রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনীত হলেন কলারোয়ার পুত্রবধূ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
বিএনপির সংরক্ষিত আসনে মনোনীত হলেন কলারোয়ার পুত্রবধূ
আরিফ মাহমুদ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
ওই তালিকায় স্থান পেয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার পুত্রবধূ সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। তুলির স্বামী ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন। তাদের বাড়ি উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের দাঁড়কি গ্রামে।
ইলিয়াস হোসেন জানান, তার স্ত্রী সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং এরও আগে সহ.সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে তুলি ছিল সক্রিয় ও রাজপথে সম্মুখ যোদ্ধা।
তুলির পিতা আক্তার হোসেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও  লালপুর উপজেলা বিএনপির সহ.সভাপতি ছিলেন।
তিনি আরো জানান, তিনি নিজেও পড়াকালীন সময়ে ছাত্রদলের রাজনীতি সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি চন্দনপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় কর্মরত।
ইলিয়াস হোসেন জানান, তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সংগঠনিক সম্পাদক, সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ.সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইলিয়াস হোসেনের পিতা আলী হোসেন ছিলেন দুবাই প্রবাসী। বিএনপি ঘরণার ব্যক্তি হওয়ায় ওয়ান ইলেভেনের সময় ২০০৮ সালে তিনি দুবাই পাড়ি জমান। হাসিনা সরকারের পতনের পর গেলো বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন।
সানজিদা ইয়াসমিন তুলিকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

Ads small one

সাংবাদিক-ব্লগারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করলেই জেল-জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
সাংবাদিক-ব্লগারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করলেই জেল-জরিমানা

সাংবাদিক, ব্লগার বা সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে সাইবার মামলা করে এখন আর পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলেই ভুক্তভোগী আসামি সরাসরি মূল অভিযোগকারীর (বাদী) বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। এমনকি কেউ মামলা করিয়ে থাকলে বা মিথ্যা মামলায় সহায়তা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও মূল অপরাধীর সমান দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়— আদালত (ট্রাইবুন্যাল) স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই মামলা করতে পারবেন।

গত ১০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫’ রহিত করে এই নতুন আইন পুনঃপ্রণয়ন করা হয়েছে।

মিথ্যা মামলার প্রতিকারে ২৮ ধারা

নতুন আইনের ২৮ ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়েরের অপরাধ ও দণ্ডের বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে।

সরাসরি মামলা: কোনও ব্যক্তি যদি অন্য কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ন্যায্য কারণ ছাড়াই মামলা বা অভিযোগ দায়ের করেন, তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি সরাসরি ঐ বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন।

সমপরিমাণ দণ্ড: মিথ্যা মামলাকারী ব্যক্তি ঠিক সেই দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন, যা মূল অপরাধের জন্য নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ যে ধারায় মিথ্যা অভিযোগ আনা হবে, বাদীকে সেই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে।

একাধিক ধারায় দণ্ড: যদি একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা করা হয়, তবে এর মধ্যে যে ধারার দণ্ড সবচেয়ে বেশি, সেটিই শাস্তি হিসেবে নির্ধারিত হবে।

সহায়তাকারীর সাজা: আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কেউ মিথ্যা মামলা করতে সহায়তা করেন, তবে তিনিও মূল অপরাধীর সমান দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ট্রাইব্যুনালের স্বতঃপ্রণোদিত ক্ষমতা

আইনের ২৮ (৩) উপধারা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মিথ্যা মামলাকারীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু করতে পারবে। দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলা করার ক্ষেত্রে আদালতের যে দীর্ঘসূত্রিতা বা অনুমতির বাধ্যবাধকতা ছিল, সাইবার সুরক্ষা আইনে সেই সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি।

সংসদে উদ্বেগ ও সরকারের নিশ্চয়তা

বিলটি পাসের সময় কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ মুক্তমত দমনে এই আইনের অপব্যবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও স্বাধীন সংস্থাগুলোর উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন। জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর কাছে তিনি জানতে চান— বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তে সাইবার সুরক্ষা আইন চালু হলেও সাংবাদিক, ব্লগার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে এই আইনের অপব্যবহারের প্রমাণিত অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া, স্বাধীন সংস্থাগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে। এই আইনটি মুক্তমত দমনে ব্যবহার না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে সরকার কোনও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করবে কিনা? না করলে কী উপায়ে এই আইনের অপব্যবহার রোধের নিশ্চয়তা সরকার প্রদান করবে?

