সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

যশোরের আদর্শ গ্রাম ভায়না-ফতেপুর: আত্মউন্নয়নে ব্রতী একটি গণগবেষণা পরিবারের কথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
যশোরের আদর্শ গ্রাম ভায়না-ফতেপুর: আত্মউন্নয়নে ব্রতী একটি গণগবেষণা পরিবারের কথা

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর

রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার বা ব্যক্তিগত জীবনে যা কিছু উপকারী, উপাদেয় বা ভাল বলে স্বীকৃত, স্বভাবতই মানুষ তা গ্রহণ করে এবং ধরে রাখে। কেউ কেউ আদর্শিক এহেন উপাদান/উপাদানসমূহকে পরিচিত মহলে ছড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে থাকেন; ঘনিষ্টজনকে উৎসাহিত করেন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি অনুশীলনের মাধ্যমে সজীব রাখার জন্য, শাণিত করার জন্য। আমাদের সভ্যতা এভাবেই এগিয়ে চলছে। মানুষের বিশেষত গুণীজনের আচরণ, বই-পুস্তক, সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, প্রথাচার, আইন পভৃতির উৎপত্তি ও বিকাশ এভাবেই সম্ভব হয়েছিল। আবার, সর্বসাধারণের আচরণ ও প্রবণতা তথা করণীয়-বর্জনীয় নির্ধারণে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চিন্তাচেতনার যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তাইতো বলা হয়ে থাকে যে, মানুষই সামাজিক সংগঠন ও পরিবর্তনের আসল কারিগর।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা যশোরের সদর উপজেলার ১২নং ফতেপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ভায়না-ফতেপুর। এই গ্রামে তিন শতাধিক কায়পুত্র বা কাওড়া পরিবারের বসবাস, যাদেরকে শূকরচাষী বলেই এলাকাবাসী চিনে থাাকেন। ভূমিহীনতা, দারিদ্র্যসহ সামাজিক অনগ্রসরতার অনেক উপাদানেরই সরব উপ¯ি’তি ছিল এই গ্রামে। গ্রামের ভেতরে ও বাইরে সর্বত্রই ছিল অনুন্নয়নের ছবি।

২০১৩ সালে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) নামক একটি সং¯’া এই গ্রামে তাদের কর্মকা- শুরু করে। অবশ্য রিইব এই গ্রামে স্বল্পমেয়াদে প্রাথমিক কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল ২০০২ সালে। রিইব-এর কর্মকা-ের মূল পদ্ধতি হলো গণগবেষণা, যেখানে জনগোষ্ঠীর সদস্যরাই গবেষকের ভূমিকা পালন করেন। তারা নিজেরাই প্রাথমিকভাবে তাদের আপন সমাজে বা গ্রামে বিরাজমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধানের উপায় অনুসন্ধান করেন। এ প্রসঙ্গে গণগবেষণার প্রকৃতি নিয়ে একটু ধারণা প্রদান করতে চাই।

মানুষের সমাজ সর্বদাই সমস্যাসঙ্কুল। সমাজের প্রকৃতি যেমনই হোক, কোন না কোন সমস্যা সমাজে আছেই বা থাকবেই। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও নানা ধরনের সমস্যার মোকাবেলা করেই টিকে থাকতে হয়। সমস্যা নেই, এমন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সন্ধান পাওয়া যাবে না- এমন সিদ্ধান্তে হয়ত কারো দ্বিমত থাকবে না। অবশ্য সমস্যা সম্পর্কিত উপলব্ধি সকলের সমান নয়। একই এলাকা বা জনগোষ্ঠীর সদস্য হয়েও কোন নির্দিষ্ট সমস্যা সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাখ্যা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।

 

ধরুন, কোন একটি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, নারীরা দূরবর্তী কোন স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করেন। নিত্যদিনকার কাজ মনে করে হয়ত সকলেই এতে অভ্যস্ত’ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু কোন একজন নারীর মনে এ প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমাদের পাড়ায় নলকূপ নেই কেন? কি করলে একটি নলকূপের ব্যবস্থা করা যেতে পারে? তার মানে, এই নারী পানির অব্যবস্থাকে সমস্যা হিসেবে ধরতে পেরেছেন। তিনি যখন এই বিষয়টি অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করবেন তখন দেখা যাবে সকলেই হ্যা, হ্যা করছেন। হয়ত নলকূপের ব্যবস্থা করার/হওয়ার বিষয়টি সহসাই সমাধানের পথে আসবে না। কিন্তু এই যে কি, কেন, কখন, কিভাবে ইত্যাকার প্রশ্ন তাদের মানসলোকে উৎপন্ন হলো, তা তাদেরকে এক সময় কাক্সিক্ষত বস্তু পাইয়ে দিতে পারে, যদি সকলেই সমস্যা ও এর সমাধানের উপায় নিয়ে আন্তরিকভাবে চিন্তা করে চেষ্টা চালিয়ে যান।

