রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

শহীদ স. ম. আলাউদ্দীন: আলোকবর্তিকা ও এক বেদনাকাতর মহাকাব্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
শহীদ স. ম. আলাউদ্দীন: আলোকবর্তিকা ও এক বেদনাকাতর মহাকাব্য

এসএম শহীদুল ইসলাম
যে মাটিতে জন্ম নেয় কালজয়ী মানুষ, সে মাটির বুক চিঁরে কখনো কখনো বয়ে যায় অন্তহীন বেদনার নদী। সাতক্ষীরার রূপালী নদী বেতনা আর সুন্দরবনের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা অবহেলিত জনপদটিকে যিনি নিজের মেধা, শ্রম আর রক্ত দিয়ে তিলোত্তমা করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীন। তিনি শুধু একটি নাম নন; তিনি ছিলেন একটি মানচিত্র, একটি আন্দোলন এবং সাতক্ষীরার অবরুদ্ধ মানুষের মুক্তির নিশান। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, যে মানুষটি আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ ছিলেন, যাঁর হৃদয় স্পন্দিত হতো দুঃখী-মেহনতী মানুষের জন্য, তাঁরই জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হলো একবিংশ শতাব্দীর ঠিক প্রাক্কালে, ১৯৯৬ সালের এক কালরাত্রিতে। ঘাতকের একটি তাজা বুলেট স্তব্ধ করে দিল সাতক্ষীরার উন্নয়নের মহীরূহকে। আজ ৩০ বছর পরেও তার সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি।
১৯৪৫ সালের ২৯ আগস্ট (বাংলা ১৩৫২ সালের ১৫ ভাদ্র)। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে আলো ছড়িয়ে জন্ম নেন স. ম. আলাউদ্দীন। পিতা মরহুম সৈয়দ আলী সরদার এবং মাতা সখিনা খাতুনের চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান।
মেধাবী ও দৃঢ়চেতা আলাউদ্দীনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ১৯৬২ সালে কলারোয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) এবং ১৯৬৪ সালে সাতক্ষীরা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট (এইচএসসি) পাস করেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি খুলনার ঐতিহ্যবাহী ব্রজলাল (বিএল) কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭ সালে সেখান থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে, কর্মব্যস্ততা ও রাজনীতির শত আবর্তের মধ্যেও শিক্ষার প্রতি অনুরাগের কারণে ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর মনের ভেতর এক গভীর মানবিক ও প্রগতিশীল দর্শনের জন্ম দিয়েছিল।
স. ম. আলাউদ্দীনের রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য এবং আপসহীন। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন; এটাই ছিল তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ছাত্রদের এগারো দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৮ সালের গণআন্দোলনে তিনি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৭ সালের প্রথম দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তালা-কলারোয়া নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি কিছুকাল জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও ১৯৮০ সালে পুনরায় তাঁর প্রিয় দল আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি বহু বছর তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সুনামের সাথে পালন করেন। রাজনীতির এই কণ্টকাকীর্ণ পথে স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘকাল তিনি ঢাকা, খুলনা ও যশোর কারাগারে বন্দি ছিলেন, যেখানে জেলখানার ভেতরেও তিনি বন্দিদের অধিকার আদায়ে অনশন ধর্মঘট করেছিলেন।
১৯৭১ সালের মার্চে যখন বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন স. ম. আলাউদ্দীন ঘরে বসে থাকতে পারেননি। অনেক জনপ্রতিনিধি যখন ভারতে আশ্রয় নিয়ে কেবল রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করছিলেন, তখন স. ম. আলাউদ্দীন নিজের জীবনকে বাজি রেখে সরাসরি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন সশস্ত্র যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
৯নং সেক্টরের অধীনে তিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলোতে ভারত থেকে অস্ত্র সংগ্রহ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের দুরূহ কাজটি তিনি নিজ কাঁধে তুলে নেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) এম. এ. জলিল তাঁর বিখ্যাত “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থে স. ম. আলাউদ্দীনের এই অসীম সাহসিকতা ও রণকৌশলের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন। স্বাধীনতার জন্য নিজের সর্বস্ব বাজি রাখা এই মানুষটি তৎকালীন যশোর সামরিক আদালতের চোখে ছিলেন এক ‘বিপজ্জনক বিদ্রোহী’। তাঁর অনুপস্থিতিতে সামরিক আদালত তাঁকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা করে। কিন্তু কোনো ভয়ই তাঁকে দেশমাতৃকার মুক্তি অর্জনের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
স্বাধীনতার পর স. ম. আলাউদ্দীন তালার জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে পাটকেলঘাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রচলিত পুঁথিগত শিক্ষা দিয়ে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। তাই তিনি আধুনিক, কর্মমুখী ও আত্মনির্ভরশীল শিক্ষার এক যুগান্তকারী মডেল প্রবর্তন করেন।
১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ” এবং নিজে এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। তাঁর এই শিক্ষা দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। হাতে-কলমে কৃষি, মৎস্য চাষ, হস্তশিল্প ও ইলেকট্রনিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়া। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেরা আয় করবে ও সঞ্চয় করবে, যাতে স্নাতক শেষ করে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই উদ্যোক্তা হতে পারে।
স. ম. আলাউদ্দীনকে ‘সাতক্ষীরার রূপকার’ বলা মোটেও অতিশয়োক্তি নয়। সাতক্ষীরার অর্থনীতি, ব্যবসা ও অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পেছনে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি যা ভাবতেন, তা বাস্তবায়ন করে ছাড়তেন।
তিনি সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের কাপাসডাঙ্গায় ‘আলাউদ্দীন ফুডস্ এন্ড কেমিক্যাল’ নামে একটি আধুনিক বিস্কুট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন, যা হাজারো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক কীর্তি হলো ভোমরা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা। তাঁর একক প্রচেষ্টা এবং দূরদর্শিতার কারণে আজ ভোমরা স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
তিনি কৃষিকে একটি লাভজনক শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে ‘গুচ্ছ সেচ কোম্পানি’র ধারণা প্রবর্তন করেন। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, আধুনিক হ্যাচারি স্থাপন এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বেতনা নদী খননসহ মহাসড়ক ডবল লেনে উন্নীত করার দাবিতে তিনি আমৃত্যু লড়াই করেছেন।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের তত্ত্বাবধানে নিজস্ব জমি দান করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নগরঘাটা শিশু হাসপাতাল’। এছাড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতি, গণ-আদালত ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি হিসেবে সমাজ থেকে অন্যায় ও মৌলবাদ দূরীকরণে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।
সাতক্ষীরার গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে এবং শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অবরুদ্ধ কণ্ঠস্বরকে ফুটিয়ে তুলতে ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘দৈনিক পত্রদূত’। তিনি নিজেই ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। অত্যন্ত নিরপেক্ষ, সাহসী এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে অল্প দিনেই পত্রিকাটি সাতক্ষীরার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সাতক্ষীরার সুষম উন্নয়নের দাবিতে তাঁর কলম ছিল আপসহীন তরবারি। কিন্তু এই কলমই একসময় তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। শোষক আর কালোবাজারিদের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া ‘পত্রদূত’ অফিসই শেষ পর্যন্ত তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।
১৯৯৬ সালের ১৯ জুন। তখন ঘড়িতে রাত ১০টা ২৩ মিনিট। সাতক্ষীরা শহরের দৈনিক পত্রদূত কার্যালয়ে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে নিজের টেবিলে কাজ করছিলেন সম্পাদক স. ম. আলাউদ্দীন। চারদিকে তখন এক থমথমে নীরবতা। ঠিক সেই মুহূর্তে অন্ধকারের বুক চিরে ছুটে এলো ঘাতকের নির্মম, নৃশংস বুলেট। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আততায়ীর সেই তাজা বুলেট বিদ্ধ করল এই মহান জননেতার বুক। নিজের প্রিয় পত্রিকা অফিসের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন সাতক্ষীরার আশার প্রদীপ। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নিভে গেল সাতক্ষীরার ভাগ্যাকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি। এই নৃশংস হত্যাকা- শুধু একটি মানুষের মৃত্যু ছিল না, এটি ছিল সাতক্ষীরার সামগ্রিক অগ্রযাত্রার বুকে এক মরণাঘাত।
মানুষ মরে যায়, কিন্তু তাঁর কীর্তি অমর। স. ম. আলাউদ্দীন আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু সাতক্ষীরার বাতাসে আজও তাঁর নিঃশ্বাসের স্পন্দন অনুভূত হয়। মোটর সাইকেলে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে মেঠোপথ ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনা সেই মাটির মানুষটিকে সাতক্ষীরাবাসী কোনোদিন ভুলবে না।
প্রতি বছর ১৯ জুন এলে তাঁর মাজার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়; অশ্রুসিক্ত নয়নে মানুষ তাঁর কবর জিয়ারত করে। তিনি যে আধুনিক, বৈষম্যহীন এবং স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে ধারণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। ঘাতকের বুলেট তাঁর শরীরকে ধ্বংস করতে পেরেছে, কিন্তু তাঁর আদর্শ, চেতনা এবং সাতক্ষীরার মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসাকে মুছে ফেলতে পারেনি। হে অকুতোভয় বীর, হে আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার, এই ঋণী জাতি আপনাকে চিরকাল সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করবে। আপনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আপনি আমাদের ইতিহাসের গর্ব, আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। লেখক: বার্তা সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত

Ads small one

শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে বাংলাদেশি পোশাকের দাম

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে পোশাক আমদানিতে বড় ধরনের সংকোচন দেখা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ সময়ে দেশটির পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। তবে আমদানি করা পোশাকের গড় একক মূল্য সামান্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এই সংকুচিত বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান চীন ও ভারতের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই পোশাক খাত। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, শুধু জুলাইয়ে রফতানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসের গড় পতনের তুলনায় জুলাইয়ে বাংলাদেশের রফতানি কমেছে আরও দ্রুত হারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির সর্বশেষ সাত মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ ও সংকলন করেছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি)।

সংকুচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজার

ওটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটির পোশাক আমদানি কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।

আমদানির পরিমাণের হিসাবেও বড় পতন হয়েছে। গত বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৪ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য পোশাক আমদানি করেছিল।

চলতি বছর তা কমে হয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য। অর্থাৎ পরিমাণের হিসাবে পতন হয়েছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

অন্যদিকে গড় একক আমদানি মূল্য ৩ দশমিক ১৪ ডলার থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ১৭ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কম পরিমাণে পোশাক ঢুকলেও আমদানিকারকরা গড়ে সামান্য বেশি দামের পোশাক কিনেছেন।

এতে বোঝা যায়, বাজারের মূল চাপটি মূলত চাহিদা ও আমদানির পরিমাণে। সামগ্রিক বাজারে পোশাকের গড় মূল্য কিছুটা বাড়লেও আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে নতুন ক্রয়াদেশ ও ভোগের প্রবাহ আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও কমেছে রফতানি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সংকুচিত হওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপরও। জানুয়ারি-জুলাই ২০২৫ সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থাৎ সাত মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় ৩২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বা ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তবে সামগ্রিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের পতন তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি যেখানে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের রফতানি পতন বাজারের সামগ্রিক পতনের চেয়ে কম।

কিন্তু জুলাইয়ের তথ্য পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। ওই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমেছে। ফলে বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় জুলাইয়ে পতনের গতি বেড়েছে।

এ কারণে আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের ক্রয়াদেশ ও রফতানি প্রবাহ কোন দিকে যায়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীন-ভারতের পতন আরও বড়

প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। সাত মাসে দেশটির পোশাক রফতানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছরের ৬ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার থেকে চলতি বছর তা নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ চীনের রফতানি কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

ভারতের রফতানিও কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার থেকে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে।

পাকিস্তানের রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে তা কমে হয়েছে ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

ভিয়েতনামের পতন তুলনামূলকভাবে সামান্য– ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। দেশটির রফতানি ৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

তবে সংকুচিত বাজারেও ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বেড়েছে ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সামগ্রিক চাহিদা কমলেও সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এখানেই বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিমাণেও কমেছে বাংলাদেশের রফতানি

অর্থমূল্যের পাশাপাশি পোশাকের পরিমাণের হিসাবেও বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। গত বছরের প্রায় ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন বর্গমিটার সমতুল্য থেকে তা কমে হয়েছে ১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন।

তবে এ ক্ষেত্রেও চীন ও ভারতের পতন অনেক বেশি। চীনের রফতানি পরিমাণ কমেছে ২৪ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ভারতের ২৪ দশমিক ০২ শতাংশ।

অন্যদিকে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া রফতানির পরিমাণ বাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ১২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন ও ভারতের কাছ থেকে যে অংশ অন্য দেশগুলোর হাতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ নিতে হলে অন্য প্রতিযোগীদেরও পেছনে ফেলতে হবে।

কমেছে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পোশাকের গড় একক মূল্য কমে যাওয়া। বিএভির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য ২ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ রফতানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি প্রতি ইউনিট পোশাক থেকেও আগের তুলনায় কম অর্থ পাওয়া গেছে।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে চীনের গড় একক মূল্য কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ভারতের ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। কম্বোডিয়ার কমেছে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অর্থাৎ বাংলাদেশেও পোশাকের দাম কমেছে, যদিও চীনের মতো বড় পতন হয়নি।

শুল্কের চাপ কতটা?

রফতানিকারকদের মতে, বাংলাদেশের পোশাকের দাম কমার অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের চাপ। বাড়তি শুল্কের পুরো বোঝা মার্কিন ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে আলোচনার মাধ্যমে এর একটি অংশ রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ধরে রাখতে পণ্যের দাম কমাতে হয়েছে।

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, মূলত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের একটি অংশ বাংলাদেশের রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে। ফলে পোশাকের দাম কিছুটা কমিয়ে দিতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ইউনিট মূল্যে।

রফতানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, কোনও কোনও ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্কের এক-তৃতীয়াংশ, আবার কোনও ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত রফতানিকারকদের বহন করতে হয়েছে।

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কঠিন। কারণ একই সময়ে দেশের ভেতরে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি ব্যয়, শ্রম ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি– সব মিলিয়ে কারখানার ব্যয় বাড়ছে। অথচ বিদেশি ক্রেতারা উল্টো কম দাম চাইছেন।

উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, দাম কমছে

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, একদিকে উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়ছে, অথচ পণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমেছে। অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা ধরে রাখতে লোকসানেও অর্ডার নিতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অনেক কারখানা রুগ্‌ণ হয়ে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তার মতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানাকে বেশি দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে।

এই দুইমুখী চাপ– বাড়তি উৎপাদন ব্যয় এবং কম রফতানি মূল্য, দীর্ঘমেয়াদে পোশাকশিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে সুযোগও দেখছেন রফতানিকারকরা

তবে পুরো পরিস্থিতি যে নেতিবাচক, তা নয়। রফতানিকারকদের মতে, কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের বোঝা ভাগাভাগি করার যে চাপ ছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। ফলে আগের তুলনায় ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শোভন ইসলাম বলেন, মার্কিন ক্রেতারা এখন আর আগের মতো ছাড় দিতে বলছেন না। ফলে আগামী দিনে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে ক্রয়াদেশও বাড়ছে বলে জানান তিনি।

তার প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আবারও বাড়তে পারে।

এখন নজর জুলাইয়ের পরের দিকে

সাত মাসের তথ্য একদিকে বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা, অন্যদিকে সুযোগও তৈরি করেছে। চীন ও ভারতের বড় পতনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সরবরাহকারী পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ সেটি কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশও একই সুযোগ নিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশের সামনে এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংকুচিত বাজারে নিজেদের অংশ ধরে রাখতে হবে, অন্যদিকে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যেও প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে হবে।

বিশেষ করে জুলাইয়ের ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ পতনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। একটি মাসের তথ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা না গেলেও পরবর্তী মাসগুলোতেও যদি একই ধরনের পতন অব্যাহত থাকে, তাহলে তা পোশাক রফতানির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হবে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মহিউদ্দিন রুবেল  বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় দাম কমে যাওয়ার পেছনে শুল্কের বাড়তি চাপের পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক সংকোচনও কাজ করছে। শুল্কের একটি অংশ রফতানিকারকদের বহন করতে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পোশাকের দাম কমিয়ে দিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যয় যখন বাড়ছে, তখন রফতানি মূল্য কমে যাওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে। তবে চীন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানি কম কমেছে– এটি আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পোশাক রফতানিতে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আরও তীব্র হচ্ছে। তাই শুধু কম দামে পোশাক রফতানি করে বাজার ধরে রাখা নয়, মান, পণ্যের বৈচিত্র্য ও সরবরাহ সক্ষমতার দিক থেকেও বাংলাদেশকে এগিয়ে থাকতে হবে।

হাইকোর্টে বিদিশার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
হাইকোর্টে বিদিশার জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

প্রতারণার মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

তার জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলায় গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম ওই রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় বিদিশার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

গত ২৬ আগস্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ বিষয়ে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ এই আদেশ দেন।

২০০৮ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়ার রেমিটেন্সযোদ্ধা শুভ দাসের মরদেহ নিজ বাড়িতে, শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিনিধি: ইসরাইলের ড্রোন হামলায় লেবানন এ নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়ার শ্রীপতিপুর গ্রামের শুভদাস এর মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌচেছে। সকাল ১০ টায় মরদেহ পৌছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গত ১১ মে লেবানন এর দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোন হামলায় শুভদাস মারা যান। মৃত্যুর ৩ মাস ২৫ দিন পর মরদেহ আসলো। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শুভ দ্বিতীয়।

 

দরিদ্র পরিবারের দুই শতক বসত ভিটা বিক্রি করে আড়াই বছর আগে লেবাননে যায়। এরপর লাশ হয়ে ফিরলো। হতাশ পুরো পরিবার। আজ দুপুরে সমাধির প্রস্তুতি চলছে। নিয়ে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় লেবানন এ সাতক্ষীরার ৩ জন রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেল। আশাশুনির নাহিদুল, সদরের ভালুকা চাদপুরের শফিকুল ও কলারোয়ার শুভ দাস।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের খুলনা বিভাগীয় অফিসের কাউন্সিলর মইন উদ্দীন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকার চেক গতকাল রাতেই দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে আরো ৩ লাখ ও কয়েকমাস পর জীবন বীমার আরো ১০ টাকা অনুদান পাবেন।