোনো সময় যা কিছু জানা প্রয়োজন জেনে নিতে পারছি। তাহলে আবার কষ্ট করে বই পড়া কেন? জি অবশ্যই এর উত্তর আছে। সেজন্য আপনাকে একটু কষ্ট করে সামনে পর্যন্ত পড়তে হবে। জানাতে হবে বই পড়লে কী কী উপকার হয়?

গবেষণায় দেখা গেছে, বই পড়ার বহুমুখী উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো-
১. বই পড়লে বুদ্ধি বাড়ে। ২. শব্দভা-ার বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় এটাও পাওয়া গেছে যার শব্দভা-ার যত বেশি সমৃদ্ধ তার আইকিউ তত বেশি। ৩. কোনো কিছুতে ফোকাস করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। যেকোনো কাজে অন্যদের তুলনায় বেশি মনোযোগী হতে পারে। ৪. বই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কমে। ৫. বই আমাদের ধৈর্যশক্তি বাড়ায়। আমাদের শৃঙ্খলিত করে। কারণ, একটি বই যখন আমরা পড়ি তখন আমরা সেটা ধারাবাহিকভাবে পড়ে শেষ করি। ৬. বই পড়লে সৃজনশীলতা বাড়ে। সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়ে। চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়তে থাকে। মস্তিষ্ক সব সময় সক্রিয় থাকে।

 

৭. বই পড়লে অন্যের প্রতি দয়া বা সহানুভূতির বৃদ্ধি হয়। কারণ যারা বই পড়ে তারা অন্যের চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখার চেষ্টা করে। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে, যা কারো মধ্যে থাকা সহানুভূতিশীলতা বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে সামাজিক আন্তসম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। ৮. আবার যারা কাগজের বই পড়ে তাদের বোধগম্য শক্তি খুব বেশি হয়। তারা বই পড়ার পর তা সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে ই-বুকপড়ুয়াদের তুলনায়।

তা ছাড়া, বই পড়ার আধুনিক ধারণা বলে, আমাদের বই পড়া উচিত পৃথিবী কীভাবে চলে তা জানার জন্য। অর্থাৎ, পৃথিবীর আর্থসামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ইত্যাদি বিষয় কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য। ইতিহাসে যারা আমাদের কাছে মহানায়ক হিসেবে পরিচিত তারাও ‘বই পড়া’কে অগ্রাহ্য করেননি বরং বই পড়ার ব্যাপারে তারা অগ্রগামী ছিল। নেপোলিয়ন বলতেন, ‘অন্তত ষাট হাজার বই সঙ্গে না থাকলে’ জীবন অচল। মাও সেতুং বলতেন, ‘পড়, পড় এবং পড়।’ প্রমথ চৌধুরী তার বই পড়া প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘দেহের মৃত্যুর রেজিস্টারি রাখা হয়, আত্মার মৃত্যু হয় না।’

বই পড়ার মাধ্যমে আমাদের আত্মা তৃপ্ত হয়। এটা তার চাহিদা। যখন আত্মার এই চাহিদা না মেটে তখনই তার মৃত্যু হয়। এজন্যই হয়তো স্পিনোজা বলেছেন, ‘ভালো খাদ্যবস্তু পেট ভরে কিন্তু ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে।’ ফ্রাৎস কাফকা বলেছেন, ‘আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাটবাঁধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই।’ বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, ‘জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই।’

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে ‘বই পড়া’ নিয়ে একটা সুপরিচিত ধারণা বিদ্যমান যে, বই পড়তে হয় চাকরির জন্য। আর বাস্তবতাও তাই, শিশু ছোটবেলা থেকে এটা শুনে বড় হয় যে, তাকে বড় হয়ে ডাক্তার, পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে তাই তাকে বই পড়তে হবে। পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পেতে হবে। এতে করে সেই শিশুটির মধ্যে এ ধারণা গেথে যায় যে, তাকে ভালো নম্বরের জন্য বই পড়তে হবে। একটা সময় গিয়ে সে মেশিনের মতো একের পর এক বই গলাধঃকরণ করলেও তা তার মেধা ও মননকে পরিশুদ্ধ করে না। বইয়ের শিক্ষা তার আচরণে ফুটে ওঠে না। আর তার মধ্যে অ্যাকাডেমিক কারিকুলামের বাইরে গিয়ে সাহিত্যচর্চা করার আগ্রহ জাগে না।

যার কারণেই হয়তো আজ আমাদের তরুণসমাজ বই পড়ার ব্যাপারে উদাসীন। তাদের মনোযোগের সক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তারা সৃজনশীল চিন্তায় পিছিয়ে পড়ছে। তাদের মধ্যে সহানুভূতিশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। যাদের নিয়ে আগামীর সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তারাই হয়তো হতে চলেছে জ্ঞানহীন, অজ্ঞ এক প্রজন্ম। এর পেছনে অনেকগুলো বাহ্যিক কারণকে দায়ী করা যায়। যার মধ্যে একটি বিকৃত সামাজিক মাধ্যমগুলোর প্রতি আসক্তি। আজ তরুণ, যুবসমাজ জাতির প্রতি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য ভুলে এক অন্ধ প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

তরুণ-যুবসমাজের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায় তাদের বই পড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করার কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক বই পড়ার চাপ কমিয়ে এর পাশাপাশি অন্যান্য বই (ফিকশন অথবা নন-ফিকশন হতে পারে) পড়ানোর জন্য সাপ্তাহিক, মাসিক পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে প্রতিটি গ্রামে-মহল্লায় একটি করে লাইব্রেরি তৈরি করে তাদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করা যেতে পারে। এলাকাভিত্তিক সংগঠন তৈরি করা যেতে পারে, যা তরুণ ও যুবকদের বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার বিকাশ ঘটাবে। দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে।