জবাবে টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, আইনের অপব্যবহার রোধেই ২৮ ধারায় বাদীর শাস্তির বিধান কঠোর করা হয়েছে।

বিচারক, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারার মতো এখানেও মিথ্যা মামলার বাদীর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মানহানির মামলা বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল ছিল। এখন বিশেষ এই আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়রা ও জেলা জজ জানান, প্রচলিত দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও সাইবার সুরক্ষা আইনের মতো বিশেষ আইনে সেই জটিলতা নেই। এই আইনে ট্রাইব্যুনাল কোনও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অথবা নিজস্ব ক্ষমতায় (স্বতঃপ্রণোদিতভাবে) মিথ্যা মামলাকারীর বিচার করতে পারেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুরো মামলাটি মিথ্যা না হলেও যদি কোনও নিরপরাধ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করা হয় এবং তা আদালতে প্রমাণিত হয়, তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি সরাসরি বাদীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। এমনকি তদন্ত কর্মকর্তা যদি কাউকে অভিযোগ থেকে বাদ দেন, তবে সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বাহাউদ্দিন ইমরান বলেন, “প্রচলিত দণ্ডবিধি অনুযায়ী মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তি মানহানি বা ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারলেও ২১১ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৮ ধারায় এই সীমাবদ্ধতা নেই; এখানে ভুক্তভোগী সরাসরি মামলা করতে পারেন অথবা আদালত নিজেই ব্যবস্থা নিতে পারেন।”

একই প্রসঙ্গে পুলিশের সাবেক পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, সাধারণ ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার সুপারিশ এবং আদালতের সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করেই কেবল বাদীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন চাওয়া সম্ভব হয়। তবে সাইবার সুরক্ষা আইনের মতো বিশেষ আইনগুলোতে নিরপরাধ প্রমাণ হওয়া মাত্রই অভিযুক্ত ব্যক্তির সরাসরি আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ সহজ হয়েছে।

ব্লগার কিশোর পাশা ইমন বাক-স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব ভালো লাগা বা মন্দ লাগা প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কোনও ব্লগারের লেখায় ধর্মীয় সমালোচনা থাকলেই তাকে ‘ধর্মানুভূতিতে আঘাত’ হিসেবে গণ্য করা যৌক্তিক নয়, কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিপ্রায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নাও হতে পারে।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রকৃতপক্ষে যারা সেই লেখাগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা ‘মব’ সংগঠিত করে, দায় তাদের ওপর বর্তানো উচিত। অথচ বাস্তবে মূল লেখককে গ্রেফতার করা হলেও উসকানিদাতারা আড়ালে থেকে যাচ্ছে।” তিনি প্রত্যাশা করেন, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন যেন সাংবাদিক ও ব্লগারদের কণ্ঠরোধে ব্যবহৃত না হয়ে বরং মিথ্যা মামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।

কার্যকারিতা ও বিচার

আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ২০০৬ সালের সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনালে এই সংক্রান্ত মামলার বিচার কাজ পরিচালিত হবে। এই আইনটি ২০২৫ সালের ২১ মে থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

জনসমক্ষে না আসা খামেনিকে নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
জনসমক্ষে না আসা খামেনিকে নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা

 

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রহস্যময় প্রকাশ্য অনুপস্থিতি তেহরানের জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে তার অনুপস্থিতি এবং শান্তি আলোচনা নিয়ে নীরবতা খোদ ইরানের শাসক মহলেই অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে এক বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার স্ত্রী, সন্তান ও বাবা সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে মোজতবার পক্ষ থেকে কেবল কিছু লিখিত বার্তা এবং ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের দাবি, সেসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি অথবা পরিবর্তন করা।

মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিতে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ফাটল দেখা দিচ্ছে। যুদ্ধের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তারা এখন দ্বিধাবিভক্ত। ইয়েল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ আরশ আজিজি বলেন, খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতি তার কট্টরপন্থি সমর্থকদের বিচলিত করছে। তারা এই শান্তি আলোচনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষ করে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের মতো মধ্যপন্থি নেতাদের ওপর তারা ক্ষুব্ধ। তাদের অভিযোগ, গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক বেশি নতি স্বীকার করছেন।

