বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

মা-বাবা আর ফিরবেন না, তবু পথ চেয়ে ১২ বছরের তসেরিং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
মা-বাবা আর ফিরবেন না, তবু পথ চেয়ে ১২ বছরের তসেরিং

১২ বছরের শিশু তসেরিং ক্যামেরার লেন্সের দিকে সোজা তাকিয়ে আছে। চারপাশে জমা হওয়া মানুষ আর ক্যামেরার সরঞ্জাম দেখে তার ভেতরে কাজ করছে এক তীব্র কৌতূহল। সে এখনও জানে না, তার চারপাশের সবাই যে সত্যটি ইতোমধ্যে জেনে গেছে।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধস ও শিলাখণ্ড ভেঙে নদীর উপত্যকায় নেমে আসা বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়া শত শত মানুষের একজন তসেরিং। ওই এক বন্যায় নেপালেই ১,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, নিখোঁজ হাজারও মানুষ এবং মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একের পর এক গ্রাম। কাঠমান্ডুতে বড় খালা মিংমার দোলমা এবং তার বাবার মায়ের সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া তসেরিংয়ের মা কাম্মি ও বাবা ফুরসাং- দুজনেই মারা গেছেন। তবে তসেরিংকে এখনও সেই খবর দেওয়া হয়নি।

তার অভিভাবকরা তাকে বলেছেন, তার বাবা-মা বনের মধ্যে কোথাও আটকা পড়ে আছেন। রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের ফিরতে এক বা দুই বছর সময় লাগতে পারে। শিশুটি তাদের এই কথা বিশ্বাস করেছে। কখনও কখনওঃ বড়দের কাঁদতে দেখে সে কারণ জিজ্ঞেস করে এবং নিজেও কেঁদে ফেলে। বড় খালা মিংমার দোলমা চোখের জল চেপে বলেন, তার বাবা-মা আর এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তসেরিং এখনও তাদের ঘরে ফেরার পথ চেয়ে অপেক্ষা করছে।

বন্যা ও ধসে ঘরবাড়ি এবং রাস্তা-ব্রিজ হারিয়ে রসুয়া অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৫২০ জন দুর্গত এখন কাঠমান্ডুর একটি বৌদ্ধ আশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে প্রতি পদে কেবলই স্বজন হারানোর বেদনা। প্রবীণদের দীর্ঘশ্বাস কিংবা সন্তানদের পাহারায় থাকা অভিভাবকদের নীরবতায় কেবলই হারিয়ে যাওয়া জীবনের হাহাকার।

তবে জীবন থমকে থাকেনি। আশ্রমে প্রবেশের পথেই একটি তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে নতুন আসা মানুষের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে- যা হয়তো স্বজনদের খোঁজে থাকা পরিবারগুলোকে সাহায্য করবে। ভেতরে চিকিৎসকদের দল, সুপেয় পানি, বাথরুম ও যৌথ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেঝে ও প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে প্রবীণ, নারী ও শিশুরা একসঙ্গেই আহার করছেন। বিশাল এই অস্থায়ী কমিউনিটি কিচেনের জন্য চালের বস্তা, শাকসবজি ও পানির বোতল সারি সারি করে রাখা রয়েছে।

আশ্রমে আসা শিশুদের জন্য যেন এক ভিন্ন জগৎ গড়ে তোলা হয়েছে। একটি ট্রাম্পোলিন, ফুটবল, ছোট ছোট তাঁবু এবং তাতে জমানো খেলনা ও মেধা বিকাশকারী গেম। বয়সে একটু বড় শিশুরা যখন খোলা মাঠে দৌড়াদৌড়ি করছে, তখন ছোটরা তাঁবুর ভেতরে নিজেদের খেলায় মগ্ন। খেলাধুলার এই কয়েকটা মুহূর্ত হয়তো অতীত ফিরিয়ে আনবে না, তবে বন্যা এবং স্বজন হারানোর বিভীষিকা থেকে এই শিশুরা কিছুক্ষণের জন্য হলেও মুক্তি পায়।

৪০ বছর বয়সী শ্যাম বাহাদুর তামাং তার পরিবার নিয়ে ৩৫ বছর ধরে নিজের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করছিলেন। গত ২৬ আগস্ট গ্রামের দিকে যাওয়ার সময় তিনি ফোনে জানতে পারেন বিধ্বংসী বন্যা আসছে। খবর পেয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে নিজ গ্রামের দিকে তাকাতেই দেখেন সবকিছু চোখের সামনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বাড়িতে তার মা, বড় ভাই ও বড় মেয়ে ছিলেন। বন্যা দেখতে পেয়ে বড় ভাই তার ভাইয়ের মেয়েকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিতে বলেন। মেয়েটি দ্বিধা করলে ভাই তাকে ধাক্কা দিয়ে উঁচু নিরাপদ স্থানে পাঠাতে সক্ষম হন। মেয়েটি বেঁচে গেলেও তার চোখের সামনেই ভেসে যায় তাদের ভিটেবাড়ি, ঠাকুরমা ও কাকা। মাকে একা ফেলে রেখে আসতে না পেরে বড় ভাইও মায়ের সঙ্গেই থেকে যান এবং পানির তোড়ে ভেসে যান। শ্যাম বলেন, কোন ছেলে মাকে ফেলে পালিয়ে আসতে পারে? শ্যামের স্ত্রী ও সন্তান আশ্রমে বেঁচে থাকলেও তার মা ও ভাই আর নেই। তার দীর্ঘদিনের বাসস্থান, আশপাশের বাজার এবং সংলগ্ন তিনটি বসতভিটা পুরো ধুয়ে-মুছে গেছে। স্বজন হারিয়ে নিঃস্ব শ্যামের একটাই প্রশ্ন- আমরা কীভাবে আবার ঘর তুলব? টাকা কোথায় পাব? আগে আমরা সুন্দর জীবন কাটাতাম, এখন আমরা পুরোপুরি শূন্যে এসে ঠেকেছি।

আশ্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা বুজুং নিজেও হারিয়েছেন তার আত্মীয়স্বজন ও পুরো গ্রামকে। তার নিজ গ্রামের ৪৩টি পরিবারের বন্ধন অত্যন্ত নিবিড় ছিল। বন্যায় তার পরিবার ও নিকটাত্মীয়সহ ৫০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। বিপর্যয়ের সময় বুজুং বাইরে ছিলেন এবং বিদ্যুৎ বা নেটওয়ার্ক না থাকায় স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি।

এখন আশ্রমে অন্যদের সাহায্য করার পাশাপাশি নিজ গ্রাম ও পরিজনদের হারানোর বেদনায় তিনিও কাঁদেন। বুজুং একের পর এক আলোকচিত্র টেবিলের ওপর সাজিয়ে রাখতে শুরু করেন। এতে রয়েছে গ্রামবাসী, মা-বাবা, শিশু, ভাই-বোন ও বন্ধুদের মুখ। একসময় ছবি রাখতে গিয়ে পুরো টেবিলের জায়গা শেষ হয়ে যায়। প্রতিটি ছবি একটি প্রাণ ও একটি পরিবারের বিলুপ্ত হওয়ার গল্পের সাক্ষ্য দিচ্ছে।

তিব্বতের বন্যাকবলিত অঞ্চলে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দিলো চীনতিব্বতের বন্যাকবলিত অঞ্চলে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দিলো চীন
আশ্রমের একটি বিশাল হলঘরে সারি সারি দোতলা বাঙ্কার বেড সাজানো রয়েছে। যেখানে নিজেদের ঘর হারিয়ে আসা মানুষরা ব্যাগ ও কম্বল নিয়ে ঘুমাচ্ছেন।

