বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

শার্শায় ২টি বিদেশি পিস্তল ও ৪টি ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
শার্শায় ২টি বিদেশি পিস্তল ও ৪টি ম্যাগাজিনসহ গ্রেপ্তার ২

মো. সোহাগ হোসেন, শার্শা (যশোর): যশোরের শার্শায় দুটি বিদেশি পিস্তল ও চারটি ম্যাগাজিনসহ দুই অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশের সদস্যরা। বুধবার (১৭ জুন) ভোররাত তিনটা ৩৫ মিটিটের দিকে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শার্শা থানার রুদ্রপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. রাসেল রানা (২৬) এবং বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী পশ্চিম পাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. জিয়াউর রহমান ওরফে হাফিজুর (৪০)।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গভীর রাতে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুজন কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম শার্শা থানার ৭নং কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই গ্রামের বাসিন্দা রাসেল রানার টিনের বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল তার শয়নকক্ষের বালিশের নিচে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেখানো তথ্যমতে বালিশের নিচ থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ২টি ৭.৬৫ বোরের বিদেশি পিস্তল, ৪ টি ম্যাগাজিন এবং ১টি ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মো. কামরুজ্জামান স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করেন। পরে গ্রেপ্তারকৃত রাসেলের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোলের পুটখালী এলাকায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী জিয়াউর রহমান ওরফে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

যশোর জেলা গোয়েন্দা (শাখা) ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত (ওসি) সুজন কুমার মন্ডল জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে আসামিদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রাসেল রানার বিরুদ্ধে এর আগেও একটি মাদক মামলা রয়েছে। উদ্ধারকৃত এই অস্ত্র ও ম্যাগাজিন তারা কী উদ্দেশ্যে এবং কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Ads small one

অবহেলিত কালিগঞ্জ-রতনপুর-নূরনগর-শ্যামনগর সড়ক ও অন্তহীন জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
অবহেলিত কালিগঞ্জ-রতনপুর-নূরনগর-শ্যামনগর সড়ক ও অন্তহীন জনদুর্ভোগ

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার সংযোগ রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালিগঞ্জ-রতনপুর-নূরনগর-শ্যামনগর সড়কটির বর্তমান বেহাল দশা কেবল জনদুর্ভোগেরই কারণ নয়, বরং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক চরম উদাসীনতার স্মারক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের। ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার যাত্রী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই কঙ্কালসার দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এই সড়কটির ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর, রতনপুর ও ধলবাড়িয়া এবং শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর, সদর, কৈখালী ও রমজাননগর ইউনিয়নের লাখো মানুষ জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের জন্য এই পথটি ব্যবহার করেন। উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এই সড়কটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, সড়কের কোথাও হয়তো কিছুটা সংস্কার হয়েছে, আবার বড় অংশ জুড়েই রয়ে গেছে ভাঙাচোরা আর মরণফাঁদ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যখন এই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, তখন সড়কটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে; আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সাতক্ষীরা-৩ ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থীরা এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেছেন এবং দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সেই আশ্বাসের কোনো বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়নি। দুই আসনের জনপ্রতিনিধি একই ঘরানার হওয়া সত্ত্বেও সমন্বিত ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়া স্থানীয় জনগণকে চরমভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকার মানুষ আজ নিজেদের অবহেলিত ও প্রান্তিক মনে করছেন।

একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও নিরাপদ থাকে। জোড়াতালির সংস্কার বা সাময়িক মেরামতের নামে সরকারি অর্থের অপচয় আমরা আর দেখতে চাই না। কালিগঞ্জ-শ্যামনগর সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর দ্রুত টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট দুই আসনের জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ নেবেনÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

 

 

 

 

 

ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ; সুনাগরিকের দায়িত্ব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ; সুনাগরিকের দায়িত্ব

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতিবছর ১৮ জুন পালিত হয় ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস। বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, জনসভা, সেমিনার কিংবা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। কারণ ঘৃণাত্মক বক্তব্য ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের মধ্যে বিভাজন, বৈরিতা এবং সহিংসতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।

একজন সুনাগরিক হিসেবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার না করা। অনলাইনে কোনো পোস্ট, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে এর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ, পেশা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে কাউকে হেয় করে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণাত্মক কনটেন্ট দেখলে তা ছড়িয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং সচেতনতামূলক ইতিবাচক বার্তা প্রচার করা নাগরিক দায়িত্বের অংশ। জনসভা, সেমিনার ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ভিন্নমতকে সম্মান করা, সংলাপ ও সহনশীলতার চর্চা করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা প্রয়োজন।

পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে সহমর্মিতা, মানবিক মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে তোলা সম্ভব। ঘৃণা নয়, যুক্তি; বিদ্বেষ নয়, মানবতা—এই চেতনা ধারণ করলেই একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধ কেবল আইনের বিষয় নয়; এটি সচেতন নাগরিকত্বেরও পরীক্ষা, ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়ন। তাই আসুন, আমরা সবাই দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সম্মান, সম্প্রীতি ও মানবিকতার সংস্কৃতি গড়ে তুলি।

 

 

 

 

 

 

 

আশাশুনিতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ কাউসার আজিজ। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হেদায়েতুল ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমীর নুরুল আফছার মোর্তজা, আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন ও জাকির হোসেন বাবু, যুবদলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ এবং প্রেস ক্লাব সভাপতি এস কে হাসান।

এ ছাড়া সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আশাশুনি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ আশাশুনি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বাল্যবিয়ে, মাদক, ইভটিজিং ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক একটি ছাত্রী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও আশাশুনি থানা পরিদর্শন করেন।