পরিশেষে বলা যায়, আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি, সে স্বপ্নপূরণে অবশ্যই প্রয়োজন একদল জ্ঞান ও দক্ষতাসম্পন্ন তরুণ, যারা মেধা ও মননে হবে নৈতিকতাসম্পন্ন, দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ ও অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই, বই পড়ার মাধ্যমেই হতে পারে তাদের নৈতিক চিন্তার বিকাশ। যার রেশ ধরেই হয়তো তারা আগামী দিনে জাতির জন্য সুফল বয়ে আনবে। লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রতি ১০ জনে ৭ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় মা কাজের তাগিদে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সাতক্ষীরা শহরের বাড়িতে একা হয়ে পড়া মেয়েটির ওপর তখন পরিবারের কার্যকর কোনো নজরদারি ছিল না। সেই সুযোগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয় তাকে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস পার হতেই সে জানতে পারে তার স্বামী একজন পেশাদার জুয়াড়ি। পাওনাদারদের চাপ, পারিবারিক কলহ আর স্বামীর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মুখে বাপের বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় সে। পরবর্তীতে পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে সম্প্রতি প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ-মাইনাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জীবনে বাল্যবিবাহের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে এই তরুণী এখন বিবাহ বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, অবুঝ বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সংসারে অশান্তি শুরু হয় এবং জানতে পারেন স্বামী নিয়মিত জুয়া খেলত ও ঋণের মধ্যে ছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে ফিরে এসে আবার পড়াশোনা শুরু করেছেন এবং ভবিষ্যতে নিজের মতো করে জীবন গড়ে তুলতে চান।
সাতক্ষীরা শহরজুড়ে আইনি ফাঁকফোকর, সামাজিক অবক্ষয় ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে শতশত কিশোরীর জীবন এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামের কলবাড়ি নেকজানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ও পার্শ্ববর্তী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে এই কিশোর-কিশোরী এক সাথে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের মধ্যস্থতায় বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়েছিল যে, বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই অঙ্গীকারনামা অমান্য করে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা জজ কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে এফিডেভিট করিয়ে ১৫ ও ১৬ বছরের দুই নাবালক-নাবালিকাকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করেন।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও আইনি ও দাপ্তরিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মহিলা বিষয়ক কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য না চাইলে পুলিশ সরাসরি গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না।
শ্যামনগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শফিক জানান, খবর পাওয়ার পর অভিযুক্ত ছেলের বাবাকে কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য অফিশিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তিনি উপস্থিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ছেলের বাবা রফিকুল ইসলামের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এফিডেভিটের মাধ্যমে সামাজিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের বর্তমান গড় হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে, যার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। উপকূলীয় এই অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও অতিরিক্ত লবণাক্ততায় নিয়মিত কাজ করার ফলে কম বয়সে মেয়েদের শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে সামাজিক ভীতি থেকে অভিভাবকেরা দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেন।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি হেলেনা বিলকিস জানান, ক্লিনিকে আসা গর্ভবতী নারীদের একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই বয়সে সন্তান ধারণের কারণে এবং অতিরিক্ত লবণাক্ত পরিবেশের প্রভাবে তাদের উচ্চ রক্তচাপ, এপিলেপসি ও রক্তস্বল্পতার হার বেশি। নদী পার হয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রসূতির মৃত্যু ঘটে।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন জানান, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে মেয়ে এবং ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ে বেআইনি। অসাধু নোটারি পাবলিক ও জালিয়াতি চক্র টাকার বিনিময়ে এফিডেভিট করে দিচ্ছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত জানান, কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই অঙ্গীকারনামা থাকার পরও বাল্যবিবাহ রোখা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ ও সঠিক সনদ যাচাই ছাড়া বিবাহ রেজিস্ট্রি বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, গোপনে ও এফিডেভিটের অপব্যবহার করে বিয়ে সম্পাদন করার কারণে সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয় না, তবে স্থানীয় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

সংবাদদাতা: আশাশুনির প্রতাপনগরে প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপদ অপসারণ ও আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক পরিবারভিত্তিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আইডিয়াল’-এর বাস্তবায়নে, ‘সিডিডি’-এর কারিগরি সহায়তায় এবং ‘লিলিয়ান ফন্ডস’-এর অর্থায়নে ‘রেজিলেন্স বিগিনস এট হোম’ প্রকল্পের অধীনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী শিশুর কেয়ারগিভার অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসেন। বক্তব্য দেন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মো. মামুন আলী ও প্রজেক্ট ফোকাল এস এম মিজানুর রহমান।

আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
আজকের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি দখল করে বানানো খুপড়ি ঘর ও বেড়া আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অপসারনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কালিগঞ্জ থানার গোলঘরে অনুষ্ঠিত এক সালিশি সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ১৪ আগস্ট রাতে গ্রাম পুলিশ সাইফুল ও তার সহযোগীরা জয়দেব রজক ও বাসুদেব রজকসহ ছয়টি পরিবারের জমিতে খুপড়ি ঘর নির্মাণ করে জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসুদেব রজক ও রীনা রানী রজক থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করলে শালিসি সভা ডাকা হয়।
সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর জানান, সাইফুলের পক্ষ থেকে জমির সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে অবৈধ ঘর ও বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শালিসি সভায় দক্ষিণ শ্রীপুর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জুলফিকার সাঁফুই ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তনামায় স্বাক্ষর করেন। কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম হাওলাদারকে বদলী করে সাতক্ষীরা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. শাহীন যোগদান করেছেন।