সন্ধ্যা নামতেই আশ্রমে নেমে আসে এক অদ্ভুত নীরবতা। খেলা শেষে ক্লান্ত শিশুরা ঘুমাতে যায়, আর বড়রা আশ্রয় নেন নিজেদের বাঙ্কার বেডে। কারও হাতে শুধুই ছবি, কারও কাছে বার্তা আসার অপেক্ষায় থাকা সচল একটি ফোন, আর কারও কাছে শুধুই স্মৃতি। আশ্রমে আশ্রয় নেওয়া ৫২০ জন মানুষ যেন তাদের হারিয়ে যাওয়া অতীত এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝখানে ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে আছেন। কারও অপেক্ষা স্থায়ী ঠিকানার, কারও ধ্বংস হওয়া রাস্তা চালুর সংবাদের, আর ১২ বছরের শিশু তসেরিংয়ের অপেক্ষা কেবল সেই দুজন মানুষের জন্য- যারা আর কোনোদিনই ফিরে আসবেন না।

সূত্র: এনডিটিভি

Ads small one

কালিগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের দল গঠন উপলক্ষে প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের দল গঠন উপলক্ষে প্রতিযোগিতা

বিশেষ প্রতিনিধি: ইনস্পেকটর জেনারেল অব পুলিশ আইজিপি’র নির্দেশনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কালিগঞ্জ থানার বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠন করা হয়েছে একটি চৌকস কাবাডি টিম। বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার কাবাডি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে উপজেলা পরিষদ মাঠে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এতে সভাপতিত্ব করেন কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান। এ সময় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাহিনুর রহমান জানান, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। খেলাধুলার মাধ্যমে সুন্দর, সুস্থ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

 

সাতক্ষীরায় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি দ্বীন আলী ও সম্পাদক শাহ আলম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি দ্বীন আলী ও সম্পাদক শাহ আলম

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সাতক্ষীরার সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের রাজ হোটেলের ২য় তলার সম্মেলন কক্ষে উক্ত সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সাতক্ষীরার সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীন আলী।

 

এসময় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ, চেম্বার অব কমার্স সাতক্ষীরার পরিচালক গোলাম আযম, আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফাসহ বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সাতক্ষীরার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণ সভায় সমিতির হিসাব বিবরণী পেশ ও অনুমোদন, ব্যবসায়ীদের সুবিধা অসুবিধায় সঙ্গে থাকা এবং কোন ধরনের জুলুম অত্যাচেরর বিরুদ্ধে অবস্থান থাকার ঘোষণাসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ ছাড়া আগামি ২ বছর মেয়াদের জন্য আলহাজ্ব মোঃ দ্বীন আলীকে সভাপতি ও শাহা আলমকে সম্পাদক করে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি নির্বাচিত করা হয়।

দেবহাটায় সোনালু বাগান উদ্বোধন করলেন ডিসি কাউসার আজিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় সোনালু বাগান উদ্বোধন করলেন ডিসি কাউসার আজিজ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় সোনালু বাগান সৃজন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কোমরপুর এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ কাউসার আজিজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে বেশি বেশি গাছ লাগানোর ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ বছর সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বিশেষ বাগান সৃজন করা হচ্ছে। দেবহাটার পারুলিয়ায় সোনালু গাছের বাগান করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দৃষ্টিনন্দন ভ্রমণস্থলে পরিণত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভায় দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহার পরিচালনায় বক্তব্য দেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঈনুল ইসলাম মঈন, দেবহাটা উপজেলার সহকরী কমিশনার (ভূমি) চৌধুরী আল মাহামুদ, দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার শওকত ওসমান, দেবহাটা থানার ওসি এইচএম শাহিন, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন হিরা, ইউপি সদস্য আব্দুর আলিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।

এদিকে বৃক্ষ রোপণ শেষে আলোচনা সভায় আলোচনা রাখেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া কোমরপুর কুমড়াখালি খালের উপর আয়রন ব্রীজ পরিদর্শন করেন।