মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বেসরকারি কুরিয়ারের ভোগান্তি বনাম ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’: সাতক্ষীরার আম পরিবহনে নতুন বিপ্লব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
বেসরকারি কুরিয়ারের ভোগান্তি বনাম ডাক বিভাগের ‘স্পিড পোস্ট’: সাতক্ষীরার আম পরিবহনে নতুন বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সুস্বাদু গোবিন্দভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়া আমের সুনাম দেশজুড়ে। আর হিমসাগর আম দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। দেশজুড়ে এই আমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, এতদিন দূর-দূরান্তে আম পাঠাতে গিয়ে বেসরকারি কুরিয়ার খরচের ধাক্কায় হিমশিম খেতে হতো সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের।

 

অনেক সময় আমের দামের চেয়ে কুরিয়ার খরচই হয়ে যেতো দ্বিগুণ। তবে এবার সেই চিরায়ত ভোগান্তি ও বেসরকারি কুরিয়ারের নানা অনিয়ম দূর করে অবিশ্বাস্য সাশ্রয়ী মূল্যে ও শতভাগ নিরাপত্তায় আম পরিবহনের দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ডাকবিভাগ।

 

প্রযুক্তি-নির্ভর ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসের মাধ্যমে এখন নামমাত্র খরচে সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ডাকবিভাগের এই ডিজিটাল, আধুনিক ও বিশ্বস্ত সেবায় এখন উচ্ছ্বসিত সাতক্ষীরার আম চাষী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ।

বেসরকারি কুরিয়ারে আম চুরি ও অনিয়ম: বিপাকে তরুণ উদ্যোক্তারা: যেখানে সরকারি ডাক বিভাগ আম পরিবহনে স্বস্তি এনে দিয়েছে, সেখানে বেসরকারি কিছু নামী-দামী কুরিয়ার সার্ভিসের চরম অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতায় বিপাকে পড়েছেন আম ব্যবসায়ীরা। অনেক উদ্যোক্তা ও ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরেছেন।

 

সাতক্ষীরার আম ব্যবসায়ী ও জনপ্রিয় ব্লগার রাহাত রাজা নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টিড ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস তরুণ আম ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অনলাইনে আম বিক্রয়ের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হলেও, ঈদের আগ মুহূর্তে সাতক্ষীরার আম সময়মতো ডেলিভারি না হওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে আমের লট হারিয়ে যাওয়ার কারণে বহু উদ্যোক্তা আজ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

কুরিয়ার সার্ভিসের অনলাইন সেবায় যোগাযোগ করলে বারবার শুধু ‘স্যার দেখছি’ বলে সময় পার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে সমস্যার কোনো সমাধান মেলে না। একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের এমন দায়িত্বহীনতা তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ও স্বপ্ন-দুটোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাতক্ষীরা হাবের নাম্বার সারাদিন বন্ধ থাকে, জোনাল ম্যানেজার ফোন রিসিভ করেন না। আম পচে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে। এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

অনুরূপ এক অভিযোগ তুলে ধরে এস এম হারুন নামে একজন আম ব্যবসায়ী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, স্টিট ফাস্ট এর অভিনব পদ্ধতিতে চুরি! উপরে বস্তা খুলে আবার সুন্দরভাবে প্যাকেজিং করে দিছে। কিন্তু ভিতরে পেপার ছিঁড়ে ২ কেজি আম চুরি করে ফেলেছে। এত এত ভোগান্তি যদি একটা কুরিয়ার করে, তাহলে ছোটখাটো উদ্যোক্তারা কীভাবে টিকে থাকবে?

শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধেও উঠেছে চুরির অভিযোগ। কুমিল্লার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মারুফ জানান, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাতক্ষীরা থেকে আম আসার পরে আমার ক্যারেট থেকে কিছু আম বের করে নেওয়া হয়েছে।

এইসব বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত বেসরকারি কুরিয়ার স্টিট ফাস্ট-এর সাতক্ষীরা হাবের জোনাল ম্যানেজার গোলাম রসুলের ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আশার আলো ‘পোস্ট অফিস’: পানির দামে দ্রুততম ডেলিভারি: বেসরকারি কুরিয়ারগুলোর এই চুরির আতঙ্ক ও চরম অব্যবস্থাপনার বিপরীতে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। সাতক্ষীরা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, ডাক বিভাগের বিশেষ ‘স্পিড পোস্ট’ সার্ভিসে আম বুকিংয়ের খরচ অবিশ্বাস্য রকম কম।

বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো যেখানে প্রতি কেজিতে ১৩ থেকে ২০ টাকা বা তারও বেশি চার্জ নিচ্ছে, সেখানে ডাকবিভাগের এই রেট আমূল পরিবর্তন এনেছে। হিসাব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক ২০ কেজি আম পাঠালে তার মোট খরচ পড়ছে ভ্যাট ও উৎস করসহ মাত্র ১১৬ টাকা। ফলে, আমের মূল্যের চেয়ে কুরিয়ার খরচ বেশি হওয়ার সমস্যা এখন অতীত।

কম খরচের পাশাপাশি ডাকবিভাগের দ্রুততম ডেলিভারির বিষয়টি নজর কেড়েছে ব্যবসায়ীদের। সকালে বুকিং করলে ওইদিন সন্ধ্যার মধ্যেই খুলনায় আম পৌঁছে যাচ্ছে। বুকিং করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের গ্রাহক আম হাতে পাচ্ছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বুকিংয়ের এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আম পৌঁছে যাচ্ছে।

সরকারি সেবায় শতভাগ নিরাপত্তা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি: ডাক বিভাগের এই আধুনিক ও নিরাপদ সেবা পেয়ে কুড়িগ্রামের আম ক্রেতা আরিফুল ইসলাম রিগান অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, পোস্ট অফিস সার্ভিস পেয়ে খুব ভালো লেগেছে, খুব দ্রুত আম পেয়েছি। অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যাপারে শুনেছি আম বের করে নেয়। কিন্তু পোস্ট অফিসে যারা কাজ করেন, তারা সরকারি চাকরি করেন। সামান্য কিছু আমের জন্য তারা চাকরি হারাবেন না-এই দায়িত্ববোধ তাদের মাথায় রাখতে হয়। তাই পোস্ট অফিসের সেবাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ঢাকা শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জিপিও এবং সাব-পোস্ট অফিসের আওতায় এই আম সরাসরি ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম এলাকাগুলো হলো, গুলশান, বনানী, ভাটারা, খিলক্ষেত, উত্তরা, পল্লবী, মিরপুর, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সাব-পোস্ট অফিস, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, নিউ মার্কেট, তেজগাঁও, ঢাকা পলিটেকনিক, খিলগাঁও, বাসাবো, ওয়ারী, পোস্তা, গ্যান্ডারিয়া, ধোলাইপাড় (ধনিয়া), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা সদর সাব-পোস্ট অফিস এবং ঢাকা জিপিও।

Ads small one

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া এলাকায় সরকারি রাস্তার জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার এবং নির্মিত অবকাঠামো অপসারণের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তা তোয়াক্কা না করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুছ আলীর পরামর্শে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম তিনজন নির্মাণশ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে রায়ের কোনো অনুলিপি তারা দেখাতে পারেননি।
ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানদিয়া এলাকার শেখ খোরশেদ আলী তাঁর নিজস্ব জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তার জায়গা দখল ও পাকা ঘর নির্মাণের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম ও ইউনুছ আলীকে কাজ বন্ধ করার জরুরি নোটিশ দেন। নোটিশে নিজ খরচে অবকাঠামো অপসারণের নির্দেশ থাকলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, বিতর্কিত সম্পত্তিটি ধানদিয়া মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১৬১২ নম্বর দাগের ০.০৫ একর সরকারি রাস্তার জমি।
ভূমি অফিসের নোটিশ ছাড়াও এই জায়গা নিয়ে আদালতে ১৮৮ ধারার একটি মামলা (নং- পি ৪৫৩/২৬) চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত দুদিন ধরে কাজ চলছে। বিষয়টি কলারোয়া থানার ওসিকে জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি তো থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়েছি। আর কতবার পাঠাবো?” এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযুক্ত ইউনুছ আলী বলেন, “ম্যাপ করার সময় ভুলবশত রাস্তা আমাদের জমির মধ্যে ঢুকে গেছে।” সরকারি এই রাস্তাটি ১৪ ফুট চওড়া থাকার কথা স্বীকার করলেও তাঁর নির্মাণাধীন ঘরের কারণে রাস্তার পরিমাপ ঠিক থাকছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রওশন আলী গাজী বলেন, “সরকারি রাস্তার ওপর ঘর তৈরি করতে আমি নিজে ইউনুছ ও জহুরুলকে অনেকবার নিষেধ করেছি। তারা আইন মানে না। নিজেদের ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা তাই করে। লোকবল আছে বলে তারা কোনো নিয়ম মানতে চায় না। এ রাস্তা নিয়ে অনেকবার সালিস হলেও তারা তা মানেনি।”
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে গত দুদিনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ধুলিহরে দুটি টিউবওয়েল স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ধুলিহরে দুটি টিউবওয়েল স্থাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে দুটি নলকূপ (টিউবওয়েল) স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) আসরের নামাজের পর ধুলিহর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর কেন্দ্রীয় মাঞ্জেখানা মসজিদ ও বালুইগাছা আল মদিনা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই নলকূপ দুটির উদ্বোধন করা হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও জার্মানপ্রবাসী জুলফিকার হায়দার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আব্দুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সদস্য শামীম সানা, আব্দুল হাকিম, আতাউর রহমান রিংকু ও মেহেদী হাসান শিমুল। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী।

দেবহাটায় শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হননি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হননি

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলায় শাশুড়িকে চেতনানাশক স্প্রে করে এবং চাকু দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার একমাত্র আসামি আসাদুল ইসলাম (৩৮) ঘটনার দেড় মাস পরও গ্রেপ্তার হননি। মামলা হওয়ার পরও আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। উপরন্তু মামলা তুলে নিতে আসামিপক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি দেবহাটার নাজিরের ঘের গ্রামের নুর ইসলাম সানার মেয়ে নার্গিস খাতুনের (৩৬) সঙ্গে বিয়ে হয় কাশিপুর গ্রামের আইজুদ্দীন মোড়লের ছেলে আসাদুল ইসলামের। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে এবং ঘটনার সময় নার্গিস ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে নার্গিসের ওপর নির্যাতন চলত।
অভিযোগে বলা হয়, গত এপ্রিল মাসে অন্তঃসত্ত্বা নার্গিসকে মারধর করা হলে তাঁর বাবা-মা মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদুল ওই রাতেই শ্বশুরবাড়িতে চড়াও হন। সেখানে শাশুড়ি আদুরীনেছাকে (৭০) একা পেয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে অচেতন করেন এবং চাকু দিয়ে কুপিয়ে চোখ ও মুখম-লসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। পরে বৃদ্ধাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সখিপুর হাসপাতাল এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর দেবহাটা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে ঘটনার ২০ দিন পর দেবহাটা থানা মামলাটি (সিআর ৮৭/২৬) রেকর্ড করে। তবে মামলা দায়েরের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আসাদুলকে গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন বাওয়ালী দেবহাটা থানা থেকে বদলি হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার সময় অন্তঃসত্ত্বা থাকা নার্গিস খাতুন সম্প্রতি একটি সন্তানের জন্ম দিলেও আসামি আসাদুল সন্তান বা স্ত্রীর কোনো খোঁজ নেননি।
নার্গিস খাতুনের বৃদ্ধ বাবা নুর ইসলাম সানা (৭৮) বলেন, “আমরা এখন জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রীকে যে মানুষটা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে, সে এখন বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। দেড় মাস হয়ে গেল অথচ পুলিশ তাকে ধরছে না। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম বলেন, মামলাটিতে একজন আসামি এবং এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি যদি বাদী পক্ষকে কোনো ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে, তবে থানায় এসে জানালে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।