মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

বজ্রের আঘাতে মৃত্যু: সতর্কতার অভাব, নাকি নীরব দুর্যোগ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
বজ্রের আঘাতে মৃত্যু: সতর্কতার অভাব, নাকি নীরব দুর্যোগ?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বৈশাখের আকাশ যখন হঠাৎ কালো হয়ে ওঠে, দূরে কোথাও মেঘ গর্জে ওঠে, তখন প্রকৃতির এই স্বাভাবিক দৃশ্যই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হতে পারে মৃত্যুফাঁদে। বজ্রপাত-যা একসময় ছিল বিচ্ছিন্ন ও অপ্রত্যাশিত একটি প্রাকৃতিক ঘটনা-এখন ক্রমেই রূপ নিচ্ছে নিয়মিত এক দুর্যোগে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় একদিনেই একাধিক প্রাণহানির ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই সংকট আর উপেক্ষা করার মতো নয়। প্রশ্ন উঠছে-এই মৃত্যু কি শুধুই নিয়তির নির্মমতা, নাকি আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতির ফল? এক দিনের চিত্র: বহু জীবনের অবসানসম্প্রতি দেশের অন্তত সাতটি জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নাটোর ও পঞ্চগড়-এই বিস্তৃত ভূগোল যেন একটাই বার্তা দেয়: বজ্রপাত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একসঙ্গে তিন তরুণের মৃত্যু, মাঠে কাজ করতে গিয়ে কৃষকের প্রাণহানি, নদীর চরে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যুবরণ-এই ঘটনাগুলো কেবল সংখ্যা নয়, এগুলো বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের নির্মম প্রতিচ্ছবি। তাদের অধিকাংশই তখন জীবিকার প্রয়োজনে খোলা আকাশের নিচে ছিলেন-যেখানে বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বজ্রপাতে নিহতদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে-তারা প্রায় সবাই কৃষক, দিনমজুর, জেলে বা শ্রমজীবী মানুষ। অর্থাৎ যারা দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এটি কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের চিত্র নয়; এটি সামাজিক বৈষম্যেরও প্রতিফলন।

 

শহরের মানুষ যখন দালানকোঠায় নিরাপদে থাকেন, তখন গ্রামাঞ্চলের কৃষক খোলা মাঠে কাজ করতে বাধ্য হন। তাদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নেই, নেই তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা। বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাত বৃদ্ধির পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ার ফলে বায়ুম-লে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটে, যা বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা বাড়ায়।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের সম্ভাবনা প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশ, যা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, সেখানে এই প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান হওয়াই স্বাভাবিক। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে: যদি বজ্রপাত বৃদ্ধির পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী হয়, তাহলে এই মৃত্যু কি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক? নাকি এটি আংশিকভাবে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ? ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

 

এর আগে বজ্রপাতে মৃত্যুর কোনো সরকারি হিসাবও রাখা হতো না। এই স্বীকৃতির ফলে অন্তত বিষয়টি রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব পেয়েছে।কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই স্বীকৃতির পরও মাঠপর্যায়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন খুব একটা দৃশ্যমান নয়। বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপন, গ্রামভিত্তিক নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আর্থিং ব্যবস্থার প্রসার-এসব উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন সীমিত। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য।

 

কিছু সাধারণ সতর্কতা মানলেই অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব:বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে না থাকা, উঁচু গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় না নেওয়া, পানিতে অবস্থান না করা, দ্রুত দালান বা ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া, ঘরের ভেতরে ধাতব বস্তু স্পর্শ না করা, এই নির্দেশনাগুলো সহজ, কিন্তু সমস্যা হলো-এগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় না। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার ঘাটতি এখনো বড় বাধা। বজ্রপাত প্রতিরোধে তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

ধারণা করা হয়, উঁচু গাছ বজ্রকে মাটিতে নামিয়ে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু একটি তালগাছ বড় হতে ১৫-২০ বছর সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ে কীভাবে বর্তমান ঝুঁকি মোকাবিলা করা হবে? অন্যদিকে বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপন একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। কিন্তু এটি ব্যয়বহুল এবং পরিকল্পিত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এখনো দেশের অধিকাংশ গ্রামে এ ধরনের কোনো অবকাঠামো নেই। বজ্রপাতে মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নির্ভরযোগ্য নয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, ফলে অনেক ঘটনাই অজানা থেকে যায়।

 

এছাড়া আহত হয়ে পরে মারা যাওয়া বা মানসিক ট্রমার কারণে মৃত্যুর ঘটনাগুলোও পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয় না। ফলে সমস্যার প্রকৃত গভীরতা আমরা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারি না। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করে বজ্রপাতের আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। কিন্তু এই তথ্য কি মাঠপর্যায়ের কৃষকের কাছে পৌঁছায়? মোবাইলভিত্তিক সতর্কবার্তা, স্থানীয় পর্যায়ে সাইরেন বা মাইকিং ব্যবস্থা-এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে প্রাণহানি অনেক কমানো সম্ভব। বজ্রপাত মোকাবিলায় রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল নীতিনির্ধারণ নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ।

 

গ্রামভিত্তিক নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপন, আর্থিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা, সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি জোরদার করা, কৃষকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা, এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যু প্রায়ই ‘নিয়তি’ বলে মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মৃত্যুর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য। প্রকৃতি তার নিয়মে চলবে, কিন্তু মানুষের দায়িত্ব হলো সেই ঝুঁকি কমানো। পরিকল্পনার অভাব, সচেতনতার ঘাটতি এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা-এই তিনটির সমন্বয়েই বজ্রপাত এখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। বজ্রপাতের শক্তিকে কাজে লাগানোর স্বপ্ন বিজ্ঞানীরা দেখছেন-এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

 

কিন্তু তার আগে প্রয়োজন এই দুর্যোগ থেকে মানুষের জীবন রক্ষা করা। প্রতিটি প্রাণহানি একটি পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, একটি অর্থনৈতিক ভিত্তি নষ্ট করে দেয়। তাই বজ্রপাতকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। এখনই সময় এটিকে একটি অগ্রাধিকার জাতীয় ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা, এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। না হলে প্রতি বৈশাখে আকাশের গর্জনের সঙ্গে আমাদের শুনতে হবে আরও অনেক মৃত্যুর খবর-যা আসলে ছিল প্রতিরোধযোগ্য।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

বর্ণিল আয়োজনে সাতক্ষীরায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বর্ণিল আয়োজনে সাতক্ষীরায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস

পত্রদূত রিপোর্ট: ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বর্ণিল শোভাযাত্রায় সাতক্ষীরায় পালিত হয়েছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ১৫ মাসে (জানুয়ারি ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) আওতায় ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে জেলা জজ আদালত চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের লক্ষ্য সাতক্ষীরার গাবুরা থেকে কলারোয়ার ইলিশপুর পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া।”

তিনি আরও জানান, উল্লিখিত সময়ে ২ হাজার ১২০টি আবেদনের বিপরীতে ৫২০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এডিআরের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৮১টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার ওপর চাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করছে। এই সময়ে ২ হাজার ১৬৫ জন মানুষ সরাসরি আইনি সুবিধা পেয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশ নারী।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে সাতটায় জজ কোর্ট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালতে এসে শেষ হয়। এতে বিচার বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিলÑ আইনি সহায়তা মেলা। এতে সাধারণ মানুষকে আইনি পরামর্শ দিতে আদালত চত্বরে বসে বিশেষ বুথ। আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য ছিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ। শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নারী ক্যাটাগরিতে উম্মে হাবিবা রূপা এবং পুরুষ ক্যাটাগরিতে মো. আসাদুজ্জামান আসাদকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিকেলে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েল লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান বলেন, সরকারি এই উদ্যোগের ফলে এখন অর্থিক অনটনের কারণে কারও বিচারপ্রাপ্তি আটকে থাকছে না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুস সালাম, পিপি শেখ আবদুস সাত্তার এবং জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা একমত হন যে, সরকারি খরচে আইনি সহায়তা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

 

 

সাতক্ষীরায় শুক্রবার ‘ওষুধ বিড়ম্বনা’, দীর্ঘ লাইনে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শুক্রবার ‘ওষুধ বিড়ম্বনা’, দীর্ঘ লাইনে রোগীর স্বজনদের ভোগান্তি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মিললেও মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ। জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার অর্ধেকের বেশি ফার্মেসি বন্ধ রাখায় তীব্র সংকটে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। খোলা থাকা হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাক্সিক্ষত ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি (বিসিডিএস) সাতক্ষীরা শাখার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহরের বড় ফার্মেসিগুলো পালাক্রমে প্রতি শুক্রবার বন্ধ রাখা হয়। এক শুক্রবার পপুলার ফার্মেসি, সাতক্ষীরা ড্রাগ ও জিন্না ফার্মেসি বন্ধ থাকলে পরের শুক্রবার বন্ধ থাকে সাতক্ষীরা ফার্মেসি, নাহিদ মেডিকেল ও আলী মেডিকেলের মতো ব্যস্ততম দোকানগুলো।

ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, কর্মচারীদের বিশ্রামের সুযোগ দিতেই এই ‘রোটেশন’ পদ্ধতি। তবে সচেতন মহল বলছে, জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত অমানবিক।

শুক্রবার ঢাকা ও খুলনা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখাতে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে কয়েক হাজার রোগী শহরে ভিড় করেন। প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে যখন তাঁরা ওষুধের দোকানে যাচ্ছেন, তখন শুরু হচ্ছে নতুন বিড়ম্বনা।

আশাশুনির প্রতাপনগর থেকে আসা সাধন বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডাক্তার দেখানো আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করলাম। এখন ওষুধের দোকানে যে ভিড়, কখন বাড়ি ফিরব তার ঠিক নেই।”
অভিযোগ রয়েছে, ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কিছু ফার্মেসি কেবল বড় অংকের (এক মাস বা ১৫ দিনের) ওষুধের মেমো করছে। অল্প টাকার ওষুধ নিতে আসা রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে অথবা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শ্যামনগরের আফজাল শরীফ জানান, অসুস্থ মাকে নিয়ে তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে শহরে এসেছেন। কিন্তু ওষুধের দোকানের দীর্ঘ লাইনে অসুস্থ মায়ের কষ্ট আরও বাড়ছে।

ফার্মেসি বন্ধের এই সিদ্ধান্তে রোগীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেও বিসিডিএস সাতক্ষীরার সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “কর্মচারীদের নির্দিষ্ট শিফট না থাকায় তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাদের বিশ্রামের জন্যই এই ব্যবস্থা। তবে সেবায় বৈষম্য বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

এদিকে, জনস্বার্থে শুক্রবার সব ফার্মেসি খোলা রাখা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের মতে, চিকিৎসাসেবা যেখানে জরুরি সেবা হিসেবে স্বীকৃত, সেখানে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

 

আইনি সহায়তা দিবসে উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’-এর অংশগ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
আইনি সহায়তা দিবসে উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’-এর অংশগ্রহণ

সাতক্ষীরায় ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে স্থানীয় উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জেলা প্রশাসন ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজিত কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় সংগঠনটি।

সকালে জেলা জজ আদালত চত্বর থেকে বের হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে স্বদেশের মানবাধিকার আইনজীবী ফোরাম (এইচআরএলএফ), বিদ্যালয় নাট্যদল (বিনাদ) এবং ইয়ুথ গার্লস গ্রুপের সদস্যরা ব্যানার ও ফেস্টুনসহ যোগ দেন। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও খুলনা রোড মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আদালত চত্বরে এসে শেষ হয়।

স্বদেশ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা জেলায় মানবাধিকার উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছে। দিবসের আলোচনা সভায় স্বদেশের প্রতিনিধিরা ছাড়াও জেলা মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি আইনি সেবার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে তাঁদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি