সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

রক্তে লেখা প্রতিরোধের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
রক্তে লেখা প্রতিরোধের ইতিহাস

শেখ সিদ্দিকুর রহমান
’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলার ইতিহাসে ছাত্রসমাজ বারবার সময়ের সন্ধিক্ষণে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তরুণ সমাজের ভূমিকা ছিল দৃশ্যমান। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এই তিনটি অধ্যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে গভীরভাবে আলোচিত।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান : স্বাধিকার আন্দোলনের জাগরণ
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং গণতান্ত্রিক দাবির এক বিস্ফোরণ। আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে। ধীরে ধীরে শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হন। ঢাকার রাজপথে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামানের মৃত্যু আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। “আসাদের শার্ট” হয়ে ওঠে প্রতিবাদের প্রতীক। গণআন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব খান ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। এই আন্দোলন পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব গণমানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণ

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান : স্বৈরাচারবিরোধী গণজাগরণ
১৯৯০ সালের আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘদিনের সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ জনগণ একযোগে আন্দোলনে নামে। তৎকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ঢাকার রাজপথে মিছিল, সমাবেশ এবং হরতালের মধ্য দিয়ে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। নূর হোসেনের আত্মত্যাগ আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁর বুকে লেখা ছিল “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।” অবশেষে প্রবল গণচাপের মুখে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারার নতুন অধ্যায় শুরু হয়। ১৯৯০ সালের আন্দোলনের তাৎপর্য বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম ছাত্র-জনতার ঐক্যের শক্তি প্রকাশ নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের দাবির উত্থান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণআন্দোলনের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন : নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা
২০২৪ সালের আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ব্যাপক আলোচিত একটি অধ্যায়। মূলত সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়। ছাত্ররা দাবি করে, মেধা ও সমতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি এবং সড়ক অবরোধ দেখা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, সংঘর্ষ, গুলি ও সহিংসতায় বহু মানুষ আহত এবং কয়েকশত নিহত হন। এসব ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়। সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছে। একইসাথে পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের এই আন্দোলনের পেছনে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১. চাকরির সীমিত সুযোগ দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়লেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। ফলে চাকরিতে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র হয়ে ওঠে। ২. মেধাভিত্তিক প্রত্যাশা ছাত্রসমাজের একটি বড় অংশ মনে করে, নিয়োগে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আন্দোলন সংগঠিত ও দ্রুত বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ৪. আবেগ ও ক্ষোভের বিস্তার কিছু স্থানে সংঘর্ষ, আহত ও মৃত্যুর ঘটনার পর আন্দোলন আরও আবেগপ্রবণ রূপ নেয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো বিগত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন মেনে না নেওয়ায় চরম ক্ষোভে ছাত্রদের আন্দোলনে তারা সংযুক্ত হয়।

আহত ও নিহতের বেদনা
প্রতিটি গণআন্দোলনের মতো ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহেও সাধারণ পরিবারগুলো গভীর কষ্টের মুখোমুখি হয়। অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কেউ চোখ হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ী শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। আবু সাঈদসহ নিহতদের পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যে কোনো মতবিরোধ যেন সংলাপ, সহনশীলতা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।

তিন গণঅভ্যুত্থানের তুলনামূলক প্রেক্ষাপট : বিষয়: ১৯৬৯, ১৯৯০, ২০২৪। নেতৃত্ব-ছাত্রসমাজ, ছাত্র ও রাজনৈতিক জোট, ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ। মূল দাবি: স্বাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, কোটা সংস্কার ও সমঅধিকার, আন্দোলনের ধরন, গণবিক্ষোভ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ক্যাম্পাসভিত্তিক থেকে দেশব্যাপী বিস্তার। প্রতীক, আসাদ, নূর হোসেন ও আবু সাঈদ। তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ ফলাফল, স্বাধীনতার ভিত্তি, গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জাতীয় পর্যায়ে নীতিগত আলোচনা।

উপসংহার
বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রসমাজ সবসময় পরিবর্তনের অগ্রভাগে থেকেছে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান স্বাধীনতার স্বপ্ন জাগিয়েছে, ১৯৯০-এর আন্দোলন গণতন্ত্রের পথ খুলেছে এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা ও নাগরিক সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই একটি জাতিকে সামনে এগিয়ে নেয়। রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজ সব পক্ষের দায়িত্ব হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তরুণদের কণ্ঠ শোনা হবে এবং একইসাথে দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকবে। লেখক: সাবেক ব্যাংকার

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির কাঁকড়াবুনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় হাসপাতালে ভর্তি ৫

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচজনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত গফুর সানার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের জামাল সানা, শরিফুল ইসলাম, রেজাউল সরদার, বাবু গাজী ও হযরত আলী সানার সঙ্গে বাদীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। গত ১৪ জুন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাদী জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি যাওয়ার পথে জামাল সানার বাড়ির সামনে ওয়াপদা রাস্তার ওপর পৌঁছালে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে।
এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছোট ভাই দ্বীন মোহাম্মদ সানা, ভাগ্নে জসিম ও সাহিদুল, এবং চাচাতো ভাগ্নে তরিকুল ইসলাম সানাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার ২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বাদীর স্ত্রী জ্যোৎস্না খাতুনকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আহতদের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছে।