বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

মাঠে সোনালি ধান, তবুও কৃষকের মুখে দুশ্চিন্তার রেখা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
মাঠে সোনালি ধান, তবুও কৃষকের মুখে দুশ্চিন্তার রেখা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বিস্তীর্ণ গ্রামীণ জনপদে এখন বোরো ধান কাটার মৌসুম। তালা, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, শ্যামনগর-সবখানেই একই দৃশ্য। মাঠজুড়ে সোনালি ধানের ঢেউ, উঠোনে মাড়াই, গোলায় নতুন ফসল তোলার প্রস্তুতি। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাস্তের শব্দে মুখর গ্রামবাংলা। প্রথম দেখায় এটি প্রাচুরে‌্যর এক উজ্জ্বল ছবি-একটি সফল মৌসুমের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই দৃশ্যের আড়ালে রয়েছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা-বাম্পার ফলনের মাঝেও কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি নেই। এই বৈপরীত্য-উৎপাদন বাড়লেও আয় না বাড়া-বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির একটি দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রতিফলন। সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় জেলায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে, কারণ এখানে প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও বাজারব্যবস্থার দুর্বলতা একসঙ্গে কাজ করে। সাতক্ষীরা মূলত একটি উপকূলীয় জেলা। এখানে কৃষি শুধু পেশা নয়, জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা-এই সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই কৃষকেরা প্রতিবছর ফসল ফলান। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, সেচব্যবস্থা এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের কারণে উৎপাদন বেড়েছে। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় ফলন বেশি হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্য কৃষকের জীবনে প্রত্যাশিত স্বস্তি এনে দিতে পারছে না। কারণ, উৎপাদনের পরবর্তী ধাপ-বাজার-এখনো তাদের জন্য অনিশ্চিত ও প্রতিকূল। উৎপাদন খরচের চাপ: লাভের সীমা সংকুচিত, গত কয়েক বছরে কৃষি উপকরণের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি সারের দাম বৃদ্ধি, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, যার প্রভাব সেচে, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্য, শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধি,এসব কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সাতক্ষীরার মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে-প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ: ৭৫০-৯০০ টাকা, অনেক ক্ষেত্রে বিক্রি: ৭০০-৯৫০ টাকার মধ্যে অর্থাৎ, লাভের পরিসর অত্যন্ত সীমিত, অনেক সময় শূন্যের কাছাকাছি। ফলে কৃষকের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। সাতক্ষীরার কৃষকদের একটি বড় অংশ দাদন বা আগাম ঋণের ওপর নির্ভরশীল। মৌসুম শুরুর আগে তাদের হাতে পর্যাপ্ত মূলধন থাকে না। ফলে তারা মহাজন, এনজিও বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণ নেন। এই ঋণের বিনিময়ে অনেক সময় অঘোষিত শর্ত থাকে-ফসল উঠলে নির্দিষ্ট দামে সেই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করতে হবে। ফলে কৃষক বাজারে ভালো দাম পেলেও সেই সুবিধা নিতে পারেন না। তিনি হয়ে পড়েন ‘বাধ্য বিক্রেতা’। এই কাঠামো কৃষকের দরকষাকষির ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব: বৈষম্যমূলক মূল্য শৃঙ্খলধান উৎপাদন থেকে ভোক্তার প্লেটে পৌঁছানো পর্যন্ত একটি দীর্ঘ সরবরাহ শৃঙ্খল রয়েছে। এতে ফড়িয়া, আড়তদার, মিলার, পাইকার-অনেকেই যুক্ত। সমস্যা হলো, এই শৃঙ্খলে সবচেয়ে কম লাভ পান উৎপাদক কৃষক। ফড়িয়ারা মাঠ থেকে কম দামে ধান কিনে-সংরক্ষণ করে বা দ্রুত বাজারে বিক্রি করেপরে সেই ধান মিল হয়ে চাল হিসেবে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। এই ব্যবস্থায়-ঝুঁকি নেয় কৃষকলাভ পায় মধ্যস্বত্বভোগী, ফলে কৃষি অর্থনীতিতে একটি বৈষম্য তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। গ্রামীণ সাতক্ষীরায় আধুনিক সংরক্ষণ অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। ধান কাটার পর কৃষকের সামনে দুটি পথ- সংরক্ষণ করা, দ্রুত বিক্রি করা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা দ্বিতীয় পথটি বেছে নেন, কারণ-নগদ অর্থের প্রয়োজন, ঋণ পরিশোধের চাপ, সংরক্ষণের সুবিধার অভাব, ফলে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দাম কমে যায়। সাতক্ষীরার বিশেষ বাস্তবতা হলো এর জলবায়ু ঝুঁকি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা কৃষিকে অনিশ্চিত করে তোলে। এই অনিশ্চয়তা কৃষকের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তিনি নিশ্চিত কম দামে বিক্রি করাকে অনেক সময় বেশি নিরাপদ মনে করেন। এটি একটি ‘ঝুঁকি এড়ানোর অর্থনীতি’, যা বাজারের স্বাভাবিক গতিকে প্রভাবিত করে। সরকারি ক্রয়নীতি: সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা-সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচি কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু সাতক্ষীরার বাস্তবতায় এটি পুরোপুরি কার্যকর নয়। সমস্যাগুলো হলো-ক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা কম, প্রক্রিয়া জটিল, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ, ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। কৃষকের মনস্তত্ত্ব: তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের অগ্রাধিকার-কৃষকের সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকও। পরিবারের খরচ-ঋণের চাপ, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা-এই সবকিছু মিলিয়ে তিনি দ্রুত নগদ অর্থকে অগ্রাধিকার দেন। ফলে সম্ভাব্য বেশি দামের অপেক্ষা না করে কম দামে বিক্রি করাই বাস্তবসম্মত মনে হয়। সমাধানের পথ: কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি-এই সমস্যার সমাধানে কিছু মৌলিক পদক্ষেপ প্রয়োজন-সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয়, সরকারি ক্রয়কেন্দ্র বাড়াতে হবে, প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন-গ্রাম পর্যায়ে আধুনিক গুদাম স্থাপন করতে হবে। সমবায়ের মাধ্যমে বাজারে দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। মধ্যস্বত্বভোগীদের অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব কমাতে হবে। কৃষককে বাজারদরের তথ্য সহজলভ্য করতে হবে। সাতক্ষীরার মাঠে আজ যে সোনালি ধান দুলছে, তা শুধু খাদ্য উৎপাদনের প্রতীক নয়-এটি কৃষকের পরিশ্রম, সংগ্রাম ও আশার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু যদি সেই ফসলের ন্যায্যমূল্য কৃষকের ঘরে না পৌঁছায়, তাহলে এই সাফল্য অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বাম্পার ফলন তখনই সত্যিকার অর্থে সাফল্য হবে, যখন কৃষকের ঘরেও স্বস্তি, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত হবে। সাতক্ষীরার এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-কৃষির সাফল্য শুধু উৎপাদনের অঙ্কে নয়,কৃষকের জীবনের মানে তার প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয়। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বড়ালী হতে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চারাবাড়ি হতে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

 

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিদের জীবন সত্যিই চরম অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং কষ্টের প্রতীক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীল।

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গভীর বনে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ সময় তাদের প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার প্রকোপে তাদের জীবন ও জীবিকা বারবার বিপর্যস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও চাষাবাদের জমি নষ্ট হওয়া তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বনজীবীদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। ওই দীর্ঘ সময়টাতে কাজ না থাকায় অনেকেই চরম মানবিক সংকটে ও অনাহারে দিন কাটান। বনে যাওয়ার জন্য দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এরপর বন থেকে আহরিত সম্পদ বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, ফলে সারা বছর অভাব পিছু ছাড়ে না। বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বনের পরিস্থিতি অনেক অশান্ত এবং বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করে বনে টিকে থাকা এখনো একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অন্যতম প্রধান নদী শাকবাড়িয়ার তীরে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা ও গোলখালী। এই ১৫টি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখনও বনের সম্পদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বনজীবীরা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহ করা। বনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে এরা চিংড়ি পোনাও ধরে থাকেন। জীবিকা নির্বাহে এটাও তাদের অন্যতম কাজ।

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। উপকূলের সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব মানুষের বসবাস, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে যান। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি।

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের জেলে রহমত সরদার বলেন, গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন জেলেদের কটু কথা বলে। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা কেটে নিয়ে নেয়। কোন সঞ্চয় তো হয় না ঝণ করতে হয়। দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে জেলেরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কপিলমুনি ফাঁড়ী পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাশিমনগর মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও পুলিশকে সহায়তা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির দেহে তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কপিলমুনির নাছিরপুরের খালেক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জয়নাল বিশ্বাস (২৬) ও আফসার বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আলমগীর বিশ্বাস (৪০)। তাদের পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।