শ্যামনগরে অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণে ‘কুড়িয়ে পাওয়া শাকের মেলা’
সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে উপকূলীয় অঞ্চলের হারিয়ে যেতে বসা অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার লক্ষ্যে ‘কুড়িয়ে পাওয়া শাকের মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফুলতলা কৃষি নারী সংগঠন ও কিশোরী সংগঠনের উদ্যোগে এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহায়তায় বেলা ৩টায় ফুলতলা গ্রামে এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় ফুলতলা ও উত্তর কদমতলা গ্রামের ১৭ জন নারী বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে সংগৃহীত প্রায় ১৩২ প্রজাতির অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রদর্শন করেন। প্রদর্শনীতে থানকুনি, হেলেনচা, কলমি, গাদোমনি, সেঞ্চি, ভূঁইকুমড়া, আদাবরুন, পেপুল, হেন্না, জার্মানি লতা, শিষাকন্দ ও হাতিশুড়সহ নানা জাতের উদ্ভিদ ছিল।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান শিক্ষক হরসিত কুমার মন্ডল এবং শিক্ষক কমলেশ মন্ডল। এ ছাড়া বারসিক কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ মন্ডল, মারুফ হোসেন, হাবিবুর রহমান, আল-মামুন, ওমর ফারুক রাজন, চন্দনা রানীসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মেলায় অংশগ্রহণকারী নারীরা সংগৃহীত উদ্ভিদের স্থানীয় নাম, পুষ্টিগুণ, ঔষধি ব্যবহার এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, এসব অচাষকৃত উদ্ভিদ উপকূলীয় মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদার পাশাপাশি স্থানীয় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।
মেলায় এককভাবে সর্বাধিক ১৩২টি উদ্ভিদ সংগ্রহ ও প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন শিক্ষার্থী দ্বীপান্বিতা মন্ডল। ১১২টি উদ্ভিদ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন চম্পা মন্ডল এবং ১০৭টি উদ্ভিদ প্রদর্শন করে তৃতীয় হন স্বপ্না জোয়ারদার।