কট্টরপন্থি অনেক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির কাছে অন্তত একটি অডিও বার্তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তিনি এই আলোচনার প্রতি নিজের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

ইরানের ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তার মতো বড় সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ নেতাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। মোজতবার দুই পূর্বসূরি প্রায়ই জনসমক্ষে এসে বিভিন্ন পক্ষের বিবাদ মেটাতেন। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ থামানোর সময় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যাকে তিনি ‘বিষের পেয়ালা’ পানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মোজতবার বাবা আলী খামেনিও ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আগে জনসমক্ষে আলোচনার সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে মোজতবার নতুন কোনও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি তার এক্স অ্যাকাউন্টের ছবি বা তেহরানের রাজপথের বিশাল বিলবোর্ডগুলোও এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। তার কোনও কণ্ঠস্বর না পাওয়ায় অনেক ইরানি নাগরিক প্রশ্ন তুলছেন, তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না।

ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই মোজতবা খামেনি নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। ইসরায়েলের ‘হিট লিস্টে’ তার নাম শীর্ষে থাকায় সুরক্ষার খাতিরে এই গোপনীয়তা। তবে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রথমবার দাবি করেন, তিনি খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টার একটি বৈঠক করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা যে মৃত নন, বরং নিরাপত্তার কারণে লুকিয়ে আছেন; সমর্থক ও বিরোধীদের তা বোঝাতেই পেজেশকিয়ান এই বার্তা দিয়েছেন।

এদিকে শুক্রবার রাতে খামেনির আঘাতের বিবরণ দিয়ে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফেব্রুয়ারির হামলায় মোজতবার পিঠ ও হাঁটু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। মোজতবার কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাজাহের হোসেনি বলেন, ‘শত্রুরা নানা অজুহাতে তার অডিও বা ভিডিও রেকর্ড পাওয়ার চেষ্টা করছে যাতে সেটির অপব্যবহার করা যায়। উপযুক্ত সময়ে তিনি নিজেই আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন।’

তবে এসব সরকারি বিবৃতিতে ধোঁয়াশা কাটছে না। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে কী আলোচনা হয়েছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তাদের সাক্ষাতের ধরণ, আর কবে কোথায় এই বৈঠক হয়েছে সে সম্পর্কেও কিছু জানানো হয়নি।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে বাড়ি ফিরলেন ৫৪ বছর পর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ জেলে বাড়ি ফিরলেন ৫৪ বছর পর

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সাগরে ৫৪ বছর আগে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া এক জেলে হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসেছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাগরে যার সলিল সমাধি হয়েছিল ভেবে স্বজনরা অপেক্ষার প্রহর গোনা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই ছৈয়দ আহাম্মদ (৮৩) বৃদ্ধ বয়সে আবারও ফিরে এসেছেন নিজের ভিটেমাটি ও স্বজনদের কাছে। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর ফিরে আসা ব্যক্তিকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজির হচ্ছেন অনেকে।

শুক্রবার (৮ মে) এ ঘটনায় ফিরে আসা বৃদ্ধের ছেলে আকরাম (৫৩) হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামের ফজলি বাড়িতে তিনি ফিরে আসেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় পাঁচ দশক আগে কুতুবদিয়া উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দীর্ঘদিন তার কোনও খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই। পরে স্বজনরা স্বাভাবিক জীবনেও ফিরে যান।

পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর কোনোভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাটান তিনি। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

গত ৫ মে দুপুরে হাতিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন ছৈয়দ আহাম্মদ। বাড়িতে এসে নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে অনেকে বিস্মিত হন। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসার এই ঘটনায় পরিবারে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।

ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে আকরাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও টাকাপয়সা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ঘটনাটিকে অবিশ্বাস্য ও আবেগঘন বলে মন্তব্য করেছেন। হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ ৫৪ বছর পর জীবিত ফিরে আসবেন, এটা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তবে বাড়িতে ফেরার পর তাকে ঘিরে পারিবারিক টানাপোড়েনও সৃষ্টি হয়েছে।

হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, বৃদ্ধের ছেলে আকরাম জানিয়েছেন তার বাবা ফেরত আসার পর তার চাচাতো ভাইদের কাছে উঠেছেন। পরে সামাজিক সিদ্ধান্তে তার কাছে থাকার জন্য বলেছেন। তবে তার চাচাতো ভাইয়েরা তার কাছে থাকতে দিচ্ছেন না।