কোন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনে বা সমস্যার সমাধানে সুশৃঙ্খল ধারা বা পদ্ধতির আশ্রয়ে বহু মানুষের সমন্বয়ে আযোজিত ও পরিচালিত উদ্যোগই গণগবেষণা। ড. শামসুল বারি গণগবেষণার প্রকৃতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বলেন, “গণগবেষণা হচ্ছে অনেক মানুষের একত্র হয়ে কোন বিষয় বা পরিস্থিতি সম্বন্ধে আলাপ-আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে সত্যের অনুসন্ধান করা এবং এগিয়ে যাবার পথ নির্ণয় করে উদ্যোগ নেওয়া। গণগবেষণার মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে জনগণ সমষ্টি বা গোষ্ঠী হিসেবে তাদের জীবনযাত্রা, তাদের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ, তাদের দারিদ্র্যের কারণ ও তা থেকে পরিত্রাণের পথ ইত্যাদি বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে, দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য তাদের নিজেদেরই কি কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ, সে ব্যাপারে গোষ্ঠীবদ্ধ ও একক সিদ্ধান্ত নেয়।”

গণগবেষণা সাধারণত ব্যক্তিমানসের চিন্তা থেকে উৎসারিত হলেও এর লক্ষ্য সামষ্টিক- দশজনকে ঘিরে। কোন সমাজে বিরাজমান সমস্যাসহ সকল বাস্তবতা ঐ সমাজের সকল সদস্যকে স্পর্শ করে; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির চিন্তায় প্রথমে এটি সমস্যা কিংবা করণীয় হিসেবে ধরা পড়ে এবং ঐ ব্যক্তির মাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়ে ক্রমশ সমাজে বসবাসরত লোকজনের চিন্তায় বিস্তার লাভ করে। সকলের আলোচনা, সমালোচনা ও মতামত হতে সৃষ্ট ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমস্যার সুষ্টু সমাধানের প্রচেষ্টা করা হয়। ব্যক্তি যখন কষ্ট করে নিজের পায়ে দাঁড়ান, অথবা যৌথ কোন কাজ যখন ভালভাবে চলে, তখন পুরো জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটা ইতিবাচক সহায়ক মনোভাব তৈরী হয়। আমরা এক্ষেত্রে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাওড়ের ওপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটির কথা দৃষ্টান্ত হিসেবে উপ¯’াপন করতে পারি। একজন ব্যক্তির চিন্তা থেকে উৎসারিত হয়ে যেভাবে পুরো এলাকার মানুষের সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হলো এবং বাইরের কোন সাহায্য বা সহযোগিতা ছাড়্ইা যেভাবে এই অসাধ্য সাধিত হলো, তা নিশ্চয়ই আত্মানির্ভরতা অর্জনে আগ্রহী সকল মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাবে যুগ যুগ ধরে।

ভায়না-ফতেপুর গ্রামের কায়পুত্র জনগোষ্ঠীর লোকজনের সাথে কথা বললে গণগবেষণার প্রতি তাদের আন্তরিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। এক দশকের অধিক সময়ের প্রচেষ্টায় কোনো কোনো পরিবারের তিন প্রজন্ম গণগবেষণঅ দলের সদস্য হয়েছেন, যারা সম্মিলিতভাবে গ্রামের সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা বৈঠক পরিচালনা করে চলেছেন। এখন এমনই একটি পরিবার নিয়ে কথা বলতে চাই।

শ্বাশুড়ী আঙ্গুরবালা ম-ল, পুত্রবধু সঞ্জিতা ম-ল ও নাতনী সেঁজুতি ম-ল তিনজনাই গ্রামের গণগবেষণা দলের সক্রিয় সদস্য। আঙ্গুরবালা (৬৫, তার স্বামীর নাম মনোরঞ্জন ম-ল) কেন গণগবেষণায় এতটা আন্তরিক হয়ে উঠলেন, এমন প্রশ্ন্রে জবাবে বলেন, প্রথমে গণগবেষণা বিষয়টিকে ততটা দরকারি বলে মনে হয়নি। আমরা এসব সং¯’া বলতে সমিতিকে বুঝি, লেনদেনকে বুঝি। রিইব যখন বললো যে তারা কোন কিছু দেবেও না আবার নেবেও না; শুধু তথ্য আদান-প্রদান করবে, তখন আমরা আগ্রহী হতে পারিনি। পরে গ্রামের মাসিক বৈঠক এবং শহরে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সভায় অংশগ্রহণ করে ধীরে ধীরে বুঝতে পারি যে, রিইব আমাদেরকে আসল বিষয়গুলোই দিতে এসেছে। আমরা যা জানতাম না, কোনোজায়গায় গিয়ে কথা বলার সাহস হত না, রিইব সেগুলোই আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছে। আঙ্গুরবালা তুলে ধরেন তাদের সমাজে বিয়ের বয়সের পরিস্থিতি। তার বর্ণনায়, এক সময় ছিল যখন বাল্যবিয়ে আর সঠিক বয়সের বিয়ে বলে কোন ধারণাই সমাজে প্রচলিত ছিল না। বাল্যবিয়ে এখনও হয়, তবে বয়সের দিকটা বিবেচনায় এসেছে; ফলে বাল্যবিয়ের পরিমাণ অনেক কমে এসেছে।

গ্রামের অধিকাংশ সভা বা আলোচনা বৈঠক তাদের উঠানেই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পরিবারের ছোট-বড় সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এসব আয়োজনে শ্রম ও মেধা নিয়োগ করেন। সম্প্রতি এক সভায় সঞ্জিতা রাণীর কর্মব্যস্ততা দেখে সত্যিই অভিভূত হয়েছিলাম। গ্রামবাসীর অনুষ্ঠান কিš‘ তার ব্যস্ততা দেখে মনে হয়েছিল যেন এটি তার পারিবারিক কর্মসূচি। কলেজে অধ্যয়নরত মেয়ে সেঁজুতি বললো, গণগবেষণা আমি সব সময় ধরে রাখবো, জীবনে যখন যে কাজে থাকি, চেষ্টা করবো গণগবেষণার মাধ্যমে সকলকে নিয়ে সকলের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার। সেঁজুতির বাবা শ্রীকান্ত ম-লও এ ব্যাপারে অত্যন্ত মনোয্গোী।

বলা আবশ্যক যে, এই গ্রামে গণগবেষণার কাজ শুরু হয় লিলি রাণী বিশ্বাসের হাত ধরে। বর্তমানে তার সুযোগ্যা মেয়ে মিনা রাণী বিশ্বাস অতি যতœ সহকারে গ্রামে আত্ম উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করছে। মিনা এই এলাকার একমাত্র শিক্ষার্থী যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে কৃতিত্বের সাথে।

বছর তিনেক আগে যশোরের সদাশয় জেলা প্রশাসক এই গ্রামটিকে ‘আদর্শ গ্রাম’ বলে ঘোষণা প্রদান করেছেন। গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ, কাজের প্রতি আগ্রহ ও আন্তরিকতা সর্বোপরি গোটা সমাজকে নিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা তিনি গ্রামবাসীর আচরণে প্রত্যক্ষ করেন, তাতেই হয়ত এমন সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। তিনি সেবা প্রদানকারি সংস্থাসমূহকে নির্দেশ দিয়েছেন, উন্নয়নের লক্ষ্যে আসা যেকোন অনুদান বা সহযোগিতা প্রথমেই যেন এই গ্রামে বিতরণ করা হয়। সে সেবাটুকু আজ গ্রামবাসী অত্যন্ত গর্বের সাথে উপভোগ করছেন। বর্তমানে গ্রামের সেই চিরাচরিত চেহারা আর নেই। আত্ম উন্নয়নে তাদের এহেন যাত্রা আােও বেগবান হোক, এটিই প্রত্যাশা।

লেখক: মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক

 

Ads small one

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার সেহারা গ্রামের মৃত সামত আলীর ছেলে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এসআই সোহাগ মিয়া ও এসআই সাহিদুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নওয়াপাড়া ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদার দিকে যাওয়ার পথে জনৈক আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ রেজাউল ইসলাম (৪৮) কে আটক করে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১০ আগস্ট সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।